দাদ্‌রা

  • অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে

    বাণী

    অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে।
    নিদ্রা নাহি তোমায় চাহি’ আমার নয়ন-পাতে॥
    		ভেজা মাটির গন্ধ সনে
    		তোমার স্মৃতি আনে মনে,
    বাদ্‌লী হাওয়া লুটিয়ে কাঁদে আঁধার আঙিনাতে॥
    হঠাৎ বনে আস্‌ল ফুলের বন্যা পল্লবেরই কূলে,
    নাগকেশরের সাথে কদম কেয়া ফুট্‌ল দুলে দুলে।
    নবীন আমন ধানের ক্ষেতে হতাশ বায়ু ওঠে মেতে,
    মন উড়ে যায় তোমার দেশে পূব-হাওয়ারই সাথে॥
    

  • অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম

    বাণী

    অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম নামের তরী
    মায়া মোহের ঝড় বাদলে এবার আমি ভয় না করি।
    	যে নাম লেখা তারায় তারায়
    	যে নাম ঝরে অশ্রুধারায়
    যাত্রা শুরু সেই নামেরি জপমালা বক্ষে ধরি।।
    এই আঁধারের অন্তরালে লক্ষ রবি চন্দ্র জ্বলে
    নিত্য ফোটে আলোর কমল জানি তোমার চরণ তলে।
    	এবার ওগো অশিব নাশন
    	থামাও তোমার ঢেউর নাচন
    সেই ত অমর মরণ যদি ধ্যান সাগরে ডুবে মরি।।
    
  • অন্নপূর্ণা মা এসেছে অন্নহীনের ঘর

    বাণী

    অন্নপূর্ণা মা এসেছে অন্নহীনের ঘর
    উলু দে রে শঙ্খ বাজা প্রদীপ তুলে ধর।।
    		তপস্যাহীন পাপীর দেশে
    		মা এসেছে ভালোবেসে,
    বিনা পূজায় মায়ের রূপে এলো বিধির বর।।
    

    নাটিকাঃ ‘সুরথ উদ্ধার’

  • অরুন-রাঙা গোলাপ-কলি

    বাণী

    অরুন-রাঙা গোলাপ-কলি
    কে নিবি সহেলি আয়।
    গালে যার গোলাপী আভা
    এ ফুল-কলি তারে চায়।।
    ডালির ফুল যে শুকায়ে যায়
    কোথায় লায়লী, শিরী কোথায়
    কোথায় প্রেমিক বিরহী মজনু
    এ ফুল দেব কাহার পায়।।
    পূর্ণ চাঁদের এমন তিথি
    ফুল-বিলাসী কই অতিথি
    বুলবুলি বিনে এ গুল্‌ যে
    অভিমানে মুরছায়।।
    
  • আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়

    বাণী

    আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়।
    আমার কথার ফুল গো,
    আমার গানের মালা গো-
    কুড়িয়ে তুমি নিও।।
    আমার সুরের ইন্দ্রধনু
    রচে আমার ক্ষণিক তনু,
    জড়িয়ে আছে সেই রঙে মোর
    অনুরাগ অমিয়।।
    আমার আঁখি-পাতায় নাই দেখিলে
    আমার আঁখি-জল,
    আমার কণ্ঠের সুর অশ্রুভারে
    করে টলমল।
    আমার হৃদয়-পদ্ম ঘিরে
    কথার ভ্রমর কেঁদে ফিরে,
    সেই ভ্রমরের কাছে আমার
    মনের মধু পিও।।
    
  • আকাশে ভোরের তারা মুখ পানে

    বাণী

    আকাশে ভোরের তারা মুখ পানে চেয়ে আছে
    ঝরা-ফুল অঞ্জলি পড়ে আছে,পা'র কাছে।
    	দেবতা গো,জাগো জাগো জাগো।।
    আঁধার-ঘোমটা খুলি শতদল আঁখি তুলি'
    পৃথিবী প্রসাদ যাচে দেবতা গো,জাগো।।
    কপোত-কণ্ঠে শোন তব বন্দনা বাজে
    তোমারে হেরিতে ঊষা দাঁড়ায় বধূর সাজে।
    দেবতা,তোমার লাগি'আজি আছি নিশি জাগি’'
    ভীরু এ মনের কলি হের,দল মেলিয়াছে।
    	দেবতা গো,জাগো।।
    

  • আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই

    বাণী

    আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই।
    ওই পাহাড়ের ঝর্না আমি, ঘরে নাহি রই গো
    				উধাও হ’য়ে বই।।
    চিতা বাঘ মিতা আমার গোখ্‌রো খেলার সাথি
    সাপের ঝাঁপি বুকে ধ’রে সুখে কাটাই রাতি
    ঘূর্ণি হাওয়ার উড়্‌নি ধ’রে নাচি তাথৈ থৈ গো ‘আমি’
    				নাচি তাথৈ থৈ।।
    

    চলচ্চিত্র: ‌‘সাপুড়ে’

  • আঁখি তোল আঁখি তোল না

    বাণী

    	আঁখি তোল আঁখি তোল না,
    	দানো করুণা, ওগো অরুণা,
    	মেলি’ নয়ন জীর্ণ কানন কর তরুণা।।
    	আঁখি যে তোমার বনের পাখি —
    	ঘুম যে ভাঙায় আঁধারে ডাকি’,
    	আলোর-সাগর জাগাও বরুণা।।
    তব 	আনত আঁখির পাতার কোলে
    	তরুণ আলোর মুকুল দোলে।
    	রঙের কুমার দুয়ারে জাগে,
    	তোমার আঁখির প্রসাদ মাগে,
    	পাণ্ডুর ভোর হোক তরুণারুণা।।
    
  • আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি

    বাণী

    আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি এসেছি দেয়ালি জ্বালাতে
    শুধু ক্রন্দন হয়ে আসিনি এসেছি চন্দন হতে থালাতে॥
    	ধরায় আবার আসিয়াছি প্রিয়া
    	তব মুখখানি দেখিব বলিয়া
    তাই	প্রদীপ হইয়া নীরবে পুড়ি তোমারই বরণ ডালাতে॥
    তব	মিলন বাসরে ঘুম ভাঙাইতে আসিনি
    	তুমি কেন লাজে ওঠো আকুলি
    তব	রাঙা মুখখানি রাঙাইয়া যাব চলে গো
    	আমি সাঁঝের ক্ষণিক গোধূলি।
    তব কাজল নয়ন-পল্লব ছায়ে, অশ্রুর মত রহিব লুকায়ে
    ঝরিতে এসেছি ফুল হয়ে আমি তোমার বুকের মালাতে॥
    
  • আজ ভারতের নব আগমনী

    বাণী

    আজ ভারতের নব আগমনী জাগিয়া উঠেছে মহাশ্মশান
    জাগরণী গায় প্রভাতের পাখি ফুলে ফুলে হাসে গোরস্থান॥
    	ট’লেছে অটল হিমালয় আজি
    	সাগরে শঙ্খ উঠিয়াছে বাজি’
    হলাহল শেষে উঠেছে অমৃত বাঁচাইতে মৃত মানব-প্রাণ॥
    	আঁধারে ক’রেছে হানাহানি যারা
    	আলোকে চিনেছে আত্মীয় তা’রা
    এক হয়ে গেছে খ্রিস্টান, শিখ, হিন্দু, পারসি, মুসলমান।
    	এই তাপসীর চরণের তলে
    	লভিয়াছে জ্ঞান শিক্ষা সকলে 
    আবার আসিবে তারা দলে দলে করিতে পুণ্য-তীর্থ-স্নান॥
    
  • আজ শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে

    বাণী

    আজ	শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে মন চলে মোর ভেসে',
    	রেবা নদীর বিজন তীরে মালবিকার দেশে।।
    		মন ভেসে যায় অলস হাওয়ায়
    		হালকা-পাখা মরালী-প্রায়
    	বিরহিনী কাদেঁ যথা একলা এলাকেশে।।
    	কভু মেঘের পানে কভু নদীর পানে চেয়ে,'
    	লুকিয়ে যথা নয়ন মোছে গায়েঁর কালো মেয়ে,
    	একলা বধূ বসে থাকে যথায় বাতায়নে
    				বাদল দিনের শেষে।।
    
  • আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম

    বাণী

    আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম
    ঘরে এলে ফিরে পরবাসী প্রিয়তম।।
    	আজ প্রভাতের কুসুমগুলি
    	সফল হলো ডালায় তুলি'
    সাজির ফুলে আজ এ মালা হবে অনুপম।।
    এতদিনে সুখের হলো প্রভাতী শুকতারা
    ললাটে মোর সিঁদুর দিলো ঊষার রঙের ধারা।
    	আজকে সকল কাজের মাঝে
    	আনন্দেরই বীনা বাজে
    দেবতার বর পেয়েছি আজ তপস্বিনীর সম।।
    
  • আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ

    বাণী

    আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ আজও মুক্ত নহি।
    আজও অন্যে আঘাত দিলে কঠোর ভাষা কহি।।১
    	মোর আচরণ, আমার কথা
    	আজও অন্যে দেয় মা ব্যথা
    আজও আমার দাহন দিয়ে শত জনে দহি।।
    শত্রুমিত্র মন্দভালোর যায়নি আজও ভেদ
    কেহ ব্যথা দিলে, প্রাণে আজও জাগে খেদ।
    	আজও মাগো দুঃখে শোকে
    	অশ্রু ঝরে আমার চোখে,
    আমার আমার ভাব ওগো মা আজও জাগে রহি’ রহি’।।
    

    ১. আজও অন্যে কষ্ট দিলে / কষ্ট ভাষা কহি।।

  • আজকে হোরি ও নাগরী

    বাণী

    [শোন গিন্নী শুন্‌ছ —]
    আজকে হোরি ও নাগরী, ওগো গিন্নী ও ললিতে।
    ফাগের রাঙা জল ভ’রে দাও, ফর্‌সি হুঁকোর পিচ্‌কিরিতে॥
    গাজর বিট আর লাল বেগুনে, রাঁধবে শালগম তেলে নুনে,
    রাঙা দেখে লঙ্কা দিও, লাল নটে আর ফুলকারিতে॥
    গাইব গান দোল পূর্ণিমাতে, মালোয়ারী জ্বর আসলে রাতে,
    তুমি দোহার ধ’রবে সাথে, গিঁটে বাতের গিঁটকিরিতে॥
    (আর) আমি লাল গামছা প’রে যাবো, লাল বাজারে পায়চারিতে,
    তুমি যাবে চিড়িয়াখানায়, এই মুখেতে গন্ডার মারিতে॥
    (না হয়) তুমি যাও বাপের বাড়ি, পাছুপাছু যাবো আমি ওগো শ্বশুর বাড়িতে
    পাছু পাছু যাবো তোমার, না হয় শ্বশুর বাড়িতে॥
    
  • আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর

    বাণী

    আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর, মধুর গানের সুর
    			আজি ভুবন লাগে মধুর।
    পরানের কাছে যেন আসিয়াছে হারানো প্রিয়া সুদূর।।
    	একি মাধুরী জড়িত লতায় পাতায়,
    	যাহা হেরি তাই পরান মাতায়,
    অবনি ভরিয়া ঝরিছে লাবনি মাধুরীতে ভরপুর।।
    আগেও ফুটেছে এ গাঁয়ের মাঠে পথপাশে ভাঁটফুল,
    এই পথ বেয়ে জলে যেত বধূ পিঠভরা এলোচুল।
    	আজ মনে হয় নতুন সকলি
    	মধুময় লাগে বিহগ কাকলি
    আজি অকারণ নেচে ফেরে মন যেন বনের ময়ূর।।
    
