বাণী

বন-বিহারিণী	চঞ্চল হরিণী
চিনি আঁখিতে,	চিনি কানন
			নটিনী রে।।
ছুটে চলে যেন	বাঁধ ভাঙ্গা
			তটিনী রে।।
নেচে নেচে চলে	ঝর্ণার
			তীরে তীরে
ছায়াবীথি-তলে	কভু ধীরে চলে,
চকিতে পালায়	ছুটি, ছায়া হেরি,
			গিরি-শিরে।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

বাণী

বনে যায় আনন্দ-দুলাল
বাজে চরণে নূপুরের রুনুঝুনু তাল
বনে যায় গোঠে যায়।
ও কি নন্দ-দুলাল, ও কি ছন্দ-দুলাল
ও কি নন্দন-পথ, ভোলা নৃত্য-গোপাল।।
বেণু-রবে ধেনুগণ আগে যেতে পিছে চায়
ভক্তের প্রাণ গ'লে উজান বহিয়া যায়
লুকিয়ে দেখিতে এলো দেবতারি দল (তায়)
হয়ে কদম তমাল-
ব্রজ-গোপিকার প্রাণ তার চরণে নূপুর
শ্রীমতী রাধিকা তার বাশরির সুর।
সে যে ত্রিলোকের স্বামী তাই ত্রিভঙ্গ-রূপ
করে বিশ্বের রাখালি সে চির-রাখাল।।

বাণী

বাজাও প্রভু বাজাও ঘন বাজাও ভীম বজ্র-বিষাণে দুর্জয় মহা-আহ্বান তব।
বাজাও! অগ্নি তূর্য কাঁপাক সূর্য বাজুক রুদ্রতালে ভৈরব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! নট-মল্লার দীপক-রাগে
জ্বলুক তড়িৎ-বহ্নি আগে,
ভেরির রন্ধ্রে মেঘ-মন্দ্রে জাগাও বাণী জাগ্রত নব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! দাসত্বের এ ঘৃণ্য তৃপ্তি
ভিক্ষুকের এ লজ্জা-বৃত্তি,
বিনাশ জাতির দারুণ এ লাজ, দাও তেজ দাও মুক্তি-গরব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! খুন দাও নিশ্চল এ হস্তে
শক্তি-বজ্র দাও নিরস্ত্রে,
শীর্ষ তুলিয়া বিশ্বে মোদেরও দাঁড়াবার পুন দাও গৌরব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! ঘুচাতে ভীরুর নীচতা দৈন্য
প্রের হে তোমার ন্যায়ের সৈন্য,
শৃঙ্খলিতের টুটাতে বাঁধন আন আঘাত প্রচন্ড আহব।।
দুর্জয় মহা-আহ্বান তব, বাজাও! নিবীর্য্য এ তেজঃসূর্য্যে,
দীপ্ত কর হে বহ্নি-বীর্য্যে,
শৌর্য, ধৈর্য্য মহাপ্রাণ দাও, দাও স্বাধীনতা সত্য বিভব।।

বাণী

বসিয়া বিজনে		কেন একা মনে
পানিয়া ভরণে		চলো লো গোরী
চলো জলে চলো		কাঁদে বনতল
ডাকে ছলছল		জল-লহরি।।
দিবা চ’লে যায়		বলাকা-পাখায়
বিহগের বুকে		বিহগী লুকায়।
কেঁদে চখা-চাখি		মাগিছে বিদায়
বারোয়াঁর সুরে		ঝুরে বাঁশরি।।
ওগো বে-দরদি		ও রাঙা পায়ে
মালা হয়ে কে গো		গেল জড়ায়ে।
তব সাথে কবি		পড়িল দায়ে
পায়ে রাখি তারে		না গলে পরি।।

বাণী

বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে
প্রভাত-ঘাটে, আলোর স্রোতে।।
অসীম বিরহ-রাতের শেষে
কে এলো কিশোর-নাইয়ার বেশে,
বাঁশরি বাজায়ে দুয়ারে এসে —
	ডাকে হেসে অকূল-পথে।।
অঙ্গনে এলা শুভ দিনের আলো,
বুঝি মোর নিরাশার শর্বরী গো পোহালো।
আশাবরি সুরে বেণুকা বাজে
চির-চাওয়া এলো অভিসারে-সাজে,
	পূর্বাচলের ঘাটে অরুণ-রথে।।

বাণী

বনপথে কে যায়।
মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।।
ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম
বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্,
জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।