বাণী

স্বপনেএসেছিল মৃদু-ভাষিণী
মৃদু-ভাষিণী মধু-হাসিনী।
রূপের তৃষা মোর রূপ ধ'রে এসেছিল
কল্পনা মনোবন-বাসিনী।।
যে পরম সুন্দর আছে মোর অন্তরে
তারি অভিসারে আসে উদাসিনী।।

বাণী

পুরুষ	:	সোনার বরণ কন্যা গো, এসো আমার সোনার নায়ে
		চল আমার বাড়ি
স্ত্রী	:	ওরে অচিন দেশের বন্ধুরে,
		তুমি ভিন্ গেরামের নাইয়া আমি ভিন্ গেরামের নারী।
পুরুষ	:	গয়না দিব বৈচী খাড়ু শাড়ি ময়নামতীর।
স্ত্রী	:	গয়না দিয়ে মন পাওয়া যায় না কুলবতীর।
পুরুষ	:	শাপলা ফুলের মালা দেব রাঙা রেশমি চুড়ি।
স্ত্রী	:	ঐ মন-ভুলানো জিনিস নিয়ে (বন্ধু) মন কি দিতে পারি?
পুরুষ	:	(তুমি) কোন্-সে রতন চাও রে কন্যা, আমি কি তা জানি?
স্ত্রী	:	তোমার মনের রাজ্যে আমি হ’তে চাই রাজরানী।
দ্বৈত	:	হইও সাক্ষী তরুলতা পদ্মা নদীর পানি (আরে ও)
		(আজি) কূল ছাড়িয়া দু’টি প্রাণী অকূলে দিল পাড়ি॥

বাণী

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে।
নিঝুম নিশীথে ব্যথিত বুকের মাঝে॥
	মনে প’ড়ে যায় সহসা কখন
	জল ভরা দু’টি ডাগর নয়ন,
পিঠ-ভরা চুল সেই চাঁপা ফুল ফেলে ছু’টে যাওয়া লাজে॥
হারানো সে-দিন পাব না গো আর ফিরে,
দেখিতে পাব না আর সেই কিশোরীরে।
	তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন
	আমি ভুলিয়াছি ভোলেনি সে যেন,
গোমতীর তীরে পাতার কুটীরে (সে) আজও পথ চাহে সাঁঝে।

বাণী

স্ত্রী	:	সই কই লো আমার ঘর নিকোবার ন্যাতা।
পুরুষ	:	আহা ন্যাতা নয় গো শীতের কাঁথা এই যে আমি হেথা॥
স্ত্রী	:	সই-লো ওলো সই, আমার ছাই ফ্যালবার ভাঙাদ কুলো কই ?
পুরুষ	:	কুলোর বাতাস চুলোর ছাই
		স্বামী বলো কিম্বা ভাই, (ওলো) এই যে তোমার আমি।
উভয়ে	:	মিলেছি রাজ যোটক দুয়ে
পুরুষ	:	গিঁটে বাত ওরে বাবা রে বাবা গিঁটে বাত
স্ত্রী	:	আর ফিকের ব্যথা, ওরে মা রে, মা আর ফিকের ব্যথা॥
		ওলো সই বাপের বাড়ি যাব আমি এ ঘরে রব না,
পুরুষ	:	দেখো পুরুষের রাগ করে আনাগোনা
		আমিও যাব শ্বশুর বাড়ি, ওরে রেমো নিয়ে আয় ব্যাগ ছাতা।
উভয়ে	:	নথে এবং নাথে এম্‌নি যুদ্ধ।
পুরুষ	:	গুঁতোগুতি
স্ত্রী	:	জড়াজড়ি
পুরুষ	:	ছাতা-ছড়ি
স্ত্রী	:	খুনতি-বেড়ী
উভয়ে	:	হাতা॥

বাণী

সমবেত	:	সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ গো
			পাত ভ’রে ভাত পাই না, ধ’রে আসে হাত গো॥
১ম		:	তোর ঘরে আজ কি রান্ন হায়েছে?
২য়		:	ছেলে দুটো ভাত পায়নি, পথ চেয়ে রয়েছে।
৩য়		:	আমিও ভাত রাঁধিনি, দেখ্ না চুল বাঁধিনি
			শাশুড়ি মান্ধাতার বুড়ি মন্দ কথা কয়েছে।
৪র্থ		:	আমার ননদ বড় দজ্জাল বজ্জাত গো।
সমবেত	:	সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ গো
			পাত ভ’রে ভাত পাই না, ধ’রে আসে হাত গো॥
১ম		:	এত খায় তবু ওদের বউগুলো সুঁট্‌কো
২য়		:	ছেলেগুলো প্যাঁকাটি, বাবুগুলো মুট্‌কো।
৩য়		:	এরা কাগজের ফুল, এরা চোখে চাঁদ দেখে না।
৪র্থ		:	ইটের ভিতরে কীটের মত কাটায় এরা রাত গো।
সমবেত	:	সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ গো
			পাত ভ’রে ভাত পাই না, ধ’রে আসে হাত গো॥

চলচ্চিত্রঃ ‘চৌরঙ্গী’

বাণী

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
					পোহায় না মোর রাতি।।
ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
					পোহায় না মোর রাতি।।