আধুনিক

  • মোরা ছিলাম একা আজি মিলিনু দুজন

    বাণী

    উভয়	:	মোরা ছিলাম একা আজি মিলিনু দুজন।
    		পাপিয়ার পিয়া বোল্ কপোত-কূজন।।
    বর	:	তুমি সবুজের স্রোত এলে ঊষর দেশে
    বধূ	:	তুমি বিধাতার-বর এলে বরের বেশে,
    বর	:	তুমি গৃহে কল্যাণ
    বধূ	:	তুমি প্রভু মম ধ্যান,
    উভয়	:	সুন্দরতর হ’ল সুন্দর ত্রিভুবন।।
    

    নাটিকাঃ ‘প্রীতি-উপহার’

  • মোরে ভালোবাসায় ভুলিয়ো না

    বাণী

    মোরে	ভালোবাসায় ভুলিয়ো না
    			পাওয়ার আশায় ভুলিয়ো
    মোরে	আদর দিয়ে দুলিয়ো না
    			আঘাত দিয়ে দুলিয়ো।।
    		হে প্রিয় মোর একি মোহ
    		এ প্রাণ শুধু চায় বিরহ
    তুমি	কঠিন সুরে বেঁধে আমায়
    			সুরের লহর তুলিয়ো।।
    প্রভু	শান্তি চাহে জুড়াতে সব
    			আমি চাহি পুড়িতে
    		সুখের ঘরে আগুন জ্বেলে’
    		পথে পথে ঝুরিতে;
    		বঁধু	পথে পথে ঝুরিতে।
    			নগ্ন দিনের আলোকেতে
    			চাহি না তোমায় ব’ক্ষে পেতে
    তুমি	ঘুমের মাঝে স্বপনেতে
    			হৃদয়–দুয়ার খুলিয়ো।।
    
  • যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে

    বাণী

    	যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে
    	মাটির পৃথিবী তাই এত ভালো লাগে।।
    হেথা	চাঁদে আছে কলঙ্ক, সাধে অবসাদ
    হেথা	প্রেমে আছে গুরুগঞ্জনা অপবাদ;
    আছে	মান-অভিমান পিরিতি-সোহাগে।।
    হেথা	হারাই হারাই ভয়, প্রিয়তমে তাই
    	ব’ক্ষে জড়ায়ে কাঁদি ছাড়িতে না চাই।
    	স্বর্গের প্রেমে নাই বিরহ-অনল
    	সুন্দর আঁখি আছে, নাই আখি-জল;
    	রাধার অশ্রু নাই কুমকুম-ফাগে।।
    

    নাটকঃ অন্নপূর্ণা (নাট্যকারঃ মণিলাল বন্দোপাধ্যায়)

  • যবে ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি

    বাণী

    যবে	ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি
    	ঘুম ভাঙায়ে হাতে বাঁধিও রাখি।।
    		রাতের বিরহ যবে
    		প্রভাতে নিবিড় হবে
    	অকরুণ কলরবে গাহিবে পাখি।।
    যেন	অরুণ দেখিতে গিয়া তরুণ কিশোর
    	তোমারে প্রথম হেরি' ঘুম ভাঙে মোর।
    		কবরীর মঞ্জরি
    		আঙিনায় রবে ঝরি'
    	সেই ফুল পায়ে দলি এসো একাকী।।
    

  • যাই গো চ'লে যাই না-দেখা লোকে

    বাণী

    যাই গো চ'লে যাই না-দেখা লোকে
    	জানিতে চির অজানায়।
    নিরুদ্দেশের পথে মানস-রথে স্বপন ঘুমে
    	মন যথা চ'লে যায়।।
    সাগর-জলে পাতাল-তলে তিমিরে
    অজানা মায়া আছে চিরদিন সে-দেশ ঘিরে —
    মেঘলোক পারায়ে চাঁদের বুকে গ্রহ-তারায়।।
    যাই হিমগিরি-চূড়াতে, মেরুর তুষারে,
    আকাশের দ্বার খুলে' হেরিতে ঊষারে।
    রামধনু ওঠে যথা পরীরা খেলে
    যে-দেশ হইতে আসে এ জীবন, যেখানে হারায়।।
    
  • যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার হাতে

    বাণী

    যাও মেঘদূত, দিও প্রিয়ার হাতে
    আমার বিরহ–লিপি লেখা কেয়া পাতে।।
    আমার প্রিয়ার দিরঘ নিশাসে
    থির হয়ে আছে মেঘ যে–দেশেরই আকাশে
    আমার প্রিয়ার ম্লান মুখ হেরি’
    ওঠে না চাঁদ আর যে–দেশে রাতে।।
    পাইবে যে–দেশে কুন্তল–সুরভি বকুল ফুলে
    আমার প্রিয়া কাঁদে এলায়ে কেশ সেই মেঘনা–কূলে।
    স্বর্ণলতার সম যার ক্ষীণ করে
    বারে বারে কঙ্কণ চুড়ি খুলে পড়ে
    মুকুল’ বয়সে যথা বরষার ফুল–দল
    বেদনায় মুরছিয়া আছে আঙিনাতে।।
    
