বাণী

ওগো	এলে কি শ্যামল পিয়া কাজল মেঘে
	চাঁচর চিকুর ওড়ে পবন বেগে॥
	তোমার লাবনি ঝ’রে পড়িছে অবনি-পরে
	কদম শিহরে কর-পরশ লেগে॥
	তড়িৎ ত্বরিত পায়ে বিরহী-আঁখিরে ছায়ে তরাসে লুকায়।
	চলিতে পথের মাঝে ঝুমুর ঝুমুর বাজে নূপুর দু’পায়।
	অশনি হানার ছলে প্রিয়ারে ধরাও গলে,
ওগো	রাতের মুকুল কাঁদে কুসুম জেগে॥

বাণী

ওকে ট'লে ট'লে চলে একলা গোরী
নব-যৌবনা নীল-বাসনা কাঁখে গাগরি।।
মদির মন্দ বায় অঞ্চল দোলে
খোঁপা খুলে দোলে আকুল কবরী।
তারে ছল ছল দূরে ডাকে নদী
তা'রিনাম যপে পাপিয়া নিরবধি
ডাকে বনের কিশোর বাজায়ে বাঁশরি।।

বাণী

ওরে	সর্বনাশী! মেখে এলি এ কোন চুলোর ছাই!
	শ্মশান ছাড়া খেলার তোর জায়গা কি আর নাই॥
	মুক্তকেশী, কেশ এলিয়ে
ওমা	বেড়াস কখন কোথায় গিয়ে
আমি	এক নিমেষ তোকে নিয়ে (আমি) শান্তি নাহি পাই॥
ওরে	হাড়-জ্বালানী মেয়ে, হাড়ের মালা কোথায় পেলি,
	ভুবন-মোহন গৌরী রূপে কালি মেখে এলি!
তোর	গায়ের কালি চোখের জলে
আমি	ধুইয়ে দেব আয় মা কোলে;
তোরে	বুকে ধরেও মরি জ্ব’লে, আমি দিই মা গালি তাই॥

বাণী

ওরে		হুলো রে তুই রাত বিরেতে ঢুকিস্‌নে হেঁসেল্।
তুই		কবে বেঘোরে প্রাণ হারাবি বুঝিস্‌নে রাস্কেল্।।
আমি		স্বীকার করি শিকারি তুই তোর গোঁফ দেখেই চিনি,
		গাছে কাঁঠাল ঝুলতে দেখে দিস্ গোঁফে তুই তেল।।
		ওরে ছোঁচা ওরে ওঁছা বাড়ি বাড়ি তুই হাঁড়ি খাস,
		নাদ্‌নার বাড়ি খেয়ে কোন্‌দিন ধনে প্রাণে বা মারা যাস্‌,
কেঁদে		মিয়াঁও মিয়াঁও ব’লে বিবি বেরালি করবে রে হার্টফেল।।
		তানপুরারই সুরে যখন তখন গলা সাধিস্,
শুনে		ভুলো তোরে তেড়ে আসে, ন্যাজ তুলে ছুটিস্,
তোরে	বস্তা পু’রে কবে কে চালান দিবে ধাপা-মেল।।
		বৌঝি যখন মাছ কোটে রে, তুমি খোঁজ দাঁও,
		বিড়াল-তপস্বী আড়নয়নে থালার পানে চাও,
তুই		উত্তম মধ্যম খা’স এত তবু হ’ল না আক্কেল।।

বাণী

	ও মন চল অকুল পানে, মাতি হরিপ্রেম-গুণগানে।
	নদী যেমন ধায় অকূলে কূল যত তায় টানে।।
তুই	কোন্ পাহাড়ে ঠেক্‌লি এসে কোন্‌ পাথারের জল
	হরির প্রেমে গ’লে এবার সেই অসীমে চল্,
তুই	স্রোতের বেগে দুল্‌বি রে কূল-বাধা যদি হানে।।
	এ পারের সব যাত্রী যাবে তোর বুকে ওপারে
	তোর কূলে শ্যাম বাজিয়ে বাঁশি আস্‌বে অভিসারে,
	শ্যামের ছবি ধর্‌বি বুকে মাত্‌বি প্রেম-তুফানে।।

বাণী

ওমা	একলা ঘরে ডাকব না আর দুয়ার বন্ধ ক’রে। 
তুই	সকল ছেলের মা যেখানে ডাকব মা সেই ঘরে।।
	রুদ্ধ আমার একলা এ মন্দিরে,
	পথ না পেয়ে যাস্ বুঝি মা ফিরে,
মোরে	জ্যোতির্লোকে ঘুম্ পাড়িয়ে তাপিত সন্তানে নিয়ে
	মাগো কাঁদিস্ বুকে ধ’রে।।
আমি	একলা মানুষ হ’তে গিয়ে হারাই মা তোর স্নেহ,
আমি	যে ঘর যেতে ঘৃণা করি মা,-সেবি তোর গেহ।
	দুর্বল মোর ভাই বোনদের তুলে,
আমি	দাঁড়াব মা যেদিন, চরণ মূলে।
	সেদিন মা তুই আপনি এসে
	কোলেতুলে নিবি হেসে,
আর	হারাব না তোরে।।