বাণী

গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু।
নাচিছে সুন্দর নাচে স্বয়ম্ভূ।।
সে-নাচে-হিল্লোলে জটা-আবর্তনে
সাগর ছুটে আসে গগন-প্রাঙ্গণে।
		আকাশে শূল হানি’
		শোনাও নব বাণী,
		তরাসে কাঁপে প্রাণী
			প্রসীদ-শম্ভু।
ললাট-শশী টলি’ জটায় পড়ে ঢলি’,
সে-শশী-চমকে গো বিজুলি ওঠে ঝলি’।
ঝাঁপে নীলাঞ্চলে মুখ দিগঙ্গনা,
মূরছে ভয়-ভীতা নিশি নিরঞ্জনা।
		আঁধারে পথহারা
		চাতকী কেঁদে সারা,
		যাচিছে বারিধারা
			ধরা নিরম্বু।।

বাণী

গিন্নির চেয়ে শালী ভালো মেসোর চেয়ে মামা।
আর ডাইনের চেয়ে ডুগি ভালো অর্থাৎ কিনা বামা।।
একশালা সে দোশালা আচ্ছা, চন্ডুর চেয়ে গাঁজা,
আর হাতের চেয়ে ভালো, তেনার হাতদিয়ে পান সাজা,
আর ধাক্কার চেয়ে গুঁতো ভালো, উকোর চেয়ে ঝামা।।
টিকির চেয়ে বেণী ভালো, ধূতির চেয়ে শাড়ি,
আর পাঠার চেয়ে মুরগি ভালো, থানার চেয়ে ফাঁড়ি
ঠুঁটোর চেয়ে নুলো ভালো, প্যান্ট চেয়ে পায়জামা।।
আর পেয়াদার চেয়ে যম ভালোরে (ভাই), শালের চেয়ে বাঁশ,
আর দাঁড়ির চেয়ে গোফ্ ভলো ভাই আঁটির চেয়ে শাঁস,
আর ছেলের চেয়ে ছালা ভালো (ওগো), ঝুড়ির চেয়ে ধামা।।
পাকার চেয়ে কাঁচা ভালো, কালোর চেয়ে ফরসা
আর পেত্‌নীর চেয়ে ভূত ভালো ভাই, ছাড়বার থাকে ভরসা,
আর ঝগ্‌ড়ার চেয়ে কুস্‌তি ভালো, কাল্লুর চেয়ে গামা।।

বাণী

গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
দূর গগনে প্রিয় তিমির-‘পারে।।
জেগে যবে দেখি হায় তুমি নাই কাছে
আঙিনাতে ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
বাণ-বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।
মৌন নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।
কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।

বাণী

গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ
বাহিয়া চলেছে আগের মতন, কই রে আগের মানুষ কই।।
		মৌনী স্তব্ধ সে হিমালয়
		তেমনি অটল মহিমময়
নাই তার সাথে সেই ধ্যানী ঋষি, আমরাও আর সে জাতি নই।।
		আছে সে আকাশ ইন্দ্র নাই
		কৈলাসে সে যোগীন্দ্র নাই
অন্নদা-সুত ভিক্ষা চাই কি কহিব এরে কপাল বই।।
		সেই আগ্রা সে দিল্লী ভাই
		প’ড়ে আছে, সেই বাদশা নাই
নাই কোহিনুর ময়ূর-তখ্ত নাই সে বাহিনী বিশ্বজয়ী।
		আমরা জানি না, জানে না কেউ
		কূলে ব’সে কত গণিব ঢেউ
দেখিয়াছি কত, দেখিব এও নিঠুর বিধির লীলা কতই।।

বাণী

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা, প্রসীদ! কর ক্ষমা! দেবী নমস্তে।
শতমুখীধারিণী ভীমহুঙ্কারিণী যেন গন্ডারিনী দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে।দেবী নমস্তে।।
চীৎকারে মাঝ রাতে পড়শীরা জেগে যায়
তক্তাপোষের নীচে ছেলে পিলে ভেগে যায়
পদভরে দুদ্দাড় ভেঙ্গে পড়ে ঘর দ্বার
চেড়ীদের সর্দার হাতা-বেড়ী-হস্তে।দেবী নমস্তে।।
শান্ত শিষ্ট এই গোবেচারা স্বামী
তোমার পুলিশ কোর্টে চিরকাল আসামী
তেড়ে আসে বীরজায়া তুমি কুঁদো মোটকা।
বেগতিক দেখে ছুটি আমি রোগা পট্‌কা।
কাঁছাকোঁচা বেসামাল ব্যস্তে সমস্তে।দেবী নমস্তে।।
তুমি পূর্বজন্মে ছিলে ভোজপুরি দারোয়ান
আমি বলীবর্দ তুমি ছিলে গাড়োয়ান;
ময়দা ছিলাম আমি তুমি নিয়ে ঠাসতে।
আহা হা টুটি কেন টিপে ধর? আস্তে, শ্বস্তে।দেবী নমস্তে।।

বাণী

গগনে সঘন চমকিছে দামিনী
মেঘ-ঘন-রস রিমঝিম বরষে।
একেলা ভবনে বসি’ বাতায়নে
পথ চাহে বিরহিণী কামিনী।।
পূবালি পবন বহে দাদুরি ডাকে,
অভিসারে চলে খুঁজে’ কাহাকে।
বৈরাগিনী সাজে উন্মনা যামিনী।।