বাণী

যাবার বেলায় মিনতি আমার (শুধু) রাখিও মনে
ডাক দিও গো সাঁঝের ছায়ে সাঙ্গোপনে।।
যখন সন্ধ্যাবধূ আঁকবে রঙের আলপনা
আমার হিয়া দুলবে তখন তোমার প্রদীপ সনে
যখন নিরালাতে গাঁথবে মালা আনমনে।।
(আমি) রইব ঘিরে তোমার মালার গন্ধ সনে (প্রিয় আমার)
আমি দুলিয়ে যাব অলক তব মৃদু পবনে
ওগো একটি মালা গলায় নিও আমার স্মরণে।।

বাণী

যত নাহি পাই দেবতা তোমায় , তত কাঁদি আর পূঁজি।
ত্ই লুকাও ধরা নাহি দাও, ততই তোমারে খুঁজি
কত সে রূপের রঙের মায়ায়, আড়াল করিয়া রাখ আপনায়
তবু তব পানে অশান্ত মন কেন ধায় নাহি বুঝি।।
কাঁদালে যদি গো এমন করিয়া কেন প্রেম দিলে তবে
অন্তবিহীন এ লুকোচুরির শেষ হবে নাথ কবে?
সহে না হে নাথ বৃথা আসা যাওয়া-
জনমে জনমে এই পথ চাওয়া
কাঁদিয়া কাঁদিয়া ফুরায়ে গেল চোখের জলের পুঁজি।।

বাণী

যাবার বেলায় ফেলে যেয়ো একটি খোঁপার ফুল (প্রিয়)
আমার চোখের চেয়ে চেয়ো একটু চোখের ভুল (প্রিয়)।।
অধর –কোণের ঈয়ৎ হাসির ক্ষণিক আলোকে
রাঙ্গিয়ে যেয়ো আমার হিয়ার গহন কালোকে
যেয়ো না গো মুখ ফিরিয়ে দুলিয়ে হীরের দুল।।
একটি কথা ক’য়ে যেয়ো, একটি নমস্কার,
সেই কথাটি গানের সুরে গাইব বারেবার
হাত ধ’রে মোর বন্ধু ব’লো একটু মনের ভুল।।

বাণী

যে আল্লার কথা শোনে তারি কথা শোনে লোকে।
আল্লার নূর যে দেখেছে পথ পায় লোক তার আলোকে।।
	যে আপনার হাত দেয় আল্লায়
	জুল্‌ফিকারের তেজ সে পায়,
যার চোখে আছে খোদার জ্যোতি রাত্রি পোহায় তারি চোখে।।
ভোগের তৃষ্ণা মিটেছে যার খোদার প্রেমের শিরনি পেয়ে,
যায় বাদ্‌শা-নবাব গোলাম হ'য়ে সেই ফকিরের কাছে যেয়ে।
আসে সেই কওমের ইমাম সেজে কওমকে পেয়েছে যে,
তারি কাছে খোদার দেওয়া শান্তি আছে দুখে-শোকে।। 

বাণী

(যখন)		প্রেমের জ্বালায় অঙ্গ জ্বলে, জুড়াই জ্বালা গজলে।
		ছাতা দিয়ে মারি খোঁচা যেন সুরের বগলে॥
		সিঁড়ির ধারে পিঁড়ি পেতে বিড়ি বাঁধি হায় কলকাতায়,
		মিলন আশার তামাক ঠাসি হায় বিরহের শাল পাতায়,
		[‘‘আরে লুল্লু আট পয়সার বিড়ি কিনে লিস্‌রে হাঁ হাঁ”]
		জালিম বিবির দিলের ছিপি (দাদা) খুলি সুরের ফজলে॥
		কার্ফা তালে চার পা তুলে (হায়) ছুটাই তালের লাল ঘোড়া,
		ভজুয়া নাত্‌নি ছুটে আসে হায় ফেলে দিয়ে হায় ঝালবড়া;
		সুরে-তালে লাগে লড়াই যেন পাঠান মোগলে॥

বাণী

	যে পেয়েছে আল্লার নাম সোনার কাঠি,
	তার কাছে ভাই এই দুনিয়া দুধের বাটি॥
	দীন দুনিয়া দুই-ই পায় সে মজা লোটে,
	রোজা রেখে সন্ধ্যাবেলা শিরনি জোটে,
সে	সদাই বিভোর পিয়ে খোদার এশ্‌ক খাঁটি॥
সে	গৃহী তবু ঘরে তাহার মন থাকে না,
	হাঁসের মতন জলে থেকেও জল মাখে না;
তার	সবই সমান খাঁটি সোনা এঁটেল্ মাটি॥
	সবই খোদার দান ভেবে সে গ্রহণ করে,
	দুঃখ-অভাব সুখের মতই জড়িয়ে ধরে,
	ভোগ করে সে নিত্য বেহেশ্‌ত্‌ পরিপাটি॥