বাণী

দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়
কবে সে ডুবিলি অতল পাথারে উঠিলি না আর হায় মা হায়॥
	মন্থনে শুধু উঠে হলাহল
	শিব নাই পান কে করে গরল
অমৃত ভান্ড লয়ে আয় মাগো জ্বলিয়া মরি বিষের জ্বালায়॥
হরিৎ ক্ষেত্রে সোনার শস্যে দুলে না আর তোর আঁচল
শুকায়েছে মাগো মায়ের স্তন্য গাভীর দুগ্ধ নদীর জল।
	চাই না মোক্ষ চাই মা বাঁচিতে
	অক্ষয় আয়ু লয়ে ধরণীতে
চাই প্রাণ চাই ক্ষুধায় অন্ন মুক্ত আলোকে মুক্ত বায়॥

বাণী

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী কোরানের মধু-বাণী।
আয়েশা খাতুন শোনেন বসিয়া, নয়নে ঝরিছে পানি।।
	বে-দ্বীন দিওয়ানা হ’য়ে
	কাঁদে যে কোরান ল’য়ে,
বিশ্ববাসী আনিল ঈমান যে পাক কোরান মানি’।।
চন্দ্র-তারকা-গ্রহ আদি ঐ তরুলতা মরু-বায়,
কোরানের সেই আয়াত শুনিয়া লুটায় নবীর পায়।
	কোরানে জাগাও ওরে
	জ্ঞান-গরিমায় মোরে,
মরিতে আমায় দিও গো ল’য়ে বক্ষে কোরানখানি।

বাণী

দুপুর বেলাতে একলা পথে,
	ও কে হেলিয়া দুলিয়া চলিয়া যায়।
ক্ষ্যাপা হাওয়াতে উড়িছে আঁচলা,
খোঁপা খুলিয়া খুলিয়া খুলিয়া যায়।।
	ছল ক’রে জল যায় সে আনিতে
	দেখিয়া গুরুজন ঘোমটা দিতে,
ও সে ভুলিয়া ভুলিয়া ভুলিয়া ভুলিয়া যায়।।
	কাহার গলার মালার তরে
	আপন মনে আঁচল ভ’রে,
ফুল তুলিয়া তুলিয়া তুলিয়া তুলিয়া যায়।।
	কার বিরহে পরান দহে
	কিসের নেশায় মদির মোহে,
ও সে ঢুলিয়া ঢুলিয়া ঢুলিয়া ঢুলিয়া যায়।।

বাণী

দেখলে তোমায় বাসতে ভালো হয় না কারো ভুল।
রূপ-দীপালি দোদুল দেহ প্রেম ঢুল্ ঢুল্।।
	সোহাগ কথার মায়ার ফাঁদে
	ব্যাকুল হিয়া সদাই কাঁদে,
রই চেয়ে ঐ বদন-চাঁদে চকোর আকুল।।
সুনীল চোখের মায়া দেখি সজল আকাশে,
কাজল-কালো অলক-লতা মেঘেতে ভাসে।
	গোলাপ বনে গেলে সখি
	তোমায় যবে পাশে দেখি,
আমার ভুল হয়ে যায় কোন্‌টি তুমি, কোন্‌টি গোলাপ ফুল।।

বাণী

দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ তাহে দুঃখ নাই
তুমি যেন অন্তরে মোর বিরাজ করো সর্বদাই॥
	রোগের মাঝে অশান্তিতে
	তুমি থেকো আমার চিতে
তোমার নামের ভজন গীতে প্রাণে যেন শান্তি পাই॥
দুর্দিনেরি বিপদ এলে তোমায় যেন না ভুলি
তোমার ধ্যানে পর্বত প্রায় অটল থাকি, না দুলি।
	সুখের দিনে বিলাস ঘোরে
	ভুলতে নাহি দিও মোরে
আপনি ডেকে নিও কোলে দূরে যদি সরে যাই॥

বাণী

দুলে চরাচর হিন্দোল-দোলে
বিশ্বরমা দোলে বিশ্বপতি-কোলে।।
গগনে রবি-শশী গ্রহ-তারা দুলে,
তড়িত-দোলনাতে মেঘ ঝুলন ঝুলে।
	বরিষা-শত-নরী
	দুলিছে মরি মরি,
	দুলে বাদল-পরী
		কেতকী-বেণী খোলে।।
নদী-মেঘলা দোলে, দোলে নটিনী ধরা,
দুলে আলোক নভ-চন্দ্রাতপ ভরা।
করিয়া জড়াজড়ি দোলে দিবস-নিশা,
দোলে বিরহ-বারি, দোলে মিলন-তৃষা।
	উমারে লয়ে বু’কে
	শিব দুলিছে সুখে,
	দোলে অপরূপ
		রূপ-লহর তোলে।।