আধুনিক

  • আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম

    বাণী

    আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম
    ঘরে এলে ফিরে পরবাসী প্রিয়তম।।
    	আজ প্রভাতের কুসুমগুলি
    	সফল হলো ডালায় তুলি'
    সাজির ফুলে আজ এ মালা হবে অনুপম।।
    এতদিনে সুখের হলো প্রভাতী শুকতারা
    ললাটে মোর সিঁদুর দিলো ঊষার রঙের ধারা।
    	আজকে সকল কাজের মাঝে
    	আনন্দেরই বীনা বাজে
    দেবতার বর পেয়েছি আজ তপস্বিনীর সম।।
    
  • আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়

    বাণী

    	আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, চাঁদ নেহারিয়া প্রিয়
    	মোরে যদি মনে পড়ে, বাতায়ন বন্ধ করিয়া দিও।।
    		সুরের ডুরিতে জপমালা সম
    		তব নাম গাঁথা ছিল প্রিয়তম,
    	দুয়ারে ভিখারি গাহিলে সে গান, তুমি ফিরে না চাহিও।।
    	অভিশাপ দিও, বকুল-কুঞ্জে যদি কুহু গেয়ে ওঠে,
    	চরণে দলিও সেই যুঁই গাছে আর যদি ফুল ফোটে।
    		মোর স্মৃতি আছে যা কিছু যেথায়
    		যেন তাহা চির-তরে মুছে যায়,
    (মোর)	যে ছবি ভাঙিয়া ফেলেছ ধূলায় (তারে) আর তু’লে নাহি নিও।।
    
  • আমি গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা

    বাণী

    আমি	গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা
    	কনক গাঁদার ফুল গো।
    	গোধূলির শেষে হেসে উঠি আমি
    	এক নিমেষের ভুল গো।
    আমি	কণিকা,
    আমি	সাঁঝের অধরে ম্লান আনন্দ-কণিকা
    আমি	অভিমানিনীর খুলে ফেলে দেওয়া মণিকা
    আমি	দেব-কুমারীর দুল গো।।
    	আলতা রাখার পাত্র আমার আধখানা চাঁদ ভাঙা
    	তাহারি রং গড়িয়ে পরে (ঐ) অস্ত-আকাশ রাঙা।
    আমি	একমুঠো আলো কৃষ্ণা-সাঁঝের হাতে
    আমি	নিবেদিত ফুল আকাশ-নদীতে রাতে
    	ভাসিয়া বেড়াই যাঁর উদ্দেশে গো
    	তার পাই না চরণ-মূল।।
    
  • আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে

    বাণী

    আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
    আশা-প্রদীপ আমি নিশির শীশ-মহলে।।
    রাতের কপোলে আমি ছলছল অশ্রুর জল,
    আমি ধরণীতে হিম-কণা টলমল, নব দুর্বাদলে।।
    নব অরুণোদয়ের আমি ইঙ্গিত
    বিহগ-কণ্ঠে আমি জাগাই শুভ-সঙ্গীত।
    আমিকনক-কদম তিমির নীপ শাখায়
    আমিমধ্যমণি মালিকায়, শ্যাম গগন-গলে।।
    

  • আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

    বাণী

    আমি	সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
    তুমি	সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি।।
    		আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
    		সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
    	রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী।।
    	রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
    	ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাশিঁ।
    		পরিয়া তোমার রূপ-অঞ্জন
    		ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
    	উছলি' উঠুক মোর সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি।।
    
  • আসে রজনী সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে

    বাণী

    আসে রজনী, সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে
    ছায়া-আঁচল-ঢাকা কানন-তলে।।
    তিমির দু’ কূল দুলে গগনে, গোধূলি-ধূসর সাঁঝ-পবনে
    তারার মানিক অলকে ঝলে।।
    পূজা আরতি লয়ে চাঁদের থালায়
    আসিল সে অস্ত-তোরণ নিরালায়।
    ললাটের টিপ্‌ জ্বলে সন্ধ্যা-তারা
    গিরি-দরি বনে ফেরে আপন-হারা
    থামে ধীরে ধীরে বিরহীর নয়ন-জলে।।
    
