ফের্‌তা

  • অকূল তুফানে নাইয়া কর পার

    বাণী

    অকূল তুফানে নাইয়া কর পার
    পাপ দরিয়াতে ডুবে মরি কান্ডারি
    নাই কড়ি নাই তরী প্রভু পারে তরিবার।।
    থির নহে চিত পাপ-ভীত সদা টলমল
    পুণ্যহীন শূন্য মরু সম হৃদি-তল নাহি ফুল নাহি ফল
    পার কর হে পার কর ডাকি কাঁদি অবিরল
    নাহি সঙ্গী নাহি বন্ধু নাহি পথেরি সম্বল।
    সাহারায় নাহি জল
    শাওন বরিষা সম তব করুণার ধারা
    ঝরিয়া পড়ুক পরানে আমার।।
    
  • আঁখি ঘুম-ঘুম-ঘুম নিশীথ নিঝুম ঘুমে ঝিমায়

    বাণী

    আঁখি ঘুম-ঘুম-ঘুম নিশীথ নিঝুম ঘুমে ঝিমায়।
    বাহুর ফাঁদে স্বপন-চাঁদে বাঁধিতে কারে চায়।।
    আমি কারো লাগি একা নিশি জাগি বিরহ-ব্যথায়
    কোথায় কাহার বুকে বঁধু ঘুমায়
    কাঁদি চাতকিনী মরে তৃষায়
    কুসুম-গন্ধ আজি যেন বিষ-মাখা হায়।।
    	কেন এ ব্যথা এ আকুলতা
    	পরের লাগি এ পরান পুড়ে?
    মরুভূমিতে বারি কি ঝুরে
    আমি যেন ম’রে তোরি রূপ ধ’রে আসি সে যাহারে চায়।।
    
  • আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে

    বাণী

    আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে
    কত আদরে টানি, চুমে বদনখানি
    ফুলকলি লাজে পড়ে বুকে ঢুলে ঢুলে।।
    আসে ফুল-বধূ, বুকে ভরা মধু
    হাসে ভ্রমর-বঁধু কলি সনে দুলে দুলে।।
    সোহাগে গুনগুনিয়ে সব কথা তার কইতে বাকি
    সলাজ ফুল-কুমারীর ঘোমটাখানি খুলতে বাকি,
    গোপনে গোপন বুকের সুধাটুকু লুটতে বাকি,
    না কওয়া যত কথা কানে কানে বলে খুলে।।
    

  • আজি নতুন এ চাঁদের তিথিতে

    বাণী

    আজি নতুন এ চাঁদের তিথিতে
    কোন্ অতিথি এলো ফুল-বীথিতে॥
    যদি বেদনা পায় বঁধু পথ চলিতে
    তাই চেয়েছি বনপথ ফুল কলিতে
    জানি ভাল জান হে বঁধু ফুল দলিতে
    এসো বঁধু সুমধুর প্রীতিতে॥
    এসো মনের মন্দিরে দেবতা আমার
    লহ প্রেমের চন্দন আঁখি জলহার
    আজি সফল করো সাধ আমার পূজার
    চির জনম রহ মোর স্মৃতিতে॥
    
  • আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়

    বাণী

    আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
    অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়।।
    পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
    শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
    মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
    			বিষাদিত নিরালায়।।
    তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
    আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
    জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
    ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
    তোমার হাতে ঢালা —
    দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
    			ভুলাইয়া বেদনায়।।
    

  • আন্‌মনে জল নিতে ভাসিল গাগরী

    বাণী

    আনমনে জল নিতে ভাসিল গাগরী
    সাঁতার জানি না, আনি কলস কেমন করি।।
    জানি না বলিব কি শুধাবে যবে ননদী
    কাহার কথা ভাবে পোড়া মন নিরবধি
    কলসি না ভাসিয়া ভাসিতাম আমি যদি
    কি বলিব কেন মোর ভিজিল ঘাগরী।।
    একেলা কুলবধূ, পথ বিজন, নদীর বাঁকে
    ডাকিল বৌ–কথা–কও কেন হলুদ চাঁপার শাখে
    বিদেশে শ্যাম আমার পড়ল মনে সেই সে ডাকে
    ঠাঁই দে যমুনে, বুকে, আমিও ডুবিয়া মরি।।
    
