বাণী

বাঁকা শ্যামল এলো বন-ভবনে
তার বাঁশির সুর শুনি পবনে॥
	রাঙা সে চরণের নূপুর-রোলে রে
	আকুল এ হৃদয় পুলকে দোলে রে
সে নূপুর শুনি’ নাচে ময়ূর কদম তমাল-বনে॥
	বুঝি সেই শ্যামের পরশ লাগিল
	আমার চরণে তাই নাচন জাগিল —
ঘিরি শ্যামে দখিন-বামে নেচে বেড়াই আপন মনে॥
	এলো মাধবী চাঁদ গগন আঙিনায়
	জোয়ার এসেছে তাই হৃদয় যমুনায়
খুলিয়া গলার মালা পরাব শ্যামেরি বরণে॥

বাণী

বনের মনের কথা ফুল হয়ে জাগে।
কয় না সে কথা তবু তারে ভালো লাগে।।
	শ্যাম পল্লবে তনু ছেয়ে যায়,
	ভরে ওঠে সুরভিত সুষমায়।
ফুটে ওঠে তার না বলা বাণী রক্তিম অনুরাগে।।
বন মর্মরে সেই মৌনীর শুনি মৃদু গুঞ্জন
ললিতার মত তার ভালোবাসা, গভীর-চির গোপন।
	যত সে নিজেরে লুকাইতে চায়,
	তত মধু তার উছলিয়া যায়।
কত সে পলাশে, কত সে অশোকে কত কুঙ্কুম ফাগে।।

বাণী

বাঁশি বাজায় কে কদম তলায় ওলো ললিতে
শুনে সরে না পা পথ চলিতে।।
তার বাঁশির ধ্বনি যেন ঝুরে ঝুরে
আমারে খোঁজে লো ভুবন ঘুরে
(ওসে) কি যেন চাহে মোরে বলিতে।।
আছে গোকুল নগর আরো কত নারী
কত রূপবতী বৃন্দাবন-কুমারী
	আছে গোকুল নগরে।
কেন আমারি নাম লয়ে বংশীধারী
আসে নিতি-নিতি মোরে ছলিতে।
সখি নির্মল কুলে মোর কৃষ্ণ -কালি
কেন লাগালে কালিয়া বনমালী
আমার বুকে দিল তুষের আগুন জ্বালি
আরো কত জনম যাবে জ্বলিতে।।

বাণী

বসিয়া বিজনে		কেন একা মনে
পানিয়া ভরণে		চলো লো গোরী
চলো জলে চলো		কাঁদে বনতল
ডাকে ছলছল		জল-লহরি।।
দিবা চ’লে যায়		বলাকা-পাখায়
বিহগের বুকে		বিহগী লুকায়।
কেঁদে চখা-চাখি		মাগিছে বিদায়
বারোয়াঁর সুরে		ঝুরে বাঁশরি।।
ওগো বে-দরদি		ও রাঙা পায়ে
মালা হয়ে কে গো		গেল জড়ায়ে।
তব সাথে কবি		পড়িল দায়ে
পায়ে রাখি তারে		না গলে পরি।।

বাণী

বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা।
পিয়াল বনের পথে নিরালা সাঁঝের বেলা।
হেলে দুলে চলে কে কাঁখে গাগরি,
কাহার ঝিয়ারি, ও কাহার পিয়ারি ওই নবীনা নাগরি।।
নূপুর মিনতি করে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
আমারে রাখিও চরণে বাঁধিয়া,
পিয়া পিয়া ব'লে ডেকে ওঠে পাপিয়া।
অঙ্গ জড়ায়ে দোলে আনন্দে ঘাগরি।।
চাঁদের মুখে যেন চন্দন মাখিয়া
কাজল কালো চোখের কলঙ্ক আঁকিয়া
আকাশ সম ওরে রেখেছে ঢাকিয়া নীলাম্বরী।।

বাণী

বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ, হে ইন্দ্রানী,
জাগো, জাগো করে সুধা-পাত্রখানি।।
রোদন-সায়রে ধুয়ে পুষ্পতনু
এসো অশ্রুর বরষার ইন্দ্র-ধনু,
হের কুলে অনুরাগে জীবন-দেবতা জাগে
	ধরিবে বলিয়া তব পদ্মপাণি।।
তব দুখ-রাত্রির তপস্যা শেষ- এলো শুভ দিন,
অতল-তমসা-লক্ষ্মী গো তুমি অমরার
এসো এসো পার হ'য়ে ব্যথার পাথার।
অশ্রুত অশ্রুর নীরবতা কর দূর
	কূলে কূলে হাসির তরঙ্গ হানি।।