বাণী

কে এলো।
ডাকে চোখ গেল।।
ওলো ও-ডাকে কি ও
ঘুমের সতিনী ও,
ও যে চোখের বালি
ঘুম ভাঙায় খালি।।
সখি আঁখি মেল —
মেল আঁখি মেল।।

বাণী

কুল্ মখলুক গাহে হজরত বালাগাল উলা বেকামালিহি।
আঁধার ধরায় এলে আফতাব কাশাফাদ্দুজা বেজামালিহি।।
	রৌশনীতে আজো ধরা মশ্‌গুল
	তাই তো ওফাতে করি না কবুল,
হাসনাতে আজো উজালা জাহান সাল্লু আলায়হি ওয়া আলিহি।।
	নাস্তিরে করি’ নিতি নাজেহাল্
	জাগে তৌহীদ দ্বীন্-ই-কামাল,
খুশ্‌বুতে খুশি দুনিয়া বেহেশ্‌ত সাল্লু আলায়হি ওয়া আলিহি।।

বাণী

কেন নিশি কাটালি অভিমানে।
ডুবে গেল চাঁদ দূর বিমানে।।
মান-ভরে চাতকী এ বাদলে
মিটালি না পিয়াসা মেঘ-জলে,
কোথা রবে এ মেঘে কেবা জানে।।
রহে চাঁদ দূরে অমা নিশীথে
তবু ফোটে কুমুদী সরসীতে,
রহে চাহি’ কলঙ্কী শশী-পানে।।
যে ফাগুনে ফুল ফুটিল রাতে
রবে না সে-ফাগুন কালি প্রাতে,
যে ফুটিল না, সে শুকাবে বাগানে।।

বাণী

কত কথা ছিল বলিবার, বলা হ’ল না।
বুকে পাষাণ সম রহিল তারি বেদনা।।
	মনে রহিল মনের আশা
	মিটিল না প্রাণের পিপাসা,
বুকে শুকালো বুকের ভাষা — মুখে এলো না।।
	এত চোখের জল, এত গান
	এত আদর সোহাগ অভিমান,
কখন সে হ’ল অবসান — বোঝা গেল না।।
	ঝরিল কুসুম যদি হায়!
কেন স্মৃতির কাঁটাও নাহি যায়,
বুঝিল না কেহ কাহারো মন বিধির ছলনা।।

বাণী

কাঁদিতে এসেছি আপনার ল’য়ে কাঁদাতে আসিনি হে প্রিয়, তোমারে।
এ মম আঁখি-জল আমরি নয়নের, ঝরিবে না এ জল তোমার দুয়ারে।।
	ভালো যদি বাসি একাকী বাসিব
	বিরহ-পাথারে একাকী ভাসিব,
কভু যদি ভুলে আসি তব কূলে, চমকি’ চলিয়া যাব দূর পারে।।
	কাঁটার বনে মোর ক্ষণেকের তরে
	ফুটেছে রাঙা ফুল শুধু লীলা-ভরে,
	মালা হয়ে কবে দুলিবে গলে কা’র।
	জাগিব একাকী ল’য়ে স্মৃতি কাঁটার
	কেহ জানিবে না, শুকাল কে কোথা
	কা’র ফুলে কা’রে সাজালে দেবতা,
নিশীথ-অশ্রু মোর ঝরিবে বিরলে তব সুখ-দিনে হসির মাঝারে।।

১. মম আঁখি-বারি, ২. থাকুক আমারি, ৩. গলে

বাণী

কি হবে জানিয়া বল কেন জল নয়নে
তুমি তো ঘুমায়ে আছ সুখে ফুল-শয়নে।।
তুমি কি বুঝিবে বালা কুসুমে কীটের জ্বালা,
কারো গলে দোলে মালা কেহ ঝরে পবনে।।
আকাশের আঁখি ভরি’ কে জানে কেমন করি’
শিশির পড়ে গো ঝরি’, ঝরে বারি শাওনে।
নিশীথে পাপিয়া পাখি এমনি তো ওঠে ডাকি’
তেমনি ঝুরিছে আঁখি বুঝি বা অকারণে।।
কে শুধায়, আঁধার চরে চখা কেন কেঁদে মরে,
এমনি চাতক-তরে মেঘ ঝুরে গগনে।।
কারে মন দিলি কবি, এ যে রে পাষাণ-ছবি
এ শুধু রূপের রবি নিশীথের স্বপনে।।