বাণী

যদি আমি তোমায় হারাই, তুমি যেয়ো না নাথ হারিয়ে।
আমি পথ হারালে ধ’রো আমায় আঁধারে হাত বাড়িয়ে।।১
	ঝড়-বাদলে নিশীথ-রাতে
	লুকিয়ে চ’লো আমার সাথে,
ফুলের কাছে নিয়ে যেয়ো কাঁটার বাধা ছাড়িয়ে।।
তোমায় দেওয়া এ প্রাণ যদি অন্যে চাহি দানিতে,
তুমি যেন ‘না’ বোলো না কঠোর আঘাত হানিতে।
	চঞ্চল মোর চিত্ত যেন
	তোমার পায়ে টেনে এনো
তোমার পূজা শিখায়ো নাথ তুমিই পাশে দাঁড়িয়ে।।

১. অন্ধকারে ধরো আমায় সহসা হাত বাড়িয়ে।।

বাণী

(যখন)		প্রেমের জ্বালায় অঙ্গ জ্বলে, জুড়াই জ্বালা গজলে।
		ছাতা দিয়ে মারি খোঁচা যেন সুরের বগলে॥
		সিঁড়ির ধারে পিঁড়ি পেতে বিড়ি বাঁধি হায় কলকাতায়,
		মিলন আশার তামাক ঠাসি হায় বিরহের শাল পাতায়,
		[‘‘আরে লুল্লু আট পয়সার বিড়ি কিনে লিস্‌রে হাঁ হাঁ”]
		জালিম বিবির দিলের ছিপি (দাদা) খুলি সুরের ফজলে॥
		কার্ফা তালে চার পা তুলে (হায়) ছুটাই তালের লাল ঘোড়া,
		ভজুয়া নাত্‌নি ছুটে আসে হায় ফেলে দিয়ে হায় ঝালবড়া;
		সুরে-তালে লাগে লড়াই যেন পাঠান মোগলে॥

বাণী

যবে	ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি
	ঘুম ভাঙায়ে হাতে বাঁধিও রাখি।।
		রাতের বিরহ যবে
		প্রভাতে নিবিড় হবে
	অকরুণ কলরবে গাহিবে পাখি।।
যেন	অরুণ দেখিতে গিয়া তরুণ কিশোর
	তোমারে প্রথম হেরি' ঘুম ভাঙে মোর।
		কবরীর মঞ্জরি
		আঙিনায় রবে ঝরি'
	সেই ফুল পায়ে দলি এসো একাকী।।

বাণী

	যাবার বেলায় সালাম লহ হে পাক রমজান।
তব	বিদায় ব্যথায় কাঁদিছে নিখিল মুসলিম জাহান।। 
	পাপীর তরে তুমি পারের তরী ছিলে দুনিয়ায়, 
	তোমারি গুণে দোজখের আগুন নিভে যায়,
	তোমারি ভয়ে লুকায়ে ছিল দূরে শয়তান।। 
	ওগো রমজান, তোমারি তরে মুসলিম যত 
	রাখিয়া রোজা ছিল জাগিয়া চাহি' তবু পথ,
	আনিয়াছিলে দুনিয়াতে তুমি পবিত্র কোরআন।। 
	পরহেজগারের তুমি যে প্রিয় প্রাণের সাথী, 
	মসজিদে প্রাণের তুমি যে জ্বালাও দ্বীনের বাতি,
	উড়িয়ে গেলে যাবার বেলায় নতুন ঈদের চাঁদের নিশান।।

বাণী

যাই গো চ'লে যাই না-দেখা লোকে
	জানিতে চির অজানায়।
নিরুদ্দেশের পথে মানস-রথে স্বপন ঘুমে
	মন যথা চ'লে যায়।।
সাগর-জলে পাতাল-তলে তিমিরে
অজানা মায়া আছে চিরদিন সে-দেশ ঘিরে —
মেঘলোক পারায়ে চাঁদের বুকে গ্রহ-তারায়।।
যাই হিমগিরি-চূড়াতে, মেরুর তুষারে,
আকাশের দ্বার খুলে' হেরিতে ঊষারে।
রামধনু ওঠে যথা পরীরা খেলে
যে-দেশ হইতে আসে এ জীবন, যেখানে হারায়।।

বাণী

যা সখি যা তোরা গোকুলে ফিরে।
যে পথে শ্যামরায় চ’লে গেছে মথুরায়
কাঁদিতে দে ল’য়ে সেই পথ ধূলিরে॥
এ তো ধূলি নয়, ধূলি নয়
হরি-চরণ-চিহ্ন-আঁকা এ যে হরি-চন্দন ধূলি নয়, ধূলি নয়
এই ধূলি মাখিয়া,
হ’য়ে পাগলিনী ফিরিব ‘শ্যাম শ্যাম’ ডাকিয়া।
হব যোগিনী এই ধূলি-তিলক-আঁকিয়া॥ (সখি গো)
শুনিয়াছি দূতি মুখে, প্রিয়তম আছে সুখে সেই মম পরম প্রসাদ।
ভুলিয়া এ রাধিকায়, সে যদি সুখ পায় তার সে সুখে সাধিব না বাদ॥
আমার দীরঘ শ্বাসে উৎসব-বাতি তার যদি নিভে যায়।
তাই ওলো ললিতা আমি হব ধূলি-দলিতা যাব না লো তার মথুরায়॥
আমি মথুরায় যাব, না গেলে মথুরাতে মোর শ্যামে আর ফিরে পাব না। (সখি গো)
হারানো মানিক কভু ফিরে লোকে পায়
হারানো হৃদয় ফিরে নাহি পাওয়া যায়॥