  • এলো ঐ পূর্ণ শশী ফুল-জাগানো

    বাণী

    এলো ঐ		পূর্ণ শশী		ফুল-জাগানো
    বহে বায়		বকুল-বনে		ঘুম-ভাঙানো।।
    লাগিল		জাফরানি-রঙ	শিউলি-ফুলে
    ফুটিল			প্রেমের কুঁড়ি		পাপড়ি খুলে,
    খুশির আজ		আমেজ জাগে	মন-রাঙানো।।
    চাঁদিনী		ঝিলমিলায়		ঝিলের জলে,
    আবেশে		শাপলা ফুলের	মৃণাল টলে,
    জাগে ঢেউ		দীঘির বুকে		দোল-লাগানো।।
    এসো আজ		স্বপন-কুমার		নিরিবিলি
    খুলিয়া		গোপন প্রাণের	ঝিলিমিলি,
    এসো মোর		হতাশ প্রাণে		ভুল-ভাঙানো।।
    
  • ও কে উদাসী আমায় হায়

    বাণী

    ও কে উদাসী আমায় হায়
    ডাকে আয় আয়
    	গোধূলি-বেলায় বাজায়ে বাঁশরি।
    তা’র পাহাড়ি সুরে
    মোর নয়ন ঝুরে
    	মম কুল-লাজ গৃহ-কাজ যাই পাশরি’।।
    তা’র সুরের মায়ায় আকাশ ঝিমায়,
    	চাঁদের চোখে তিমির ঘনায় —
    তা’র বিরহে মধুর মোহে জীবন মরণ পলকে বিসরি।।
    
  • ওরে শুভ্রবসনা রজনীগন্ধ্যা

    বাণী

    ওরে	শুভ্রবসনা রজনীগন্ধ্যা বনের বিধবা মেয়ে,
    	হারানো কাহারে খুঁজিস নিশীথ-আকাশের পানে চেয়ে।।
    	ক্ষীণ তনুলতা বেদনা-মলিন,
    	উদাস মূরতি ভূষণবিহীন,
    	তোরে হেরি ঝরে কুসুম-অশ্রু বনের কপোল বেয়ে।।
    	তুইলুকায়ে কাঁদিস রজনী জাগিস সবাই ঘুমায় যবে,
    	বিধাতারে যেন বলিস — দেবতা আমারে লইবে কবে।
    	করুণ শুভ্র ভালোবাসা তোর
    	সুরভি ছড়ায় সারা নিশি ভোর,
    	প্রভাত বেলায় লুটাস ধূলায় যেন-কারে নাহি পেয়ে।।
    
  • কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা

    বাণী

    কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা কার।
    ভেসে এসে হতে চায় গো আমার গলার হার।।
    		আমি তারে নাহি জানি
    		তার সুরের সূত্রখানি,
    তবু বিজড়িত হয় কেন গো, আমার কঙ্কনে বারবার।।
    তার সুরের তুলির পরশে, ওঠে আমার ভুবন রাঙ্গি’,
    কোন বিস্মৃত জনমের যেন কত স্মৃতি ওঠে জাগি’।
    		আমার রাতের নিদে
    		তার সুর এসে প্রাণে বিঁধে,
    যার সুর এত চেনা, কবে দেখা পাবো সেই অচেনার।।
    
  • কে বলে গো তুমি আমার নাই

    বাণী

    কে বলে গো তুমি আমার নাই?
    তোমার গানে পরশ তব পাই।।
    তোমায়-আমায় এই নীরবে
    জানাজানি অনুভবে,
    তোমার সুরের গভীর রবে আমারি কথাই।।
    হে বিরহী আমায় বারে বারে
    স্মারণ করো সুরের সিন্ধু পারে
    ওগো গুণী পেয়ে মায়
    যদি তোমার গান থেমে যায়,
    উঠবে কাঁদন সুরের সভায় চাই না কাছে তাই।।
    
