বাণী

ও তুই উলটা বুঝলি রাম
আমি আম চাহিতে জাম দিলে, আর জাম চাহিতে কি-না আম।।
আমি চড়বার ঘোড়া চাইতে শেষে, ওগো ঘোড়াই ঘাড়ে চড়লো এসে,
ও বাব্বা —
আমি প্রিয়ার চিঠি চাইতে এলো কিনা ইনকামট্যাক্স-এর খাম।।
আমি চেয়েছিলাম কোঠা বাড়ি, তাই পড়লো পিঠে লাঠির বাড়ি
	ভুলে আমি বলেছিলাম তোমার পায়ে শরণ নিলাম।
	তুমি ভুল বুঝিলে, ভিটেবাড়ি সব হ'লো নিলাম।।
আমি চেয়েছিলম সুবোধ ভাইটি
তা না হয়ে, বাবা গোঁয়ার সে ভাই উচায় লাঠি
আমি শ্রী ব্রজধাম চাইতে ঠেলে দিলে শ্রীঘর হাজত ধাম।।

বাণী

ওলো ননদিনী বল্
কপট নিপট কালা, নিঠুর খল্॥
তার নাই ভয় নাই লজ্জা শরম
লইয়া যুবতীর ধরম গো
খেলে সে নিঠুর খেলা, চতুর চপল্॥
না শুনে লো তোদের গালি
মাখলাম কুলে কালার কালি গো
সে মুখে সরল বনমালী, অন্তরে গরল॥
তার শত জনে মন বাঁধা, রাতে চন্দ্রা দিনে রাধা
(তারে) কঠিন কথা শুনাইব চল্‌লো গোঠে চল্॥
কৃষ্ণ ব’লে অবিরত দে লো গালি পারিস যত
ননদী কয় বুঝেছি বউ (কৃষ্ণ) নাম শোনারই ছল
ও বউ কৃষ্ণ নাম তোর ভাল লাগে
তাই কৃষ্ণ (ও তোর) নাম শোনারই ছল॥

বাণী

ও কালো বউ! জল আনিতে যেয়ো না আর বাজিয়ে মল।
তোমায় দেখে শিউরে ওঠে কাজ্‌লা দীঘির কালো জল।
		ওগো কাজ্‌লা দীঘির কালো জল।।
	দেখে তোমার কালো আঁখি
	কালো কোকিল ওঠে ডাকি’
তোমার চোখের কাজল মাখি’ হয় সজল ঐ মেঘ-দল
		ওগো হয় সজল ঐ মেঘ-দল।।
	তোমার কালো রূপের মায়া
	দুপুর রোদে শীতল ছায়া
কচি অশথ্‌ পাতায় টলে ঐ কালো রূপ টলমল।।
	ভাদর মাসের ভরা ঝিলে
	তোমার রূপের আদর মিলে গো —
তোমার তনুর নিবিড় নীলে আকাশ করে টলমল।
		ঐ আকাশ করে টলমল।।

বাণী

				ওরে মাঝি ভাই।
ও তুই, কি দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥
চোখের জল্ তুই ছাপাতে চাস্, নদীর জলে এসে,
শেষে নদীই এলো চক্ষে রে তোর; তুই চলিলি ভেসে।
ও তুই কলস দেখে নামলি জলে রে, এখন ডুবে দেখিস্ কলস নাই॥
	ও তুই কূলে যাহার কূল পেলিনে তরী অগাধ জলে
	মিছে খুঁজে মরিস ওরে পাগল, তরী বাওয়ার ছলে।
ও রে দুই ধারে এর চোরা বালি রে, (ও) তোর হেথায় মনের মানুষ নাই॥

বাণী

ও মা	বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ শরণ নিলাম সেই চরণে
	জীবন আমার ধন্য হলো ভয় নাই মা আর মরণে।।
		যা ছিল মা মোর ত্রিলোকে
		তোকে দিলাম, দিলাম তোকে
	আমার ব’লে রইল শুধু তোর চরণের ধ্যান, এ মনে।।
তোর	কেশ নাকি মা মুক্ত হলো ছুঁয়ে তোর ওই রাঙা চরণ
	মুক্তকেশী, মুক্ত হবো ওই চরণে নিয়ে শরণ।
	তোর	চরণ-চিহ্ন বক্ষে এঁকে
		বিশ্বজনে বলবো ডেকে — মা
	‘দেখে যা কোন্ রত্ন রাজে আমার হৃদয়-সিংহাসনে’।।

বাণী

ওগো অন্তর্যামী, ভক্তের তব শোন শোন নিবেদন
যেন থাকে নিশিদিন তোমারি সেবায় মোর তনু-প্রাণ-মন।।
	নয়নে কেবল দেখি যেন আমি
	তোমারই স্বরূপ ত্রিভুবন-স্বামী
শিরে বহি যেন তোমারি পূজার অর্ঘ্য অনুক্ষণ।।
এ রসনা শুধু জপে তব নাম এই বর দাও নাথ;
তোমারি চরণ সেবায় লাগুক মোর এই দুটি হাত।
	ওঠে তব নাম প্রতি নিঃশ্বাসে
	শ্রবনে কেবল তব নাম ভাসে
তব মন্দির-পথে যেন সদা চলে মোর এ চরণ।।