বাণী

ওরে	শুভ্রবসনা রজনীগন্ধ্যা বনের বিধবা মেয়ে,
	হারানো কাহারে খুঁজিস নিশীথ-আকাশের পানে চেয়ে।।
	ক্ষীণ তনুলতা বেদনা-মলিন,
	উদাস মূরতি ভূষণবিহীন,
	তোরে হেরি ঝরে কুসুম-অশ্রু বনের কপোল বেয়ে।।
	তুইলুকায়ে কাঁদিস রজনী জাগিস সবাই ঘুমায় যবে,
	বিধাতারে যেন বলিস — দেবতা আমারে লইবে কবে।
	করুণ শুভ্র ভালোবাসা তোর
	সুরভি ছড়ায় সারা নিশি ভোর,
	প্রভাত বেলায় লুটাস ধূলায় যেন-কারে নাহি পেয়ে।।

বাণী

ওগো	তারি তরে মন কাঁদে হায়, যায় না যারে পাওয়া
	ফুল ফোটে না যে কাননে, কাদেঁ দখিন হাওয়া।।
যে	মায়া-মৃগ পালিয়ে বেড়ায়   
	কেন এ মন তার পিছে ধায়
যে	দ'লে গেল পায়ে আমায় কেন তাহারি পথ চাওয়া।।
যে	আমারে ভুলে হলো সুখি যায় না তারে ভোলা,
যে	ফিরিবে না আর, তারি তরে রাখি দুয়ার খোলা।
	মৌন পাষাণ যে দেবতা
	হেরার ছলে কয় না কথা
	তারি দেউল দ্বারে কেন বন্দনা গান গাওয়া।।

বাণী

	ও, কুল-ভাঙ্গা নদী রে,
	আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
	যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
	মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
	আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
	উজান বেয়ে ফিরে' নদী, উজান বেয়ে ফিরে'।।
		আমার মন বোঝে না, নদী —
তাই	বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
	তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
		তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।

বাণী

ওরে দেখে যা তোরা নদীয়ায়
গোরার রূপে এলো ব্রজের শ্যামরায়॥
	মুখে হরি হরি বলে
	হেলে দুলে নেচে চলে
নরনারী প্রেমে গলে ঢলে পড়ে রাঙা পায়॥
ব্রজে নূপুর পরি নাচিত এমনি হরি
কূল ভুলিয়া সবে ছুটিত এমন করি
শচীমাতার রূপে কাঁদিছে মা যশোদা
বিষ্ণু প্রিয়ার চোখে কাঁদে কিশোরী রাধা
নহে নিমাই নিতাই ও যে কানাই বলাই
শ্রীদাম সুদাম এলো জগাই মাধাই-এ হায়॥
আজ এসেছে ভূবন ভুলাতে অসি নাই বাঁশি নাই
ও ভাই এবারে শূন্য হাতে এসেছে ভুবন ভুলাতে।
ও ভাই লীলা পাগল এলো প্রেমে মাতাতে
ডুবু ডুবু নদীয়া বিশ্ব ভাসিয়া যায়॥

বাণী

ওমা	কালী সেজে ফিরলি ঘরে, কচি ছেলের কাজল মেখে।
	একলা আমি কেঁদেছি মা সারাটি দিন ডেকে ডেকে।।
	হাত বাড়ায়ে মা তোর কোলে 
আমি	যাব না আর ‌‘মা’ ‌‘মা’ বলে,
	মা হয়ে তুই ঘুরে বেড়াস্‌ আমায় ধূলায় ফেলে রেখে।।
তোর	আর ছেলেদের অনেক আছে 
	আমার যে মা নাই গো কেহ,
	আমি শুধু তোরেই জানি, যাচি শুধু তোরই স্নেহ। 
তাই	আর কারে যেই ধরিস কোলে —
মোর	দু'চোখ ভ'রে ওঠে জলে (মাগো),
আমি	রাগে-অনুরাগে কাঁদি অভিমানে দূরে থেকে।।

বাণী

ও ভাই	খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
		আমার দেশের মাটি।।
			এই দেশেরই মাটি জলে
			এই দেশেরই ফুলে ফলে
		তৃষ্ণা মিটাই মিটাই ক্ষুধা পিয়ে এরি দুধের বাটি।।
			এই মায়েরই প্রসাদ পেতে
			মন্দিরে এর এঁটো খেতে
		তীর্থ ক’রে ধন্য হতে আসে কত জাতি।
ও ভাই	এই দেশেরই ধূলায় পড়ি’
		মানিক যায় রে গড়াগড়ি
ও ভাই	বিশ্বে সবার ঘুম ভাঙালো এই দেশেরই জিয়ন-কাঠি।।
			এই মাটি এই কাদা মেখে
			এই দেশেরই আচার দেখে
		সভ্য হ’লো নিখিল ভুবন দিব্য পরিপাটি।
ও ভাই	সন্ন্যাসিনী সকল দেশে
		জ্বাল্‌লো আলো ভালোবেসে
মা		আঁধার রাতে এক্‌লা জাগে আগ্‌লে রে এই শ্মশান-ঘাঁটি।।