বাণী

তুমি আঘাত দিয়ে মন ফেরাবে এই কি তোমার আশা?
আমার যে নাথ অনন্ত সাধ, অনন্ত পিপাসা॥
	দাহন তুমি করবে যত
	প্রেমের শিখা জ্বলবে তত
সে যে আমার মন্ত্র পূজার তোমার কঠিন ভাষা॥
ফুলমালী! ফুলের শাখা কাটো যত পার,
আহত সেই ফুল-শাখাতে ধরবে কুসুম আরো।
	হানলে আঘাত নিথর জলে,
	অধীর বেগে ঢেউ উথলে,
তোমার অবহেলায় বিপুল হ’ল ভীরু ভালোবাসা।
		আমার ভীরু ভালোবাসা॥

বাণী

	ত্রিজগত আলো করে আছে কালো মেয়ের পায়ের শোভা।
	মহাভাবে বিভোর শঙ্কর, ঐ পা জড়িয়ে মনোলোভা।।
	দলে দলে গগন বেয়ে গ্রহ তারা এলো ধেয়ে,
ঐ	চরণ শোভা দেখবে বলে, ঐ পায়ের নূপুর হওয়ার ছলে
সেই	শোভা কেমন বলতে গিয়ে ব্রহ্ম হলো চিরমৌনী বোবা।।
ঐ	চরণ শোভা দেখার তরে, যোগী থাকেন ধেয়ান ধ'রে
	ত্রিভুবন ভুলে অনন্তকাল যোগী থাকেন ধেয়ান ধ'রে।
	ও শুধু চরণ শোভা নয়, ঐ যে পরব্রহ্ম জ্যোতি
	শ্রী চণ্ডী বেদ পুরাণে ওরই প্রেম-আরতি
মা	দেখ্‌ত যদি নিজের চরণ নিজেই দিত বিল্বজবা
	আপনার ঐ রাঙা পায়ে নিজেই দিত বিল্বজবা।।

বাণী

তুমি		হাতখানি যবে রাখ মোর হাতের পরে
মোর		কণ্ঠ হ’তে সুরের গঙ্গা ঝরে।।
তব		কাজল-আঁখির ঘন পল্লব তলে
		বিরহ মলিন ছায়া মোর যবে দোলে
তব		নীলাম্বরীর ছোঁয়া লাগে যেন সেদিন নীলাম্বরে।।
		যেদিন তোমারে পাই না কাছে গো পরশন নাহি পাই,
		মনে হয় যেন বিশ্ব ভুবনে কেহ নাই, কিছু নাই।
		অভিমানে কাঁদে বক্ষে সেদিন বীণ
		আকাশ সেদিন হয়ে যায় বাণী হীন
যেন		রাধা নাই, আর বৃন্দাবনে গো সব সাধ গেছে ম’রে।।

বাণী

তোরা যারে এখনি হালিমার কাছে লয়ে ক্ষীর সর ননী
আমি খোয়াবে দেখেছি কাঁদিছে মা বলে আমার নয়ন-মণি॥
	মোর শিশু আহমদে যেদিন কাঁদিয়া
	হালিমার হাতে দিয়াছি সঁপিয়া
সেই দিন হ’তে কেঁদে কেঁদে মোর কাটিছে দিন রজনী॥
পিতৃহীন সে সন্তান হায় বঞ্চিত মা’র স্নেহে
তারে ফেলে দূরে কোল খালি করে (আমি) থাকিতে পারি না গেহে।
	অভাগিনী তার মা আমিনায়
	মনে করে সে কি আজো কাঁদে হায়
বলিস তাহারি আসার আশায় দিবানিশি দিন গণি॥