সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই

বাণী

সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই ওগো বারিতালা।
তারপরে দরুদ পড়ি মোহাম্মদ সাল্লে আলা।।
সকল পীর আর দেবতা-কুলে
সকল গুরুর চরণ-মূলে,
জানাই সালাম হস্ত তুলে
দোওয়া কর তোমরা সবে, হয় যেন গো মুখ উজালা।
সর্ব প্রথমে বন্দনা গাই তোমারই ওগো খোদাতা’লা।।

গোলাপ ফুলের কাঁটা আছে সে গোলাব শাখায়

বাণী

গোলাপ ফুলের কাঁটা আছে সে গোলাব শাখায়,
এনছি ছিঁড়ে তায় রাতুল পরাতে তোমায় খোঁপায়।
কি হবে জানিয়া গোলাব কাঁদিল কি না;
হৃদয় ছিঁড়েছি যাহার, বুঝিবে না গো সে বিনা।
ভুল ভাঙায়ো না আর সাকি, ঢালো শারাব-পিয়ালা।
মতলব কহিব পিছে, নেশা ধরুক চোখে বালা।।
জানি আমি জানে বুলবুল কেন দলিয়া চলি ফুল,
ভালোবাসি যারে যতই, তারে ততই হানি জ্বালা।।
তিক্ত নহে এ শারাব বিফল মোর জীবনের চেয়ে,
শোনায়ো না নীতি-কথা, শোনাও খুশির গজল গেয়ে;
টুটিয়া আসিবে নেশা, ঢালো শারাব-পিয়ালা।।

ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে

বাণী

ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
ব্যথায় মোদের চরণ ফেলে অরুণ আশার সোনার রথে॥
অশ্রু গঙ্গার জলে ধুই মা তোর চরণ নিতি
ত্রিশ কোটি কণ্ঠে বাজে রোদনে তোর বোধনগীতি
আয় মা দলিত রাঙা হৃদয় বিছানো পথে॥
বিজয়া তোর হ’ল কবে শতাব্দী চলিয়া যায়
ভারত-বিজয়-লক্ষ্মী ভারতে ফিরিয়া আয়
বিসর্জনের কান্না মা এবার তুই এসে থামা
সফল কর এ তপস্যা মা স্থান দে স্বাধীন জগতে॥

মা আমি আর কি ভুলি

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥

নিশীথ জাগিয়া সে কি মোর

বাণী

নিশীথ জাগিয়া সে কি মোর গান শোনে।
যে গান ভাসিয়া যায় আজি নিশি-পবনে।।
বলাকা মালার মত আকাশের কোলে,
তারা যেতে যেতে হায়,
ছায়া ফেলিয়া কি যায় —
		তার মন-বাতায়নে।।
মোর কুণ্ঠিতা বাণী সুরের গুণ্ঠনে শিহরায় আবেশে,
শুনিয়া আমার গান আমার চেয়ে কি গো মোর কথা ভাবে সে।
আমার সঙ্গীত-ইঙ্গিত তাহারে,
আনিবে না কি মোর পথের ধারে।
সুমুখে যে কথা তায়,
বলিতে পারি না হায় —
গানের আড়ালে তাই জানাই গোপনে।।

নিশির পাহারা ভেঙে চোর এসেছে

বাণী

	নিশির পাহারা ভেঙে চোর এসেছে ঘর,
	ধরতে গিয়ে দেখি ওলো চোর নয় সে বর।
	বর এসেছে, বর এসেছে, বর এসেছে বর।।
	এ পালিয়েছিল চুরি ক’রে মোদের সখির নিদ্,
(এই)	হৃদয়-বনের শিকারীকে নয়ন দিয়ে বিঁধ্।
এ যে	ফুলের মালায় বন্দী ক’রে পরাল টোপর —
	বর এসেছে, বর এসেছে, বর এসেছে বর।।

নাটক : ‘মধুমালা’