  • যাক্ না নিশি গানে গানে

    বাণী

    যাক্ না নিশি গানে গানে জাগরণে
    আজকে গানের বান এসেছে আমার মনে।।
    	মন ছিল মোর পাতায় ছাওয়া
    	হঠাৎ এলো দিখন্ হাওয়া
    পাতার কোলে কথার কুঁড়ি ফুট্‌লো অধীর হরষণে।।
    সেই কথারই মুকুলগুলি সুরের সুতোয় গেঁথে গেঁথে,
    কা’রে যেন চাই পরাতে কাহারে চাই কাছে পেতে।
    	জানি না সে কোন্ বিজনে
    	নিশীথ জেগে এ গান শোনে
    না-দেখা তার চোখের চাওয়ায় আবেশ জাগায় মোর নয়নে।।
    

  • যারে হাত দিয়ে মালা দিতে

    বাণী

    যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই কেন মনে রাখো তা’রে।
    ভুলে যাও মোরে১ ভুলে যাও একেবারে।।
    আমি গান গাহি আপনার দুখে
    তুমি কেন আসি’ দাঁড়াও সুমুখে,
    আলেয়ার মত ডাকিও না আর নিশীথ –অন্ধকারে।।
    দয়া কর, মোরে দয়া কর, আর আমারে লইয়া খেলো না নিঠুর খেলা,
    শত কাঁদিলেও ফিরিবে না প্রিয় শুভ লগনের বেলা।
    আমি ফিরি পথে, তাহে কার ক্ষতি
    তব চোখে কেন সজল মিনতি,
    আমি কি ভুলেও কোনোদিন এসে’ দাঁড়ায়েছি তব দ্বারে।।
    

    ১. তারে

    গীতিচিত্র: অতনুর দেশ

  • যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

    বাণী

    যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
    সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
    	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
    	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
    আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
    তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
    তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
    	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
    	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
    ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।
    
  • রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি

    বাণী

    রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি যাই চ’লে যাই একা।
    শুকতারাতে রইল আমার চোখের জলের লেখা।।
    	ফোটার আগে ঝরে যে ফুল
    	সঙ্গী আমার সেই সে-মুকুল,
    ছায়াপথে জাগে আমার বিদায় পথ-রেখা।।
    অনেক ছিল আশা আমার অনেক ছিল সাধ,
    ব্যর্থ হ’ল না পেয়ে কা’র আাঁখির পরসাদ।
    	দীপ নেভানো শূন্য ঘরে
    	এসো না আর খুঁজতে মোরে,
    তারার দেশে চন্দ্রলোকে হবে আবার দেখা।।
    
  • শত জনম আঁধারে আলোকে

    বাণী

    শত জনম আঁধারে আলোকে তারকা-গ্রহে লোকে লোকে
    প্রিয়তম! খুঁজিয়া ফিরেছি তোমারে।।
    	স্বপন হয়ে রয়েছ নয়নে
    	তপন হ’য়ে হৃদয়-গগনে,
    হেরিয়া তোমারে বিরহ-যমুনা, প্রিয়তম! দুলিয়া উঠে বারে বারে।।
    হে লীলা-কিশোর! ডেকেছে আমারে তোমার বাঁশি,
    যুগে যুগে তাই তীর্থ-পথিক ফিরি উদাসী।
    	দেখা দাও, তবু ধরা নাহি দাও
    	ভালোবাস ব’লে তাই কি কাঁদাও,
    তোমারি শুভ্র পূজার-পুষ্প প্রিয়তম! ফুটিয়া ওঠে অশ্রুধারে।।
    
  • শাওন রাতে যদি

    বাণী

    শাওন–রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে
    বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে।।
    ভুলিও স্মৃতি মম, নিশীথ–স্বপন সম
    আঁচলের গাঁথা মালা ফেলিও পথ ‘পরে।।
    ঝুরিবে পূবালি বায় গহন দূর–বনে,
    রহিবে চাহি’ তুমি একেলা বাতায়নে।
    বিরহী কুহু–কেকা গাহিবে নীপ–শাখে
    যমুনা–নদীপারে শুনিবে কে যেন ডাকে।
    বিজলী দীপ–শিখা খুঁজিবে তোমায় প্রিয়া
    দু’ হাতে ঢেকো আঁখি যদি গো জলে ভরে।।
    
  • শেষ হ’ল মোর এ জীবনে

    বাণী

    শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
    ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
    	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
    	শুকালো যে আশার মুকুল,
    তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
    সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
    হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
    	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
    	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
    আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।
    
