বাণী

	যাও যাও তুমি ফিরে এই মুছিনু আঁখি
	কে বাঁধিবে তোমারে হায় গানের পাখি॥
মোর	আজ এত প্রেম আশা এত ভালোবাসা
	সকলি দুরাশা আজ কি দিয়া রাখি॥
	তোমার বেঁধেছিল নয়ন শুধু এ রূপের জালে
	তাই দুদিন কাঁদিয়া হায় এ বাঁধন ছাড়ালে।
	আমার বাঁধিয়াছে হিয়া আমি ছাড়াব কি দিয়া
	আমার হিয়া তো নয়ন নহে ও সে ছাড়ে না কাঁদিয়া,
	ওগো দুদিন কাঁদিয়া।
	এই অভিমান জ্বালা মোর একেলারি কালা
	ম্লান মিলনেরি মালা দাও ধূলাতে ঢাকি॥

বাণী

(যখন)		প্রেমের জ্বালায় অঙ্গ জ্বলে, জুড়াই জ্বালা গজলে।
		ছাতা দিয়ে মারি খোঁচা যেন সুরের বগলে॥
		সিঁড়ির ধারে পিঁড়ি পেতে বিড়ি বাঁধি হায় কলকাতায়,
		মিলন আশার তামাক ঠাসি হায় বিরহের শাল পাতায়,
		[‘‘আরে লুল্লু আট পয়সার বিড়ি কিনে লিস্‌রে হাঁ হাঁ”]
		জালিম বিবির দিলের ছিপি (দাদা) খুলি সুরের ফজলে॥
		কার্ফা তালে চার পা তুলে (হায়) ছুটাই তালের লাল ঘোড়া,
		ভজুয়া নাত্‌নি ছুটে আসে হায় ফেলে দিয়ে হায় ঝালবড়া;
		সুরে-তালে লাগে লড়াই যেন পাঠান মোগলে॥

বাণী

যার মেয়ে ঘরে ফিরল না আজ তার ঘরে তুই যা মা উমা!
আজ ঘুম নাই যে মায়ের চোখে সেই মাকে তুই জড়িয়ে ঘুমা॥
(মা)	এমন আনন্দেরই হাটে
	কেঁদে যাহার দিবস কাটে
‘মা আমি এসেছি’ বলে, সেই জননীর খা মা চুমা॥
যে মা’র বুক শূন্য আজি, কাঁদে আয় রে গোপাল বলে,
মা! তোর দুই কুমার নিয়ে, তুলে দে সেই শূন্য কোলে।
	ওমা! এই কটি দিন বিপুল স্নেহে
	তুমি বিরাজ কর প্রতি গেহে;
সকল অভাব পূর্ণ ক’রে আনন্দ দে শান্তি দে মা॥

বাণী

যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম সকলি নিয়ো হে স্বামী
যত সাধ আশা প্রীতি ভালোবাসা সঁপিনু চরণে আমি॥
	ধ’রে যা’রে রাখি আমার বলিয়া
	সহসা কাঁদায়ে যায় সে চলিয়া
অনিমেষ, আঁখি তুমি ধ্রুবতারা জাগো দিবসযামী॥
	মায়ারি ছলনায় পুতুল খেলায়
	ভুলাইয়া প্রভু রেখেছিলে আমায়
ভুলেছি সে খেলা আজি অবেলায় তোমারই দুয়ারে থামি॥

বাণী

যাবার বেলায় মিনতি আমার (শুধু) রাখিও মনে
ডাক দিও গো সাঁঝের ছায়ে সাঙ্গোপনে।।
যখন সন্ধ্যাবধূ আঁকবে রঙের আলপনা
আমার হিয়া দুলবে তখন তোমার প্রদীপ সনে
যখন নিরালাতে গাঁথবে মালা আনমনে।।
(আমি) রইব ঘিরে তোমার মালার গন্ধ সনে (প্রিয় আমার)
আমি দুলিয়ে যাব অলক তব মৃদু পবনে
ওগো একটি মালা গলায় নিও আমার স্মরণে।।

বাণী

যদি আমি তোমায় হারাই, তুমি যেয়ো না নাথ হারিয়ে।
আমি পথ হারালে ধ’রো আমায় আঁধারে হাত বাড়িয়ে।।১
	ঝড়-বাদলে নিশীথ-রাতে
	লুকিয়ে চ’লো আমার সাথে,
ফুলের কাছে নিয়ে যেয়ো কাঁটার বাধা ছাড়িয়ে।।
তোমায় দেওয়া এ প্রাণ যদি অন্যে চাহি দানিতে,
তুমি যেন ‘না’ বোলো না কঠোর আঘাত হানিতে।
	চঞ্চল মোর চিত্ত যেন
	তোমার পায়ে টেনে এনো
তোমার পূজা শিখায়ো নাথ তুমিই পাশে দাঁড়িয়ে।।

১. অন্ধকারে ধরো আমায় সহসা হাত বাড়িয়ে।।