  • আজি কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে

    বাণী

    আজি		কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে।
    জ্বলে		দীপ-শিখা আম্র-মুকুলে
    রাঙা		পলাশ অশোকে বকুলে,
    আসে		সে আলোর টানে বন-তল
    		মৌমাছি প্রজাপতি দলে দল
    পুড়ে		মরিতে সে রূপ-শিখাতে
    প্রাণ		সঁপিতে বাসন্তিকাতে;
    		পরিমল অঞ্জন মাখিয়া নয়নে
    হের		ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
    জ্বলে		গগনে তারার দীপালি
    আজি		ধরাতে আকাশে মিতালি
    ধরা		চাঁপার গেলাস ভরিয়া
    মধু		উর্ধ্বে তুলে গো ধরিয়া
    পান		করিতে সে মধু পরীরা
    আসে		নেমে কাননে স-শরীরা;
    		বাজে উৎসব বাঁশি গগনে পবনে
    		হের ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
    
  • আজি গানে গানে ঢাক্‌ব আমার

    বাণী

    আজি		গানে গানে ঢাক্‌ব আমার গভীর অভিমান।
    		কাঁটার ঘায়ে কুসুম ক’রে ফোটাব মোর প্রাণ।।
    			ভুলতে তোমার অবহেলা
    			গান গেয়ে মোর কাট্‌বে বেলা,
    		আঘাত যত হান্‌বে বীণায় উঠ্‌বে তত তান।।
    			ছিড়লে যে ফুল মনের ভুলে
    			আমি গাঁথব মালা সেই ফুলে,
    (ওগো)		আস্‌বে যখন বন্ধু তোমার কর্‌ব তা’রে দান।।
    (আজি)		কথায় কথায় মিলায়ে মিল
    		কবি রে, তোর ভরল কি দিল্‌,
    তোর		শূন্য হিয়া, শূন্য নিখিল মিল পেল না প্রাণ।।
    
  • আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

    বাণী

    আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
    	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
    		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
    		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
    	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
    	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
    আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।
    

    রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

  • আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়

    বাণী

    আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়।
    দখিনার দোল্ লেগেছে দোলন্-চাঁপায়।।
    	দোলে আজ দোল্-ফাগুনে	
    	ফুল-বাণ আঁখির তূণে,
    দুলে আজ বিধুর হিয়া মধুর ব্যথায়।।
    দুলে আজ শিথিল বেণী, দুলে বধূর মেখলা
    দুলে গো মালার পলা জড়াতে বঁধুর গলা!
    	মাধবীর দোলন্-লতায়
    	দোয়েলা দোল্ খেয়ে যায়,
    দুলে যায় হল্‌দে পাখি সোঁদাল-শাখায়।।
    বিরহ-শীর্ণা নদীর আজিকে আঁখির কূলে
    ভরে জল কানায় কানায় জোয়ারে উঠ্‌ল দু’লে।
    	দুলে বসন্ত-রানী
    	কুসুমিতা বনানী
    পলাশ রঙন দোলে নোটন-খোঁপায়।।
    দোলে হিন্দোল-দোলায় ধরণী শ্যাম-পিয়ারী,
    দুলিছে গ্রহ-তারা আলোক-গোপ-ঝিয়ারি।
    	নীলিমার কোলে বসি’
    	দুলে কলঙ্কী-শশী,
    দোলে ফুল-উর্বশী ফুল-দোলায়।।
    
  • আজি মধুর গগন মধুর পবন

    বাণী

    আজি মধুর গগন মধুর পবন মধুর ধরতীধাম
    আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
    বাজত বনমে মধুর মুরলী বোলাতা রাধা নাম
    আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
    আজ থির যমুনা আধীর ভায়ি
    আয়ে গোকুলকে চাঁদ অন্ধেরি গ্যয়ি,
    বোলে কোয়েলিয়া ময়ূর পাপিহা পিয়া পিয়া অবিরাম।।
    ব্রিজকে কোঁয়ারি বনকে যোগিনী রোতি থী বিরহ মে,
    আজ লেকে গাগরি ওড়ে নীল শাড়ি চলে ফের নীর ভরণে।
    	আজ হরিকে সাথ হরিভি আয়ে
    	রাঙা আবিরমে গোকুল ছায়ে,
    বনশী বাজাওয়ে রসিয়া গারে বিভোর ব্রিজধাম।।