বাণী

কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়, সে ফিরে ফিরে চায় করুণ চোখে।
তার	স্মৃতি মেশা হায়, চেনা-অচেনায় তারে দেখেছি কোথায়
					যেন সে-কোন্ লোকে।।
শুনি	স্বপ্নে তারি যেন বাঁশি মন-উদাসী
তারি	বার্তা আসে নব মধু-মাসে, পলাশ আশোকে।।
	কৃষ্ণচূড়া তার মালা লুটায় — চৈত্র-শেষে বনের ধূলায়
	কান্না-বিধুর তার ভৈরবী সুর প্রভাতী তারায় অশ্রু ঘনায়,
					চির-বিরহী চিনি ওকে।।

বাণী

দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ তাহে দুঃখ নাই
তুমি যেন অন্তরে মোর বিরাজ করো সর্বদাই॥
	রোগের মাঝে অশান্তিতে
	তুমি থেকো আমার চিতে
তোমার নামের ভজন গীতে প্রাণে যেন শান্তি পাই॥
দুর্দিনেরি বিপদ এলে তোমায় যেন না ভুলি
তোমার ধ্যানে পর্বত প্রায় অটল থাকি, না দুলি।
	সুখের দিনে বিলাস ঘোরে
	ভুলতে নাহি দিও মোরে
আপনি ডেকে নিও কোলে দূরে যদি সরে যাই॥

বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

বাণী

ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
পথহারা, ওরে ঘর-ছাড়া,
	ঘরে আয় ফিরে আয়।।
ফেলে যাওয়া তোর বাঁশরি, রে কানাই —
কাঁদে লুটায়ে ধুলায়,
	ফিরে আয় ঘরে আয়।।
ব্রজে আয় ফিরে ওরে ও কিশোর
কাঁদে বৃন্দাবন কায়দে রাখা তোর
বাঁধিব না আর ওরে ননী-চোর
	অভিমানী ফিরে আয়।।

বাণী

বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা।
পিয়াল বনের পথে নিরালা সাঁঝের বেলা।
হেলে দুলে চলে কে কাঁখে গাগরি,
কাহার ঝিয়ারি, ও কাহার পিয়ারি ওই নবীনা নাগরি।।
নূপুর মিনতি করে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
আমারে রাখিও চরণে বাঁধিয়া,
পিয়া পিয়া ব'লে ডেকে ওঠে পাপিয়া।
অঙ্গ জড়ায়ে দোলে আনন্দে ঘাগরি।।
চাঁদের মুখে যেন চন্দন মাখিয়া
কাজল কালো চোখের কলঙ্ক আঁকিয়া
আকাশ সম ওরে রেখেছে ঢাকিয়া নীলাম্বরী।।

বাণী

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা
সেই ফুলেরি খোশবুতে আজ দুনিয়া মাতোয়ালা।।
সে ফুল নিয়ে কাড়াকাড়ি চাঁদ -সুরুজ গ্রহ-তারায়
ঝুঁকে প'ড়ে চুমে সে ফুল নীল গগন নিরালা।।
সেই ফুলেরি রঙ লেগে আজ ত্রিভুবন উজালা।।
চাহে সে ফুল জ্বীন ও ইনসান হুরপরী ফেরেশতায়
ফকির দরবেশবাদশা চাহে করিতে গরার মালা (তারে)
চেনে রসিক ভ্রমর,বুলবুল সেই ফুলের ঠিকানা
কেউ বলে হযরত মোহাম্মদ (বলে) কেউ বা কমলিওয়ালা।।