বাণী

বাঁশিতে সুর শুনিয়ে নূপুর রুনঝনিয়ে
	এলে আজি বাদলপ্রাতে।
কদম কেশর ঝুরে পুলকে তোমার পায়ে,
তমাল বিছায়ে ছায়া শ্যামল আদুল গায়ে।
অলকা পথ বাহি আসিলে মেঘের নায়ে,
নাচের তালে বাজিয়া ওঠে চুড়ি কাঁকন হাতে।।
ধানি রঙের শাড়ি ফিরোজা রঙ উত্তরীয়
প'রেছি এ শ্রাবণ দোলাতে দুলিতে প্রিয়।
কেশের কমল-কলি, বনমালী, তুলিয়া আদরে
চাঁচর চিকুরে আপনি পরিও
তোমার রূপের কাজল পরায়ো আমার আঁখি পাতে।।

বাণী

ব্যথার আগুনে হৃদয় আমার
		জ্বলিছে দিবস রাতি গো।
কাঁদিতে আসিলে এ তনু শ্মশানে
		কে তুমি ব্যথার ব্যথী গো॥
মুছিয়া গিয়াছে চন্দনের লেখা
খুলে শুকাইয়া গিয়াছে মন্দারের মালা
নিভেছে আশা দীপ আজি অবেলায়
		কে তুমি রাতের সাথি গো॥

বাণী

বৈকালী সুরে গাও চৈতালি গান, বসন্ত হয় অবসান।
নহবতে বাজে সকরুণ মূলতান।।
নীরব আনমনা পিক চেয়ে আছে দূরে অনিমিখ
ধূলি-ধূসর হলো দিক আসে বৈশাখ অভিযান।।
চম্পা-মালা রবমলিন লুটায় ফুল-ঝরা বন-বীথিকায়,
ঢেলে দাও সঞ্চিত প্রাণের মধু-যৌবন দেবতার পায়।
অনন্ত বিরহ-ব্যথায় ক্ষণিকের মিলন হেথায়
ফিরে নাহি আসে যাহা যায়-নিমেষের মধুতর গান।।

বাণী

বাঁকা শ্যামল এলো বন-ভবনে
তার বাঁশির সুর শুনি পবনে॥
	রাঙা সে চরণের নূপুর-রোলে রে
	আকুল এ হৃদয় পুলকে দোলে রে
সে নূপুর শুনি’ নাচে ময়ূর কদম তমাল-বনে॥
	বুঝি সেই শ্যামের পরশ লাগিল
	আমার চরণে তাই নাচন জাগিল —
ঘিরি শ্যামে দখিন-বামে নেচে বেড়াই আপন মনে॥
	এলো মাধবী চাঁদ গগন আঙিনায়
	জোয়ার এসেছে তাই হৃদয় যমুনায়
খুলিয়া গলার মালা পরাব শ্যামেরি বরণে॥

বাণী

বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি
নীর ভরণে চলে রাধা বিনোদিনী
তার চঞ্চল নয়ন টলে টলমল
যেন দু'টি ঝিনুকে ভরা সাগর জল।।
ও সে আঁখি না পাখি গো
রাই ইতি-উতি চায়
কভু তমাল-বনে কভু কদম-তলায়।
রাই শত ছলে ধীরে পথ চলে কভু কন্টক বেঁধে চরণে
তবু যে কাঁটা-লতায় আঁচল জড়ায় বেণী খুলে যায় অকারণে।
গিয়ে যমুনার তীরে চায় ফিরে ফিরে আনমনে ব'সে গণে ঢেউ
চকিতে কলসি ভরি’লয় তার যেই মনে হয় আসে কেউ।
হায় হায় কেউ আসে না
“ভোলো অভিমান রাধারানী” বলি’ শ্যাম এসে সম্ভাষে না।
রাই চলিতে পারে না পথ আর,
বিরস বদন অলস চরণ শূন্য-কলসি লাগে ভার।
বলি,কালা নাহি এলো যমুনা তো ছিল লইয়া শীতল কালো জল।
কেন ডুবিয়া সে-কলে উঠিলি আবার কাঁদায়ে ভাসাতে ধরাতল।।

বাণী

বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল
উদাসী অশান্ত বায়ে টলে টলমল টলমল।।
	তব রাঙা পদতলে, প্রিয়
	এই শতদলে রাখিয়ো,
বাজাইও মধুকর বীণা অনুরাগ-চঞ্চল।।
ঝড় এলো, এলো এলায়ে মেঘের কুন্তল
তুমি কোথায়, হায়, নিরাশায় ঝরে কমল-দল।
	কেমনে কাটে তব বেলা
	কোথা কোন লোকে একেলা;
দুই কূলে  দুই জন কাঁদি, মাঝে নদী ছলছল।।