দ্বৈত-সঙ্গীত

  • আবার শ্রাবণ এলো ফিরে

    বাণী

    দ্বৈত	:	আবার শ্রাবণ এলো ফিরে তেমনি ময়ুর ডাকে,
    		দোলনা কেন বাঁধলে না গো এবার কদম-শাখে।।
    স্ত্রী	:	সঙ্গে ল'য়ে গোপ-গোপীরে
    পুরুষ	:	ব্রজের কিশোর যাবে ফিরে
    দ্বৈত	:	লীলা-কিশোর শ্যাম যে লীলা-সাথীর সাথে থাকে।।
    দ্বৈত	:	দোলনা বেঁধে রইবো চেয়ে আমরা মেঘের পানে
    		আয় ওরে আয়, নির্জন বনকে জাগাই সেই কাজরি গানে গানে।
    স্ত্রী	:	বৃষ্টি ধারায় টাপুর টুপুর
    পুরুষ	:	শুনব তাহার পায়ের নূপুর
    দ্বৈত	:	বিজলিতে তার চপল চাওয়া দেখব মেঘের ফাঁকে।।
    
  • এলে তুমি কে কে ওগো

    বাণী

    পুরুষ	:	এলে তুমি কে, কে ওগো
    		তরুণা অরুণা করুণা সল চোখে।
    স্ত্রী	:	আমি তব মনের বনের পথে
    		ঝিরি ঝিরি গিরি-নির্ঝরিণী
    		আমি যৌবন-উন্মনা হরিণী মানসলোকে।।
    পুরুষ	:	ভেসে যাওয়া মেঘের সজল ছায়া
    		ক্ষণিক মায়া তুমি প্রিয়া
    		স্বপনে আসি' বাজায়ে বাঁশি স্বপনে যাও মিশাইয়া।
    স্ত্রী	:	বাহুর বাঁধনে দিই না ধরা —
    		আমি স্বপন-স্বয়ম্বরা
    		সঙ্গীতে জাগাই ইঙ্গিতে ফোটাই
    		তোমার প্রেমের যুঁই-কোরকে।
    পুরুষ	:	আধেক প্রকাশ 
    স্ত্রী	:	আধেক গোপন
    পুরুষ	:	আধো জাগরণ 
    স্ত্রী	:	আধেক স্বপন
    উভয়ে	:	খেলিব খেলা ছায়া-আলোকে।।
    
  • এস হে সজল শ্যাম ঘন দেয়া

    বাণী

    এসো হে সজল শ্যাম-ঘন দেয়া 
    বেণু-কুঞ্জ-ছায়ায় এসো তাল-তমাল বনে 
    এসো শ্যামল ফুটাইয়া যূথী কুন্দ নীপ কেয়া।। 
    বারিধারে এসো চারিধার ভাসায়ে 
    বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দশদিক হাসায়ে 
    বিরহী মনে জ্বালায়ে আশার আলেয়া 
    ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 
    শ্রাবণ বরিষণ হরষণ ঘনায়ে 
    এসো নব ঘন শ্যাম নূপুর শুনায়ে। 
    হিজল তমাল ডালে ঝুলন ঝুলায়ে 
    তাপিতা ধরার চোখে অঞ্জন বুলায়ে 
    যমুনা স্রোতে ভাসায়ে প্রেমের খেয়া 
    ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 
    
  • ও শাপ্‌লা ফুল নেবো না

    বাণী

    মেয়েঃ	ও শাপ্‌লা ফুল নেবো না বাবলা ফুল এনে দে
    		নইলে দেবো না বাঁশি ফিরিয়ে।
    ছেলেঃ	খুলে বেণীর বিনুনী, খোঁপার চিরুনি
    		হাতে দে, যাব খানিক জিরিয়ে।
    মেয়েঃ	বন-পায়রার পালক দে কুড়িয়ে,
    ছেলেঃ	তোর চোখের চাওয়া পায়রা দিল উড়িয়ে,
    দুজনেঃ	মোদের ঝগড়া দেখে হালকা হাওয়া বহে ঝিরঝিরিয়ে।
    ছেলেঃ	তোর জোড়া ভুরু-ধনুক মোর নাসিকা বাঁশি লো
    মেয়েঃ	চাঁদের চেয়ে ভালো লাগে
    		কালো রূপের হাসি রে তোর কালো রূপের হাসি
    ছেলেঃ	ওই কালো চোখের হাসি।
    মেয়েঃ	তুই যাদু করে মন দিলি দুলিয়ে
    দুজনেঃ	মোদের কথা শুনে শিরিষ পাতা ওঠে শিরশিরিয়ে॥
    

