ত্রিতাল

  • হাসে আকাশে শুকতারা হাসে

    বাণী

    হাসে আকাশে শুকতারা হাসে।
    অরুণ-রঞ্জনী-ঊষার পাশে॥
    	ওকি ঊষসীর সাথী
    	বাসর ঘরে জাগে রাতি,
    (ওকি) সখীর মনের কথা জানে আভাসে॥
    হাসির ছটায় ওর আঁখি কেন নাচে,
    রবির রথের ধ্বনি ওকি শুনিয়াছে।
    (ও) কেন দিবা আসিবার আগে
    শ্রান্ত বধূর ঘুম ভাঙে,
    (ওকি) ধরার সূযমুখী ফুটেছে নভে —
    প্রিয়তমে প্রথম দেখার আশে॥
    
  • হে নট-ভৈরবী আশাবরি

    বাণী

    হে নট-ভৈরবী আশাবরি।
    ওঠো গো অরুণ গান বিসরি’।।
    চেয়ে আছ জলভরা নয়নে,
    তীব্র নিদাঘ তাপ কোমল করি’।।
    পঞ্চমে কোয়েলিয়া ক’য়ে যায়
    প্রথম প্রহর দিবা ব’য়ে যায়,
    গুরু গঞ্জনা দিতে আসে ঐ —
    মুখ ভার করি’ তব ননদিনী তোড়ি।।
    
  • হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে

    বাণী

    	হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে
    মোর	স্মৃতি তাই রেখে' যাই শত গীতে।।
    	বিষাদিত সন্ধ্যায় শুনিবে দূরে
    	বিরহী বাঁশি ঝুরে আমারি সুরে
    	আমারি করুণ গাথা গাহিবে কে কোথা
    	সজল মেঘ-ঘেরা নিশীথে।।
    	গোধূলি-ধূসর ম্লান আকাশে
    	হেরিবে আমার মূরতি ভাসে
    	তব পদদলিত ফুলের বাসে
    	পড়িবে মনে আমারে চকিতে।।
    
  • হে বিধাতা হে বিধাতা হে বিধাতা

    বাণী

    হে বিধাতা! হে বিধাতা! হে বিধাতা!
    দুঃখ-শোক-মাঝে, তোমারি পরশ রাজে,
    কাঁদায়ে জননী-প্রায়, কোলে কর পুনরায়, শান্তি-দাতা।।
    ভুলিয়া যাই হে যবে সুখ-দিনে তোমারে
    স্মরণ করায়ে দাও আঘাতের মাঝারে।
    দুঃখের মাঝে তাই, হরি হে, তোমারে পাই দুঃখ-ত্রাতা।।
    দারা-সুত-পরিজন-রূপে হরি, অনুখন
    তোমার আমার মাঝে আড়াল করে সৃজন।
    তুমি যবে চাহ মোরে, লও হে তোদের হ’রে
    ছিঁড়ে দিয়ে মায়া-ডোর, ক্রোড়ে ধর আপন।
    ভক্ত সে প্রহ্লাদ ডাকে যবে ‘নারায়ণ’,
    নির্মম হয়ে তার পিতারও হর জীবন।
    সব যবে ছেড়ে যায় দেখি তব বুকে হায় আসন পাতা।।
    
  • হে মহামৌনী তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী

    বাণী

    হে মহামৌনী, তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী শোনাবে কবে
    যুগ যুগ ধরি’ প্রতীক্ষারত আছে জাগি’ ধরণী নীরবে॥
    যে-বাণী শোনার অনুরাগে উদার অম্বর জাগে
    অনাহত যে-বাণীর ঝঙ্কার বাজে ওঙ্কার প্রণবে॥
    চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারায় জ্বলে যে-বাণীর শিখা
    পুষ্পে-পর্ণে শত বর্ণে যে-বাণী-ইঙ্গিত লিখা।
    যে অনাদি বাণী সদা শোনে যোগী-ঋষি মুনি জনে
    যে-বাণী শুনি না শ্রবণে বুঝি অনুভবে॥
    
  • হে মাধব হে মাধব হে মাধব

    বাণী

    হে মাধব, হে মাধব, হে মাধব!
    তোমারেই প্রাণের বেদনা কব তোমারি শরণ লব।।
    সুখের সাগরে লহরি সমান
    হিল্লোলি’ উঠে যেন তব নমি গান
    দুঃখে শোকে কাঁদে যবে প্রাণ যেন নাম না ভুলি তব।।
    তুমি ছাড়া বিশ্বে কাহারও কাছে
    এ প্রাণ যেন কিছু নাহি যাচে।
    যেনতোমারি অধিক কেহ প্রিয় নাহি হয়
    বিশ্ব ভুবনে যেন হেনি তুমি-ময়
    কলঙ্ক-লাঞ্ছনা যত বাধা ভয় তব প্রেমে সকলি স’ব।।