ত্রিতাল

  • প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী

    বাণী

    প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী
    আঁধার ঘিরে' আশার আলো আনুক তোমার গৃহের জ্যোতি।।
    	হেরিয়া তোমার আঁখির আলোক
    	বিষদিত সাঁঝ পুলকিত হোক,
    যেন দূরে যায় সব দুখ শোক, তব শঙ্খরব শুনি', হে সতী।।
    	কাঁকন পরা তব শুভ কর
    	মুখর করুক এ নীরব ঘর
    এ গৃহে আনুক বিধাতার বর তোমার মধুর প্রেম-আরতি।।
    
  • প্রদীপ কি জ্বলিল আবার

    বাণী

    প্রদীপ কি জ্বলিল আবার।
    দিন কি গো শেষ হল মোর নিরাশার।।
    বিরহ দাহন কি গো ফুরালো
    বৈকালি বায়ে তনু জুড়ালো,
    উঠিবে কি চাঁদ আর রবে না আঁধার।।
    সে কি গো রাধারে ত্যজিয়া ব্রজপথে
    আরোহিবে মথুরার রথে,
    যমুনায় আবার কি বহিবে জোয়ার।।
    
  • প্রাণে জাগে হিন্দোল

    বাণী

    প্রাণে জাগে হিন্দোল গানে জাগে হিল্লোল,
    প্রেমের চামেলি বনে জাগিল মুকুল্।
    মনের গোপন রাগে রঙিন স্বপন জাগে,
    ফুল-ভরা গুল্‌বাগে বুলে বুল্‌বুল্‌।।
    রূপে ধরা ঝলমল্ রসে ভরা টলমল্,
    ঢলো ঢলো অনুরাগে আঁখি ঢুলুঢুল্।
    পাপিয়ার কলগানে কোকিলের কুহুতানে,
    যৌবনে মৌবনে দিল্ মস্‌গুল।।
    

    রেকর্ড নাটিকাঃ কাফন-চোরা

  • ফিরিয়া যদি সে আসে

    বাণী

    ফিরিয়া যদি সে আসে আমার খোঁজে ঝরা গোলাবে।
    আনিয়া সমাধি পাশে আমার বিদায় বাণী শোনাবে।।
    	বলিও তারে এখানে এসে
    	ডাকে যেন মোর নাম ধ’রে সে,
    রবাব যবে কাঁদিবে রমলা সুরের কোমল রেখাবে।।
    	তৃষিত মরুর ধুসর গগন
    	যেমন হেরে মেঘের স্বপন,
    তেমনি দারুণ তিয়াসা লয়ে কাটিল আমার বিফল জীবন —
    একটি ফোঁটা আঁখি–জল ঝরে যেন তার হাতের শরাবে।।
    
  • ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা

    বাণী

    ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা।
    মুঞ্জরিল বনে বিরহিণী লতিকা —
    আমারি আশালতা হ'লো না গো সরসা।।
    
  • ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি

    বাণী

    ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি?
    ভোরের হাওয়ায় কান্না পাওয়ায় তব ম্লান ছবি
    		নীরব কেন কবি।।
    যে বীণা তোমার কোলের কাছে
    বুক-ভরা সুর ল’য়ে জাগিয়া আছে,
    তোমার পরশে ছড়াক্‌ হরষে
    আকাশে-বাতাসে তা’র সুরের সুরভি
    		নীরব কেন কবি।।
    তোমার যে প্রিয়া গেল বিদায় নিয়া অভিমানে রাতে —
    গোলাপ হয়ে কাঁদে তাহারই কামনা উদাস-প্রাতে।
    ফিরে যে আসিবে না ভোলো তাহারে
    চাহ তাহার পানে দাঁড়ায়ে যে দ্বারে,
    অস্ত-চাঁদের বাসনা ভুলাতে
    অরুণ-অনুরাগে উদিল রবি
    		নীরব কেন কবি।।
    
  • ব’লো না ব’লো না ওলো সই

    বাণী

    ব’লো না ব’লো না ওলো সই
    		আর সে কথা।।
    তরু কি লতার কাছে
    এসে কভু প্রেম যাচে
    তরু বিনা নাহি বাঁচে
    		অসহায় লতা।।
    ভুলিতে যার নাই তুলনা
    সখি তার কথা তুলো না
    প্রাণহীন পাষাণে গড়া
    		সে যে দেবতা।।
    
  • বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে

    বাণী

    বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে।
    বিষাদিত ছায়া তার চৈতালী সন্ধ্যার চাঁদের মুকুরে।।
    	চপলতা বিসরি যেন বন-যৌবন
    	বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন,
    তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুরে।।
    যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে,
    ভগ্ন কণ্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে।
    	কোন বন-শিকারীর অকরুণ তীর
    	আলো হ’রে নিল ওই উজল আঁখির —
    ফেলে যাওয়া বাঁশি তা’র অঞ্চলে লুকায়ে —
    	গিরি–দরি–প্রান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।।
    
  • বনপথে কে যায়

    বাণী

    বনপথে কে যায়।
    মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।।
    ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম
    বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্,
    জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।
    
  • বরষা ঐ এলো বরষা

    বাণী

    বরষা ঐ এলো বরষা
    আলোর ধারায় জল ঝরঝরি’ অবিরল
    ধূসর নীরস ধরা হলো সরসা।।
    ঘন দেয়া দমকে দামিনী চমকে
    ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর ঝমঝম ঝমকে
    মনে পড়ে সুদূর মোর প্রিয়তমকে
    মরাল মরালীরে হেরি সহসা।।
    
  • বসন্ত এলো এলো এলো রে

    বাণী

    বসন্ত এলো এলো এলো রে
    পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহরে
    মুহু মুহু কুহু কুহু তানে।
    মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে
    ভ্রমর গুঞ্জে গুনগুন গানে।।
    পিয়া পিয়া ডেকে ওঠে পাপিয়া
    মহুল, পলাশ বন-ব্যাপিয়া
    সুরভিত সমীরণ চঞ্চল উন্মন
    আনে নব-যৌবন প্রাণে।।
    বেণুকার বনে বাঁশি বাজে
    বনমালী এলো বন-মাঝে
    নাচে তরু-লতিকা যেন গোপ-গোপিকা
    রাঙা হয়ে রঙের বানে।।
    
  • বসন্ত মুখর আজি

    বাণী

    বসন্ত মুখর আজি।
    দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
    বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি’।।
    অকারণ ভাষা তার ঝর ঝর ঝরে
    মুহু মুহু কুহু কুহু পিয়া পিয়া স্বরে,
    পলাশ বকুলে অশোক শিমুলে —
    সাজানো তাহার কল–কথার সাজি।।
    দোয়েল মধুপ বন–কপোত কূজনে,
    ঘুম ভেঙে দেয় ভোরে বাসর শয়নে।
    মৌনী আকাশ সেই বাণী–বিলাসে
    অস্ত চাঁদের মুখে মৃদু মৃদু হাসে,
    বিরহ–শীর্ণা গিরি–ঝর্ণার তীরে —
    পাহাড়ি বেণু হাতে ফেরে সুর ভাঁজি’।।
    
  • বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর

    বাণী

    বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর
    বহিছে তরলতর পুবালি পবন।
    মেঘলা যামিনী, দামিনী চমকায়
    কালো মেয়ের ভীরু প্রেমের মতন।।
    আমি ভুলে গেছি, মেঘেরা ভোলেনি
    সেই কালো চোখ, সেই বিনুনী-বেণী,
    প্রিয়ার দূতী সম, স্বরণে আনে মম
    এসেছিল একদিন এমন শুভ-লগন।।
    আর কিছু ছিল কি, ছিল না ত’ স্মরণে,
    শুধু জানি দুই জন ছিনু এই ভুবনে।
    সহসা মোদের মাঝে ছুটে এলো পারাপার
    কে কোথায় হারাইনু, কূল নাহি পেনু আর,
    মনে পড়ে বরষায়, তার সেই অসহায়
    বিদায় বেলার আঁখি অশ্রু-সঘন।।
    
  • বিরহী বেণুকা যেন বাজে সখি ছায়ানটে

    বাণী

    বিরহী বেণুকা যেন বাজে সখি ছায়ানটে।
    উথলি’ উঠিল বারি শীর্ণা যমুনাতটে।।
    	নীরব কুঞ্জে কুহু
    	গেয়ে ওঠে মুহু মুহু,
    আঁধার মধু বনে বকুল চম্পা ফোটে।।
    সহসা সরস হল বিরস বৃন্দাবন,
    চন্দ্রা যামিনী হাসে খুলি মেঘ-গুণ্ঠন।
    	সে এলো, তারে নিরখি’
    	পরান কি রবে সখি,
    আবেশে অঙ্গ মম থরথর কেঁপে ওঠে।।
    
