বাণী

ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি
সাঝেঁর বেলা এলে কানন-বীথি।।
চোখে কি মায়া ফেলেছে ছায়া
যৌবন মদির দোদুল কায়া
তোমার ছোঁয়ায় নাচন লাগে দখিন হাওয়ায়
লাগে চাদেঁর স্বপন বকুল চাঁপায়,
কোয়েলিয়া কুহরে কু কু গীতি।।

বাণী

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
		মেঘলা সকাল বেলা।
বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
		মেঘলা সকাল বেলা।।
	কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
	বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
ব'সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প'রে
খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।

বাণী

ঝুমকো-লতার চিকন পাতায়
হেরেছি তোমার লাবনি প্রিয়া।
মহুয়া-ফুলের মদির গন্ধে
তোমারই মুখ-মদের অমিয়া।।
শুকতারায় তব নয়নের মায়া,
তমাল-বনে তারি স্নিগ্ধ-ঘন-ছায়া।
তাল পিয়ালে হেরি দীঘল তনু তব,
ইহুদী দুল্ দুলে শশী-লেখায় নব।।
ডালিম-দানাতে তব গালের লালী,
তোমারি সুরে গাহে পিয়া-পাপিয়া।।

বাণী

ঝুমঝুম ঝুমরা নাচ নেচে কে এলো গো সই লো দেখে আয়।
বৈঁচি বনে বিরহে বাউরি বাতাস বহে এলোমেলো গো।।
আঁড়বাঁশি বাজায় আড়চোখে তাকায়
তীর হানার ভঙ্গিতে ধনুক বাঁকায়
নন্দন পাহাড়ে তাহারে দেখে চাঁদ আঁউরে গেল গো।।
ঝাঁকড়া চুলের পাশে টুলটুলে চোখ হাসে কতই ছলে
মোরলা মাছ যেন খেলে বেড়ায় গো কালো জলে।
মৌটুসির মো ফেলে ভোমরা রয় তাকিয়ে
গুরুজনের মত বটের তরু দাঁড়িয়ে জট পাকিয়ে
আমলকি গাছের আড়ালে লুকিয়ে দেখি, দেখতে কি তা পেল গো (সে)।।

নাটিকাঃ‘অর্জুন বিজয়’

বাণী

ঝুলনের এই মধু লগনে।
মেঘ দোলায় দোলে; দোলে রে বাদল গগনে।।
উদাসী বাঁশির সুরে ডাকে শ্যামরায়,
ব্রজের ঝিয়ারি আয়, পরি নীল শাড়ি আয়,
নীল কমল কুঁড়ি দোলায়ে শ্রবণে।।
বাঁশির কিশোর ব্রজগোপী চিতচোর,
অনুরাগে ডাকে আয় দুলিবি কে ঝুলনে।।
মেঘ মৃদং বাজে, বাজে কী ছন্দে,
রিমঝিম বারিধারা ঝরে আনন্দে।
বুঝি এলো গোকুল ব্রজে নেমে
কৃষ্ণ রাখাল প্রেমে শুনি বাঁশি তায়
ফোটে হাসি গোপীজন আননে।।

বাণী

ঝর ঝর বারি ঝরে অম্বর ব্যাপিয়া
এসো এসো মেঘমালা প্রিয়া প্রিয়া।।
দূরে থেকো না এই শ্রাবণ নিশীথে
কাঁদে তব তরে পিয়াসি হিয়া।।
বিজলি খুঁজে ফেরে সুদূর আকাশে
হৃদয়ে কাঁদে প্রেম পাপিয়া পিয়া।।