দাদ্‌রা

  • ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি

    বাণী

    ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি
    সাঝেঁর বেলা এলে কানন-বীথি।।
    চোখে কি মায়া ফেলেছে ছায়া
    যৌবন মদির দোদুল কায়া
    তোমার ছোঁয়ায় নাচন লাগে দখিন হাওয়ায়
    লাগে চাদেঁর স্বপন বকুল চাঁপায়,
    কোয়েলিয়া কুহরে কু কু গীতি।।
    
  • ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা

    বাণী

    ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
    		মেঘলা সকাল বেলা।
    বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
    		মেঘলা সকাল বেলা।।
    	কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
    	বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
    ব'সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
    দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প'রে
    খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
    বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
    বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।
    
  • ঠাকুর তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল

    বাণী

    ঠাকুর! তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল (তুমি) যেমন বুনো ওল।
    তোমার কুলের কথা (গোকুলের কথা) রটিয়ে দোবো
    বাজিয়ে ঢাক ঢোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
    কেঁদে হেঁই হেঁই যে করে, তার তরে তোমার প্রেম নেই,
    তুমি আয়ান ঘোষকে দেখা দিলে দেখলে লাঠি যেই।
    সেদিনও নদীয়াতে কল্‌সি কানার এক ঘায়েতে
    পাপ নিয়ে জগাই মাধাই-এ দিলে তুমি কোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
    ঐ অগ্রদ্বীপে ভোগ দিল না গোবিন্দ ঘোষ,
    তারে বাবা ব’লে করলে আপোষ;
    বাগবাজারে ধমক খেয়ে
    সাজ্‌লে তামাক মদ্‌না হয়ে
    বদ্‌লে ফেলে ভোল, ঠাকুর বাজিয়ে শ্রীখোল।।
    ভালো চাও ত’ শুনিয়ো নূপুর, রাত্রি দুপুর কালে,
    মন্দিরে মোর নেই অধিকার এসো ঘরের চালে –
    আমার ভাঙা কুঁড়ের চালে।
    জান আমি ভীষণ গোঁয়ার, ধার ধারি না ভক্তি ধোঁয়ার
    ধরব যেদিন বুঝবে ইয়ে,
    চাঁচর কেশ মুড়িয়ে ঢাল্‌ব মাথায় ঘোল।।
    
  • ঠাকুর তোমায় মালা দেব

    বাণী

    মণি :	ঠাকুর তোমায় মালা দেব ফুল তুলি আজ তাই
    কুশ :	যত তুলি তত ভাবি আরো যদি পাই।।
    মণি :	ফুল তুলি আর আমি ভাবি
    	অনেক বেশি আমার দাবি
    	ফুলের সাথে আমায় তোমার পায়ে দিও ঠাঁই।
    	ওগো ঠাকুর ! আমায় তোমার পায়ে দিও ঠাঁই।।
    

    নাটিকা: ‌‘নরমেধ’

  • ডাকতে তোমায় পারি যদি আড়াল থাকতে পারবে না

    বাণী

    ডাকতে তোমায় পারি যদি আড়াল থাকতে পারবে না
    এখন আমি ডাকি তোমায় তখন তুমি ছাড়বে না।।
    	যদি দেখা না পাই কভু —
    	সে দোষ তোমার নহে প্রভু
    সে সাধনায় আমারি হার জানি তুমি ছাড়বে না।।
    বহু লোকের চিন্তাতে মোর বহু দিকে মন যে ধায়,
    জানি জানি, অভিমানী পাইনে আজ তাই তোমায়।
    	বিশ্ব, ভুবন ভুলে যেদিন
    	তোমার ধ্যানে হব বিলীন,
    সেদিন আমার বক্ষ হতে চরণ তোমার কাড়বে না।।
    