  • আমার বিছানা আছে বালিস আছে

    বাণী

    শ্যালিকা: জামাইবাবু, বলি ও জামাইবাবু ।
    জামাইবাবু: কে? ও, আমার বিরহতুত শালী বুঝি?
    শ্যালিকা: আহা হা, দিদির বিরহে তোমার চাঁদ মুখ যে অমাবস্যার চাঁদের মত হয়ে উঠেছে । তা, তার বিরহের
    একটা গান শোনাও?
    জামাইবাবু: হ্যাঁ, তা মন্দ বলিস নি ভাই, তা মন্দ বলিস নি। তোর মারফতে যদি আমার দুষ্কের কথা তার কাছে
    গিয়ে পৌঁচয় । শোন্‌ ভাই, শোন্‌।
    আমার বিছানা আছে বালিস আছে বৌ নাই মোর খাটে
    (ওগো) তার বিরহে বারোটা মাস কেমন ক'রে কাটে ও দাদা গো।।
    আ, হাহাহা, বিরহে, বিরহে খাট আমার আধখানা হয়ে গেছে
    বৈশাখ মাস, বৈশাখে প্রাণ ভ'য়সা যেন ধুকে রোদের তাতে (বাবু গো)
    হাত-পাখা আর নড়ে না ভাই রাতে পিয়ার হাতে
    জৈষ্ঠি মাস, জৈষ্ঠি মাসের গরমে হিয়ার গুষ্ঠি শুদ্ধু ফাটে ও দাদা গো।।
    আষাঢ় মাস, আষাঢ় মাসে কট্‌কটে ব্যাঙ ছট্‌ফটিয়ে কাঁদে, উহুহুহুহুহু — বাবা রেএএএ
    ওগো চুলকানি যে উঠলো বেড়ে প্রেমের মইষা দাদে
    শ্রাবণ মাস, শ্রাবণ মাসে রাবুণে প্রেম জাগে জলের ছাটে, ও দাদা গো।।
    ভাদ্র মাস, ভাদ্র মাসে আপনার বৌ হলো ভাদ্র বধূ (বাবু গো)
    আশ্বিন মাসে চাখলাম না হায় পূজার মজার মধু
    আমার পরাণ লাফায় পাঁঠা যেমন দাপায় হাঁড়িকাঠে ও দাদা গো।।
    শ্যালিকা: তারপর কি?
    জামাইবাবু: তারপর? তারপর আর নেই!
    শ্যালিকা: বা-রে! এই তো মাত্র ভাদ্র-আশ্বিন হলো। আর ছ'মাস যে বাকি রইলো।
    জামাইবাবু: না-রে ভাই, আর বাকি নেই, আর বাকি নেই, আর বাকি নেই।
    শ্যালিকা: বলবে না? বলবে না তো? আহা ভাল লাগলো কিনা, তাই এতো খোসামুদি করছি। না গাইবে তো
    যাও, তোমার সঙ্গে আর আমি কখখনো...
    জামাইবাবু : ওরে ওরে ওরে ওরে, শোন্‌ শোন্‌ শোন্‌ শোন্‌, ও ভাবে যাস্‌ নি, যাস্‌ নি। ওরে তুই রাগ করিস নে
    রে ভাই, তুই রাগ করিস নে। দ্যাখ, এই বার মাস বিরহে বিরহে আমার কাটছে। ওরে তুই আমার
    একমাত্র শান্ত্বনা। তুই যদি রাগ করে চলে যাস তাহলে আমার অবস্থাটা কি হবে একবার বোঝ্‌।
    আচ্ছা, গাইছি শোন্‌।
    কার্তিক মাস, হ্যাঁ? কার্তিকে মোর ময়ূরী এই কার্তিককে ফেলে (ওরে)
    ও তার দাদার ঘরের রাধা হয়ে বেড়ায় পেখম মেলে
    শ্যালিকা: যাঃ, ভারি দুষ্টু!
    জামাইবাবু: না, না, সত্যি, সত্যি, সত্যি, শোন্‌ না, শোন্‌ না।
    অঘ্রাণ, অঘ্রাণে ধান কাটে চাষা আমার কেঁদে কাটে ও দাদা গো।।
    পৌষ মাস, পৌষে আমার বৌ সে কোথায় গুড়ের পিঠা খায় (বাবু গো)
    আর হেথায় আমার জিহ্বা দিয়া নাল ঝরিয়া যায়
    মাঘ মাস, ওরে মাঘ মাসে যার মাগ নাই সে যাক না শ্মশান ঘাটে ও বাবু গো।।
    ফাল্গুন মাস, ফাল্গুনে ছাই ডাল-নুনে কি মেটে প্রেমের খিদে
    হাতের কাছে কাকে খুঁজি রাতের বেলায় নিদে (আমি)
    চৈত্র মাস, চৈত্র মাসে মধু খুঁজি হায়রে কদুর বাটে।।
    
