ত্রিতাল

  • অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর

    বাণী

    অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর
    বহিছে তরলতর পূবালি পবন।
    	বিজুরী-জ্বালার মালা
    	পরিয়া কে মেঘবালা
    কাঁদিছে আমারি মত বিষাদ-মগন।।
    ভীরু এ মন-মৃগ আলয় খুঁজিয়া ফিরে,
    জড়ায়ে ধরিছে লতা সভয়ে বনস্পতিরে,
    গগনে মেলিয়া শাখা কাঁদে বন-উপবন।।
    

    চলচ্চিত্রঃ ‌‘ধ্রুব’

  • অরুণ-কান্তি কেগো যোগী ভিখারী

    বাণী

    অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি।
    নীরবে হেসে দাঁড়াইলে এসে
    প্রখর তেজ তব নেহারিতে নারি ॥
    রাস-বিলাসিনী আমি আহিরিণী
    শ্যামল কিশোর রূপ শুধু চিনি,
    অম্বরে হেরি আজ একি জ্যোতিঃপুঞ্জ
    হে গিরিজাপতি! কোথা গিরিধারী ॥
    সম্বর সম্বর মহিমা তব, হে ব্রজেশ ভৈরব,
    		আমি ব্রজবালা।
    হে শিব সুন্দর, বাঘছাল পরিহর, ধর নটবর-বেশ
    		পর নীপ-মালা।
    নব মেঘ-চন্দনে ঢাকি’ অঙ্গজ্যোতি
    প্রিয় হয়ে দেখা দাও ত্রিভুবন-পতি
    পার্বতী নহি আমি, আমি শ্রীমতী
    বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরি-ধারী ॥
    
  • আও জীবন মরণ সাথী

    বাণী

    আও জীবন মরণ সাথী
    তুমকো ঢুঁঢাতা হ্যায় দূর আকাশ মে
    			মোহনী চাঁদনী রাতি।।
    ঢুঁঢাতা প্রভাত নিত গোধূলি লগন মে
    মেঘ হোকে ম্যয় ঢুঁঢাতা গগন মে।
    ফিরত হুঁ রোকে শাওন পবন মে।
    পাত্তে মে ঢুঁঢাতা তোড়ী পাপী
    শ্যামা হোকে জ্বালা ম্যয় তোহারি আঁখমে
    বুঝ গ্যয়া রাতকো হায় নিরাশ মে।
    আভি ইয়ে জীবন হ্যায় তুমহারি পিয়াস মে।
    গুল না হো যায়ে নয়ন কি বাতি।।
    
  • আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া

    বাণী

    আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া।
    চম্পা কুঞ্জে আজো গুঞ্জে ভ্রমরা, কুহরিছে পাপিয়া।।
    প্রেম-কুসুম শুকাইয়া গেল হায়,
    প্রাণ-প্রদীপ মোর হের গো নিভে যায়,
    বিরহী এসো ফিরিয়া।।
    তোমারি পথ চাহি হে প্রিয় নিশিদিন
    মালার ফুল মোর ধূলায় হ’ল মলিন
    জনম গেল ঝুরিয়া।।
    
  • আমি পথ-মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে

    বাণী

    আমি পথ-মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে। 
    গোপন অশ্রু-সম রাতের নয়ন-পাতে।। 
    দেবতা চাহে না মোরে 
    গাঁথে না মালার ডোরে, 
    অভিমানে তাই ভোরে শুকাই শিশির-সাথে।। 
    মধুর সুরভি ছিল আমার পরাণ ভরা, 
    আমার কামনা ছিল মালা হয়ে ঝ’রে পড়া। 
    ভালোবাসা পেয়ে যদি 
    আমি কাঁদিতাম নিরবধি, 
    সে-বেদনা ছিল ভালো, সুখ ছিল সে-কাঁদাতে।। 
    

  • ঊষা এলো চুপি চুপি

    বাণী

    ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া সলাজ অনুরাগে।
    চাহে ভীরু নববধূ সম তরুণ অরুণ বুঝি জাগে।।
    শুকতারা যেন তার জলভরা আঁখি
    আনন্দ বেদনায় কাঁপে থাকি’ থাকি’,
    সেবার লাগিয়া হাত দু’টি
    মালার সম পড়ে লুটি
    			কাহার পরশ-রস মাগে।।
    
  • এসো প্রিয় আরো কাছে

    বাণী

    এস প্রিয় আরো কাছে
    পাইতে হৃদয়ে এ বিরহী মন যাচে।।
    দেখাও প্রিয় ঘন
    ও রূপ মোহন
    যে রূপে প্রেমাবেশে পরান নাচে।।
    
  • ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

    বাণী

    ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
    মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে —
    সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
    তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
    সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
    জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
    মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
    তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
    যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।
    

  • ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে

    বাণী

    ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে।
    কে এলে সুন্দর আমারে জাগাতে।।
    শাখে শাখে ফুলগুলি হাসিছে নয়ন মেলি’
    শিহরিছে উপবন ফুলেল হাওয়াতে।।
    দেখিনি তোমায় তবু অন্তর কহে,
    ছিলে তুমি লুকায়ে আমার বিরহে।
    চম্পার পেয়ালায় রস উছলিয়া যায় —
    ঝরিয়া পড়ার আগে ধর তা’রে হাতে।।
    
  • চৈতালি চাঁদনী রাতে

    বাণী

    চৈতালি চাঁদনী রাতে —
    নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
    নিশি জাগে আমারি সাথে।।
    পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
    শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
    দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
    	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
    চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
    বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
    এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
    কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
    সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
    	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।
    
  • জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী

    বাণী

    জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী।
    জয় ধ্রুব জ্যোতি, জয় বেদবতী।।
    জয় আদি কবি, জয় আদি বাণী
    জয় চন্দ্রচূড়, জয় বীণাপাণি,
    জয় শুদ্ধজ্ঞান শ্রীমূর্তিমতী।।
    শিব! সঙ্গীত সুর দাও, তেজ আশা,
    দেবী! জ্ঞান শক্তি দাও, অমর ভাষা।
    শিব! যোগধ্যান দাও, অনাশক্তি
    দেবী! মোক্ষলক্ষ্মী! দাও পরাভক্তি,
    দাও রস অমৃত, দাও কৃপা মহতী।।
    
  • জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা

    বাণী

    জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা।
    জাগো স্বাহা সীমন্তে রক্ত-টিকা।।
    দিকে দিকে মেলি’ তব লেলিহান রসনা,
    নেচে চল উন্মাদিনী দিগ্‌বসনা,
    জাগো হতভাগিনী ধর্ষিতা নাগিনী,
    বিশ্ব-দাহন তেজে জাগো দাহিকা।।
    ধূ ধূ জ্ব’লে ওঠ ধূমায়িত অগ্নি,
    জাগো মাতা, কন্যা, বধূ, জায়া, ভগ্নী!
    পতিতোদ্ধারিণী স্বর্গ-স্খলিতা
    জাহ্নবী সম বেগে জাগো পদ-দলিতা,
    মেঘে আনো বালা বজ্রের জ্বালা
    চির-বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা।।
    
  • জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন

    বাণী

    জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন।
    ভুবনে আনো নব দিনের শুভ প্রভাত লগ্ন।।
    	অনন্ত শয্যা ছাড়ি’ অলখ লোকে
    	এসো জ্যোতির পথে,
    দেব-লোকের তিমির-কারা-প্রাচীর কর ভগ্ন।।
    ভয়হীন, দ্বিধাহীন উদার আনন্দে,
    তোমার আবির্ভাব হোক প্রবল ছন্দে।
    হোক মানব স্বপ্রাকশ আপন স্বরূপে
    বিরাট রূপে, সফল কর আমার সোহং স্বপ্ন।।
    

    সঙ্গীতালেখ্য : ‘ষট ভৈরব’

  • দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা

    বাণী

    দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা।
    মধু-মাধবী সুরে চৈত্র-পূর্ণিমা রাতে, বাজো বেণুকা।।
    বাজো		শীর্ণা-স্রোত নদী-তীরে
    		ঘুম যবে নামে বন ঘিরে’
    যবে		ঝরে এলোমেলো বায়ে ধীরে ফুল-রেণুকা।।
    		মধু মালতী-বেলা-বনে ঘনাও নেশা
    		স্বপন আনো জাগরণে মদিরা মেশা।
    			মন যবে রহে না ঘরে
    			বিরহ-লোকে সে বিহরে
    		যবে নিরাশার বালুচরে ওড়ে বালুকা।।
    
  • ধুলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

    বাণী

    	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
    	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
    	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
    	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
    	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
    	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
    	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
    		তোমারে পরাব,
    মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
    		সুরধুনী ঝরাব।
    	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
    	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
    	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
    	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥
    
  • নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে

    বাণী

    নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
    হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।।
    বিহগী ঘুমায় বিহগ–কোলে,
    ঘুমায়েছে ফুলমালা শ্রান্ত আঁচলে;
    ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।।
    ফুরায় দিনের কাজ, ফুরায় না রাতি,
    শিয়রের দীপ হায় অভিমানে নিভে যায়
    নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
    কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
    বিষাদ–মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি’
    দিন যায় দিন গুণে, নিশি যায় নিরাশে।।
    

  • পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে

    বাণী

    পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে;
    কৃষ্ণচূড়া বনে ফাগুন সমীরণে
    ঝুরে ফুল বন পথতলে॥
    নিশি পোহায়ে যায় কাহার লাগি
    নয়নে নাহি ঘুম বসিয়া জাগি
    আমারই মত হায় চাহিয়া আশা পথ
    নিশীথের চাঁদ পড়ে গগনে ঢলে॥
    
  • প্রাণে জাগে হিন্দোল

    বাণী

    প্রাণে জাগে হিন্দোল গানে জাগে হিল্লোল,
    প্রেমের চামেলি বনে জাগিল মুকুল্।
    মনের গোপন রাগে রঙিন স্বপন জাগে,
    ফুল-ভরা গুল্‌বাগে বুলে বুল্‌বুল্‌।।
    রূপে ধরা ঝলমল্ রসে ভরা টলমল্,
    ঢলো ঢলো অনুরাগে আঁখি ঢুলুঢুল্।
    পাপিয়ার কলগানে কোকিলের কুহুতানে,
    যৌবনে মৌবনে দিল্ মস্‌গুল।।
    

    রেকর্ড নাটিকাঃ কাফন-চোরা

  • ফিরিয়া যদি সে আসে

    বাণী

    ফিরিয়া যদি সে আসে আমার খোঁজে ঝরা গোলাবে।
    আনিয়া সমাধি পাশে আমার বিদায় বাণী শোনাবে।।
    	বলিও তারে এখানে এসে
    	ডাকে যেন মোর নাম ধ’রে সে,
    রবাব যবে কাঁদিবে রমলা সুরের কোমল রেখাবে।।
    	তৃষিত মরুর ধুসর গগন
    	যেমন হেরে মেঘের স্বপন,
    তেমনি দারুণ তিয়াসা লয়ে কাটিল আমার বিফল জীবন —
    একটি ফোঁটা আঁখি–জল ঝরে যেন তার হাতের শরাবে।।
    
  • ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা

    বাণী

    ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা।
    মুঞ্জরিল বনে বিরহিণী লতিকা —
    আমারি আশালতা হ'লো না গো সরসা।।