  • ডুবু ডুবু ধর্ম-তরী ফাট্‌ল মাইন

    বাণী

    কোরাস্:
    ডুবু ডুবু ধর্ম-তরী, ফাট্‌ল মাইন সর্‌দা’র
    সামাল সামাল পড়ল সাড়া ব-মাল মেয়ে মর্দার।।
    এ কোন্ এলো বালাই, এবে পালাই বল কোন্ দেশ,
    গাছের নীচে ঘ’ড়েল শেয়াল, কাকের মুখে সন্দেশ।
    কন্যা-ডোবা কন্যা এলো, ভাস্ল বুঝি ঘর-দ্বার।।
    আয়েস্ ক’রে ধুম্‌ড়ো মেয়ের বাড়বে বয়েস চৌদ্দ
    বাপের বুকের তপ্ত-খোলায়? দিব্যি গেয়ান-বোধ তো!
    হদ্দ হ’লেন বৌদি ভেবে, ছাড়ল্ নাড়ী বড়দা’র।।
    দিব্যি স্বর্গ-মার্গে যেত গৌরী-দানের মারফৎ
    যমের যমজ জামাতৃকে লিখে দিয়ে ফার্খত!
    (হ’ল) নৈকষ্য কস্য এখন, জাত গেল ‘মেল-খড়দা’র।।
    দেব্‌তা বুড়ো শিব যে মাগেন আট-বছরী নাতনি,
    চতর্দশী মুক্তকেশী — ক’নে নয়, সে হাত্‌নী!
    পুঁটুলি নয় — এঁটুলি সে, কিংবা পুলিশ-সর্দার।।
    সিঙ্গি-চড়া ধিঙ্গি মেয়ে বৌ হবে কি? বাপ্ রে!
    প্রথম প্রণয়-সম্ভাষণেই হয়ত দিবে থাপ্‌ড়ে।
    লাফ দিয়ে সে বাইরে যাবে ঝাঁপ খুলে ঐ পর্দার।।
    সম্বন্ধ ভুলে শেষে যা-তা বলে ডাকব?
    বধূ তো নয়, যদুর পিসি! কোথায় তারে রাখব?
    ধর্মিণী নয়, জার্মানী শেল! গো-স্বামী, খবরদার।।
    টাকাতে নয়, ভাব্‌নাতে শেষ মাথাতে টাক পড়বে,
    যোদ্ধা বামা গুটিয়ে জামা কথায় কথায় লড়বে,
    যেই পাবে না সেমিজ, বডিস, কৌটো পানের জর্দার।।
    স্বামীকে সে বলবে নাথ, রাখ্‌বে না মান দুর্গার,
    হয়ত কবে বল্‌বে, ‘পিও, ঝোল রেঁধেছি মুর্গার!’
    আন্‌বে কে বাপ গুর্খা-সেপাই দন্ত-নখর-বর্দার।।
    গটমটিয়ে কইবে কথা, কট্‌মটিয়ে চাইবে,
    ‘বামা’ সে নয়, ‘ডাইনে সে যে, ডাইনে’ সদা ধাইবে!
    নিতুই নতুই চাইবে যেতে সিমলা শিলং হর্‌দ্বার।।
    ভেবেছিলাম জাত নিয়েছিস, জাতিটা নয় যাক্‌গে,
    গৃহিণীরূপ গ্রহণী রোগ, তাও ছিল শেষ ভাগ্যে!
    দোক্ত ফেলে গিন্নি কাঁদেন, কর্তা করেন ঘর-বার।।
    
  • ডেকো না আর দূরের প্রিয়া

    বাণী

    ডেকো না আর দূরের প্রিয়া থাকিতে দাও নিরালা।
    কি হবে হায় বিদায়-বেলায় এনে সুধার পিয়ালা।।
    সুখের দেশের পাখি তুমি কেন এলে এ বনে,
    আজ এ বনে জাগে শুদু কণ্টকের স্মৃতির জ্বালা।।
    মরুর বুকে কি ঘোর তৃষ্ণা বুঝিবে কি মেঘ-পরী,
    মিটিবে না আমার তৃষ্ণা ঐ আঁখি-জলে বালা।।
    আঁধার ঘরের আলো তুমি আমি রাতের আলেয়া,
    ভোলো আমায় চিরতরে, ফিরিয়ে নাও এ ফুল-মালা।।
    
  • তব বাঁশরি কি হরি শুনিতে পাব না

    বাণী

    তব বাঁশরি কি হরি শুনিতে পাব না পাশরিয়া আছি বলে।
    তব রাস উৎসবে ভিখারির মত বসে আছি পথ তলে।।
    		যে ডাকে, যদি তারি হও একা
    		ডাকে না যে, সে কি পাইবে না দেখা,
    কাঁদে না যে ছেলে জননী কি তারে ডাকিয়া লয় না কোলে।।
    (হরি!) পথ ভুলিয়া যে ঘোরে অরণ্যে দেখাবে না তারে পথ
    (তুমি) সেদিনো ফিরায়ে দাওনি কংস দুর্যোধনের রথ।
    		হরি! তুমি যদি নাহি ডাক আগে
    		তাহার কি কভু হরি-প্রেম জাগে?
    না শুনিয়া বাঁশি ব্রজবাসিনীরা যেত কি যমুনার জলে।।
    