    সিনেমাঃ ‘অভিনয় নয়’

  • ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে

    বাণী

    দ্বৈত	:	ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে
    স্ত্রী	:	মধু মঞ্জির বোলে মণি কুন্তল দোলে
    পুরুষ	:	চন্দন লেখা শোভে চারুভালে॥
    স্ত্রী	:	রস যমুনায় জাগে ঢেউ উতরোল
    পুরুষ	:	ব্রজগোপিকার প্রাণে লাগে তারি হিল্লোল
    দ্বৈত	:	রাস পূর্ণিমা রাতে শিখী নাচে সাথে সাথে
    		ফুল দোলে কুঞ্জেরই বকুল ডালে॥
    স্ত্রী	:	নাচে নন্দ দুলাল বাজে মোহন বেণূ
    পুরুষ	:	অঙ্গের লাবনিতে আলো করে অবনিতে
    দ্বৈত	:	হাসিতে ঝরায় ফুল পরাগ রেণু।
    স্ত্রী	:	রাঙা পায়ে রুমুঝুমু বাজে মধুর
    পুরুষ	:	জীবন মরণ তার যুগল নূপুর
    দ্বৈত	:	মুগ্ধ তারকা শশী রাতের দেউলে বসি
    		আরতি প্রদীপ শিখা নিত্য জ্বালে॥
    
  • কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই

    বাণী

    উভয়ে : 	কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই সুদূর বিমানে আমরা দু’জনে।
    		কানন-কান্তর শিহরি’ ওঠে মোদের প্রণয়-মদির কূজনে।।
    স্ত্রী 	:	ভ্রমর গুঞ্জে মঞ্জুল গীতি, হেরিয়া আমার বঁধূর প্রীতি,
    পুরুষ :	আমার প্রিয়ার নয়নে চাহি’ কুসুম ফুটে ওঠে বিপিনে বিজনে।।
    স্ত্রী 	:	তোমা ছাড়া স্বর্গ চাহি না, প্রিয়!
    		মোদের প্রেমে চাঁদ আসে নেমে মাটির পাত্রে পান করি অমিয়।।
    পুরুষ :	বিশ্ব ভুলায়ে ও-রাঙা পায়ে আমারে বেঁধেছে জীবনে মরণে।।
    
  • কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে

    বাণী

    পুরুষ	:	কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে
    		বাজে বাজে লো ঘুঙুর কাহার পায়ে।
    স্ত্রী	:	হাতে তল্‌তা বাঁশের বাঁশি মুখে জংলা হাসি
    		কে ঐ বুনো গো বড়ায় আদুল গায়ে।।
    পুরুষ	:	তার ফিঙের মত এলোখোঁপায় ঝিঙেরি ফুল
    স্ত্রী	:	যেন কালো ভোম্‌রার গা কালার ঝামর চুল।
    দ্বৈত	:	ও যদি না হতো পর
    		দু’জনের হতো ঘর
    		একই গাঁয়ে গো।।
    পুরুষ	:	ওর বাঁকা ভঙ্গিমা দেখে
    		তৃতীয়ার চাঁদ ডেকে,
    		হতে চাহে ওর হাঁসুলি-হার।
    স্ত্রী	:	ঝিলের শঙ্খ ঝিনুক বলে
    		কিনুক বিনামূলে
    		আমরা হব কালার কণ্ঠেরই হার।
    পুরুষ	:	ও মেয়ে না পাহাড়ি-ঝর্নার সুর
    স্ত্রী	:	ও পুরুষ না কষ্টি পাথরের ঠাকুর
    দ্বৈত	:	যদি বাসত ভালো, যদি আসত কাছে
    		রাখতাম হিয়ায় লুকায়ে গো।।
    
