বাণী

পিউ পিউ বোলে পাপিয়া
ফাল্গুন উন্মন বন ব্যাপিয়া।।
বিরহিনী মন বিহগী —
ওরি সাথে কাঁদে,একা
ঘরে নিশি জাগিয়া।।

বাণী

প্রিয়	তব গলে দোলে যে হার কুড়িয়ে পাওয়া
সে যে	হার নহে, হৃদয় মোর হারিয়ে যাওয়া।।
	তোমারি মতন যেন কাহার সনে
	সেদিন পথে চোখাচোখি হল গোপনে
মন	চকিতে হরিল যে সেই চকিত চাওয়া।।
ছিল	চৈতালি সাঁঝ, তাহে পথ নিরালা
ছিনু	একেলা আমি, চলে একেলা বালা
বহে	ঝিরিঝিরি ধীরি-ধীরি চিতী হাওয়া
	চাহিল সে মুখে মোর ঘোমটা তুলে
তার	নয়নে ও ঘটে জল উঠিল দুলে
	চেয়ে দেখি মোর আঁখি সলিল ছাওয়া।।

বাণী

পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয়, পরান-প্রিয়!
চাহিতে যেমন আগের দিনে তেমনি মদির চোখে চাহিও।।
		যদি গো সেদিন চোখে আসে জল,
		লুকাতে সে জল করিও না ছল,
যে-প্রিয় নামে ডাকিতে মোরে সে-নাম ধরে বারেক ডাকিও।।
		তোমার বঁধু পাশে (হায়) যদি রয়,
		মোরও প্রিয় সে, করিও না ভয়,
কহিব তা’রে, ‘আমার প্রিয়ারে আমারো অধিক ভালোবাসিও’।।‌
		বিরহ-বিধুর মোরে হেরিয়া,
		ব্যথা যদি পাও যাব সরিয়া,
রব না হ’য়ে পথের কাঁটা, মাগিব এ বর মোরে ভুলিও।।

বাণী

প্রিয়তম এসো ফিরে রহিবে কি দূরে দূরে
ভুলি মোরে চিরতবে ভাসাইয়া আঁখি-নীরে॥
		আছি ব’সে পথ চেয়ে
		আঁধার এলো যে ছেয়ে
মনের বনের ছায়ে এসো মিলন মধুর সুরে॥
		নয়নের মণিহারা
		নিভে গেছে শুকতারা
ভেসে আসে কালো মেঘ আমার গগন ঘিরে॥

বাণী

পেয়ে কেন নাহি পাই হৃদয়ে মম
হে চির-সুদূর প্রিয়তম॥
		তুমি আকাশের চাঁদ
আমি	পাতিয়া সরসী-ফাঁদ
জনম	জনম কাঁদি কুমুদীর সম॥
		নিখিলের রূপে রূপে
		দেখা দাও চুপে চুপে
এলে না মূরতি ধরি তুমি নিরুপম॥

বাণী

পদ্মার ঢেউ রে —
মোর শূণ্য হৃদয়–পদ্ম নিয়ে যা, যা রে।
এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
আমি হারায়েছি তারে।।
মোর পরান–বঁধু নাই, পদ্মে তাই মধু নাই (নাই রে)
বাতাস কাঁদে বাইরে, সে সুগন্ধ নাই রে
মোর রূপের সরসীতে আনন্দ–মৌমাছি নাহি ঝঙ্কারে রে।।
ও পদ্মারে —
ঢেউয়ে তোর ঢেউ ওঠায় যেমন চাঁদের আলো
মোর বঁধুয়ার রূপ তেমনি ঝিল্‌মিল করে কৃষ্ণ–কালো।
সে প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশি বাজায়
যদি দেখিস্‌ তারে, দিস্‌ এই পদ্ম তার পায়
বলিস্‌, কেন বুকে আশার দেয়ালি জ্বালিয়ে
ফেলে গেল চির–অন্ধকারে।