  • তব মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি গো

    বাণী

    তব মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি গো সকল ফুলের মুখে
    ফুল ঝ'রে যায় তব স্মৃতি জাগে কাঁটার মতন বুকে।।
    	তব প্রিয় নাম ধ'রে ডাকি
    	ফুল সাড়া দেয় মেলি' আঁখি
    তোমার নয়ন ফুটিল না হায় ফুলের মতন সুখে।।
    তোমার বিরহে আমার ভুবনে ওঠে রোদনের বাণী,
    কানাকানি করে চাঁদ ও তারায় জানি গো তোমারে জানি।
    	খুঁজি বিজলি প্রদীপ জ্বেলে'
    	কাঁদি ঝঞ্ঝার পাখা মেলে'
    অন্ধ-গগনে আঁধার মেঘের ঢেউ ওঠে মোর দুখে।।
    

  • তুই কালি মেখে জ্যোতি ঢেকে

    বাণী

    তুই কালি মেখে জ্যোতি ঢেকে পারবি না মা ফাঁকি দিতে।
    ঐ অসীম আঁধার হয় যে উজল মা, তোর ঈষৎ চাহনিতে।।
    		মায়ের কালি মাখা কোলে
    		শিশু কি মা, যেতে ভোলে?
    আমি দেখেছি যে, বিপুল স্নেহের সাগর দোলে তোর আঁখিতে।।
    কেন আমায় দেখাস মা ভয় খড়গ নিয়ে, মুন্ডু নিয়ে?
    আমি কি তোর সেই সন্তান ভুলাবি মা ভয় দেখিয়ে।
    		তোর সংসার কাজে শ্যামা,
    		বাধা আমি হব না মা,
    মায়ার বাঁধন খুলে দে মা ব্রহ্মময়ী রূপ দেখিতে।।
    
  • তুই কে ছিলি তাই বল

    বাণী

    তুই কে ছিলি তাই বল?
    কোন কাননের পুষ্পরানী কোন সরসীর জল।।
    তুই কি ছিলি কবিতা আর আমি চরণ তা'রি
    তুই কি ছিলি পিয়াসি শুক আমি আতুর সারী
    তুই কি দুঃখী দুয়োরানী আমি চোখের জল।।
    	কোন বরষার সিক্ত প্রাতে
    	কোন শরতের জোছনা রাতে
    কোন জগতের অরুণ ঊষার প্রথম দেখা বল।।
    নতুন মোদের নতুন ক'রে পরিচয়ের পালা
    কন্ঠে মোদের মিলন-বাণী হাতে মিলন-মালা
    মোরা এক বিরহীর দু'টি চোখের ঝরা দু'টি মুক্তাফল।।
    
  • তুই মা হ’বি না মেয়ে হ’বি দে মা উমা ব’লে

    বাণী

    (তুই) মা হ’বি না মেয়ে হ’বি দে মা উমা ব’লে
    তুই আমারে কোল্‌ দিবি, না আমিই নেব কোলে।।
    	মা হয়ে তুই মা গো আমার,
    	নিবি কি মোর সংসার-ভার।
    দিন ফুরালে আসব ছুটে, মা তোর চরণ-তলে।
    (তুই) মুছিয়ে দিবি দুঃখ-জ্বালা, তোর স্নেহ-অঞ্চলে।।
    এক হাতে মোর পূজার থালা ভক্তি-শতদল।
    (ও মা) আর এক হাতে ক্ষীর নবনী, কি নিবি তুই বল্।
    		ওমা কি নিবি তুই বল্।
    	মেয়ে হ’য়ে মুক্ত কেশে,
    	খেল্‌বি ঘরে হেসে হেসে,
    ডাকলে মা তুই ছুটে এসে, জড়াবি মোর গলে।
    (তোরে) বক্ষে ধ’রে শিব-লোকে যাব আমি চলে।।
    
  • তুমি আমায় যবে জাগাও গুণী

    বাণী

    তুমি	আমায় যবে জাগাও গুণী তোমার উদার সঙ্গীতে
    মোর	হাত দু'টি হয় লীলায়িত নমস্কারের ভঙ্গিতে।।
    	সিন্ধু জলের জোয়ার সম, ছন্দ নামে অঙ্গে মম
    	রূপ হলো মোর নিরুপম তোমার প্রেমের সুরের অমৃতে।।
    	আমার আঁখির পল্লবদল উদাস অশ্রুভারে,
    	ভোরের করুণ তারা মতো কাপেঁ বারেবারে।
    	আনন্দে ধীর বসুন্ধরা, হলো চপল নৃত্যপরা
    	ঝরে রঙের পাগল ঝোরা তোমার চরণ রঞ্জিতে।।
    

  • তুমি আমার সকাল বেলার সুর

    বাণী

    তুমি আমার সকালবেলার সুর
    হৃদয় অলস–উদাস–করা অশ্রু ভারাতুর।।
    ভোরের তারার মত তোমার সজল চাওয়ায়,
    ভালোবাসার চেয়ে সে যে কান্না পাওয়ায়
    রাত্রি–শেষের চাঁদ তুমি গো বিদায়–বিধুর।।
    তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
    শিশির–নাওয়া শুভ্র–শুচি পূজারিণীর তুল।
    অরুণ তুমি, তরুণ তুমি, করুণ তারো চেয়ে
    হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ–লোকের মেয়ে
    তুমিইন্দ্র–সভার মৌন–বীণা নীরব নূপুর।।
    
  • তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি

    বাণী

    তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
    তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
    হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
    গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
    বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
    আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
    ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
    বন্ধু, ওগো বন্ধু;
    তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।
    
  • তুমি আরেকটি দিন থাকো

    বাণী

    তুমি		আরেকটি দিন থাকো।
    		হে চঞ্চল, যাবার আগে মোর মিনতি রাখো।।
    আমি		ভালো ছিলাম ভুলে’ একা
    		কেন নিঠুর দিলে দেখা,
    তুমি		ঝরা-ফুলে গাঁথ্‌লে মালা গলায় দিলে না কো।।
    তোমার	কাজের মাঝে আমায় ভোলা সহজ হবে, স্বামী!
    		কেমন ক’রে এক্‌লা ঘরে থাক্‌বো ভুলে আমি।
    		নিবু নিবু প্রদীপ আশার
    তুমি		জ্বালিয়ে দিলে যদি আবার —
    প্রিয়		নিভ্‌তে তারে দিও না আর আদর দিয়ে রাখো।।
    
  • তুমি কি আসিবে না

    বাণী

    তুমি কি আসিবে না
    বলেছিলে তুমি আসিবে আবার ফুটিবে যবে হেনা।।
    	সেদিন ঘুমায়ে ছিল যে মূকুল
    	আজি সে পূর্ণ বিকশিত ফুল
    সেদিনের ভীরু অচেনা হৃদয় আজি হতে চায় চেনা।।
    ঘন পল্লব গুণ্ঠন ঢাকা ছিল সেদিন যে লতা
    আজিকে পুষ্প নিবেদন ল’য়ে কহিতে চায় যে কথা।
    	প্রদীপ জ্বালায়ে আজি সন্ধ্যায়
    	পথ চেয়ে আছি তোমারি আশায়
    পূর্ণিমা-তিথি আসিল, হে চাঁদ-অতিথি আসিলে না।।
    

  • তুমি কেন এলে পথে

    বাণী

    তুমি কেন এলে পথে
    ঝরা মল্লিকা ভাসাইতেছিনু
    	একাকিনী নদী-স্রোতে।।
    কলসি আমার অলস খেলায়
    ধীর তরঙ্গে যদি ভেসে' যায়
    তীরে সে কলসি তুলে' আনো তুমি
    	কেন নদী' জল হ'তে।।
    আমার নিরালা বনে
    আমি গাঁথি হার, তুমি গান গাহি'
    	ধ্যান ভাঙো অকারণে।
    আমি মুখ হেরি' আরশিতে একা
    তুমি সে মুকুরে কেন দাও দেখা
    	বাতায়নে চাহি' তুমি কেন হাসো
    	আসিয়া চাঁদের রথে।।
    

  • তুমি দুখের বেশে এলে বলে

    বাণী

    তুমি দুখের বেশে এলে বলে ভয় করি কি হরি।
    দাও ব্যথা যতই তোমায় ততই নিবিড় করে ধরি।
    			আমি ভয় করি কি হরি।।
    	আমি শূন্য করে তোমার ঝুলি
    	দুঃখ নেব বক্ষে তুলি,
    আমি করব দুঃখের অবসান আজ সকল দুঃখ বরি।।
    	কত সে মন কত কিছুই
    	হজম করে ফেলি নিতুই,
    এক মনই তো দুঃখ দেবে তারে নাহি ডরি।।
    	তুমি তুলে দিয়ে সুখের দেয়াল,
    	ছিলে আমার প্রাণের আড়াল,
    আজ আড়াল ভেঙে দাঁড়ালে মোর সকল শূন্য হরি।।
    
  • তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম

    বাণী

    তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম —
    মোর সাধ যায় হরি আমি যদি সেই কিশোরী হইতাম।।
    	সেই প্রেম মোরে দাও গো শ্রী হরি,
    	যে প্রেমে নেমে আস রূপ ধরি',
    যে প্রেমে কাঁদো যমুনার তীরে তুমি লয়ে 'রাধা রাধা' নাম।।
    সেই প্রেম দাও যে প্রেমে ভোল তুমি হে শ্রী ভগবান,
    রাধার দুয়ারে ভিক্ষা চাহিয়া নিতি সহ অপমান।
    	মোর আঁখি হয়ে উঠুক কমল,
    	দাও প্রিয় মোরে সেই আঁখিজল;
    দাও সে বিরহ যে বিরহে এই ধরা হয় ব্রজধাম।।