  • কোথায় গেলে পেঁচা-মুখি একবার এসে খ্যাচ-খ্যাচাও

    বাণী

    পুরুষ	:	কোথায় গেলে পেঁচা-মুখি একবার এসে খ্যাচ-খ্যাচাও
    স্ত্রী	:	বলি, গাই-হারা বাছুরের মতন গোয়াল থেকে কে চ্যাঁচাও॥
    পুরুষ	:	(বলি ও শাকচুন্নি, আহাহাহা)
    		অমন শ্যাওড়া বৃক্ষ ফেলে, আমার ঘাড়ে কেন এলে গো, ও হো হো
    স্ত্রী	:	(বলি ও কালিয়া পেরেত)
    		তুমি উনুন-মুখো দেবতা যে তাই
    		ছাই-পাঁশের নৈবিদ্যি পাও।
    পুরুষ	:	(মরি অরি অরি অরি মরি, কি যে রূপের ছিরি, আহাহাহাহা)
    		চন্দ্র-বদন ন্যাপা পোছা
    		কুত্‌কুতে চোখ নাকটি বোঁচা গো, ও হো হো
    স্ত্রী	:	(বলি ও বেরসো কাট, বলি ও কেলো হুলো)
    		তুমি কাঁদলে চোখে কালি বোরোয় কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও
    		তুমি কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও।
    পুরুষ	:	বলি ও জুজুবুড়ি
    স্ত্রী	:	বলি ও ঝাঁকাভূঁড়ি
    পুরুষ	:	ও বাবা জুজু
    স্ত্রী	:	ও বাবা ঝাঁকা
    পুরুষ	:	আহা, চাম্‌চিকে ওই ডানা কাটা
    স্ত্রী	:	তুমি যেন পূজোর পাঁঠা
    পুরুষ	:	আহা, হার মেনে যায় হাঁড়ি চাঁছা প্রিয়ে যখন খ্যাচ-খ্যাচাও।
    স্ত্রী	:	(আ-মরি মরি, কি যে বচন সুধা)
    		পিঁপড়ে ধরবে ও প্রাণনাথ তুমি, শিগ্‌গির মুখে ফিনাল দাও॥
    
  • কোন্ ফুলেরি মালা দিই তোমার গলে

    বাণী

    পুরুষ	:	কোন্ ফুলেরি মালা দিই তোমার গলে লো প্রিয়া
    		বুলবুল গাহিয়া উঠে তব ফুলেল পরশ নিয়া॥
    স্ত্রী	:	হাতে দিও হেনার গুছি কেশে শিরিন ফুল।
    		কর্ণে দিও টগর কুঁড়ি অপ্‌রাজিতার দুল।
    		বুন্দকলির মালা দিও নাই পেলে বকুল
    		ফুলের সাথে হৃদয় দিতে হয় না যেন ভুল॥
    পুরুষ	:	কোন ভূষণে রানী ও রূপের করি আরতি
    		হয় সোনার বরণ মলিন হেরি তোমার রূপের জ্যোতি।
    স্ত্রী	:	তোমার বাহুর বাঁধন প্রিয় সেই তো গলার হার
    		হাতে দিও মিলন রাখি খুলবে না যা আর।
    		কানে দিও কানে কানে কথার দু’টি দুল
    		নিত্য নূতন ভূষণ দিও প্রেমের কামনার॥
    পুরুষ	:	কোন নামেতে ডাকি সাধ না মেটে কোনো নামে
    		তব নাম-গানে সব কবি হার মানে ধরাধামে।
    স্ত্রী	:	সুখের দিনে সখি ব’লো সেই তো মধুর নাম
    		দুখের দিনে বন্ধু ব’লে ডেকো অবিরাম।
    		নিরালাতে রানী বলো শ্রবণ অভিরাম
    		বুকে চেপে প্রিয়া ব’লো সেই তো আমার নাম॥
    

    নাটিকাঃ ‘বিয়ে বাড়ি’

