বাণী

বন্ধু	পথ চেয়ে চেয়ে
	আকাশের তারা পৃথিবীর ফুল গণি
বন্ধু	ফুল পড়ে ঝরে,তারা যায় মরে
	(ফিরে) এলো না হৃদয়-মণি।।
	কত নদী পেল খুঁজিয়া সাগর
	আমিই পাই না তোমার খবর
বন্ধু	সকলেরি চাঁদ ওঠে রে আমারি চির আঁধার রজনী।।
		যমুনার জলও শুকায় রে বন্ধু
		আমার শুকায় না আঁখি-বারি
	এত কান্দন কাঁদিলে গোকূলে হতাম-ব্রজ-কুমারী
		বন্ধু হতাম রাধা প্যারী।
	মহা পারাবার তারও আছে পার
	আমার দুখের পার নাহি আর
বন্ধু	মণি না পাইনু বৃথায় পুষিনু কাল-বিরহের ফণি
		পুষিনু কাল-বিরহের ফণি।।

বাণী

	বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু
আমি	সুর শুনে তা'র বাউল হয়ে এনু (গো)।।
	ঐ সুরে পড়ে মনে কোন সুদুর বৃন্দাবনে
যেত	নন্দ-দুলাল ব্রজ-গোপাল বাজিয়ে বেণু বনে
পথে	লুটতো কেঁদে গোপাবালা, ভূরতো তৃণ-ধেণু গো
		কেঁদে ভুলতো তৃণ-ধেণু।।
কবে	নদীয়াতে গোরা
ও ভাই	ডেকেছিল এমনি সুরে এমনি পাগল-করা।
কেঁদে	ডাকতো বৃথাই শচীমাতা, সাধতো বসুন্ধরা,
প্রেমে	গ'লে যত নর-নারী যাচতো পদ-বেণু গো
		তারা যাচতো পদ-রেণু।।

বাণী

বরষা ঐ এলো বরষা
আলোর ধারায় জল ঝরঝরি’ অবিরল
ধূসর নীরস ধরা হলো সরসা।।
ঘন দেয়া দমকে দামিনী চমকে
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর ঝমঝম ঝমকে
মনে পড়ে সুদূর মোর প্রিয়তমকে
মরাল মরালীরে হেরি সহসা।।

বাণী

বনে মোর ফুল-ঝরার বেলা, জাগিল একি চঞ্চলতা।(অবেলায়)
এলো ঐ শুকনো ডালে ডালে কোন অতিথির ফুল-বারতা।।(এলো ঐ)
বিদায়-নেওয়া কুহু সহসা এলো ফিরে,
জোয়ার ওঠে দুলে, মরা নদীর তীরে,
শীতের বনে বহে দখিনা হাওয়া ধীরে
			জাগায়ে বিধুর মধুর ব্যথা।।(পরানে)
রুদ্ধ বাতায়ন খুলে দে, চেয়ে দেখি
হেনার মঞ্জরি আবার ফুটেছে কী?
হারানো মানসী ফিরেছে লয়ে কি
			গত বসন্তের বিহ্বলতা।।(পরানে)

বাণী

ব্রজে আবার আসবে ফিরে আমার ননী-চোরা
	আর কাঁদিস্‌নে গো তোরা।
স্বভাব যে ওর লুকিয়ে থেকে কাঁদিয়ে পাগল করা —
	আর কাঁদিস্‌নে গো তোরা।
	আমি যে তার মা যশোদা
	সে আমারেই কাঁদায় সদা,
যেই কাঁদি সে যায় যে ভুলে বনে বনে ঘোরা॥
মথুরাতে আমার গোপাল রাজা হ’ল নাকি,
যেখানে যায়, সে রাজা হয় (তোরে) ভুল দেখেনি আঁখি।
	সে রাজা যদি হয়েই থাকে
	তাই ব’লে কি ভুলবে মাকে,
আমি হব রাজ-মাতা, তাই ওর রাজবেশ পরা॥

বাণী

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে।
তুমি আসিলে না, (হায়!) আশার সূর্য ডুবিল সাগর-নীরে।।
	চলে যাই যদি, চিরদিন মনে
	তোমার সে-কথা রহিবে স্মরণে
শুধু সেই কথা শোনার লাগিয়া হয়তো আসিব ফিরে।।
শুধু সেই আশে হয়তো এ তনু মরণে হবে না লীন
পথ চেয়ে চেয়ে, তব নাম গেয়ে বাজাব বিরহ-বীণ।
	হের গো, আমার যাবার সময় হলো
	তোমার সে-কথা মিথ্যা হবে না বলো,
কোন শুভক্ষণে নিমেষের তরে জড়াবে কন্ঠ ঘিরে।।