পিলু

  • অচেনা সুরে অজানা পথিক

    বাণী

    অচেনা সুরে অজানা পথিক
    		নিতি গেয়ে যায় করুণ গীতি।
    শুনিয়া সে গান দু’লে ওঠে প্রাণ
    		জেগে ওঠে কোন্ হারানো স্মৃতি॥
    ঘুরিয়া মরে উদাসী সে সুর
    সাঁঝের কূলে বিষাদ-বিধুর,
    নীড়ে যেতে হায় পাখি ফিরে চায়,
    		আবেশে ঝিমায় কুসুম-বীথি॥
    
  • আজ শেফালির গায়ে হলুদ

    বাণী

    আজ শেফালির গায়ে হলুদ
    	উলু দেয় পিক পাপিয়া।
    প্রথম প্রণয়-ভীরু বালা
    	লাজে ওঠে কাঁপিয়া।।
    বনভূমি বাসর সাজায়
    	ফুলে পাতায় লালে নীলে,
    ঝরে শিশির আশিস-বারি
    	গগন-ঝারি ছাপিয়া।।
    বৃষ্টি-ধোওয়া সবুজ পাতার
    	শাড়ি করে ঝলমল,
    ননদিনী ‘বৌ কথা কও’
    	ডাকে আড়াল থাকিয়া।।
    দেখতে এলো দিগ্‌বালিকা	
    	সাদা মেঘের রথে ঐ,
    শরৎ-শশীর মঙ্গল-দীপ
    	জ্বলে গগন ব্যাপিয়া।।
    অতীত্ প্রণয়-স্মৃতি স্মরি’
    	কেঁদে যায় আশিন-হাওয়া,
    উড়ে বেড়ায় বর সে ভ্রমর
    	কমল-পরাগ মাখিয়া।।
    
  • আসে রজনী সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে

    বাণী

    আসে রজনী, সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে
    ছায়া-আঁচল-ঢাকা কানন-তলে।।
    তিমির দু’ কূল দুলে গগনে, গোধূলি-ধূসর সাঁঝ-পবনে
    তারার মানিক অলকে ঝলে।।
    পূজা আরতি লয়ে চাঁদের থালায়
    আসিল সে অস্ত-তোরণ নিরালায়।
    ললাটের টিপ্‌ জ্বলে সন্ধ্যা-তারা
    গিরি-দরি বনে ফেরে আপন-হারা
    থামে ধীরে ধীরে বিরহীর নয়ন-জলে।।
    
  • এসো বসন্তের রাজা হে আমার

    বাণী

    এসো বসন্তের রাজা হে আমার
    এসো এ যৌবন-বাসর-সভাতে।।
    ফুলের দরবারে পাখির জলসাতে
    বুকের অঞ্চল-সিংহাসনে মম
    বসো আমার চাঁদ চাঁদনি রাতে।।
    রূপের দীপালি মোর জ্বলবে তোমায় ঘিরে বঁধূ,
    পিয়াব তোমায় পিয়া কানে-কানে কথার মধু।
    বন-কুসুমের মালা দিব বাহুর মালার সাথে
    চরণে হব দাসী বন্ধু হব দুখ রাতে।।
    
  • ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ

    বাণী

    ও		মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
    তুই		আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্‌ আসমানি তাগিদ।।
    তোর		সোনা–দানা বালাখানা সব রাহেলিল্লাহ্‌।
    দে		জাকাত মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিদ্‌।।
    আজ		পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে।
    যে		ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।।
    আজ		ভুলে যা তোর দোস্ত ও দুশমন হাত মিলাও হাতে।
    তোর		প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।।
    ঢাল		হৃদয়ের তোর তশ্‌তরিতে শির্‌নি তৌহিদের।
    তোর		দাওয়াত কবুল করবে হজরত হয় মনে উম্মীদ।।
    
  • কুল রাখ না–রাখ সে তুমি জান

    বাণী

    কুল রাখ না–রাখ সে তুমি জান।
    গোকুলে তোমার কাজ কুল ভোলানো।।
    মহতের পিরিতি বালির বাঁধ সম।
    কভু হাতে দাও দড়ি কভু চাঁদ আন।।
    কভু তুমি রাধার, চন্দ্রাবলীর কভু
    তুমি যখন যা’র তখন তা’র দিকে টান।
    রাজার অপরাধের নালিশ কোথায় করি।
    তুমি জান শুধু বাঁশিতে মন–ভেজানো।।
    
  • কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি

    বাণী

    কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি
    কি যাচে ও আঁখি বুঝিতে যে নারি॥
    হৃদি প্রাণ মন বিভব রতন
    ডারিনু চরণে লহ পথচারী॥
    দুয়ারে মোর নিতি গেয়ে যায় যে গীতি
    নিশিদিন বুকে বেঁধে তারি স্মুতি।
    কি দিয়ে এ ব্যথা নিবারিতে পারি॥
    মিলন বিরহ যা চাও প্রিয় লহ
    দাও ভিখারিনী বেশ দাও ব্যথা অসহ
    মোর নয়নে দাও তব নয়ন বারি॥
    