  • কোন্ বিদেশের নাইয়া তুমি

    বাণী

    স্ত্রীঃ		কোন্ বিদেশের নাইয়া তুমি আইলা আমার গাঁও
    		কুল-বধূর সিনান ঘাটে বাঁধলে তোমার নাও॥
    পুরুষঃ		বাণিজ্যেরই লাইগ্যা কন্যা বেড়াই ভেসে স্রোতে
    		(ওগো) তোমার রূপের হাট দেখলাম যাইতে এই পথে।
    স্ত্রীঃ		বুঝি তাই বাঁশের বাঁশি, তাই দিয়ে কি হে বিদেশি
    		অমূল্য এই মনের মানিক, কিনতে তুমি চাও॥
    পুরুষঃ		তোমায় পাবো বলে আজো শূন্য আমার তরী (রে কন্যা)
    স্ত্রীঃ		অমন করে চাই ও না গো আমি ভয়ে মরি।
    পুরুষঃ		ভয়ে মরার চেয়ে কন্যা ডুবে মরা ভালো
    স্ত্রীঃ		আমার মন ডুবেছে দেখে তোমার নয়ন কাজল কালো (রে বন্ধু)
    উভয়েঃ	নূতন প্রেমের যাত্রী দু’জন ছোট্ট মোদের নাও
    		ওরে গহীন জলের আকুল জোয়ার অকূলে ভাসাও 
    		মোদের অকূলে ভাসাও॥
    
  • জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি

    বাণী

    পুরুষ	:	জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি
    		তব হাসি-কান্না চোখের দৃষ্টি
    		তারও চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি॥
    স্ত্রী	:	কান্না-মেশানো পান্না নেবো না, বঁধু।
    		এই পথেরই ধূলায় আমার মনের মধু
    		করে হীরা মানিক সৃষ্টি মিষ্টি আরো মিষ্টি॥
    পুরুষ	:	সোনার ফুলদানি কাঁদে লয়ে শূন্য হিয়া
    		এসো মধু-মঞ্জরি মোর! এসো প্রিয়া, প্রিয়া!
    স্ত্রী	:	কেন ডাকে বউ কথা কও, বউ কথা কও,
    		আমি পথের ভিখারিনী গো, নহি ঘরের বউ।
    		কেন রাজার দুলাল মাগে মাটির মউ।
    		বুকে আনে ঝড়, চোখে বৃষ্টি তার সকরুণ দৃষ্টি তবু মিষ্টি॥
    

    সিনেমাঃ চৌরঙ্গী

  • তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম

    বাণী

    স্ত্রী	:	তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম
    		চুপি চুপি আসিলে বাতায়নে।
    পুরুষ	:	তুমি কি গো বন-দেবী পুষ্প-শোভিতা
    		চেয়ে আছ কোন দূরে আনমনে।।
    স্ত্রী	:	তোমারে হেরিয়া ফোটে মালতী হেনা
    		হে চির চেনা
    পুরুষ	:	সুদুর বনান্তে সমীরণ হেরি' তোমায় হ'লো অধীর
    		পাপিয়া ডাকে বকুল বনে।।
    স্ত্রী	:	তব কলঙ্ক অধিক মধুর লাগে হে কলঙ্কী চাঁদ,
    		তোমারে হেরিয়া যত সাধ জাগে প্রাণে জাগে তত অবসাদ।
    পুরুষ	:	তোমার ছায়া প'ড়ে মোর আননে
    		কলঙ্কী নাম হলো মোর এই ভুবনে।
    উভয়ে	:	আকাশের চাঁদে কুমুদ ফুলে
    		মিলন হ'লো ধরার ভুলে
    		অশ্রুসায়রে সঙ্গোপনে।।
    

  • তুমি ফুল আমি সুতো গাঁথিব মালা

    বাণী

    পুরুষ	:	তুমি ফুল আমি সুতো গাঁথিব মালা
    স্ত্রী	:	সহিতে হবে মোরে সুচির জ্বালা॥
    পুরুষ	:	দুলিবে গলে মোর বুকের’ পরে
    স্ত্রী	:	ফেলে দিবে বাসি হলে নিশি-ভোরে
    		বন-কুসুম ঝরি বনে নিরালা॥
    পুরুষ	:	তব কুঞ্জ-গলি আসে দখিন-হাওয়া আসে চপল অলি
    স্ত্রী	:	তা’রা রূপ-পিয়াসি তা’রা ছিঁড়ে না কলি।
    		তা’রা বনের বাহিরে মোরে নেবে না কালা।
    পুরুষ	:	তবে চলিয়া যাই আমি নিরাশা ল’য়ে
    স্ত্রী	:	না, না, যেয়ো না যেয়ো না, থাক গো বুকে শিশির হয়ে।
    পুরুষ	:	এসো নব প্রেমে করি বন উজালা।
    দ্বৈত	:	এসো নব প্রেমে করি বন উজালা।
    
  • তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে

    বাণী

    স্ত্রী	:	তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে
    		ওগো অচেনা বিদেশি নেয়ে॥
    পুরুষ	:	যেতে এই পথে তরী বেয়ে
    		দেখি নদীর ধারে তোমায় বারে বারে
    		সজল কাজল বরণী মেয়ে॥
    স্ত্রী	:	তোমার তরণীর আসার আশায়
    		বসে থাকি কূলে কলস ভেসে যায়।
    পুরুষ	:	তুমি পরো যে শাড়ি ভিন গাঁয়ের নারী
    		আমি নাও বেয়ে যাই তারি সারি গান গেয়ে।
    স্ত্রী	:	গাগরির গলায় মালা জড়ায়ে
    		দিই তোমার তরে বঁধু স্রোতে ভাসায়ে॥
    পুরুষ	:	সেই মালা চাহি’, নিতি এই পথে গো
    		আমি তরী বাহি।
    উভয়ে	:	মোরা এক তরীতে একই নদীর স্রোতে
    		যাব অকূলে ধেয়ে॥
    
  • তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া

    বাণী

    পুরুষ	:	তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া।
    স্ত্রী	:	এসেছি তাই ফিরে পুন পথিকের প্রীতি নিয়া॥
    পুরুষ	:	তোমার নয়নে তাই চাহি ফিরে ফিরে,
    স্ত্রী	:	হের তব ছবি প্রিয় মোর আঁখি নীরে।
    উভয়ে	:	কত জনম শেষে এসেছি ধরণী তীরে
    		কার অভিশাপে ছিনু হায় চির পাশরিয়া॥
    স্ত্রী	:	আরো প্রিয় আরো হাতে এ নব বাসর রাতে,
    পুরুষ	:	যেয়ো না স্বপন সম মিশায়ে নিশীথ প্রাতে।
    স্ত্রী	:	তারার দীপালি জ্বলে হের গো গগন তলে
    পুরুষ	:	হের শুক্লা একাদশী চাঁদের তরণী দোলে,
    উভয়ে	:	মোদের মিলন হেরি নিখিল ওঠে দুলিয়া॥
    
  • ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়

    বাণী

    ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়।
    চলে নব অভিসারে, ভীরু কিশোরী,
    ওঠে পাতাটি নড়লে সে চম্‌কে।।
    হরিণ নয়নে সভয় চাহনি,
    আসিছে কে যেন দেখিবে এখনি
    পথে সে দেয় ফেলে মুখর নূপুর খুলে,
    আপন ছায়া হেরি ওঠে গা ছম্‌কে॥
    ‘চোখ গেল চোখ গেল’ ডাকে পাপিয়া
    শুনিয়া শরমে ওঠে কাঁপিয়া;
    হায়, যার লাগি এত, কোথায় সে
    ঝিল্লি-রবে ভাবে কেউ হবে
    বনে ফুল ঝরার আওয়াজে দাঁড়ায় সে থম্‌কে॥
    
  • নবীন বসন্তের রানী তুমি

    বাণী

    পুরুষ		: 	নবীন বসন্তের রানী তুমি গোলাব-ফুলী রঙ।
    স্ত্রী		: 	তব অনুরাগের রঙে আমি উঠিয়াছি আজ রেঙে
    						প্রিয় এই অপরূপ ঢঙ।।
    পুরুষ		: 	পলাশ কৃষ্ণচূড়ার কলি
    			রাঙা ও-পায়ে এলে কি দলি’?
    স্ত্রী		:	বেয়ে প্রেমের পথের গলি
    			এলাম কঠোর হৃদয় দলি’,
    			হের পায়ে তাহারি রঙ।।
    পুরুষ		:	হায়, হৃদয়-হীনা হৃদয়-সাথি হয় না তা জানি,
    			অবুঝ হৃদয় তবু চাহে তায় জানে সে-পাষাণী।
    স্ত্রী		:	ধরিয়া পায়ে প্রেম জানায়ে
    			যাও পালায়ে শেষে কাঁদায়ে
    			কাঁদাই যতই, কাঁদি যে ততই;
    পুরুষ		:	বায়ু কেঁদে যায় ফুল ঝরায়ে।
    স্ত্রী		:	না, না, যাও যাও মন চেয়ো না
    			গন্ধ লহ, ফুল চেয়ো না;
    			আছে কাঁটা ফুলের সঙ্গ।।
    উভয়ে		:	যাই চল সেই কাননে
    			নাই কাঁটা ফুলের সনে
    			যথা নাই বিরহ, শুধু মিলন।।
    
