বাণী

চম্পা-বনে বেণু বাজে — বাজে বাজে।
কে গো চঞ্চল? এলে মনোহর সাজে —
		কিশোর নাটুয়ার সাজে।।
আঁখি মেলিয়া চাহে মালতীর কলি
ভবন-শিখী নাচে ‘কে গো’ বলি’,
ছড়ায় সমীরণ ফুল-অঞ্জলি —
		তোমার পথ-মাঝে।।
নূপুর শুনি বনে নাচে কুরঙ্গ
মানস-গঙ্গায় জাগে-তরঙ্গ,
সরসীতে কমলিনী থরথর অঙ্গ —
		রক্তিম হ’ল লাজে।।
লুকায় ফুলধনু মেঘের কোলে
রাখিয়া কপোল চাঁদের কপোলে,
		হেরে তরুণ রসরাজে।।

১. মনোহর

বাণী

চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা।
আবার কহিতে চাহে কোন কথা।।
আবার ভ্রমর-নূপুর বাজে
কী যেন হারানো হিয়ার মাঝে,
আবার বেণুর উতলা রবে ব্যাকুল হ’য়ে
ওঠে গোপন ব্যথা।।
তনুর পিঞ্জর ভাঙিয়া কেন হায়,
না-জানা-আকাশে হৃদয় যেতে চায়।
বায়ুরে ডেকে বলে, বহিতে নারি আর
যে দিল, তা’রে দিও সুরভি মধু-ভাব,
কৃপা কর, আমি ঝরিয়া ম’রে যাই
সহিতে পারি না মাটির মমতা।।

বাণী

চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না এ নয়ন পানে।
জানিতে নাইকো বাকি, সই ও আঁখি কি যাদু জানে।।
একে ঐ চাউনি বাঁকা সুর্মা আঁকা তা’য় ডাগর আঁখি রে
বধিতে তা’য় কেন সাধ? যে মরেছে ঐ নয়ন বাণে।
			মরেছে ঐ আঁখির বাণে।।
চকোর কি প’ড়ল ধরা পীযূষ ভরা ঐ মুখ-চাঁদে (রে),
কাঁদিছে নার্গিসের ফুল লাল কপোলের কমল-বাগানে।
জ্বলিছে দিবস রাতি মোমের বাতি রূপের দেওয়ালি (রে),
নিশিদিন তাই কি জ্বলি’ পড়ছ গলি’ অঝোর নয়ানে।
মিছে তুই কথার কাঁটায় সুর বিঁধে হায় হার গাঁথিস কবি (রে)।
বিকিয়ে যায় রে মালা এই নিরালা আঁখির দোকানে।।

বাণী

চৈতী চাঁদের আলো আজ ভাল নাহি লাগে,
তুমি নাই মোর কাছে — সেই কথা শুধু জাগে।।
এই ধরণীর বুকে কত গান কত হাসি,
প্রদীপ নিভায়ে ঘরে আমি আঁখি-নীরে ভাসি,
পরানে বিরহী বাঁশি ঝুরিছে করুণ রাগে।।
এ কী এ বেদনা আজি আমার ভুবন ঘিরে,
ওগো অশান্ত মম, ফিরে এসো, এসো ফিরে।
বুলবুলি এলে বনে বলে যাহা বনলতা —
সাধ যায় কানে কানে আজি বলিব সে কথা,
ভুল বুঝিও না মোরে বলিতে পারিনি আগে।।

বাণী

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি।
তুমি দেখাইলে মহিমান্বিতা নারী কী শক্তিমতী।।
শিখালে কাঁকন চুড়ি পরিয়াও নারী,
ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারি,
না রহিত অবরোধের দুর্গ, হতো না এ দুর্গতি।।
তুমি দেখালে নারীর শক্তি স্বরূপ – চিন্ময়ী কল্যাণী,
ভারত জয়ীর দর্প নাশিয়া মুছালে নারীর গ্লানি।
তুমি গোলকুন্ডার কোহিনূর হীরা সম
আজো ইতিহাসে জ্বলিতেছে নিরুপম,
রণরঙ্গিণী ফিরে এসো,
তুমি ফিরিয়া আসিলে, ফিরিয়া আসিবে লক্ষী ও সরস্বতী।।

বাণী

কোরাস্	:	চীন ও ভারতে মিলেছি আবার মোরা শত কোটি লোক।
			চীন ভারতের জয় হোক! ঐক্যের জয় হোক! সাম্যের জয় হোক।
			ধরার অর্ধ নরনারী মোরা রহি এই দুই দেশে,
			কেন আমাদের এত দুর্ভোগ নিত্য দৈন্য ক্লেশে।
পুরুষ কন্ঠ	:	সহিব না আজ এই অবিচার —
কোরাস্	:	খুলিয়াছে আজি চোখ॥
			প্রাচীন চীনের প্রাচীর মহাভারতের হিমালয়
			আজি এই কথা যেন কয় —
			মোরা সভ্যতা শিখায়েছি পৃথিবীরে-ইহা কি সত্য নয় ?
			হইব সর্বজয়ী আমরাই সর্বহারার দল,
			সুন্দর হবে শান্তি লভিবে নিপীড়িতা ধরাতল।
পুরুষ কন্ঠ	:	আমরা আনিব অভেদ ধর্ম —
কোরাস্	:	নব বেদ-গাঁথা-শ্লোক॥