  • আমার হৃদয়-বৃন্দাবনে নাচেরে

    বাণী

    মীরা		:	আমার হৃদয়-বৃন্দাবনে নাচেরে গিরিধারী বনমালিয়া।
    			সব সংশয়-ভঞ্জন নিতি মম চিত-রঞ্জন নবীন বারিদ গঞ্জন-কালিয়া।।
    শ্রীকৃষ্ণ		:	তুমি এমন ক’রে আমায় ধ’রে রাখলে চিরদিন
    			আমি এমনি ক’রে যুগে যুগে শুধছি প্রেমের ঋণ,
    			তাই নেমে ধরায় নয়ন ধারায় ভাসায়েছি নদীয়া।।
    মীরা		:	চির উজ্জ্বল হিয়া তলে
    			হে নাথ আসিবে ব’লে
    			রেখেছি প্রেমের শিখা জ্বালিয়া।।
    শ্রীকৃষ্ণ		:	আমারে কাঁদালে আপনি কাঁদিয়া
    মীরা		:	এসো নাথ এসো নাথ
    			ধোয়াব রাতুল চরণ যুগল নয়ন সলিল ঢালিয়া।।
    

    নাটিকা : ‘মীরাবাঈ’

  • আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি

    বাণী

    আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি বোঝনি কি রসিক বঁধূ।
    তুমি মন বোঝ মনোচোর মান বোঝ নাকি হে —
    তুমি ফুল চেন, চেন নাকি মধু?
    তুমি যে মধুবনের মধুকর,
    তুমি মধুরম মধুরম মধুময় মনোহর
    কলহেরি কূলে রহে অভিমান-মধু যে, চেন নাকি বঁধু হে —
    রাগের মাঝে রহে অনুরাগ-মধু যে, দেখ নাকি বঁধু হে —
    কলঙ্কী বলে গগনের চাঁদ প্রতি দিন ক্ষয় হয়
    তুমি নিত্য পূর্ণ চাঁদ সম প্রিয়তম চির অক্ষয়
    এ চাঁদে একাদশী নাই হে —
    শুধু রাধা একা দোষী হলো নিত্য কেন পায় না
    মোর কৃষ্ণ চাঁদে যে একাদশী নাই হে —
    সেই ব্রজগোপীদের ঘর আছে পর আছে
    কৃষ্ণ বিনা নাই রাধার কেহ
    আমিও জানি যেন আমাও শ্রীকৃষ্ণ কেবল রাধাময় দেহ।
    সে রাধা প্রেমে বাঁধা সে রাধা ছাড়া জানে না, রাধাময় দেহ
    সে রাধা প্রেমে বাঁধা।
    
  • আমি কি সুখে লো গৃহে রবো

    বাণী

    আমি কি সুখে লো গৃহে রবো
    সখি গো —
    আমার শ্যাম হলো যদি যোগী ওলো সখি আমিও যোগিনী হবো।
    আমি যোগিনী হবো
    শ্যাম যে তরুর তলে বসিবে লো ধ্যানে
    সেথা অঞ্চল পাতি’ রবো
    আমার বঁধুর পথের ধূলি হবো
    আমায় চলে যেতে দলে যাবে সেই সুখে লো ধূলি হবো
    সখি গো —
    আমি আমার সুখের গোধূলি বেলার
    রঙে রঙে তারে রাঙাইব
    তার গেরুয়া রাঙা বসন হয়ে
    জড়াইয়া রবো দিবস যামী
    সখি গো —
    সখি আমার কঠিন এ রূপ হবে রুদ্রাক্ষেরই মালা
    তার মালা হয়ে ভুলব আমার পোড়া প্রাণের জ্বালা
    আমার এ দেহ পোড়ায়ে হইব চিতা ছাই
    মাখিবে যোগী মোর পুড়িব সেই আশায়
    পোড়ার কি আর বাকি আছে
    আমার শ্যাম গেছে যোগী হয়ে ছায়া শুধু পড়ে আছে।।
    
  • আমি নামের নেশায় শিশুর মতো

    বাণী

    আমি	নামের নেশায় শিশুর মতো ডাকি গো মা ব'লে
    	নাই দিলি তুই সাড়া মা গো নাই নিলি তুই কোলে।।
    		শুনলে 'মা' নাম জেগে উঠি
    		ব্যাকুল হয়ে বাইরে ছুটি
    মাগো	ঐ নামে মোর নয়ন দু'টি ভ'রে ওঠে জলে।।
    	ও নাম আমার মুখের বুলি ও নাম খেলার সাথি
    	ও নাম বুকে জড়িয়ে ধ'রে পোহাই দুখের রাতি।
    		মা হারানো শিশুর মতো
    		যপি ও নাম অবিরত
    মা	ঐ নামের মন্ত্র আমার বুকে কবচ হয়ে দোলে।।
    
  • আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে

    বাণী

    আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে ল’য়ে তোমার নাম।
    আমার একতারাতে বাজে শুধু তোমারই গান, শ্যাম।।
    	নিভিয়ে এলাম ঘরের বাতি
    	এখন তুমিই সাথের সাথি,
    আমি যেখানে যাই সেই সে এখন আমার ব্রজধাম।।
    আমি আনন্দ-লহরি বাজাই নূপুর বেঁধে পায়ে,
    শ্রান্ত হ’লে জুড়াই তনু বন-বীথি বটের ছায়ে।১
    	ভাবনা আমার তুমি নিলে
    	আমায় ভিক্ষা-পাত্র দিলে
    কখন তুমি আমার হবে পূরবে মনস্কাম।।
    

    ১. শ্রান্ত হলে জুড়াই তবু বংশী-বটের ছায়ে।

  • আমি যদি বাবা হতুম বাবা হ’ত খোকা

    বাণী

    আমি যদি বাবা হতুম বাবা হ’ত খোকা
    না হলে তার নাম্‌তা পড়া মারতাম মাথায় টোকা।।
    	রোজ যদি হ’ত রবিবার!
    	কি মজাটাই হ’ত গো আমার!
    কেবল ছুটি! থাকত নাক’ নামতা লেখাজোঁখা
    থাকত না কো যুক্ত অক্ষর, অঙ্কে ধর্‌ত পোকা।।
    
  • আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে

    বাণী

    আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে
    শিশু নবী আহমদ রূপের লহর তুলে।।
    রাঙা মেঘের কাছে ঈদের চাঁদ নাচে
    যেন নাচে ভোরের আলো গোলাব গাছে।
    চরণে ভ্রমরা গুঞ্জরে গুল ভুলে।।
    সে খুশির ঢেউ লাগে আরশ কুরসি পাশে
    হাততালি দিয়ে হুরী সব বেহেশতে হাসে
    সুখে ওঠে কেঁপে হিয়া চরণ মূলে।।
    চাঁদনি রাঙা অতুল মোহন মোমের পুতুল
    আদুল গায়ে নাচে খোদার প্রেমে বেভুল
    আল্লার দয়ার তোহ্ফা এলো ধরার কূলে।।
    
  • এ কি অপরূপ রূপের কুমার

    বাণী

    এ কি অপরূপ রূপের কুমার হেরিলাম সখি যমুনা কূলে,
    তার	এ সুনীল লাবনি গলিয়া গলিয়া ঢলিয়া পড়িছে গগন-মূলে ॥
    যেন	কমল ফুটেছে সখি, সহস্র-দল রূপে-কমল ফুটেছে,
    	রূপের সাগর মন্থন করি’ সখি চাঁদ যেন উঠছে। সখি গো —
    	কালো সে রূপের মাঝে হয়ে যায় হারা
    	কোটি আলো-রাধিকা-রবি, শশী, তারা,
    	প্রেম-যমুনার তীরে সই আমি রিবধি দেখি তারে,
    		দেখি আর চেয়ে রই।
    	আমি এই রূপ চেয়ে থাকি
    সখি	জনমে জনমে জীবনে মরণে এই রূপ চেয়ে থাকি।
    ঐ	মোহন কালোর গহন কাননে হারাইয়া যাক আঁখি ॥
    