  • শ্রান্ত-ধারা বালুতটে শীর্ণা-নদীর গান

    বাণী

    শ্রান্ত-ধারা বালুতটে শীর্ণা-নদীর গান
    সেই সুরে গো বাজবে আমার করুণ বাঁশির তান॥
    সাথী-হারা একেলা পাখি, যে-সুরে যায় বনে ডাকি’
    সেই সুরেরি কাঁদন মাখি’ বিধুর আমার প্রাণ॥
    দিন শেষের ম্লান আলোতে ঘনায় যে বিষাদ
    আমার গানে জড়িয়ে আসে তারই অবসাদ।
    ঝরা-পাতার মরমরে, বাদল-রাতে ঝরঝরে
    বাজে আমার গানের সুরে গোপন অভিমান॥
    
  • শ্রাবণ রাতের আঁধারে নিরালা ব’সে

    বাণী

    শ্রাবণ রাতের আঁধারে নিরালা ব’সে আছি বাতায়নে
    রেবা নদীর খরস্রোত বহে বেগে আমার মনে॥
    		দিগন্তে করুণ কাতর
    		শুনি কার ক্রন্দন স্বর
    ভেসে বন-মর্মর ঝরঝর সজল উতল পুবালি পবনে॥
    বিরহী যক্ষ কাঁদে একাকী কোথায় কোন্ দূর চিত্রকূটে
    আমার গানে যেন তার বেদনার সকরুণ ভাষা ফুটে।
    		আমার মনের অলকায়
    		কোন্ বিরহিণী পথ চায়
    মালবিকার আঁখি-ধার ঝরে হায় অঝোর ধারায় মোর নয়নে॥
    
  • সই ভালো করে বিনোদ বেণী

    বাণী

    সই		ভালো ক’রে বিনোদ–বেণী বাঁধিয়া দে
    মোর		বঁধু যেন বাঁধা থাকে বিননী–ফাঁদে।।
    সই		বাঁধিতে সে বাঁধন–হারা বনের হরিণ
    সই		জড়ায়ে দে জরীণ ফিতা মোহন ছাঁদে।।
    সই		চপল পুরুষ সে তাই কুরুশ কাঁটায়
    		রাখিব খোঁপারি সাথে বিঁধিয়া লো তায়।
    তাহে		রেশমি জাল বিছায়ে দে ধরিতে চাঁদে।।
    		প্রথম প্রণয়–রাগের মত আলতা রঙে
    		রাঙায়ে দে চরণ মোর এমনি ঢঙে।
    সই		পায়ে ধ’রে সে যেন লো আমারে সাধে।।
    
  • সন্ধ্যা ঘনালো আমার বিজন ঘরে

    বাণী

    সন্ধ্যা ঘনালো আমার বিজন ঘরে তব গৃহে জ্বলে বাতি।
    হাসিয়া ফুরায় তব উৎসব-নিশি (প্রিয়) পোহায় না মোর রাতি ॥
    	আমার আয়ুর ঝরা ফুলগুলি ল’য়ে
    	দোলে তব গলে মিলনের মালা হ’য়ে,
    তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে আঁধার আমার সাথি ॥
    মোর মালঞ্চে ঘুমায়ে পড়েছে কুহু, নীরব হয়েছে গান -,
    তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা বুঝি তুলিয়াছে কলতান।
    	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
    	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
    ওপারের বাঁশি আমারে ডাকিবে কবে আছি তাই কান পাতি’ ॥
    
  • সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে

    বাণী

    সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
    ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
    	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
    	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
    তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
    					পোহায় না মোর রাতি।।
    ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
    তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
    	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
    	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
    ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
    					পোহায় না মোর রাতি।।
    
  • সহসা কি গোল বাঁধালো পাপিয়া আর পিকে

    বাণী

    সহসা কি গোল বাঁধালো পাপিয়া আর পিকে
    গোলাপ ফুলের টুকটুকে রঙ চোখে লাগে ফিকে।।
    	নাই বৃষ্টি বাদল ওলো,
    	দৃষ্টি কেন ঝাপসা হলো?
    অশ্রু জলের ঝালর দোলে চোখের পাতার চিকে।।
    পলাশ-কলির লাল আঁখরে বনের দিকে দিকে
    গোপন আমার ব্যথার কথা কে গেল সই লিখে।
    	মনে আমার পাইনে লো খেই;
    	কে যেন নেই, কি যেন নেই।
    কে বনবাস দিল আমার মনের বাসন্তীকে।।
    

  • সাঁঝের আঁচলে রহিল হে প্রিয় ঢাকা

    বাণী

    সাঁঝের আঁচলে রহিল হে প্রিয় ঢাকা।
    ফুলগুলি মোর বেদনার রং মাখা।।
    		আসিবে যখন ফিরে
    		আবার এ মন্দিরে,
    চরণে দলিও আলপনা মোর অশ্রুর জলে আঁকা।।
    বিরহ-মলিন বন-তুলসীর শুকানো মালিকাখানি,
    ফেলিবার আগে ধন্য করিও একটু পরশ দানি’।
    		যেতে এই পথ ’পরে
    		যদি মোরে মনে পড়ে,
    যমুনার জলে ভাসাইয়া দিও একটি মাধবী শাখা।।