ত্রিতাল

  • অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর

    বাণী

    অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর
    বহিছে তরলতর পূবালি পবন।
    	বিজুরী-জ্বালার মালা
    	পরিয়া কে মেঘবালা
    কাঁদিছে আমারি মত বিষাদ-মগন।।
    ভীরু এ মন-মৃগ আলয় খুঁজিয়া ফিরে,
    জড়ায়ে ধরিছে লতা সভয়ে বনস্পতিরে,
    গগনে মেলিয়া শাখা কাঁদে বন-উপবন।।
    

    চলচ্চিত্রঃ ‌‘ধ্রুব’

  • আও জীবন মরণ সাথী

    বাণী

    আও জীবন মরণ সাথী
    তুমকো ঢুঁঢাতা হ্যায় দূর আকাশ মে
    			মোহনী চাঁদনী রাতি।।
    ঢুঁঢাতা প্রভাত নিত গোধূলি লগন মে
    মেঘ হোকে ম্যয় ঢুঁঢাতা গগন মে।
    ফিরত হুঁ রোকে শাওন পবন মে।
    পাত্তে মে ঢুঁঢাতা তোড়ী পাপী
    শ্যামা হোকে জ্বালা ম্যয় তোহারি আঁখমে
    বুঝ গ্যয়া রাতকো হায় নিরাশ মে।
    আভি ইয়ে জীবন হ্যায় তুমহারি পিয়াস মে।
    গুল না হো যায়ে নয়ন কি বাতি।।
    
  • ঊষা এলো চুপি চুপি

    বাণী

    ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া সলাজ অনুরাগে।
    চাহে ভীরু নববধূ সম তরুণ অরুণ বুঝি জাগে।।
    শুকতারা যেন তার জলভরা আঁখি
    আনন্দ বেদনায় কাঁপে থাকি’ থাকি’,
    সেবার লাগিয়া হাত দু’টি
    মালার সম পড়ে লুটি
    			কাহার পরশ-রস মাগে।।
    
  • এসো প্রিয় আরো কাছে

    বাণী

    এস প্রিয় আরো কাছে
    পাইতে হৃদয়ে এ বিরহী মন যাচে।।
    দেখাও প্রিয় ঘন
    ও রূপ মোহন
    যে রূপে প্রেমাবেশে পরান নাচে।।
    
  • ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে

    বাণী

    ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে।
    কে এলে সুন্দর আমারে জাগাতে।।
    শাখে শাখে ফুলগুলি হাসিছে নয়ন মেলি’
    শিহরিছে উপবন ফুলেল হাওয়াতে।।
    দেখিনি তোমায় তবু অন্তর কহে,
    ছিলে তুমি লুকায়ে আমার বিরহে।
    চম্পার পেয়ালায় রস উছলিয়া যায় —
    ঝরিয়া পড়ার আগে ধর তা’রে হাতে।।
    
  • জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী

    বাণী

    জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী।
    জয় ধ্রুব জ্যোতি, জয় বেদবতী।।
    জয় আদি কবি, জয় আদি বাণী
    জয় চন্দ্রচূড়, জয় বীণাপাণি,
    জয় শুদ্ধজ্ঞান শ্রীমূর্তিমতী।।
    শিব! সঙ্গীত সুর দাও, তেজ আশা,
    দেবী! জ্ঞান শক্তি দাও, অমর ভাষা।
    শিব! যোগধ্যান দাও, অনাশক্তি
    দেবী! মোক্ষলক্ষ্মী! দাও পরাভক্তি,
    দাও রস অমৃত, দাও কৃপা মহতী।।
    
  • জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা

    বাণী

    জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা।
    জাগো স্বাহা সীমন্তে রক্ত-টিকা।।
    দিকে দিকে মেলি’ তব লেলিহান রসনা,
    নেচে চল উন্মাদিনী দিগ্‌বসনা,
    জাগো হতভাগিনী ধর্ষিতা নাগিনী,
    বিশ্ব-দাহন তেজে জাগো দাহিকা।।
    ধূ ধূ জ্ব’লে ওঠ ধূমায়িত অগ্নি,
    জাগো মাতা, কন্যা, বধূ, জায়া, ভগ্নী!
    পতিতোদ্ধারিণী স্বর্গ-স্খলিতা
    জাহ্নবী সম বেগে জাগো পদ-দলিতা,
    মেঘে আনো বালা বজ্রের জ্বালা
    চির-বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা।।
    
  • জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন

    বাণী

    জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন।
    ভুবনে আনো নব দিনের শুভ প্রভাত লগ্ন।।
    	অনন্ত শয্যা ছাড়ি’ অলখ লোকে
    	এসো জ্যোতির পথে,
    দেব-লোকের তিমির-কারা-প্রাচীর কর ভগ্ন।।
    ভয়হীন, দ্বিধাহীন উদার আনন্দে,
    তোমার আবির্ভাব হোক প্রবল ছন্দে।
    হোক মানব স্বপ্রাকশ আপন স্বরূপে
    বিরাট রূপে, সফল কর আমার সোহং স্বপ্ন।।
    

    সঙ্গীতালেখ্য : ‘ষট ভৈরব’

  • ধুলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

    বাণী

    	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
    	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
    	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
    	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
    	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
    	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
    	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
    		তোমারে পরাব,
    মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
    		সুরধুনী ঝরাব।
    	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
    	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
    	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
    	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥
    
  • নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে

    বাণী

    নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
    হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।।
    বিহগী ঘুমায় বিহগ–কোলে,
    ঘুমায়েছে ফুলমালা শ্রান্ত আঁচলে;
    ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।।
    ফুরায় দিনের কাজ, ফুরায় না রাতি,
    শিয়রের দীপ হায় অভিমানে নিভে যায়
    নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
    কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
    বিষাদ–মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি’
    দিন যায় দিন গুণে, নিশি যায় নিরাশে।।
    

  • পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে

    বাণী

    পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে;
    কৃষ্ণচূড়া বনে ফাগুন সমীরণে
    ঝুরে ফুল বন পথতলে॥
    নিশি পোহায়ে যায় কাহার লাগি
    নয়নে নাহি ঘুম বসিয়া জাগি
    আমারই মত হায় চাহিয়া আশা পথ
    নিশীথের চাঁদ পড়ে গগনে ঢলে॥
    
  • প্রাণে জাগে হিন্দোল

    বাণী

    প্রাণে জাগে হিন্দোল গানে জাগে হিল্লোল,
    প্রেমের চামেলি বনে জাগিল মুকুল্।
    মনের গোপন রাগে রঙিন স্বপন জাগে,
    ফুল-ভরা গুল্‌বাগে বুলে বুল্‌বুল্‌।।
    রূপে ধরা ঝলমল্ রসে ভরা টলমল্,
    ঢলো ঢলো অনুরাগে আঁখি ঢুলুঢুল্।
    পাপিয়ার কলগানে কোকিলের কুহুতানে,
    যৌবনে মৌবনে দিল্ মস্‌গুল।।
    

    রেকর্ড নাটিকাঃ কাফন-চোরা

  • ফিরিয়া যদি সে আসে

    বাণী

    ফিরিয়া যদি সে আসে আমার খোঁজে ঝরা গোলাবে।
    আনিয়া সমাধি পাশে আমার বিদায় বাণী শোনাবে।।
    	বলিও তারে এখানে এসে
    	ডাকে যেন মোর নাম ধ’রে সে,
    রবাব যবে কাঁদিবে রমলা সুরের কোমল রেখাবে।।
    	তৃষিত মরুর ধুসর গগন
    	যেমন হেরে মেঘের স্বপন,
    তেমনি দারুণ তিয়াসা লয়ে কাটিল আমার বিফল জীবন —
    একটি ফোঁটা আঁখি–জল ঝরে যেন তার হাতের শরাবে।।
    
  • বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে

    বাণী

    বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে।
    বিষাদিত ছায়া তার চৈতালী সন্ধ্যার চাঁদের মুকুরে।।
    	চপলতা বিসরি যেন বন-যৌবন
    	বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন,
    তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুরে।।
    যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে,
    ভগ্ন কণ্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে।
    	কোন বন-শিকারীর অকরুণ তীর
    	আলো হ’রে নিল ওই উজল আঁখির —
    ফেলে যাওয়া বাঁশি তা’র অঞ্চলে লুকায়ে —
    	গিরি–দরি–প্রান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।।
    
  • বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর

    বাণী

    বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর
    বহিছে তরলতর পুবালি পবন।
    মেঘলা যামিনী, দামিনী চমকায়
    কালো মেয়ের ভীরু প্রেমের মতন।।
    আমি ভুলে গেছি, মেঘেরা ভোলেনি
    সেই কালো চোখ, সেই বিনুনী-বেণী,
    প্রিয়ার দূতী সম, স্বরণে আনে মম
    এসেছিল একদিন এমন শুভ-লগন।।
    আর কিছু ছিল কি, ছিল না ত’ স্মরণে,
    শুধু জানি দুই জন ছিনু এই ভুবনে।
    সহসা মোদের মাঝে ছুটে এলো পারাপার
    কে কোথায় হারাইনু, কূল নাহি পেনু আর,
    মনে পড়ে বরষায়, তার সেই অসহায়
    বিদায় বেলার আঁখি অশ্রু-সঘন।।
    
  • মোর প্রথম মনের মুকুল

    বাণী

    মোর	প্রথম মনের মুকুল
    	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
    	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
    			উড়ে গেল গহন-বনে।।
    	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
    	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
    	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
    	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
    	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
    	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
    	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
    	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
    	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
    			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।
    
  • রামছাগী গায় চতুরঙ্গ বেড়ার ধারে

    বাণী

    		রামছাগী গায় চতুরঙ্গ বেড়ার ধারে,
    		গাইয়ে ষাঁড়-সাথে বাছুর হাম্বা রবে — ভীষণ নাদ ছাড়ে,
    		ফেটে বুঝি গেল কান, প্রাণে মারে!
    		শুনিয়া হাই তোলে ভেউ ভেউ রোলে — ভুলোটা পগার পারে।।
    তেলেনা: 		ডিম নেরে, তা দেরে, আমি না রে, তুই দেরে,
    		নেরে ডিম, দেরে তা, তা দেনা,
    		ওদের না না, তাদের না না তুই দেরে ডিম!
    		ওদের নারী তাদের নারী দেদার নারী,
    		দে রে নারী, যা ধেৎ, টানাটানি!
    সরগম:	 	ধ প র ধ র গ, গ র গ ধ, গ র গ ধ,
    		ন ধ ম ম, প র ন ম র গ, স র ন ধ স ম।।
    তবলার বোল: 	ভেগে যা, মেগে খা, মেরে কেটে খা, মেরে কেটে খা’
    		তেড়ে ধরে কাট ধুম, ধরে কেটে রাখুন না রাখুন না,
    		কান দুটি যাক তবু কাটা থাক দুম।।
    

    ‘চতুরঙ্গ’

  • শান্ত হও শিব বিরহ-বিহ্বল

    বাণী

    শান্ত হও, শিব, বিরহ-বিহ্বল
    চন্দ্রলেখায় বাঁধো জটাজুট পিঙ্গল।।
    ত্রি-বেদ যাহার দিব্য ত্রিনয়ন
    শুদ্ধ-জ্ঞান যা’র অঙ্গ-ভূষণ,
    সেই ধ্যানী শম্ভু — কেন শোক-উতল।।
    হে লীলা-সুন্দর, কোন্ লীলা লাগি’,
    কাঁদিয়া বেড়াও হ’য়ে বিরহী-বিবাগী।
    হে তরুণ যোগী, মরি ভয়ে ভয়ে
    কেন এ মায়ার খেলা মায়াতীত হ’য়ে,
    লয় হবে সৃষ্টি — তুমি হলে চঞ্চল।।
    
  • শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির–নির্মল

    বাণী

    শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির–নির্মল শান্ত অচঞ্চল ধ্রুব–জ্যোতি
    অশান্ত এ চিত কর হে সমাহিত সদা আনন্দিত রাখো মতি।।
    দুঃখ–শোক সহি অসীম সাহসে
    অটল রহি যেন সম্মানে যশে
    তোমার ধ্যানের আনন্দ–রসে
    	নিমগ্ন রহি হে বিশ্বপতি।।
    মন যেন না টলে খল কোলাহলে, হে রাজ–রাজ!
    অন্তরে তুমি নাথ সতত বিরাজ, হে রাজ–রাজ!
    বহে তব ত্রিলোক ব্যাপিয়া, হে গুণী,
    ওঙ্কার–সংগীত–সুর–সুরধুনী,
    হে মহামৌনী, যেন সদা শুনি
    	সে সুরে তোমার নীরব আরতি।।