  • এবারের পূজা মাগো দশভূজা

    বাণী

    মা-মা-মা-মা-মা-মাগো
    এবারের পূজা মাগো দশভূজা বড় দুর্গতিময়।
    পড়েছিস এ.বি.সি.ডি? বুঝিস ব্ল্যাক আউট কারে কয়?
    ব্ল্যাক আউট মানে যত কালো ছিল বাহির হয়েছে মাগো
    যত আলো ছিল যত ভালো ছিল, সকলেরে বলে ভাগো।
    ডাইনে বাঁ ধারে ভীষণ আঁধারে হাঁটু কাঁপে আর হাঁটি
    আমড়ার মত হয়ে আছি মাগো চামড়া এবং আঁটি।
    নন্দী ভৃঙ্গী সিঙ্গি যাইলে তাহারাও ভয় পাবে
    তাদের দিব্য দৃষ্টি লয়েও মাগো আঁধারে হোঁচট খাবে।
    বলি বিগ্রহ তোর কে দেখিতে যাবে মা কুগ্রহের ফেরে
    বিড়ি খেয়ে ফেরে গুন্ডারা যদি দেয় মাগো ভুঁড়ি ফেড়ে।
    মা তুই বর দেওয়ার আগেই বর্বরেরা এসে
    ঠেসে ধরে নিয়ে যাবে চিত্রগুপ্তের দেশে।
    চোঁয়া ঢেকুর ওঠে মা মেকুর ডাকিলে কেঁদে উঠি ওঙা ওঙা;
    ঢেঁকির আওয়াজ শুনলে মাগো ভয়ে খাড়া হয়ে ওঠে রোঁয়া।
    সত্য পথে মা চলিতে পারি না পথে কাদা রাখে ফেলে
    উচিত কথা মাগো বলিতে পারি না চিৎ করে দেয় ফেলে।
    এ চিতে শক্তি দে মা চিৎ করবো ভয়কে
    বলবো এবার তোরে খাব দে মা মাগো মা।।
    

    নাট্য-গ্রন্থঃ ‘ব্লাক আউট’
    ব্ল্যাক আউট নাট্যগ্রন্থের এই পাঠকে, আদি রেকর্ডের (এন. ২৭২০৬) পাঠের তুলনায়, স্বতন্ত্র গান হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
    [অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি.এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

  • এলো কৃষ্ণ কানাইয়া তমাল বনে সাজো

    বাণী

    এলো কৃষ্ণ কানাইয়া তমাল বনে সাজো ঝুলনের সাজে
    তারে গোপবালিকার মালা পরাব আজি এ রাখাল বাজে।।
    নব নীপমালাপরি আসিল কিশোর হরি
    বাজিল ঘন মেঘে বাঁশরি বৃষ্টিতে নূপুর বাজে।।
    সে এসেছে ঐ মেঘ চন্দন মন্থন তনু গোপী বরণ এসেছে
    নীল লাবনিতে ছাইয়া অবনি বিদ্যুত হাসি হেসেছে।
    ঘনঘটা গগনে দোলা লাগায় মনে মনে।
    দোলা লেগেছে, নয়নে মনে দোলা লেগেছে
    শয়নে স্বপনে দোলা লেগেছে-বাঁধো বাঁধো ঝুলনা
    খোঁপায় পরিয়া দোপাটি মালিকা সাজো সাজো অতুলনা
    নির্দয় হৃদয়হীনে বাঁধিব হৃদয় মাঝে।।
    
  • ও কে উদাসী বেণু বাজায়

    বাণী

    ও কে উদাসী বেণু বাজায়
    ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
    ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
    	গৃহীরে করে সে পরবাসী
    	রস যমুনায় উজান বহায়।।
    মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
    যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
    তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
    	অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।
    

  • ও কে চলিছে বন-পথে

    বাণী

    ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন।
    তারি চপল চরণ-আঘাতে দুলিছে নদী-দোলে ফুলবন।।
    ঝরে ঝর ঝর গিরি -নির্ঝর তার ছন্দ চুরি করে,
    'এলো সুন্দর-এলো সুন্দর'’বাজে বনের মর্মরে।
    	গায় পাখি মেলি আঁখি
    	বলে,বন-দেবী এলো নাকি?
    মধুর রঙ্গে অঙ্গে-ভঙ্গে জাগে শিহরণ।।
    সন্ধ্যায় ঝিল্লির মঞ্জির হতার
    ঝির ঝির শির শির তোলে ঝঙ্কার।
    মধুভাষিণী সুচারু-হাসিনী সে মায়াহরিণী' —
    ফোটালো আঁধারে মরি মরি
    দুলিছে অলকে আঁখির পলকে দোলন-চাঁপার নাচের মতন।।
    
  • ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো

    বাণী

    ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো
    তুই উঠলি রেঙে যেন পাকা কামরাঙ্গার ফল গো।।
    তোর মন আইঢাই কি দেখে কে জানে
    তুই চুন বলে দিস হলুদ বাটা পানে
    তুই লাল নটে শাক ভেবে কুটিস শাড়ির আঁচল গো।।
    তুই এ ঘর যেতে ও ঘরে যাস পায়ে বাধে পা
    বউ তোর রঙ্গ দেখে হাসছে ননদ জা।
    তুই দিন থাকিতে পিদিম জ্বালিস ঘরে
    ওলো রাত আসিবে আরো অনেক পরে
    কেন ভাতের হাঁড়ি মনে ক'রে উনুনে দিস জল গো।।