ত্রিতাল

  • অগ্নি-গিরি ঘুমন্ত উঠিল জাগিয়া

    বাণী

    অগ্নি-গিরি ঘুমন্ত উঠিল জাগিয়া।
    বহ্নি-রাগে দিগন্ত গেল রে রাঙিয়া॥
    রুদ্র রোষে কি শঙ্কর উর্ধ্বের পানে
    লক্ষ-ফণা ভুজঙ্গ-বিদ্যুৎ হানে
    দীপ্ত তেজে অনন্ত-নাগের ঘুম ভাঙিয়া॥
    লঙ্কা-দাহন হোমাগ্নি সাগ্নিক মন্ত্র
    যজ্ঞ-ধূম বেদ-ওঙ্কার ছাইল অনন্ত।
    খড়গ-পাণি শ্রীচন্ডী অরাজক মহীতে
    দৈত্য নিশুম্ভ-শুম্ভে এলো বুঝি দহিতে,
    বিশ্ব কাঁদে প্রেম-ভিক্ষু আনন্দ মাগিয়া॥
    
  • অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে

    বাণী

    অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে।
    প্রদীপ-শিখা সম কাঁপিছে প্রাণ মম
    তোমায়, হে সুন্দর, বন্দিতে!
    সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
    তোমার দেবালয়ে কি সুখে কি জানি
    দু’লে দু’লে ওঠে আমার দেহখানি
    আরতি –নৃত্যের ভঙ্গীতে।
    সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
    পুলকে বিকশিল প্রেমের শতদল
    গন্ধে রূপে রসে টলিছে টলমল।
    তোমার মুখে চাহি আমার বাণী যত
    লুটাইয়া পড়ে ঝরা ফুলের মত
    তোমার পদতল রঞ্জিতে।
    সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
    

  • অনাদি কাল হতে অনন্তলোক

    বাণী

    অনাদি কাল হতে অনন্তলোক গাহে তোমারি জয়।
    আকাশ–বাতাস রবি–গ্রহ তারা চাঁদ, হে প্রেমময়।।
    সমুদ্র–কল্লোল নির্ঝর–কলতান –
    হে বিরাট, তোমার উদার জয়গান;
    ধ্যান গম্ভীর কত শত হিমালয় গাহে তোমারি জয়।।
    তব নামের বাজায় বীণা বনের পল্লব
    জনহীন প্রান্তর স্তব করে, নীরব।
    সকল জাতির কোটি উপাসনালয় গাহে তোমারি জয়।।
    আলোকের উল্লাসে, আঁধারের তন্দ্রায়
    তব জয়গান বাজে অপরুপ মহিমায়,
    কোটি যুগ–যুগান্ত সৃষ্টি প্রলয় গাহে তোমারি জয়।।
    
  • অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর

    বাণী

    অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর
    বহিছে তরলতর পূবালি পবন।
    	বিজুরী-জ্বালার মালা
    	পরিয়া কে মেঘবালা
    কাঁদিছে আমারি মত বিষাদ-মগন।।
    ভীরু এ মন-মৃগ আলয় খুঁজিয়া ফিরে,
    জড়ায়ে ধরিছে লতা সভয়ে বনস্পতিরে,
    গগনে মেলিয়া শাখা কাঁদে বন-উপবন।।
    

    চলচ্চিত্রঃ ‌‘ধ্রুব’

  • অরুণ-কান্তি কেগো যোগী ভিখারী

    বাণী

    অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি।
    নীরবে হেসে দাঁড়াইলে এসে
    প্রখর তেজ তব নেহারিতে নারি ॥
    রাস-বিলাসিনী আমি আহিরিণী
    শ্যামল কিশোর রূপ শুধু চিনি,
    অম্বরে হেরি আজ একি জ্যোতিঃপুঞ্জ
    হে গিরিজাপতি! কোথা গিরিধারী ॥
    সম্বর সম্বর মহিমা তব, হে ব্রজেশ ভৈরব,
    		আমি ব্রজবালা।
    হে শিব সুন্দর, বাঘছাল পরিহর, ধর নটবর-বেশ
    		পর নীপ-মালা।
    নব মেঘ-চন্দনে ঢাকি’ অঙ্গজ্যোতি
    প্রিয় হয়ে দেখা দাও ত্রিভুবন-পতি
    পার্বতী নহি আমি, আমি শ্রীমতী
    বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরি-ধারী ॥
    
  • আও জীবন মরণ সাথী

    বাণী

    আও জীবন মরণ সাথী
    তুমকো ঢুঁঢাতা হ্যায় দূর আকাশ মে
    			মোহনী চাঁদনী রাতি।।
    ঢুঁঢাতা প্রভাত নিত গোধূলি লগন মে
    মেঘ হোকে ম্যয় ঢুঁঢাতা গগন মে।
    ফিরত হুঁ রোকে শাওন পবন মে।
    পাত্তে মে ঢুঁঢাতা তোড়ী পাপী
    শ্যামা হোকে জ্বালা ম্যয় তোহারি আঁখমে
    বুঝ গ্যয়া রাতকো হায় নিরাশ মে।
    আভি ইয়ে জীবন হ্যায় তুমহারি পিয়াস মে।
    গুল না হো যায়ে নয়ন কি বাতি।।
    
  • আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া

    বাণী

    আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া।
    চম্পা কুঞ্জে আজো গুঞ্জে ভ্রমরা, কুহরিছে পাপিয়া।।
    প্রেম-কুসুম শুকাইয়া গেল হায়,
    প্রাণ-প্রদীপ মোর হের গো নিভে যায়,
    বিরহী এসো ফিরিয়া।।
    তোমারি পথ চাহি হে প্রিয় নিশিদিন
    মালার ফুল মোর ধূলায় হ’ল মলিন
    জনম গেল ঝুরিয়া।।
    
  • আজো বোলে কোয়েলিয়া চাঁপাবনে

    বাণী

    আজো বোলে কোয়েলিয়া
    চাঁপাবনে প্রিয় তোমারি নাম গাহিয়া।।
    তব স্মৃতি ভোলেনি চৈতালি সমীরণ,
    আজো দিকে দিকে খুঁজে ফেরে কাঁদিয়া।।
    নিশীথের চাঁদ আজো জাগে
    ওগো চাঁদ, তব অনুরাগে।
    জলধারা উথলে যমুনার সৈকতে
    খোঁজে তরুলতা ফুল আঁখি মেলিয়া।।
    
  • আঁধার ভীত এ চিত যাচে মা গো

    বাণী

    আঁধার ভীত এ চিত যাচে মা গো১ আলো আলো।
    বিশ্ববিধাত্রী আলোকদাত্রী নিরাশ পরানে আশার সবিতা জ্বালো
    				জ্বালো, আলো, আলো।।
    	হারায়েছি পথ গভীর তিমিরে
    	লহ হাতে ধ’রে প্রভাতের তীরে
    পাপ তাপ মুছি’ কর মা গো২ শুচি, আশিস-অমৃত ঢালো।।
    দশ৩ প্রহরণধারিণী দুর্গতিহারিণী দুর্গে মা অগতির গতি
    সিদ্ধি-বিধায়িনী দনুজ-দলনী বাহুতে দাও মা শকতি।
    	তন্দ্রা ভুলিয়া যেন মোরা জাগি —
    	এবার প্রবল মৃত্যুর লাগি’,
    রুদ্র-দাহনে ক্ষুদ্রতা দহ’ বিনাশ গ্লানির কালো।।
    
    ১. প্রভু, ২. নাথ, ৩, পান্ডুলিপিতে এখানে দুটি পঙ্ক্তি বেশি আাছে
    		অচেতন প্রাণে জাগরণ তৃষ্ণা আনো আনো
    		জড়তার বুকে জীবন-পিপাসা দানো দানো।
    
  • আঁধার রাতে কে গো একেলা

    বাণী

    আঁধার রাতে			কে গো একেলা
    নয়ন-সলিলে		ভাসালে ভেলা।।
    কাঁদিয়া কারে 		খোঁজ ওপারে
    আজো যে তোমার		প্রভাত বেলা।।
    কি দুখে আজি		যোগিনী সাজি’
    আপনারে ল’য়ে		এ হেলা-ফেলা।।
    সোনার কাঁকন		ও দুটি করে
    হের গো জড়ায়ে		মিনতি করে।
    খুলিয়া ধূলায়		ফেলো না গো তায়,
    সাধিছে নূপুর		চরণ ধ’রে।
    হের গো তীরে		কাঁদিয়া ফিরে
    আজি ও-রূপের		রঙের মেলা।।
    
  • আমার মনের বেদনা

    বাণী

    আমার মনের বেদনা
    বুঝিলে না, আমার মনের বেদনা ॥
    চাহিনি মালার ফুল
    বুঝিলে না আপনার ভূল
    মালা দিলে মন দিলে না ॥
    
  • আমি তব দ্বারে প্রেম-ভিখারি

    বাণী

    আমি তব দ্বারে প্রেম-ভিখারি
    নয়নের অনুরাগ-দৃষ্টির সাথে চাহি নয়ন-বারি।।
    তব পুষ্পিত তনুতে,হৃদয় -কমলে
    গোপনে যে প্রেম-মধু উথলে
    তোমার কাছে সেই অমৃত যাচে তৃষিত এ পথচারী।।
    জনম জনম আমি রূপ ধ'রে আসি গো,
    	তোমারি বিরহে কাঁদিতে,
    রাহুর মত আমি আসি না
    	বাহু-পাশে বাঁধিতে।
    আমি ফুলের মধু চাহি,ছিঁড়ি না ফুল গো,
    তদূরে রহি,গাহি গান বন-বুলবুল গো,
    মনোবনে আছে তব নন্দন-পারিজাত,আমি তা'রি পূজারি।।
    

