বাণী

ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।
গেলেন মদিনা যবে হিজরতে হজরত
মদিনা হলো যেন খুশিতে জিন্নত,
ছুটিয়া আসিল পথে মর্দ ও আওরত
লুটায়ে পায়ে নবীর, গাহে সব উম্মত
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
হাজার সে কাফের সেনা বদরে,
তিন শত তের মমিন এধারে;
হজরতে দেখিল যেই, কাঁপিয়া ডরে
কহিল কাফের সব তাজিমের স্বরে
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
কাঁদিয়া কেয়ামতে গুনাহগার সব,
নবীর কাছে শাফায়তী করিবেন তলব,
আসিবেন কাঁদন শুনি সেই শাহে আরব
অমনি উঠিবে সেথা খুশির কলরব
ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।

বাণী

ঐ জল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি। 
রূপ চাপে না তার নীল শাড়ি।। 
এমন মিঠি বিজলি দিঠি শেখালে তায় কে গো? 
রূপে ডুবু ডুবু রবির রঙ-ভরা ছবির, ছোঁয়াচ লেগেছে গো। 
মন মানে না, আর কি করি ! 
চলে পিছনে ছুটে’ তারি।। 
নাচে বুলবুলি ফিঙে ঢেউয়ে নাচে ডিঙে 
মাঠে নাচে খঞ্জন; 
তার দু’টি আঁখি-তারা নেচে হতো সারা —
দেখেছে বল কোন জন? 
আঁখি নিল যে মোর মন্‌ কাড়ি’ —
ঘরে থাকিতে আর নারি লো।। 
গোলাপ বেলী যুঁই-চামেলি - কোন্‌ ফুল তারি তুল্‌ গো
তার যৌবন-নদী বয় নিরবধি ভাসায়ে দু’ কূল গো 
নিল ভাসায়ে প্রাণ আমারি 
রূপে দু’কূল–ছাপা গাঙ্‌ তারি।।

বাণী

ঐ চলে তরুণী গোরী গরবী।
ডাকে দূর পারাবার ডাকে তারে বন পার —
লালসে ঝরে তার পায় রাঙা করবী।।
	চলে বালা দুলে দুলে
	এলো খোঁপা পড়ে খুলে,
চাহি ভ্রমর কুসুম ভুলে — তনুর তার সুরভি।।
	নাচের ছন্দে দোলে
	টলে তার চরণ চটুল,
	হরিণী চায় পথ বেভুল —
মায়া লোক বিহারিণী রচি’ চলে ছায়াছবি।।

বাণী

ঐ পথ চেয়ে থাকি আর কত বনমালী।
করে কানাকানি লোক, দেয় ঘরে পরে গালি।।
	মোর কুলের বাঁধন খুলে
	হায় ভাসালে অকুলে,
শেষে লুকালে গোকুলে — এ কি রীতি চতুরালি।।

বাণী

রাধা	:	ঐ শ্যাম মুরলী বাজায়।
কৃষ্ণ	:	রাধা রাধা বলে ডাকো বাঁশি রাধিকায়।।
রাধা	:	এসেছি রাঙ্গা পায় বড় সাধ মনে বাঁশি শিখিব শ্যামরায়।
		যে বাঁশির সুরে হরি কুল ভোলে ব্রজনারী
		বাজাতে তেমনি বাঁশি শিখাও হে রাধিকায়।।
কৃষ্ণ	:	তবে অধরে ধর বাঁশি রাই।
রাধা	:	যে সুরে হে শ্যামরায় যমুনা উজান যায় ভোলে রাধা কুলমান লাজ,
		শুনি যে মোহন বেণু তৃণ নাহি খায় ধেনু সে সুর শিখাও ব্রজরাজ,
কৃষ্ণ	:	বাঁশি রাধা নামে সাধা ব’লে শুধু রাধা শ্যাম-নাম কহিতে না জানে’
		যতই ডাকিবে শ্যামে ততই সে রাধা নামে ফুকারিবে সুমধুর তানে।।
রাধা	:	তাহে নাই নাই হরি বাধা, আজ আমি শ্যাম তুমি রাধা
কৃষ্ণ	:	মুরলী হইল শেখা ঐ ডাকে কুহু কেকা
		রাই এসো নাচি দুঁহু আনন্দে নূপুর মধুর ছন্দে।।

‘শ্রীমতীর মুরলী শিক্ষা’