বাণী

দাসী হতে চাই না আমি হে শ্যাম কিশোর বল্লভ,
আমি তোমার প্রিয়া হওয়ার দুঃখ লব।
	জানি জানি হে উদাসীন
	দুঃখ পাব অন্ত বিহীন
বঁধুর আঘাত মধুর যে নাথ সে গরবে সকল সব।।
তোমার যারা সেবিকা নাথ, আমি নাহি তাদের দলে,
সবর্নাশের আশায় আমি ভেসেছি প্রেম পাথার জলে।
	দয়া যে চায় যাচুক চরণ
	আমার আশা করব বরণ
বিরহে হোক মধুর মরণ, আজীবন সুদূরে রব।।

বাণী

দুর্গম গিরি, কান্তার–মরু, দুস্তর পারাবার হে!
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।।
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ —
ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, কার আছে হিম্মত।
কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত,
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।।
তিমির রাত্রি, মাতৃ–মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদেরে পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।।
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,
কান্ডারী, আজি দেখিব তোমার মাতৃ–মুক্তি–পণ।
’হিন্দু না ওরা মুসলিম’– ওই জিজ্ঞাসে কোন্‌ জন,
কান্ডারী, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র।।
গিরি–সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গরজায় গুরু বাজ —
পশ্চাৎ পথ যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ।
কান্ডারী, তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চল টানি’– নিয়েছ যে মহাভার।।
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান —
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান!
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতেরে করিবে ত্রাণ,
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার।।

বাণী

দেবতা গো, দ্বার খোলো।
অভিসার নিশি বাহির দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রভাত হ’ল॥
	পাষাণের আবরণে তুমি যদি
	এমনি গোপন রবে নিরবধি,
বেণুকার সুরে হৃদি যমুনায় কেন এ লহর তোলো॥
আর	সহিতে পারি না একা,
প্রাণে	কেন দিয়ে আশা এত ভালোবাসা
যদি	নাহি দিবে দেখা।
	বহিতে পারি না আর এই ভার,
	এই ফুল সাজ পূজা-সম্ভার
তুমি	দেখা দেও একবার দেখা দেও —
দেখা	দিয়ে চিরতরে মোরে ভোলো॥

বাণী

দাও দাও দরশন পদ্ম-পলাশ লোচন,
	কেঁদে দু’ নয়ন হ’ল অন্ধ।
আকাশ বাতাস ঘেরা, তব ও মন্দির বেড়া
	আর কতকাল রবে বন্ধ॥
পাখি যেমন সন্ধ্যাকালে, বন্ধু-স্বজন পালে পালে
উড়ে এসে ব’সেছিল ডালে হে।
রাত পোহালে একে এক, উড়ে গেল দিগ্বিদিকে,
	প’ড়ে আছি একা নিরানন্দ।
টুটিল বাঁধন মায়ার, কবে শুনিব এবার
	ও রাঙা চরণ নূপুর ছন্দ॥
দুখ-শোক রৌদ্রজলে, ফেলে মোরে পলে পলে
	ছলিতেছ হরি কত ছল হে
জীবনের বোঝা প্রভু, বহিতে কি হবে তবু
	সহিতে পারি না আর দ্বন্দ্ব।
মরণের সোনার ছোঁওয়ায়, ডেকে লও ও রাঙা পায়
	দেখাও এবার মুখ-চন্দ॥

বাণী

	দিল দোলা ওগো দিল দোলা
কোন	দখিন হাওয়া গজল-গাওয়া
		কুসুম-ছাওয়া বনে।
ওঠে	চমকি চমকি পরান ক্ষণে ক্ষণে।।
	ফুল-বঁধুদের মধু যেচে' বেড়ায় হিয়া নেচে' নেচে'
	দেখেছিলাম স্বপনে যায় পেয়েছি তায় আজকে জাগরণে।।
	কুল ছাপিয়ে মন-তটিনী নটিনীর বেশে, দুলে' দুলে' যায় ভেসে'।
	বস-ভুষণ আজি শাসন নাহি মানে খুশির তুফানে।
চাই	কুঞ্জপথে ঝ'রে যেতে ঝরা ফুলের সনে।।

বাণী

দোলন চাঁপা বনে দোলে —
	দোল-পূর্ণিমা-রাতে চাঁদের সাথে।
শ্যাম পল্লব কোলে যেন দোলে রাধা
	লতার দোলনাতে॥
যেন দেব-কুমারীর শুভ্র হাসি
ফুল হয়ে দোলে ধরায় আসি’
আরতির মৃদু জ্যোতি প্রদীপ-কলি
	দোলে যেন দেউল-আঙিনাতে॥
বন-দেবীর ওকী রুপালি ঝুমকা
	চৈতি সমীরণে দোলে —
রাতের সলাজ আঁখি-তারা
	যেন তিমির আঁচলে।
ও যেন মুঠিভরা চন্দন-গন্ধ
দোলে রে গোপিনির গোপন আনন্দ,
ও কী রে চুরি করা শ্যামের নূপুর —
	চন্দ্র-যামিনীর মোহন হাতে॥