বাণী

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে
হে কিশোর বেণুকা বাজাও।
মোর অনুরাগ যায় সেথা, তনু যেতে নারে,
তুমি সেই ব্রজের পথ দেখাও।।
মোর অন্ধ আঁখি কাঁদে চাঁদের তৃষায়
তব পানে হাত তুলে রাত কেটে যায়,
বঁধু, এই ভিখারিনী সেই মাধুকরী চায় –
মধুবনে, গোপীগণে যে মধু দাও।।
প্রেমহীন-নীরস জীবন ল’য়ে
পথে পথে ফিরি বৈরাগিনী হয়ে,
বুঝি আমি চাই তব প্রেম নাহি পাই –
কৃপা কর প্রেমময়, তুমি মোরে চাও।।

বাণী

	কেঁদো না কেঁদো না মাগো কে বলেছে কালো?
	ইষৎ হাসিতে তোর ত্রিভুবন আলো, কে বলেছে কালো।।
		কে দিয়েছে গালি তোরে, মন্দ সে মন্দ!
		যে বলেছে কালি তোরে, অনধ সে অন্ধ!
মোর	তারায় সে দেখে নাই তার নয়ন-তারা য়নাই আলো!
		তাই তারায় সে দেখে নাই।।
রাখে	লুকিয়ে মা তোর নয়ন-কমল (মাগো)
		কোটি আলোর সহস্র দল
তোর	রূপ দেখে মা লজ্জায় শিব অঙ্গে ছাই মাখালো।।
তোর	নীল -কপোলে কোটি তারা, চন্দনেরি ফোটার পারা
		ঝিকিমিকি করে গো —
মা	তোর দেহলতায় অতুল কোটি রবি -শশীর মুকুল
		ফোটে আবার ঝরে গো —
তুমি	হোমের শিখা বহ্নি- জ্যোতি, তুমি স্বাহা দীপ্তিমতী
	আঁধার ভুবন ভবনে মা কল্যাণ-দীপ জ্বালো
		তুমি কল্যাণ-দীপ জ্বালা।।

বাণী

কমলা রূপিণী, শক্তি-স্বরূপিণী
পতিব্রতা সতী ধর্ম-বিধায়িনী — সীতা, জয় সীতা।
জনক দুলারী রাজকুমারী
লব-কুশ-জননী, রাম-কী পিয়ারী — সীতা, জয় সীতা।।
	আওধ-প্রজাকুল শান্তি-বিধায়িনী
	পতি-অনুগামিনী, বন-বনচারিণী,
অশোক-কানন উজ্জ্বলকারিণী — সীতা, জয় সীতা।।
	বসুমতী-অঙ্ক সমুজ্জ্বল-কারিণী
	সতীকে তেজ-বল-অগ্নিনিবারণী,
সুখ-দুখমে পতি-চরম ভিখারিনী — সীতা, জয় সীতা।।

বাণী

		কারো ভরসা করিসনে তুই (ও মন) এক আল্লার ভরসা কর।
		আল্লা যদি সহায় থাকেন (ও তোর) ভাবনা কিসের, কিসের ডর।।
		রোগে শোকে দুঃখে ঋণে নাই ভরসা আল্লা বিনে রে
তুই		মানুষের সহায় মাগিস (তাই) পাস্‌নে খোদার নেক্‌-নজর।।
		রাজার রাজা বাদশাহ্‌ যিনি গোলাম হ তুই সেই খোদার,
		বড় লোকের দুয়ারে তুই বৃথাই হাত পাতিস্‌নে আর।
		তোর দুখের বোঝা ভারি হ’লে ফেলে প্রিয়জনও যায় রে চ’লে
সেদিন	ডাক্‌লে খোদায় তাঁহার রহম (ওরে) ঝরবে রে তোর মাথার ’পর।।

বাণী

কেন ঘুম ভাঙালে প্রিয় যদি ঠেলিবে পায়ে।
বৃথা বিকশিত কুসুম কি যাবে শুকায়ে,
একা বন-কুসুম ছিনু বনে ঘুমায়ে।।
ছিল পাশরি’ আপন-বেভুল কিশোর-হিয়া,
বধূর বিধূর-যৌবন কে দিলে জাগায়ে।।
প্রিয় গো প্রিয় —
আকাশ-বাতাস কেন ব্যথার রঙে তুমি দিলে রাঙায়ে।।

নাটক : ‘আলেয়া’

বাণী

কত	জনম যাবে তোমার বিরহে
	স্মৃতির জ্বালা পরান দহে।।
	শূন্য গেহ মোর শূন্য জীবনে,
একা	থাকারি ব্যথা কত সহে (ওগো)
	স্মৃতির জ্বালা পরান দহে।।
	দিয়েছি যে জ্বালা জীবন ভরি' হায়
	গলি নয়ন -ধারায় সে ব্যথা বহে
	স্মৃতির জ্বালা পরান দহে।।