  • পরান হরিয়া ছিলে পাশরিয়া

    বাণী

    পুরুষ 	: 	পরান হরিয়া ছিলে পাশরিয়া
    			কেমনে প্রিয়া আনন্দে (হায়)।
    স্ত্রী 		: 	হায় ছিনু কি যেন স্বপনে মগ্না,
    পুরুষ 	: 	হায় আজি হবে কি এ কণ্ঠলগ্না,
    স্ত্রী 		: 	না — না — 
    পুরুষ	 	: 	হায় ফুল ফুটবে নাকি এ বসন্তে,
    স্ত্রী 		: 	না — না — 
    উভয়ে 	: 	হায় বাঁশরি বাজে ব্যাকুল ছন্দে,
    			ফুল জাগানো হাওয়ার সাথে।
    পুরুষ 	: 	মালঞ্চে পাপিয়া উঠিছে ডাকয়িা
    স্ত্রী 		: 	বিরহিণী হিয়া উঠিছে কাঁপিয়া,
    পুরুষ 	: 	হৃদয় চাপিয়া থেকো না আর
    			খোল গো মনের দ্বার
    স্ত্রী 		: 	মুখে আসে না বুকের ভাষা,
    			ওগো কেমনে জানাই ভালোবাসা 
    পুরুষ 	: 	প্রেমের দরিয়া ওঠে উছলিয়া
    স্ত্রী 		: 	কে করে সে-প্রেমের আশা
    পুরুষ 	: 	চাও — চাও — 
    স্ত্রী 		: 	যাও — যাও — 
    উভয়ে 	: 	খেলিব দুজনে মানে অভিমানে
    			এমনি মধুর দ্বন্দ্বে (হায়)।।
    
  • ফুল বীথি এলে অতিথি

    বাণী

    স্ত্রী:		ফুল বীথি এলে অতিথি
    		চম্পা মঞ্জরি-কুঞ্জে পড়ে ঝরি' চঞ্চল তব পায়।
    পুরুষ:	কুড়ায়ে সেই ঝরা ফুল, চাঁপার মুকুল
    		গেঁথেছি মোহন-মালিকা পরাব বলিয়া তোমার গলায়।।
    স্ত্রী:		হে রূপ-কুমার, সুন্দর প্রিয়তম
    		এলে যে ফিরিয়া দাসীরে স্মরিয়া জীবন সফল মম।
    পুরুষ:	পরো কুন্তলে ধরো অঞ্চলে
    		অমিলন প্রেম-পারিজাত,
    স্ত্রী:		কি হবে লয়ে সে ফুল-মালা যাহা নিশি ভোরে শুকায়।
    পুরুষ:	মোছ মোছ আঁখিধার লহ বাহুর হার ভোলে অতীত ব্যথায়।
    উভয়ে:	বিরহ অবসানে মিলন মধুর প্রিয়
    		এ মিলন নিশি যেন আর না পোহায়।।
    

  • বিদেশি অতিথি সিন্ধু পারে

    বাণী

    পুরুষ 	: 	বিদেশি অতিথি সিন্ধু পারে পথহারা ফিরি দ্বারে দ্বারে।
    স্ত্রী 		: 	বাইরে হিম ঝরে ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ বন্ধু এসো এপারে।।
    পুরুষ 	: 	তোমারে বুঝি না বুঝি বা আধেক
    স্ত্রী 		: 	নয়নের ভাষা বঁধু সব দেশে এক,
    পুরুষ 	: 	তুমি ঊষা, ল’য়ে তুষার কর খেলা — ভোরবেলা।
    স্ত্রী 		: 	পুবের তপন সম রাঙাও জীবন মম তোমার কিরণধারে।।
    পুরুষ 	: 	তব কণ্ঠে সুর শুনি হায় সকরুণ স্মৃতি জাগায়,
    স্ত্রী 		: 	বিদেশি চেরী-কুসুমের মালিকা লহ গলায়।
    উভয়ে	:	চল যাই যেথা নাই দেশের বন্ধন
    			নাহি গো ক্রন্দন,
    			নিরুদ্দেশের পথে প্রেম অভিসারে।।