বাণী

চন্দ্রমল্লিকা, চন্দ্রমল্লিকা —
রঙ-পরীদের সঙ্গিনী তুই অঙ্গে চাঁদের রূপ-শিখা।।
ঊষর ধরায় আসলি ভুলে তুষার দেশে রঙ্গিনী'
হিমেল দেশের চন্দ্রিকা তুই শীত-শেষের বাসন্তিকা।।
চাঁদের আলো চুরি ক'রে আনলি তুই মুঠি ভ'রে,
দিলাম চন্দ্র-মল্লিকা নাম তাই তোরে আদর ক'রে।
	ভঙ্গিমা তোর গরব-ভরা,
	রঙ্গিমা তোর হৃদয়-হরা,
ফুলের দলে ফুলরানী তুই-তোরেই দিলাম জয়টিকা।।

বাণী

চীন আরব হিন্দুস্থান নিখিল ধরাধাম।
জানে আমায় চেনে আমায় মুসলিম আমার নাম।।
অন্ধকারে আজান দিয়ে ভাঙনু ঘুমঘোর,
আলোর অভিযান এনেছি রাত করেছি ভোর;
এক সমান করেছি ভেঙে উচ্চ নীচ তামাম।।
চেনে মোরে সাহারা গোবি দুর্গম পর্বত,
মন্থন করেছে সাগর, আমার সিন্ধু রথ;
বয়েছি আফ্রিকা ইউরোপ আমারই তাঞ্জাম।।
পাক মুলুকে বসিয়েছি খোদার মসজিদ,
জগৎ সাক্ষী পাপীদেরকে পিইয়েছি তৌহীদ্‌;
বিরান বনে রচেছি রে হাজার নগর গ্রাম।।

বাণী

চম্‌’কে চম্‌’কে ধীর ভীরু পায়,
পল্লী–বালিকা বন–পথে যায় একেলা বন–পথে যায়।।
শাড়ি তার কাঁটা লতায়, জড়িয়ে জড়িয়ে যায়,
পাগল হাওয়াতে অঞ্চল ল’য়ে মাতে —
		যেন তার তনুর পরশ চায়।।
শিরীষের পাতায় নূপুর, বাজে তার ঝুমুর ঝুমুর,
কুসুম ঝরিয়া মরিতে চাহে তার কবরীতে,
		পাখী গায় পাতার ঝরোকায়।।
চাহি’ তা’র নীল নয়নে, হরিণী লুকায় বনে,
হাতে তা’র কাঁকন হ’তে মাধবী লতা কাঁদে,
		ভ্রমরা কুন্তলে লুকায়।।

বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

বাণী

চপল আঁখির ভাষায়, হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও।
না-বলা কোন্ বাণী বলিতে চাও॥
	আড়ি পাতে নিঝ্‌ঝুম বন
	আঁখি তুলি’ চাহিবে কখন,
আঁখির তিরস্কারে ঐ বন-কান্তারে ফুল ফোটাও॥
নিটোল আকাশ টোল খায় তোমারি চাওয়ায়, হে মীনাক্ষী,
নদী-জলে চঞ্চল সফরী লুকায়, হে মীনাক্ষী!
	ওই আঁখির করুণা
	ঢালো রাগ অরুণা,
আঁখিতে আঁখিতে ফুল-রাখি বেঁধে দাও॥

বাণী

চাঁপা রঙের শাড়ি আমার যমুনা-নীর ভরণে গেল ভিজে।
ভয়ে মরি আমি, ঘরে ননদী, কহিব শুধাইলে কি যে।।
	ছি ছি হরি, একি খেল লুকোচুরি
	একেলা পথে পেয়ে কর খুন্‌সুড়ি,
রোধিতে তব কর ভাঙিল চুড়ি — ছলকি গেল কলসি যে।।
	ডাঁশা কদম্ব দিবে বলি হরি
	ডাকিলে-তরুতলে কেন ছল করি’,
কাঁচা বয়সী পাইয়া শ্রী হরি — মজাইলে, মজিলে নিজে।।