  • বিষাদিনী এসো শাওন সন্ধ্যায়

    বাণী

    বিষাদিনী এসো শাওন সন্ধ্যায়
    		কাঁদিব দুজনে।
    দীপালির উৎসবে আঁধারের ঠাঁই নাহি
    		কাহারো হাসি যদি নিভে যায়।
    তোমারি মতো তাই ম্লান-মুখ চিরদিন
    		লুকায়ে রাখি অবগুণ্ঠনে॥
    
  • বুল্‌বুলি নীরব নার্গিস বনে

    বাণী

    বুল্‌বুলি নীরব নার্গিস–বনে।
    ঝরা বন–গোলাপের বিলাপ শোনে।।
    শিরাজের নওরোজে ফাল্গুন মাসে
    যেন তার প্রিয়ার সমাধির পাশে,
    তরুণ ইরান–কবি কাঁদে নিরজনে।।
    উদাসীন আকাশ থির হ’য়ে আছে,
    জল–ভরা মেঘ ল’য়ে বুকের কাছে।
    সাকির শরাবের পিয়ালার ‘পরে
    সকরুণ অশ্রুর বেল ফুল ঝরে,
    চেয়ে আছে ভাঙা চাঁদ মলিন–আননে।।
    
  • বেণুকা ও-কে বাজায় মহুয়া বনে

    বাণী

    বেণুকা ও-কে বাজায় মহুয়া বনে।
    কেন ঝড় তোলে তার সুর আমার মনে।।
    বলে আয় সে দুরন্তে সখি
    আমারে কাঁদাবে সারা জনম ও-কি,
    সে কি ভুলিতে তারে দেবে না জীবনে।।
    সখি, ভাল ছিল তার তীর-ধনুক নিঠুর,
    বাজে আরো সকরুণ তা’র বেণুকার সুর।
    সখি, কেন সে বন-বিলাসী
    আমারই ঘরের পাশে বাজায় বাঁশি,
    আছে আরো কত দেশ, কত নারী ভুবনে।।
    
  • বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ হে ইন্দ্রানী

    বাণী

    বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ, হে ইন্দ্রানী,
    জাগো, জাগো করে সুধা-পাত্রখানি।।
    রোদন-সায়রে ধুয়ে পুষ্পতনু
    এসো অশ্রুর বরষার ইন্দ্র-ধনু,
    হের কুলে অনুরাগে জীবন-দেবতা জাগে
    	ধরিবে বলিয়া তব পদ্মপাণি।।
    তব দুখ-রাত্রির তপস্যা শেষ- এলো শুভ দিন,
    অতল-তমসা-লক্ষ্মী গো তুমি অমরার
    এসো এসো পার হ'য়ে ব্যথার পাথার।
    অশ্রুত অশ্রুর নীরবতা কর দূর
    	কূলে কূলে হাসির তরঙ্গ হানি।।
    

  • ব্রজ-দুলাল ঘন শ‍্যাম

    বাণী

    ব্রজ-দুলাল ঘন শ‍্যাম
    মোর হৃদে কর বিহার হে।।
    নব অনুরাগের জ্বালায়ে বাতি
    অঙ্গে অঙ্গে রাখি তব শেজ পাতি’
    গাঁথি অশ্রু-মোতিহার হে।।
    আরতি-প্রদীপ আঁখিতে জ্বালায়ে রাখি
    পথ-পানে চাহি বার বার হে।।
    নিবেদন করি নাথ তব চরণে
    নিত্য পূজা-উপচার হে
    বিরহ-গন্ধ ধূপ বেদনা চন্দন
    পূজাঞ্জলি আঁখি-ধার হে
    দেবতা এসো, খোল দ্বার হে।।
    
  • ভগবান শিব জাগো জাগো

    বাণী

    ভগবান শিব জাগো জাগো, ছাড়িয়া গেছেন দেবী শিবানী সতী।
    শক্তিহীন আজি সৃষ্টি চন্দ্র-সূর্য তারা হীন-জ্যোতি।।
    	হে শিব, সতীহারা হয়ে নিষ্প্রাণ
    	ভূ-ভারত হইয়াছে শবের শ্মশান,
    কোলে ল’য়ে প্রাণহীন জড়-সন্তান — শিবনাম জপে ধ’রা অশ্রুমতী।।