  • ঘুমাও ঘুমাও দেখিতে এসেছি

    বাণী

    ঘুমাও,ঘুমাও,দেখিতে এসেছি ভাঙাতে আসিনি ঘুম
    কেউ জেগে কাঁদে,কারো চোখে নামে নিদালির মৌসুম॥
    	দেখিতে এলাম হ'য়ে কুতুহলী
    	চাঁপা-ফুল দিয়ে তৈরী পুতুলী
    দেখি,শয্যায় স্তূপ হ'য়ে আছে জোছনার কুমকুম
    আমি নই, ঐ কলঙ্কী চাঁদ নয়নে হেনেছে চুম্ ।।
    রাগ করিও না, অনুরাগ হ'তে রাগ আরো ভালো লাগে,
    তৃষ্ণাতুরের কেউ জল চায় কেউ বা শিরাজি মাগে।
    	মনে কর, আমি লোলুপ বাতাস
    	চোর-জোছনা, ফুলের সুবাস
    ভয় নাই, আমি চলে যাই ডাকি' নিশীথিনী নিঃঝুম।।
    
  • ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হ’য়ে

    বাণী

    ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হ’য়ে আমার গানের বুলবুলি —
    করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঁঝের ঝরা ফুলগুলি।।
    ফুল ফুটিয়ে ভোর বেলাতে গান গেয়ে
    নীরব হ’ল কোন নিষাদের বান খেয়ে;
    বনের কোলে বিলাপ করে সন্ধ্যা–রাণী চুল খুলি’।।
    কাল হ’তে আর ফুটবে না হায় লতার বুকে মঞ্জরী,
    উঠছে পাতায় পাতায় কাহার করুণ নিশাস্‌ মর্মরি’।
    গানের পাখি গেছে উড়ে, শূন্য নীড় —
    কণ্ঠে আমার নাই যে আগের কথার ভীড়
    আলেয়ার এ আলোতে আর আসবে না কেউ কূল ভুলি’।।
    
  • জানি জানি প্রিয় এ জীবনে মিটিবে না সাধ

    বাণী

    জানি	জানি প্রিয়, এ জীবনে মিটিবে না সাধ
    আমি	জলের কুমুদিনী ঝরিব জলে
    তুমি	দূর গগনে থাকি’ কাঁদিবে চাঁদ।।
    	আমাদের মাঝে বঁধু বিরহ বাতাস
    	চিরদিন ফেলে যাবে দীরঘ শ্বাস
    	পায় না বুকে কভু পায় না বুকে তবু মুখে মুখে
    	চাঁদ কুমুদীর নামে রটে অপবাদ।।
    তুমি	কত দূরে বঁধু, তবু বুকে এত মধু কেন উথলায়?
    	হাতের কাছে রহো রাতের চাঁদ গো
    	ধরা নাহি যায় তবু ছোঁওয়া নাহি যায়।
    	মরু-তৃষা ল’য়ে কাঁদে শূন্য হিয়া
    	সকলে বলে আমি তোমারি প্রিয়া
    সেই	কলঙ্ক-গৌরব সৌরভ দিল গো
    	মধুর হ’ল মোর বিরহ-বিষাদ।।
    

  • তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী

    বাণী

    তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী।
    শিশির-সজল ভোরের আকাশে ভাসে তোমারি উদাস ছবি।।
    	বিষাদ গভীর কার কল্পনা
    	রূপ ধ’রে তুমি ফের আনমনা,
    তোমারি মূরতি ধেয়ায় স্বপনে বিরহী সুরের কবি।।
    তুমি ধরা দিতে যেন আস নাই ধরণীতে,
    একা-একা খেলা খেল সারাবেলা সাথিহীন তরণীতে।
    	আঘাত হানিয়া সে-কোন্ নিঠুর
    	জাগাবে তোমাতে আশাবরি সুর,
    পাষাণ টুটিয়া গলিয়া পড়িবে অশ্রুর জাহ্নবী।।
    
  • তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়

    বাণী

    তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ?
    চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী বলে না তো কিছু চাঁদ।।
    	চেয়ে’ চেয়ে’ দেখি ফোটে যবে ফুল
    	ফুল বলে না তো সে আমার ভুল
    মেঘ হেরি’ ঝুরে’ চাতকিনী, মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।।
    জানে সূর্যেরে পাবে না তবু অবুঝ সূর্যমুখী
    চেয়ে’ চেয়ে’ দেখে তার দেবতারে দেখিয়াই সে যে সুখী।
    	হেরিতে তোমার রূপ–মনোহর
    	পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর।
    মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর নয়নের সেই সাধ।।
    
  • নন্দন বন হতে কি গো ডাকো মোরে

    বাণী

    নন্দন বন হতে কি গো ডাকো মোরে আজো নিশীথে
    ক্ষণে ক্ষণে ঘুম হারা পাখি কেঁদে ওঠে করুন-গীতে।।
    	ভেঙে যায় ঘুম চেয়ে থাকি
    	চাহে চাঁদ ছলছল আখিঁ
    ঝরা চম্পার ফুল যেন কে ফেলে চলে যায় চকিতে।।
    সহিতে না তিলেক বিরহ ছিলে যবে জীবনের সাতি,
    ব'লে যাও আজ কোন অমরায় কেমনে কাটাও দিবারাতি।।
    	জীবনে ভুলিলে তুমি যারে
    	তারে ভুলে যাও মরনের ওপারে
    আঁধার ভুবনে মোরে একাকী দাও মোরে দাও ঝুরিতে।।
    
  • নয়ন ভরা জল গো তোমার

    বাণী

    নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল
    ফুল নেব না, অশ্রু নেব ভেবে হই আকুল।।
    	ফুল যদি নিই তোমার হাতে
    	জল রবে না১ নয়ন পাতে
    অশ্রু নিলে ফুটবে না আর প্রেমের মুকুল।।
    মালা যখন গাঁথ তখন পাওয়ার সাধ যে জাগে
    মোর বিরহে কাঁদ যখন আরও ভালো লাগে।
    	পেয়ে তোমায় যদি হারাই
    	দূরে দূরে থাকি গো তাই
    ফুল ফোটায়ে যায় গো চলে চঞ্চল বুলবুল।।
    

    ১. গো

  • ফিরিয়া এসো এসো হে ফিরে

    বাণী

    ফিরিয়া এসো এসো হে ফিরে
    বঁধু এ ঘোর বাদলে নারি থাকিতে একা।
    হায় গগনে মনে আজি মেঘের ভিড়
    	যায় নয়ন-জলে মুছে কাজল-লেখা।।
    ললাটে কর হানি’ কাঁদিছে আকাশ
    শ্বসিছে শন-শন হুতাস বাতাস।
    তোমারি মত ঝড় হানিছে দ্বারে কর,
    	খোঁজে বিজলি তোমারি পথ-রেখা।।
    মেঘেরে সুধাই তুমি কোথায়
    কাঁদন আমার বাতাসে ডুবে যায়!
    ঝড়ের নূপুর পরি’ রাঙা পায়
    	শ্যামল-সুন্দর দাও দেখা।।
    
  • ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে হায় প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি

    বাণী

    ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে, হায়, প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি
    বিলাপ গেয়ে বুলবুলি মোর গেল কোথায় উড়ি।।
    	কিসের আশায় গোলাপ বনে
    	গাইতো সে গান আপন মনে,
    লতার সনে পাতার সনে খেতো লুকোচুরি (হায়)
    সেই লতাতে প্রথম প্রেমের ফুটলো মুকুল যবে
    পালিয়ে গেল ভীরু পাখি অমনি নীরবে।
    	বাসলে ভালো যে জন কাঁদে
    	বাঁধবো তা'রে কোন সে ফাঁদে,
    ফুল নিয়ে তাই অবসাদে বনের পথে ঘুরি (হায়)।।