বাণী

রাখ রাখ রাঙা পায়, হে শ্যামরায়!
ভুলে গৃহ স্বজন সবই সঁপেছি তোমায়॥
সংসার মরু ঘোর, নাহি তরু-ছায়া,
নব নীরদ শ্যাম, আনো মেঘ-মায়া;
আনন্দ-নীপবনে নন্দ-দুলাল এসো,
বাহও উজান, হরি, অশ্রুর যমুনায়॥
একা জীবন মোর গহন ঘন ঘোর,
এসো এ বনে বনমালী, গোপ কিশোর,
কুঞ্জ রচেছি দুখ-শোক তমাল-ছায় -  
প্রেম-প্রীতির গোপী চন্দন শুকায়ে যায়॥
দারা সুত প্রিয়জন, হরি হে, নাহি চাই,
পদ্মা-পলাশ-আঁখি যদি দেখিতে পাই;
রাখাল-রাজা এসো, এসো হে ঋষিকেশ,
গোকুলে লহ ডাকি’, অকূলে ভাসি হায়॥

বাণী

রুম্ ঝুম্ ঝুম্ ঝুম্ নূপুর বোলে
বন-পথে যায় কে বালিকা, গলে শেফালিকা,
		মালতী মালিকা দোলে॥
চম্পা মুকুলগুলি চাহে নয়ন তুলি’
নাচে নট-বিহগ শিখী তরুতলে॥

বাণী

রবে না এ বৈকালি ঝড় সন্ধ্যায়।
বহিবে ঝিরিঝিরি চৈতালি বায়॥
দুপুরে যে ধরেছিল দীপক তান
বেলাশেষে গাহিবে সে মুলতানে গান,
কাঁদিবে সে পূরবীত গোধূলি-বেলায়॥
নৌবতে বাজিবে গো ভীম-পলাশী,
উদাস পিলুর সুরে ঝুরিবে বাঁশি,
বাজিবে নূপুর হয়ে তটিনী ও-পায়॥

বাণী

রাধা-তুলসী, প্রেম-পিয়াসি, গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।
নাম জপ মুখে, মূরতি রাখ বুকে ধ্যান দেখ তারি রপ মোহন।।
	অমৃত রসঘন কিশোর-সুন্দর,
	নব নীরদ শ্যাম মদন মনোহর —
সৃষ্টি প্রলয় যুগল নূপুর শোভিত যাহার রাঙা চরণ।।
	মগ্ন সদা যিনি লীলারসে,
	যে লীলা-রস ভরা গোপী-কলসে,
কান্না-হাসির আলো-ছায়ার মায়ায় যাহার মোহিত ভূবন।।

বাণী

দ্বৈত	:	রাধাকৃষ্ণ নামের মালা
		জপ দিবানিশি নিরালা॥
পুরুষ	:	অগতির গতি গোকুলের পতি
স্ত্রী	:	শ্রীকৃষ্ণে ভক্তি দেয় যে শ্রীমতী
পুরুষ	:	ভব-সাগরে কৃষ্ণ নাম ধ্রুবজ্যোতি
দ্বৈত	:	সেই কৃষ্ণের প্রিয়া ব্রজবালা॥
স্ত্রী	:	পাপ-তাপ হবে দুর হরির নামে
		শ্রীমতী রাধা যে হরির বামে
পুরুষ	:	ঐ নাম জপি’ যাবি গোলকধামে
দ্বৈত	:	সেই রাধা নাম হবে দুঃখ জ্বালা॥
স্ত্রী	:	সাধনে সিদ্ধ হবে রাধা ব’লে ডাকো
পুরুষ	:	কৃষ্ণ-মূরতি হৃদি-মন্দিরে রাখো
দ্বৈত	:	জপ রে যুগল নাম রাধাশ্যাম
		এই আঁধার জগৎ হবে আলো॥

বাণী

রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি’ —
নাচিছে আরবি নটিনী বাঁদি।।
বেদুঈনী সুরে বাঁশি বাজে
রহিয়া রহিয়া তাঁবু মাঝে,
সুদূরে সে-সুরে চাহে ঘোম্‌টা তুলিয়া শাহজাদী।।
যৌবন-সুন্দর নোটন কবুতর নাচিছে মরু-নটী
গাল যেন গোলাপ কেশ যেন খেজুর-কাঁদি।।
চায় হেসে হেসে চায় মদির চাওয়ায়,
দেহের দোলায় রং ঝ’রে যায় ঝর্‌ঝর্‌,
ছন্দে দুলে ওঠে মরু মাঝে আঁধি।।