বাণী

ওগো	এলে কি শ্যামল পিয়া কাজল মেঘে
	চাঁচর চিকুর ওড়ে পবন বেগে॥
	তোমার লাবনি ঝ’রে পড়িছে অবনি-পরে
	কদম শিহরে কর-পরশ লেগে॥
	তড়িৎ ত্বরিত পায়ে বিরহী-আঁখিরে ছায়ে তরাসে লুকায়।
	চলিতে পথের মাঝে ঝুমুর ঝুমুর বাজে নূপুর দু’পায়।
	অশনি হানার ছলে প্রিয়ারে ধরাও গলে,
ওগো	রাতের মুকুল কাঁদে কুসুম জেগে॥

বাণী

ওগো পিয়া তব অকরুণ ভালোবাসা।
অন্তরে দিল বিপুল বিরহ, কবিতায় দিল ভাষা।।
	মোর গানে দিল সুর
	করুণ ব্যথা বিধুর,
বাণীতে দিল সুদূর স্বর্গের পিপাসা।।
তুমি ভালো করিয়াছ ভালোবাস নাই মোরে,
রাখ নাই ধ’রে আমারে তোমার ক’রে।
	মম বিরহের বেদনাতে
	তাই ত্রিভুবন কাঁদে সাথে,
ভুলেছি সবারে চেয়ে তোমারে পাবার আশা।।

বাণী

ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন।
তারি চপল চরণ-আঘাতে দুলিছে নদী-দোলে ফুলবন।।
ঝরে ঝর ঝর গিরি -নির্ঝর তার ছন্দ চুরি করে,
'এলো সুন্দর-এলো সুন্দর'’বাজে বনের মর্মরে।
	গায় পাখি মেলি আঁখি
	বলে,বন-দেবী এলো নাকি?
মধুর রঙ্গে অঙ্গে-ভঙ্গে জাগে শিহরণ।।
সন্ধ্যায় ঝিল্লির মঞ্জির হতার
ঝির ঝির শির শির তোলে ঝঙ্কার।
মধুভাষিণী সুচারু-হাসিনী সে মায়াহরিণী' —
ফোটালো আঁধারে মরি মরি
দুলিছে অলকে আঁখির পলকে দোলন-চাঁপার নাচের মতন।।

বাণী

ওমা	কালী সেজে ফিরলি ঘরে, কচি ছেলের কাজল মেখে।
	একলা আমি কেঁদেছি মা সারাটি দিন ডেকে ডেকে।।
	হাত বাড়ায়ে মা তোর কোলে 
আমি	যাব না আর ‌‘মা’ ‌‘মা’ বলে,
	মা হয়ে তুই ঘুরে বেড়াস্‌ আমায় ধূলায় ফেলে রেখে।।
তোর	আর ছেলেদের অনেক আছে 
	আমার যে মা নাই গো কেহ,
	আমি শুধু তোরেই জানি, যাচি শুধু তোরই স্নেহ। 
তাই	আর কারে যেই ধরিস কোলে —
মোর	দু'চোখ ভ'রে ওঠে জলে (মাগো),
আমি	রাগে-অনুরাগে কাঁদি অভিমানে দূরে থেকে।।

বাণী

ও সে		বাঁশরি বাজায় হেলে দুলে যায়
		গোঠে শ্যামরায় নওল কিশোর।
		জোছনা পিয়াসে চাঁদ মুখ পাশে।
		ঘোরে গোপিনীর নয়ন-চকোর।।
		নীল উৎপল ভ্রমে মধুকর
		উড়ে চলে সাথে, ছাড়ি’ সরোবর,
		অঙ্গে গোপী-চন্দন বাস
		লুটিয়া পলায় সমীর-চোর।।
		চরণ-কমলে ভ্রমরের প্রায় —
		সোনার নূপুর গুঞ্জরিয়া যায়।
		শ্যামেরে নবীন নীরদ ভাবিয়া
		নাচিছে ময়ূর কলাপ মেলিয়া,
		ঢেউ তুলে যেন চলে রূপের সায়র।।

বাণী

ও তুই উলটা বুঝলি রাম
আমি আম চাহিতে জাম দিলে, আর জাম চাহিতে কি-না আম।।
আমি চড়বার ঘোড়া চাইতে শেষে, ওগো ঘোড়াই ঘাড়ে চড়লো এসে,
ও বাব্বা —
আমি প্রিয়ার চিঠি চাইতে এলো কিনা ইনকামট্যাক্স-এর খাম।।
আমি চেয়েছিলাম কোঠা বাড়ি, তাই পড়লো পিঠে লাঠির বাড়ি
	ভুলে আমি বলেছিলাম তোমার পায়ে শরণ নিলাম।
	তুমি ভুল বুঝিলে, ভিটেবাড়ি সব হ'লো নিলাম।।
আমি চেয়েছিলম সুবোধ ভাইটি
তা না হয়ে, বাবা গোঁয়ার সে ভাই উচায় লাঠি
আমি শ্রী ব্রজধাম চাইতে ঠেলে দিলে শ্রীঘর হাজত ধাম।।