বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

বাণী

চাঁপার কলির তুলিকায়, কাজল লেখায় শ্রীমতী শ্রীহরির ছবি আঁকে।
রাই ছবি আঁকে পটে গো, যারে হেরে নিতি গোঠে যেতে
যমুনার তটে গো, সে বংশী বাজায়ে মঞ্জির পায়ে
নাচে ছায়া বটে গো, রাই ছবি আঁকে পটে গো।
আঁকিয়া শ‍্যামের মূরতি আঁকিল না রাধা শ্রীচরণ ,
রাধা চরণ আঁকে না, তুলি তুলিয়া রাখে চরণ আঁকে না।
তখন ললিতা বলে- ‘রাধা! রাধা! রাধা!
তুই আঁকলি না কেন চরণ রাধা!’
‘জীবন মরণ যে চরণে বাঁধা, আঁকলি না কেন চরণ রাধা —
বিশ্বের ত্রাণ বৃন্দাবনের ধ‍্যানজ্ঞান ব্রজগোপী সাধা’ —
‘আঁকলি না কেন চরণ রাধা’ —!
তখন রাধা কেঁদে বলে- ‘ওগো ললিতা —
সখি আঁকিলে চরণ যাবে সে পালায়ে আমি হব পদদলিতা।
পলায়ে যাবে গো মথুরায়, আবার পালায়ে যাবে গো —
চির চপল সে মথুরায় আবার পালায়ে যাবে গো —
থাক লুকানো হৃদয়ে শ্রীচরণ।’

বাণী

চপল আঁখির ভাষায়, হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও।
না-বলা কোন্ বাণী বলিতে চাও॥
	আড়ি পাতে নিঝ্‌ঝুম বন
	আঁখি তুলি’ চাহিবে কখন,
আঁখির তিরস্কারে ঐ বন-কান্তারে ফুল ফোটাও॥
নিটোল আকাশ টোল খায় তোমারি চাওয়ায়, হে মীনাক্ষী,
নদী-জলে চঞ্চল সফরী লুকায়, হে মীনাক্ষী!
	ওই আঁখির করুণা
	ঢালো রাগ অরুণা,
আঁখিতে আঁখিতে ফুল-রাখি বেঁধে দাও॥

বাণী

চম্পা পারুল যূথী টগর চামেলা।
আর সই, সইতে নারি ফুল-ঝামেলা।।
	সাজায়ে বন-ডালি,
	বসে রই বন-মালি
যা'রে দিই এ ফুল সেই হানে হেলাফেলা।।
	কে তুমি মায়া-মৃগ
	রতির সতিনী গো
ফুল নিতে আসিলে এ বনে অবেলা।।
	ফুলের সাথে প্রিয়
	ফুল মালরে নিও
তুমিও এক সই, আমিও একেলা।।

বাণী

চল্ চল্ চল্। চল্ চল্ চল্।
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
	চল্ রে চল্ রে চল্
		চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি’ আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা টুটাব তিমির রাত
		বাধার বিন্ধ্যাচল।
নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মাশান
আমরা দানিব নূতন প্রাণ
		বাহুতে নবীন বল।
চল্ রে নও জোয়ান
শোন্ রে পাতিয়া কান
মৃত্যু-তোরণ-দুয়ারে-দুয়ারে
		জীবনের আহবান।
		ভাঙ্ রে ভাঙ্ আগল
		চল্ রে চল্ রে চল্
			চল্ চল্ চল্।।

বাণী

চৈতী চাঁদের আলো আজ ভাল নাহি লাগে,
তুমি নাই মোর কাছে — সেই কথা শুধু জাগে।।
এই ধরণীর বুকে কত গান কত হাসি,
প্রদীপ নিভায়ে ঘরে আমি আঁখি-নীরে ভাসি,
পরানে বিরহী বাঁশি ঝুরিছে করুণ রাগে।।
এ কী এ বেদনা আজি আমার ভুবন ঘিরে,
ওগো অশান্ত মম, ফিরে এসো, এসো ফিরে।
বুলবুলি এলে বনে বলে যাহা বনলতা —
সাধ যায় কানে কানে আজি বলিব সে কথা,
ভুল বুঝিও না মোরে বলিতে পারিনি আগে।।