বাণী

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ
পুণ্য-চিত্ত মৃত্যু তীর্থ-পথের যাত্রী কই।।
আগে জাগে বাধা ও ভয়
ও ভয়ে ভীত নয় হৃদয়
জানি মোরা হবই হব জয়ী।।
জাগায়ে প্রাণে প্রানে নব আশা, ভাষাহীন মুখে ভাষা
হে নবীন আন নব পথের দিশা নিশি শেষের ঊষা
কেহ না দেশে মানুষ তোমরা বৈ।।
স্বর্গ রচিয়া মৃত্যুহীন চল ওরে কাঁচা চল নবীন
দৃপ্ত চরণে নৃত্য দোল জাগায়ে মরুতে রে বেদুইন!
'নাই নিশি নাই' জাগে শুভ্র দীপ্ত দিন।
নাই ওরে ভয় নাই জাগে ঊর্দ্ধে দেবী জননী শক্তিময়ী।।

বাণী

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
	অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছে ঐ
	চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ–আঁচলে।
সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি’ সুখ কৈলাস
বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস,
কি ভয় শ্মশানে শান্তিতে যেখানে
	ঘুমাবি জননীর চরণ–তলে।।
জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার জ্বালায়
তাহারে ডাকিছে মা ‘কোলে আয়, কোলে আয়’
জীবনে শ্রান্ত ওরে ঘুম পাড়াইতে তোরে
	কোলে তুলে নেয় মা মরণেরি ছলে।।

বাণী

শ্যামে হারায়েছি বলে কাঁদি না বিশাখা হারায়েছি শ্যামের হৃদয়
আমি তারি তরে কাঁদি গো সেই নিদয়ের তরে নয়
তার হৃদয়ের তরে কাঁদি গো হারায়েছি শ্যামের হৃদয়।
যে হৃদয় ছিল একা গোপিকার রাধিকার কুবুজা করেছে তারে জয়, সখি গো
কুবুজা তারে কু বুঝায়েছে
যে রাধা ছাড়া জানত না সই কুবুজা তারে কু বুঝায়েছে
কুবুজা করেছে তারে জয়।
কি হবে মথুরা গিয়া, হেরি সে হৃদয়হীন পাষাণ দেবতায়
সে কিছুই দেবে না, দেবতাই বটে গো সে দেবতাই বটে গো
পাষাণ খুঁজে না রাধা তার প্রিয় আনন্দঘন শ্যামরায়
তোরা যেতে চাস যা লো —
ঠাকুর দেখিতে তোরা যেতে চাস যা লো, সখি গো
ধরম-করম মম তনু-মন-যৌবন সঁপিনু চরণে যার
সে পর-পুরুষ, হ’ল আজি অপরার পুরুষ স্বভাব ভ্রমবার।
সে ভ্রমরাই সমতুল ফুলে ফুলে ভ্রমে সে ভ্রমরাই সমতুল
তারে, দেখলে ভ্রমে জাতিকুল, ভ্রমরাই সমতুল পুরুষ স্বভাব ভ্রমরার
যা’র হরি ছাড়া বোধ নাই প্রবোধ দিস্‌নে তায়, সজনী
সবারই পোহাবে নিশি, পোহাবে না রাধারই এ আঁধার রজনী॥

বাণী

শ্যামলা বরণ বাংলা মায়ের রূপ দেখে যা, আয় রে আয়
গিরি–দরি, বনে–মাঠে, প্রান্তরে রূপ ছাপিয়ে যায়।।
ধানের ক্ষেতে, বনের ফাঁকে, দেখে যা মোর কালো মা–কে
ধূলি–রাঙা পথের বাঁকে বৈরাগিনী বীণ বাজায়।।
ভীরু মেয়ে পালিয়ে বেড়ায় পল্লীগ্রামে এক্‌লাটি
বিজনমাঠে গ্রাম সে বসায় নিয়ে কাদা, খড়, মাটি
কালো মেঘের ঝারি নিয়ে করুণা–বারি ছিটায়।।
কাজলা–দীঘির পদ্মফুলে যায় দেখা তার পদ্ম–মুখ
খেলে বেড়ায় ডাকাত–মেয়ে বনে লয়ে বাঘ–ভালুক
ঝড়ের সাথে নৃত্যে মাতে বেদের সাথে সাপ নাচায়।।
নদীর স্রোতে পাথর নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে তার
সাঁঝের বারান্দাতে দাঁড়ায় টীপ প’রে সন্ধ্যা–তারার।
ঊষার গাঙে ঘট ভরিতে যায় সে মেয়ে ভোর বেলায়।
হরিত শস্যে লুটায় আঁচল ঝিল্লিতে নূপুর বাজে
ভাটিয়ালি গায় ভাটির স্রোতে গায় বাউল মাঠের মাঝে (মা)।
গঙ্গা–তীরে শ্মশান–ঘাটে কেঁদে কভু বুক ভাসায়।।

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ
হবে নিমেষে সংসার-কালীয় দমন।।
	নব-জলধর শ্যাম
	রূপ যাঁর অভিরাম
(যাঁর)	আনন্দ ব্রজধাম লীলা নিকেতন।।
বিদ্যুৎ - বর্ণ পীতান্বরধারী,
বনমালা-বিভূষিত মধুবনারী;
গোপ-সখা গোপী-বঁধু মনোহারী
নওল-কিশোর তনু মদনমোহন।।

বাণী

শ্মশান-কালীর নাম শুনে রে ভয় কে পায়।
মা যে আমার শবের মাঝে শিব জাগায়।।
আনন্দেরই নন্দিনী সে শান্তি সুধা কণ্ঠ বিষে
মায়ের চরণ শোভে অরুণ আলোর লাল জবায়।।
চার হাতে মা'র চার যুগেরই খঞ্জনী,
নৃত্য-তালে নিত্য ওঠে রনঝণি'।
মা পায় না ধ্যানে যোগীন্দ্র সেই যোগমায়ায়।।