বাণী

সখি সাপের মণি বুকে করে কেঁদে নিশি যায়
কাল-নাগিনী ননদিনী দেখতে পাছে পায় (লো সখি)।।
	সই প্রানের গোপন কথা মম
	পিঞ্জরেরি পাখির সম
পাখা ঝাপটিয়া কাঁদে বাহির হতে চায়।।
পাড়ার বৌ-ঝি যদি জলের ঘাটে কানে কথা কয়
আমার কথাই কইলো বুঝি মনে জাগে ভয় (সখি)
আমি চাইতে নারি চোখে চোখে
পাছে মনের কথা জানে লোকে।
	আমার একি হলো দায়
	সখি লুকানো না যায়
সখি কাঙাল যেমন পেয়ে রতন থুইতে ঠাঁই না পায়।।

বাণী

সজল-কাজল-শ্যামল এসো তমাল-কানন-ঘেরি,
কদম-তমাল-কানন ঘেরি।
মনের ময়ূর কলাপ মেলিয়া নাচুক তোমারে হেরি’।।
ফোটাও নীরস চিত্তে সরস মেঘমায়া,
আনো তৃষিত নয়নে মেঘল ছায়া,
বাজাও কিশোর বাঁশের বাঁশরি ব্যাকুল বিরহেরই।।
দাও পদরজঃ হে ব্রজবিহারী, মনের ব্রজধামে —
রুমু-ঝুমু ঝুমু বাজুক নূপুর চরণ ঘেরি,
কদম-তমাল-কানন ঘেরি।।

বাণী

সোনার মেয়ে! সোনার মেয়ে!
তোমার রূপের মায়ায় আমার নয়ন- ভুবন গেল ছেয়ে'।।
	ঝরে তোমার রূপের ধারা—
	চন্দ্র জাগে তন্দ্রাহারা,
আকাশ-ভরা হাজার তারা তোমার মুখে আছে চেয়ে'।।
	কোন গ্রহ-লোক ব্যথায় ভ'রে
	কোন অমরা শূন্য ক'রে
(ওগো) রাখলে চরণ ধরার পরে রঙ-সায়রের রঙের নেয়ে।
	শিল্পী আকেঁ তোমার ছবি
	তোমারি গান গাহে কবি
নিশীথিনী হারিয়ে রবি চাঁদ হাতে পায় তোমায় পেয়ে।।

বাণী

স্ত্রী	:	সই কই লো আমার ঘর নিকোবার ন্যাতা।
পুরুষ	:	আহা ন্যাতা নয় গো শীতের কাঁথা এই যে আমি হেথা॥
স্ত্রী	:	সই-লো ওলো সই, আমার ছাই ফ্যালবার ভাঙাদ কুলো কই ?
পুরুষ	:	কুলোর বাতাস চুলোর ছাই
		স্বামী বলো কিম্বা ভাই, (ওলো) এই যে তোমার আমি।
উভয়ে	:	মিলেছি রাজ যোটক দুয়ে
পুরুষ	:	গিঁটে বাত ওরে বাবা রে বাবা গিঁটে বাত
স্ত্রী	:	আর ফিকের ব্যথা, ওরে মা রে, মা আর ফিকের ব্যথা॥
		ওলো সই বাপের বাড়ি যাব আমি এ ঘরে রব না,
পুরুষ	:	দেখো পুরুষের রাগ করে আনাগোনা
		আমিও যাব শ্বশুর বাড়ি, ওরে রেমো নিয়ে আয় ব্যাগ ছাতা।
উভয়ে	:	নথে এবং নাথে এম্‌নি যুদ্ধ।
পুরুষ	:	গুঁতোগুতি
স্ত্রী	:	জড়াজড়ি
পুরুষ	:	ছাতা-ছড়ি
স্ত্রী	:	খুনতি-বেড়ী
উভয়ে	:	হাতা॥

বাণী

		সাধ জাগে মনে পর-জীবনে
(আমি)	তব কপোলে যেন তিল হই।
		ভালবাসিয়া মোরে দিল্‌ দিবে তুমি
(যেন)		আমি তোমার মত বে-দিল্‌ হই।।
		মোর দেওয়া যে হার নিলে না অকরুণা
(যেন)		হয়ে সে হার তব বক্ষে রই।।
		যাহারে ভালবেসে তুমি চাহ না মোরে
		মরিয়া আসি যেন তাহারি রূপ ধ’রে
(তুমি)		হার মানিবে আমি হ’ব জয়ী।।
		হৃদি নিঙাড়ি মম আল্‌তা হব পায়ে
		অধরে হব হাসি রূপ-লাবনি গায়ে
		আমার যাহা কিছু তোমাতে হবে হারা
(প্রিয়)		তুমি জানিবে না আমা বৈ।।

বাণী

স্বপনেএসেছিল মৃদু-ভাষিণী
মৃদু-ভাষিণী মধু-হাসিনী।
রূপের তৃষা মোর রূপ ধ'রে এসেছিল
কল্পনা মনোবন-বাসিনী।।
যে পরম সুন্দর আছে মোর অন্তরে
তারি অভিসারে আসে উদাসিনী।।