বাণী

উঠুক তুফান পাপ-দরিয়ায় ওরে আমি কি তায় ভয় করি।
			ও ভাই আমি কি তায় ভয় করি।
পাক্কা ঈমান তক্তা দিয়ে গড়া যে আমার তরী।
			ও ভাই গড়া যে আমার তরী।।
‌‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু'র পাল তুলে,
ঘোর তুফানকে জয় ক'রে ভাই যাবই কূলে,
মোহাম্মদ মোস্তফা নামের (ও ভাই) গুণের রশি ধরি'।।
খোদার রাহে সঁপে দেওয়া ডুববে না মোর তরী,
সওদা ক'রে ভিড়বে তীরে সওয়াব-মাণিক ভরি'।
দাঁড় এ তরীর নামাজ, রোজা, হজ্ ও জাকাত,
উঠুক না মেঘ, আসুক বিপদ — যত বজ্রপাত,
আমি যাব বেহেশত্-বন্দরেতে রে এই সে কিশতিতে চড়ি'।।

বাণী

উদার অম্বর দরবারে তোরই প্রশান্ত প্রভাত বাজায় বীণা।
শতদল-শ্রভ্রা পদতল-লীনা, প্রশান্ত প্রভাত বাজায় বীণা।।
	সহস্র কিরণ-তারে হানি’ ঝঙ্কার
	ধ্বনি তোলে অনাহত গভীর ওঙ্কার,
সেই সুরে উদাসীন, পরমা প্রকৃতি ধ্যান-নিমগ্না মহাযোগাসীনা।।
	আনন্দ-হংস বিমুগ্ধ গতিহীন
	স্থির হ’য়ে ব্যোমে শোনে সে জ্যোতির্বীণ,
ঝরা ফুল-অঞ্জলি তা’রি চরণে প্রণতা ধরণী বাণী-বিহীনা।।

বাণী

		উচ্ছে নহে, ঝিঙে নহে, নহে সে পটল ব্রজের আলু
		পিয়া হতে জনম তাই পি’য়াজ সুডোল ব্রজের আলু।।
		রসঘন রসুনের সে গন্ধতুত দাদা, ও দাদা
		রস কিছু কম হলে হতো আম আদা, ও দাদা
সে		আরো খানিক ডাগর হলে ঐ হতো ওল, ব্রজের আলু।।
		পরম বৈষ্ণব সে যে ফল-দল মাঝে — ও দাদা
		হের তার শিরে চৈতন-চুট্‌কী বিরাজে — ও দাদা
আবার	মাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচাছোলা গোল
তার		মাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচা ছোলা গোল, ব্রজের আলু।।
কাঁদে		ছল ক’রে সব বিরহিণী ইহাকে থ্যাত্‌লাতে — ও দাদা
		চক্ষু বুজে পন্ডিতে খান, বলেন ‘আলুভাতে’ — ও দাদা
ওরে		পাতে তুলেছি তুলব জাতে ব’দলে এবার ভোল, ব্রজের আলু।।

বাণী

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
জানালা পাশে চাঁপার শাখে
‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।

বাণী

		উদার প্রাতে কে উদাসী এলে।
		প্রশান্ত দীঘল নয়ন মেলে’।।
		স্নিগ্ধ সকরুণ তোমার হাসি
		আঘাত করে যেন আমারে আসি’,
পাষাণ সম তব মৌন মূরতি মোর বুকে বিষাদের ছায়া কেন ফেলে।।
		উন্মন ভিখারি গো বল মোর কাছে
		শূন্য হৃদয় তব কোন মন যাচে,
অশ্রু তুষার ঘন বিগ্রহ তব গলিয়া পড়িবে প্রেমে কার মালা পেলে।।

বাণী

		উত্তরীয় লুটায় আমার
		ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়।
আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥
		ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে
		আমার রবি-ফসল দুলে,
নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥

হৈমন্তী