বাণী

ওগো	প্রিয়, তব গান! আকাশ-গাঙের জোয়ারে
		উজান বহিয়া যায়
	মোর কথাগুলি কাঁদিছে বুকের দুয়ারে
		পথ খুঁজে নাহি পায়।।
ওগো	দখিনা বাতাস, ফুলের সুরভি বহ
		ওরি সাথে মোর না-বলা বাণী লহ
ওগো	মেঘ, তুমি মোর হয়ে গিয়ে কহ
	বন্দিনী গিরি ঝরনা পাষাণ-তলে
		যে কথা কহিতে চায়।।
	ওরে ও সুরমা, পদ্মা, কর্ণফুলি তোদের ভাটির স্রোতে
	নিয়ে যা আমার না-বলা কথাগুলি ধুয়ে মোর বুক হ'তে
ওরে	'চোখ গেল' বউ কথা কও' পাখি
	তোদের কণ্ঠে মোর সুর, যাই রাখি' কি?
(ওরে)	মাঠের মুরলী কহিও তাহারে ডাকি,
	আমার গানের কলি না-ফোটা বুলি ঝ'রে গেল নিরাশায়।।

বাণী

				ওরে মাঝি ভাই।
ও তুই, কি দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥
চোখের জল্ তুই ছাপাতে চাস্, নদীর জলে এসে,
শেষে নদীই এলো চক্ষে রে তোর; তুই চলিলি ভেসে।
ও তুই কলস দেখে নামলি জলে রে, এখন ডুবে দেখিস্ কলস নাই॥
	ও তুই কূলে যাহার কূল পেলিনে তরী অগাধ জলে
	মিছে খুঁজে মরিস ওরে পাগল, তরী বাওয়ার ছলে।
ও রে দুই ধারে এর চোরা বালি রে, (ও) তোর হেথায় মনের মানুষ নাই॥

বাণী

ওগো	দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই (গদাইচন্দ্র) বিবাহ না করে,
	কুক্ষণে তার বিয়ে দিয়ে দিল সবাই ধ’রে॥
	আইবুড়ো সে ছিল যখন, মনের সুখে উড়ত
	হাল্‌কা দু’খান পা দিয়ে সে (গদাই) নাচ্‌ত, কুঁদ্‌ত ছুঁড়ত॥
ওগো	বিয়ে করে গদাই
	দেখলে সে আর উড়তে নারে, ভারি ঠেকে সদাই।
তার	এ্যাডিশনাল দু’খানা ঠ্যাং বেড়ায় পিছে ন’ড়ে॥
	গদাই-এর পা দু’খানা মোটা, আর তার বৌ-এর পা দু’খানা সরু,
	ছোট বড় চারখানা ঠ্যাং ঠিক যেন ক্যাঙারু
গদাই	(দেখতে) ঠিক যেন ক্যাঙ্গারু।
	আপিসে পদ বৃদ্ধি হয় না (গদাইচন্দ্রের), কিন্তু ঘরে ফি-বছরে,
	পা বেড়ে যায় গড়পড়তায় দু’চারখান ক’রে।
তার	বৌ শোনে না মানা —
তিনি	হন্যে হয়ে কন্যে আনেন মা, ষষ্টির ছানা
	মানুষ থেকে চার পেয়ে জীব, শেষ ছ’পেয়ে মাছি,
	তারপর আটপেয়ে পিঁপড়ে, বাবা গদাই বলে, একেবারে গেছি
	আর বলে, ও বাবা বিয়ে করে মানুষ এই কেলেঙ্কারীর তরে (বাবা)॥

বাণী

ওমা	একলা ঘরে ডাকব না আর দুয়ার বন্ধ ক’রে। 
তুই	সকল ছেলের মা যেখানে ডাকব মা সেই ঘরে।।
	রুদ্ধ আমার একলা এ মন্দিরে,
	পথ না পেয়ে যাস্ বুঝি মা ফিরে,
মোরে	জ্যোতির্লোকে ঘুম্ পাড়িয়ে তাপিত সন্তানে নিয়ে
	মাগো কাঁদিস্ বুকে ধ’রে।।
আমি	একলা মানুষ হ’তে গিয়ে হারাই মা তোর স্নেহ,
আমি	যে ঘর যেতে ঘৃণা করি মা,-সেবি তোর গেহ।
	দুর্বল মোর ভাই বোনদের তুলে,
আমি	দাঁড়াব মা যেদিন, চরণ মূলে।
	সেদিন মা তুই আপনি এসে
	কোলেতুলে নিবি হেসে,
আর	হারাব না তোরে।।

বাণী

ও		মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
তুই		আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্‌ আসমানি তাগিদ।।
তোর		সোনা–দানা বালাখানা সব রাহেলিল্লাহ্‌।
দে		জাকাত মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিদ্‌।।
আজ		পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে।
যে		ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।।
আজ		ভুলে যা তোর দোস্ত ও দুশমন হাত মিলাও হাতে।
তোর		প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।।
ঢাল		হৃদয়ের তোর তশ্‌তরিতে শির্‌নি তৌহিদের।
তোর		দাওয়াত কবুল করবে হজরত হয় মনে উম্মীদ।।

বাণী

ওরে	সর্বনাশী! মেখে এলি এ কোন চুলোর ছাই!
	শ্মশান ছাড়া খেলার তোর জায়গা কি আর নাই॥
	মুক্তকেশী, কেশ এলিয়ে
ওমা	বেড়াস কখন কোথায় গিয়ে
আমি	এক নিমেষ তোকে নিয়ে (আমি) শান্তি নাহি পাই॥
ওরে	হাড়-জ্বালানী মেয়ে, হাড়ের মালা কোথায় পেলি,
	ভুবন-মোহন গৌরী রূপে কালি মেখে এলি!
তোর	গায়ের কালি চোখের জলে
আমি	ধুইয়ে দেব আয় মা কোলে;
তোরে	বুকে ধরেও মরি জ্ব’লে, আমি দিই মা গালি তাই॥