বাণী

শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে।
আঁখি অনুরঞ্জিত প্রেমানুরাগে।।
	স্বপনে কি শিব এসে
	বর দিল বর-বেশে,
বালিকা বলিতে নারে, শরম লাগে।।
‘কি হয়েছে উমা তোর’ — গিরিরানী সাধে,
কে মাখালো কুম্‌কুম্‌ ভোরের চাঁদে?
	লুকায় মায়ের বুকে
	বলিতে বাধে মুখে,
পাগল শিব ঐ রূপ-ভিক্ষা মাগে।।

বাণী

নিম ফুলের মউ পি’য়ে ঝিম হয়েছে ভোমরা।
মিঠে হাসির নূপুর বাজাও ঝুমুর নাচো তোমরা।।
কভু কেয়া কাঁটায়, কভু বাব্‌লা-আঠায়
বারে বারে ভোমরার পাখা জড়ায়ে গো — পাখা জড়ায়
দেখে হেসে লুটিয়ে পড়ে ফুলের দেশের বউরা।।

বাণী

রংমহলের রংমশাল মোরা আমরা রূপের দীপালি।
রূপের কাননে আমরা ফুলদল কুন্দ মল্লিকা শেফালি।।
	রূপের দেউলে আমি পূজারিণী
	রূপের হাটে মোর নিতি বিকিকিনি,
	নৌবতে আমি প্রাতে আশাবরি,
			আমি সাঁঝে কাঁদি ভূপালী।।
	আমি শরম-রাঙা চোখের নেশা,
	লাল শারাব আমি আঙুর-পেষা,
	আঁখিজলে গাঁথা আমি মোতি-মালা,
			দীপাধারে মোরা প্রাণ জ্বালি।।

বাণী

ধানের ক্ষেতের ঢেউ লেগে আজ প্রাণের বাঁধন ভাঙল রে!
আমার মনের পুঞ্জিত মেঘ অরুণ-রঙে রাঙল রে।।
	নাচ ভুলেছে বনের কেকা
	দ্বন্দ ভুলে’ হলাম একা,
ময়ূরকণ্ঠী শুভ্র-হংস-মালার পরশ লাগল রে।।
মেহেদি ফুলের মঞ্জরি মোর মন কেবলি রঙ লুকায়,
শিলায় দলি’ রূপের কলি, আল্‌তা হবো তাহার পায়।
	জ্বাল দীপালি খোল রে দুয়ার
	আসে শারদ-জ্যোতির জোয়ার,
আবার আনন্দিনীর আগমনের কৃপার আশা জাগল রে।।

বাণী

	এই	যুগল মিলন দেখ্‌ব ব’লে ছিলাম আশায় ব’সে।
	আমি	নিত্যানন্দ হলাম, পিয়ে, মধুর ব্রজ-রসে।।
	রাই	বিষ্ণুপ্রিয়া আর কানাই গৌর
	হের	নদীয়ায় যুগল রূপ সুমধুর,
তোরা	দেখে যা দেখে যা মধুর মধুর।
মধুর রাই আর মধুর কানাইরে দেখে যা দেখে যা মধুর মধুর।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দের গান)

বাণী

এসো মাধব এসে পিও মধু।
এসো মাধবী লতার কুঞ্জ বিতানে (মধু) মাধবী রাতে এসো বঁধু।।
এসো মৃদুল মধুর পা ফেলে
এসো ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজায়ে শ্রবণে অমিয়া মধু ঢেলে,
এসো বাজায়ে বাঁশরি যে সুর-লহরী শুনে কুল ভোলে ব্রজবধূ।।
এসো নিবিড় নীরদ বরণ শ্যাম
তমাল কাননে কাজল বুলায়ে দুলায়ে চাঁচর চিকুর দাম,
এসো বামে হেলায়ে শিখী-পাখা ত্রিভঙ্গ ঠামে এসো বঁধু।।
এসো নারায়ণ এসো অবতার
পার্থসারথি বেশে এসো পাপ কুরুক্ষেত্রে আরবার,
তুমি মহাভারতের ভাগ্যবিধাতা গীতি উদ্গাতা নহ শুধু।।