    নাটকঃ ‘আলেয়া’

  • কোথা চাঁদ আমার

    বাণী

    		কোথা চাঁদ আমার!
    		নিখিল ভুবন মোর ঘিরিল আঁধার।।
    ওগো		বন্ধু আমার, হ’তে কুসুম যদি,
    		রাখিতাম কেশে তুলি’ নিরবধি।
    		রাখিতাম বুকে চাপি’ হ’তে যদি হার।।
    আমার		উদয়-তারার শাড়ি ছিঁড়েছে কবে,
    		কামরাঙা শাঁখা আর হাতে কি রবে।
    		ফিরে এসো, খোলা আজো দখিন-দুয়ার।।
    
  • গহীন রাতে ঘুম কে এলে ভাঙাতে

    বাণী

    গহীন রাতে ঘুম কে এলে ভাঙাতে
    ফুল-হার পরায়ে গলে দিলে জল নয়ন-পাতে।।
    	যে জ্বালা পেনু জীবনে
    	ভুলেছি রাতে স্বপনে
    কে তুমি এসে গোপনে ছুঁইলে সে বেদনাতে।।
    	যবে কেঁদেছি একাকী
    	কেন মুছালে না আঁখি
    নিশি আর নাহি বাকি, বাসি ফুল ঝরিবে প্রাতে।।
    

  • ছাড় ছাড় আঁচল বঁধু

    বাণী

    ছাড় ছাড় আঁচল, বঁধু, যেতে দাও।
    বনমালী, এমনি ক’রে মন ভোলাও।।
    একা পথে দুপুর বেলা, নিরদয়, একি খেলা।
    তুমি এমনি করে মায়া-জাল বিছাও।।
    পথে দিয়ে বাধা, একি প্রেম সাধা,
    আমি নহি তো রাধা, বঁধু, ফিরে যাও।।
    হে নিখিল নর-নারী, তোমার প্রেম-ভিখারি
    লীলা বুঝিতে নারি তব শ্যাম রাও।।
    
  • ঝুলনের এই মধু লগনে

    বাণী

    ঝুলনের এই মধু লগনে।
    মেঘ দোলায় দোলে; দোলে রে বাদল গগনে।।
    উদাসী বাঁশির সুরে ডাকে শ্যামরায়,
    ব্রজের ঝিয়ারি আয়, পরি নীল শাড়ি আয়,
    নীল কমল কুঁড়ি দোলায়ে শ্রবণে।।
    বাঁশির কিশোর ব্রজগোপী চিতচোর,
    অনুরাগে ডাকে আয় দুলিবি কে ঝুলনে।।
    মেঘ মৃদং বাজে, বাজে কী ছন্দে,
    রিমঝিম বারিধারা ঝরে আনন্দে।
    বুঝি এলো গোকুল ব্রজে নেমে
    কৃষ্ণ রাখাল প্রেমে শুনি বাঁশি তায়
    ফোটে হাসি গোপীজন আননে।।
    
  • পরান-প্রিয় কেন এলে অবেলায়

    বাণী

    পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়
    শীতল হিমেল বায়ে ফুল ঝ’রে যায়।।
    	সেদিনও সকাল বেলা
    	খেলেছি কুসুম–খেলা,
    আজি যে কাঁদি একেলা ভাঙ্গা এ মেলায়।।
    
  • পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে

    বাণী

    পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।
    ‘পিউ পিউ পিউ কাঁহা’ পাপিয়া পিয়া বোলে।।
    সে পিয়া পিয়া সুরে বাদল ঝুরে, নদী-তরঙ্গ দোলে।
    কূলে কূলে কুলু কুলু নদী-তরঙ্গ দোলে।
    ফুটিল দল মেলি’ কেতকী, বেলি, শিখী পেখম খোলে।
    দু’লে দু’লে দু’লে নেচে’ শিখী পেখম খোলে।।
    পিয়ায় যা’রা নাহি পেল হেথায়, তাহারা কি
    এসেছে ধরায় পুন হইয়া পাপিয়া পাখি?
    দেখিয়া ঘরে ঘরে তরুণীর কালো আঁখি
    ‘পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা’ আজিও উঠিছে ডাকি’!
    পিয়া পাপিয়া পিয়া বোলে।।
    
  • প্রিয় তুমি কোথায় আজি কত সে দূর

    বাণী

    প্রিয়	তুমি কোথায় আজি কত সে দূর।
    প্রাণ	কাঁদে ব্যথায় বিরহ-বিধুর।।
    	স্বপন-কুমারী, স্বপনে এসে
    	মিশাইলে কোন্ ঘুমের দেশে
    	তড়িত-শিখা ক্ষণিক হেসে
    	লুকালে মেঘে আঁধারি’ হৃদি-পুর।।
    	আপনা নিয়ে ছিনু একেলা
    	কোন্ সে কূলে ভিড়ালে ভেলা
    	জীবন নিয়ে মরণ-খেলা
    	খেলিতে কেন আসিলে নিঠুর।।
    	ঊষার গাঙে গাহন করি’
    	দাঁড়ালে নভে রঙের পরী
    	প্রেমের অরুণ উদিল যবে
    	মিশালে নভে, হে লীল-চতুর।।
    
  • ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায়

    বাণী

    ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায় জ্বলিতে আসে।
    যে-দীপশিখায় পুড়িয়া মরে পতঙ্গ ঘোরে তাহারি পাশে।।
    অথই দুখের পাথার-জলে, সুখের রাঙা কমল দোলে
    কূলের পথিক হারায় দিশা দিবস নিশা তাহারি বাসে।।
    সুখের আশায় মেশায় ওরা বুকের সুধায় চোখের সলিল
    মণির মোহে জীবন-দহে বিষের ফণির গরল-শ্বাসে।
    বুকের পিয়ায় পেয়ে হিয়ায় কাঁদে পথের পিয়া লাগি’
    নিতুই নূতন স্বর্গ মাগি’ নিতুই নয়ন জলে ভাসে।।
    

  • ভুলি কেমনে আজো যে মনে

    বাণী

    ভুলি কেমনে	আজো যে মনে
    বেদনা-সনে	রহিল আঁকা।
    আজ সজনী	দিন রজনী
    সে বিনে গনি	সকলি ফাঁকা।।
    আগে মন		করলে চুরি
    মর্মে শেষে		হানলে ছুরি
    এত শঠতা		এত যে ব্যথা
    তবু যেন তা	মধুতে মাখা।।
    চকোরী		দেখলে চাঁদে
    দূর থেকে সই	আজো কাঁদে
    আজো বাদলে	ঝুলন ঝুলে
    তেমনি জলে	চলে বলাকা।।
    বকুলের		তলায় দোদুল
    কাজলা মেয়ে	কুড়োয় লো ফুল
    চলে নাগরী	কাঁখে গাগরি
    চরণ ভারি		কোমর বাঁকা।।
    ডালে তোর	করলে আঘাত
    দিস্ রে কবি	ফুল সওগাত
    ব্যথা-মুকুলে	অলি না ছুঁলে
    বনে কি দুলে	ফুল-পতাকা।।
    
  • যমুনা-সিনানে চলে তন্বী

    বাণী

    যমুনা-সিনানে চলে তন্বী মরাল-গামিনী।
    লুটায়ে লুটায়ে পড়ে পায়ে বকুল কামিনী।।
    	মধু বায়ে অঞ্চল
    	দোলে অতি চঞ্চল,
    কালো কেশে আলো মেখে খেলিছে মেঘ দামিনী।।
    	তাহারি পরশ চাহি’
    	তটিনী চলেছে বাহি,’
    তনুর তীর্থে তারি আসে দিবা ও যামিনী।।
    
  • যাবি কে মদিনায় আয়

    বাণী

    যাবি কে মদিনায় আয় ত্বরা করি'।
    তোর খেয়া ঘাটে এলো পুণ্য তরী।।
    আবুবকর, উমর খাত্তাব, উসমান, আলী হায়দর
    দাঁড়ি এ সোনার তরণীর, পাপী সব নাই নাই আর ডর।
    এ তরীর কাণ্ডারি আহমদ, পাকা সব মাঝি ও মাল্লা,
    মাঝিদের মুখে সারিগান শোন ঐ 'লা শরীক আল্লাহ'।
    পাপ-দরিয়ার তুফানে আর নাহি ডরি।।
    ঈমানের পারানি কড়ি আছে যার আয় এ সোনার নায় —
    ধরিয়া দ্বীনের রশি কলেমার জাহাজ-ঘাটায়।
    ফিরদাউস হ’তে ডাকে হুরী-পরী।।
    
  • যেদিন লব বিদায়

    বাণী

    		যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে।
    		ধুয়ো ‘লাশ’ আমার লাল পানি দিয়ে।।
    শেয়র:	শারাবী জমশেদী গজল ‘জানাজায়’ গাহিও আমার
    		দিবে গোর খুঁড়িয়া মাটি খারারী ঐ শারাব-খানার!
    		‘রোজ-কিয়ামতে’ তাজা উঠব জিয়ে।।
    শেয়র:	এমনি পিইব শারাব ভেসে যাব তাহার স্রোতে,
    		উঠিবে খুশবু শারাবের আমার ঐ গোরের পার হতে;
    		টলি’ পড়বে পথিক সে নেশায় ঝিমিয়ে।।
    
  • রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া

    বাণী

    রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া।
    শুনি’		শিহরে কদম, বিদরে কেয়া।।
    			ঝিলে শাপলা কমল
    			ওই মলিল দল,
    		মেঘ-অন্ধ গগন, বন্ধ খেয়া।।
    		বারি-ধারে কাঁদে চারিধার
    		ঘরে ঘরে রুদ্ধ দুয়ার,
    		তেপান্তরে নাচে একা আলেয়া।।
    কাঁদে 	চখাচখি, কাঁদে বনে কেকা
    		দীপ নিভায়ে কাঁদি আমি একা,
    আজ 		মনে পড়ে সেই মন দেয়া-নেয়া।।