  • আমি পথ-মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে

    বাণী

    আমি পথ-মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে। 
    গোপন অশ্রু-সম রাতের নয়ন-পাতে।। 
    দেবতা চাহে না মোরে 
    গাঁথে না মালার ডোরে, 
    অভিমানে তাই ভোরে শুকাই শিশির-সাথে।। 
    মধুর সুরভি ছিল আমার পরাণ ভরা, 
    আমার কামনা ছিল মালা হয়ে ঝ’রে পড়া। 
    ভালোবাসা পেয়ে যদি 
    আমি কাঁদিতাম নিরবধি, 
    সে-বেদনা ছিল ভালো, সুখ ছিল সে-কাঁদাতে।। 
    

  • আয় মা চঞ্চলা মুক্তকেশী

    বাণী

    আয় মা চঞ্চলা মুক্তকেশী শ্যামা কালী।
    নেচে নেচে আয় বুকে আয়, দিয়ে তাথৈ তাথৈ করতালি॥
    		দশদিক আলো ক’রে
    		ঝঞ্ঝার নূপুর প’রে,
    দুরন্ত রূপ ধ’রে আয় মায়ার সংসারে আগুন জ্বালি’॥
    আমার স্নেহের রাঙাজবা পায়ে দ’লে
    কালো রূপ-তরঙ্গ তুলে১
    গগন-তলে সিন্ধুজলে
    আমার কোলে আয় মা আয়।
    		তোর চপলতায় মা কবে
    		শান্ত ভবন প্রাণ-চঞ্চল হবে,
    এলোকেশে এনে ঝড় মায়ার এ খেলাঘর ভেঙে দে মা আনন্দ-দুলালি ॥
    

    ১. কালোরূপ — তরঙ্গ তুলে সাগর জলে

  • আসিবে তুমি জানি প্রিয়

    বাণী

    আসিবে তুমি, জানি প্রিয়!
    আনন্দে বনে বসন্ত এলো –
    ভুবন হ’ল সরসা প্রিয়–দরশা, মনোহর।।
    বনান্তে পবন অশান্ত হ’ল তাই, কোকিল কুহরে,
    ঝরে গিরি–নির্ঝরিণী ঝর ঝর।।
    ফুল্ল–যামিনী আজি ফুল–সুবাসে
    চন্দ্র অতন্দ্র সুনীল আকাশে,
    আনন্দিত দীপান্বিত অম্বর।।
    অধীর সমীরে দিগঞ্চল দোলে
    মালতী বিতানে পাখি পিউ পিউ বোলে,
    অঙ্গে অপরূপ ছন্দ আনন্দ–লহর তোলে;
    দিকে দিকে শুনি আজ আসিবে রাজাধিরাজ প্রিয়তম সুন্দর।।
    
  • ঊষা এলো চুপি চুপি

    বাণী

    ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া সলাজ অনুরাগে।
    চাহে ভীরু নববধূ সম তরুণ অরুণ বুঝি জাগে।।
    শুকতারা যেন তার জলভরা আঁখি
    আনন্দ বেদনায় কাঁপে থাকি’ থাকি’,
    সেবার লাগিয়া হাত দু’টি
    মালার সম পড়ে লুটি
    			কাহার পরশ-রস মাগে।।
    
  • এ কি এ মধু শ্যাম-বিরহে

    বাণী

    এ কি এ মধু শ্যাম-বিরহে।
    হৃদি-বৃন্দাবনে নিতি রসধারা বহে।।
    	গভীর বেদনা মাঝে
    	শ্যাম-নাম-বীনা বাজে
    প্রেমে মন মোহে যত ব্যথায় প্রাণ দহে।।
    
  • এ ঘনঘোর রাতে

    বাণী

    এ ঘনঘোর রাতে
    ঝুলন দোলায় দুলিবে মম সাথে।।
    এসো নব জলধর শ্যামল সুন্দর
    জড়ায়ে রাধার অঙ্গ বাঁশরি লয়ে হাতে।।
    

  • এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

    বাণী

    এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে।
    রহি’ রহি’ সেই মুখ পড়িছে মনে।।
    	বিজলিতে সেই আঁখি
    	চমকিছে থাকি’ থাকি’
    শিহরিত এমনি সে বাহু-বাঁধনে।।
    শন শন বহে বায় সে কোথায় সে কোথায়
    নাহি নাহি ধ্বনি শুনি উতল পবনে হায়
    চরাচর দুলিছে অসীম রোদনে।।
    

  • এই দেশ কার তোর নহে আর

    বাণী

    এই দেশ কার? তোর নহে আর, রে মূঢ় সন্তান! ভারত-মাতার।
    দেবতার দেশে আজ দৈত্য করে বিরাজ, মন্দির আজি বন্দীর কারাগার।।
    লাজ নাহি তার, যার জননী দাসী
    দাসের শিকল প’রে (কেমনে নিলাজ) বেড়াস্ হাসি’?
    	অসম্মানের প্রাণ
    	ক’রে দে রে অবসান,
    মানুষের মত ম’রে বাঁচ রে আবার।।