বাণী

মহুল গাছে ফুল ফুটেছে নেশার ঝোঁকে ঝিমায় পবন
গুনগুনিয়ে ভ্রমর এলো, (ওলো) ভুল করে তোর ভোলালো মন।।
	আঁউরে গেছে মুখখানি ওর
	কর লো বাতাস খুলে আঁচর
চাঁদের লোভে এলো চকোর (ও তুই) মেঘে ঢাকিসনে লো নয়ন।।
	কেশের কাঁটা বিধে পাখায়
	রাখলো ওরে বেঁধে শাখায়
মৌটুসি মৌ মদের মিঠায় (ও তুই) কপটে কর নিকট আপন।।

নাটকঃ ‌‘মহুয়া’

বাণী

		মোরা বিহান-বেলা উঠে রে ভাই চাষ করি এই মাটি।
		যে মাটির বুকে আছে পাকা ধানের সোনার কাঠি॥
		ফসল বুনে রোদের তাতে উঠি যখন ঘেমে
		সদয় হয়ে আকাশ বেয়ে বৃষ্টি আসে নেমে
(ওরে)		মুচকি হেসে বৌ এনে দেয় পান্তা ভাতের বাটি॥
		আশ মেটে না চারা ধানের পানে চেয়ে চেয়ে
		মরাই ভ’রে থাকবে ওরাই আমার ছেলে মেয়ে।
(আমি)	চাই না স্বর্গ, পাই যদি এই পাকা ধানের আটি (রে ভাই)॥
		জল নিতে যায় আড়চোখে চায় বৌ-ঝি নদীর কূলে
		খুশিতে বুক ভ’রে ওঠে, খাটুনি যাই ভুলে।
		এ মাঠ নয় ভাই বৌ পেতেছে ঠান্ডা শীতল পাটি॥

বাণী

মম প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা (হায়)।
ক্ষণে ভালোবাসা হায় ক্ষণে অবহেলা।।
সকালে গাঁথিয়া মালা পায়ে দল বিকালে তায়।
তেমনি দলিতে চাহ আমার পরান কি হায়।
সহিতে পারি না আর এই হেলাফেলা।
জলরূপী একি কোন্ মরীচিকা তুমি কি গো।
ডেকে এনে মরুভুমে বধিবে এ বনমৃগ।
বুঝিয়াছি কখন হায় ফুরায়েছে বেলা।।

বাণী

মোর বুক ভরা ছিল আশা প্রাণ ভরা ভালোবাসা।
হায় আসিল সে যবে কাছে মুখে সরিল না ভাষা।।
	আমি পেয়েছিলাম তায় একা
	ছিল চোখে তাহার প্রেম-লেখা,
তবু বলিতে পারিনি তারে কাঁদে প্রাণে কি দুরাশা।।
	এসে ভরা নদীর তীরে
	পান না করিয়া বারি
	আমি আসিলাম ফিরে — 
ছিল তৃষ্ণা-কাতর এ প্রাণে মরুভূমির পিয়াসা।।

বাণী

মোরা	কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে
		সুন্দর শ্যাম হে
আমি	মরিতে চাহি ঝরি' তব চরণে
		সুন্দর শ্যাম হে।
	ওগো সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	ক্ষণিক এ জীবন নিশি শেষে
প্রিয়	ঝ'রে যাব গো স্রোতে ভেসে
বঁধু	কাছে এসে ছুয়ো ভালবেসে
	জাগায়ো প্রেম-মধু গোপন মনে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
তব	সরস পরশ দিয়ে মনোহর
মোর	এ তনু রঙে রসে পূর্ণ করো
আমি	তোমার বুকে রবো পরম সুখে
	ঝরিব প্রিয়, চাহি' তব নয়নে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	বিদায় বেলা ঘনায়ে আসে
মোর	প্রাণ কাদেঁ মিলন-পিয়াসে
এই	বিরহ মম ওগো প্রিয়তম,
	মিটিবে সে কোন শুভ লগনে,
		সুন্দর শ্যাম হে।।

বাণী

মুরলী শিখিব ব'লে এসেছি কদম্ব তলে
মুরলীধারী মুরলী শিখাও হে
কোন সুরে মধু-মাধবী ফোটে
কোন সুরে রাধা নাম ওঠে
মাধব হে! বাঁশির কোন সুরে
উদাসী করে প্রাণ দাসী করে, মাধব হে —
দেহ ময়ুর নাচে কোন সুর শুনিয়া
মন-পাপিয়া গেয়ে ওঠে পিয়া পিয়া
মোরে শিখাও সে সুর হে —
যে সুরে তুমি নাচিবে, পিয়া ব'লে ডাকিবে
মোরে শিখাও সে সুর হে বঁধু
যে সুরে কেবল তব সাথে ভাব হয় অভাব রয় না
আমি সেই সুর শিখিব
যে সুর কৃষ্ণ ছাড়া কোন কথা কয় না
কেন ছলছল চোখে চাও
মুরলী শিখাও কেন হাত কাপে রসময়।
যে সুর তোমার অধর পরশ লাগে
সেই বেনু যেন চিরদিন রাধারই রয় বেনু শিখাও হে
মোর দেহ মন ধায় যেন ধেনু সম তব পানে বেণু শিখাও হে।।