বাণী

জানি আমার সাধনা নাই আছে তবু সাধ।
তুমি আপনি এসে দেবে ধরা দূর-আকাশের চাঁদ।।
	চকোর নহি মেঘও নহি
	আপন ঘরে বন্দী রহি’
আমি শুধু মনকে কহি কাঁদ নিশি দিন কাঁদ।।
কূল-ডুবানো জোয়ার কোথা পাব হে সুন্দর?
হে চাঁদ আমি সাগর নহি পল্লী-সরোবর।
	নিশীথ রাতে আমার নীরে,
	প্রেমের কুমুদ ফোটে ধীরে,
মোর ভীরু প্রেম যেতে নারে ছাপিয়ে লাজের বাঁধ।।

বাণী

জয় দুর্গা, দুর্গতিনাশিনী।
হরি-হৃদি-কমল-বনবাসিনী।।
সব বন্ধন পাপ-তাপ-হরা
সব শোক-দুঃখ-ব্যথা শীতল করা
জয় অভয়া, শুভদা, শিব-স্বয়ম্বরা।
জয় জননী-রূপা চির সুমঙ্গলা
শুভ্র রুচির হাসিনী
জয় দুর্গা, জয় দুর্গা জয় দুর্গা।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

বাণী

জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী।
জয় ধ্রুব জ্যোতি, জয় বেদবতী।।
জয় আদি কবি, জয় আদি বাণী
জয় চন্দ্রচূড়, জয় বীণাপাণি,
জয় শুদ্ধজ্ঞান শ্রীমূর্তিমতী।।
শিব! সঙ্গীত সুর দাও, তেজ আশা,
দেবী! জ্ঞান শক্তি দাও, অমর ভাষা।
শিব! যোগধ্যান দাও, অনাশক্তি
দেবী! মোক্ষলক্ষ্মী! দাও পরাভক্তি,
দাও রস অমৃত, দাও কৃপা মহতী।।

বাণী

জগতের নাথ তুমি, তুমি প্রভু প্রেমময়।
আমি জগতের বাহিরে নহি দেহ চরণে আশ্রয়।।
যাহাদের তরে আমি খাটিনু দিবস-রাতি,
(আমার)যাবার বেলায় কেহ তাদের হ’ল না সাথের সাথি।
সম্পদ মোর পাঁচ ভূতে খায়, কর্ম কেবল সঙ্গে রয়।।
ভুলিয়া সংসার মোহে লই নাই তোমারি নাম —
তরাতে এমন পাপী পাবে না হে ঘনশ্যাম।
শুনেছি তোমারে যদি কাঁদিয়া কেহ ডাকে —
তুমি অমনি তারে কর ক্ষমা চরণে রাখ তাকে।
আমি সেই আশাতে এসেছি নাথ যদি তব কৃপা হয়।।

বাণী

জাগো		অনশন-বন্দী, ওঠ রে যত
		জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত!
যত		অত্যাচারে আজি বজ্র হানি’
হাঁকে		নিপীড়িত-জন-মন-মথিত বাণী,
নব		জনম লভি’ অভিনব ধরণী ওরে ঐ আগত।।
আদি		শৃঙ্খল সনাতন শাস্ত্র আচায়
মূল		সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার।
ভেদি’		দৈত্য-কারা আয় সর্বহারা;
কেহ		রহিবে না আর পর-পদ-আনত।।
		নব ভিত্তি ‘পরে —
নব		নবীন জীবন হবে উত্থিত রে!
শোন্‌		অত্যাচারী! শোন্‌ রে সঞ্চয়ী!
		ছিনু সর্বহারা, হব সর্বজয়ী।
ওরে		সর্বশেষের এই সংগ্রাম-মাঝ।
নিজ		নিজ অধিকার জুড়ে দাঁড়া সবে আজ;
এই		‘জনগন-অন্তর-সংহতি’ রে
হবে		নিখিল মানব জাতি সমুদ্ধত।।

বাণী

জল ছল ছল এসো মন্দাকিনী।
রস-ঢলঢল বারি-সঞ্চারিণী।।
হৃদয়-গগন আজি তৃষ্ণা-ভরে
উতল হইল প্রেম-গঙ্গা-তরে,
মুদিত নয়ন খোলো বৈরাগিনী।।
বিরস ভুবন রাখ সঞ্জীবিতা
সজল সলিল আনো হিল্লোলিতা,
ঝর ঝর ঝর স্রোত-উন্মাদিনী।।