ফের্‌তা

  • আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়

    বাণী

    আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
    অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়।।
    পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
    শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
    মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
    			বিষাদিত নিরালায়।।
    তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
    আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
    জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
    ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
    তোমার হাতে ঢালা —
    দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
    			ভুলাইয়া বেদনায়।।
    

  • আমি কি সুখে লো গৃহে রবো

    বাণী

    আমি কি সুখে লো গৃহে রবো
    সখি গো —
    আমার শ্যাম হলো যদি যোগী ওলো সখি আমিও যোগিনী হবো।
    আমি যোগিনী হবো
    শ্যাম যে তরুর তলে বসিবে লো ধ্যানে
    সেথা অঞ্চল পাতি’ রবো
    আমার বঁধুর পথের ধূলি হবো
    আমায় চলে যেতে দলে যাবে সেই সুখে লো ধূলি হবো
    সখি গো —
    আমি আমার সুখের গোধূলি বেলার
    রঙে রঙে তারে রাঙাইব
    তার গেরুয়া রাঙা বসন হয়ে
    জড়াইয়া রবো দিবস যামী
    সখি গো —
    সখি আমার কঠিন এ রূপ হবে রুদ্রাক্ষেরই মালা
    তার মালা হয়ে ভুলব আমার পোড়া প্রাণের জ্বালা
    আমার এ দেহ পোড়ায়ে হইব চিতা ছাই
    মাখিবে যোগী মোর পুড়িব সেই আশায়
    পোড়ার কি আর বাকি আছে
    আমার শ্যাম গেছে যোগী হয়ে ছায়া শুধু পড়ে আছে।।
    
  • আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে

    বাণী

    আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে ল’য়ে তোমার নাম।
    আমার একতারাতে বাজে শুধু তোমারই গান, শ্যাম।।
    	নিভিয়ে এলাম ঘরের বাতি
    	এখন তুমিই সাথের সাথি,
    আমি যেখানে যাই সেই সে এখন আমার ব্রজধাম।।
    আমি আনন্দ-লহরি বাজাই নূপুর বেঁধে পায়ে,
    শ্রান্ত হ’লে জুড়াই তনু বন-বীথি বটের ছায়ে।১
    	ভাবনা আমার তুমি নিলে
    	আমায় ভিক্ষা-পাত্র দিলে
    কখন তুমি আমার হবে পূরবে মনস্কাম।।
    

    ১. শ্রান্ত হলে জুড়াই তবু বংশী-বটের ছায়ে।

  • কেঁদো না কেঁদো না মাগো কে বলেছে কালো

    বাণী

    	কেঁদো না কেঁদো না মাগো কে বলেছে কালো?
    	ইষৎ হাসিতে তোর ত্রিভুবন আলো, কে বলেছে কালো।।
    		কে দিয়েছে গালি তোরে, মন্দ সে মন্দ!
    		যে বলেছে কালি তোরে, অনধ সে অন্ধ!
    মোর	তারায় সে দেখে নাই তার নয়ন-তারা য়নাই আলো!
    		তাই তারায় সে দেখে নাই।।
    রাখে	লুকিয়ে মা তোর নয়ন-কমল (মাগো)
    		কোটি আলোর সহস্র দল
    তোর	রূপ দেখে মা লজ্জায় শিব অঙ্গে ছাই মাখালো।।
    তোর	নীল -কপোলে কোটি তারা, চন্দনেরি ফোটার পারা
    		ঝিকিমিকি করে গো —
    মা	তোর দেহলতায় অতুল কোটি রবি -শশীর মুকুল
    		ফোটে আবার ঝরে গো —
    তুমি	হোমের শিখা বহ্নি- জ্যোতি, তুমি স্বাহা দীপ্তিমতী
    	আঁধার ভুবন ভবনে মা কল্যাণ-দীপ জ্বালো
    		তুমি কল্যাণ-দীপ জ্বালা।।
    

  • কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া

    বাণী

    কেন		প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
    		কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া গো।
    আমি		যত ভুলি ভুলি করি, তত আঁকড়িয়া ধরি
    		শ্যামের সে রূপ ভোলা কি যায়, নিখিল শ্যামল যার শোভায়
    		আকাশে সাগরে বনে কান্তারে লতায় পাতায় সে রূপ ভায়।
    আমার		বঁধুর রূপের ছায়া বুকে ধরি’ আকাশ-আরশি নীল গো
    বহে		ভুবন প্লাবিয়া কালারে ভাবিয়া কালো সাগর-সলিল গো। সখি গো —
    		যদি ফুল হয়ে ফুটি তরু-শাখে, সে যে পল্লব হয়ে ঘিরে থাকে। সখি গো —
    আমি		যেদিকে তাকাই হেরি ও-রূপ কেবল
    সে যে		আমারি মাঝারে রহে করি’ নানা ছল
    সে যে		বেণী হয়ে দোলে পিঠে চপল চতুর।
    সে যে		আঁখির তারায় হাসে কপট নিঠুর।
    		তারে কেমনে ভুলিব, সখি কেমনে ভুলিব।
    থাকে		কবরী-বন্ধে কালো ডোর হয়ে কাল্‌ফণী কালো কেশে গো
    থাকে		কপালের টিপে, চোখের কাজলে কপোলের তিলে মিশে’ গো!
    আমার 	এ-কূল ও-কূল দু’কূল গেল।
    		কূলে সই পড়িল কালি সেও কালো রূপে এলো।
    রাখি		কি দিয়া মন বাঁধিয়া, বাঁধিয়া বাঁধিয়া বাঁধিয়া গো।।
    

  • ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়

    বাণী

    ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়।
    খুলে পড়ে গো বাজুবন্দ ধরিতে আঁচল
    কোন ঘূর্ণি বাতাস এলো ছন্দ-পাগল
    লাগে নাচের ছোঁয়া দেহের কাঁচ মহলায়
    হয়ে পায়েলা উতলা সাধে ধরিয়া পায়।।
    খুলিয়া পড়ে খোঁপায়, কবরীর ফুলহার
    হাওয়ার এই রূপে গো এলো কি বঁধু আমার
    এমনি দুরন্ত আদর সোহাগ তার
    একি পুলক-শিহরেণে পরান মূরছায়।।
    

  • গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল

    বাণী

    গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল যুগে যুগে হ’য়ো প্রিয়
    জনমে জনমে বঁধু তব প্রেমে আমারে ঝুরিতে দিও॥
    	তুমি চির চঞ্চল চির পলাতকা
    	প্রেমে বাঁধা প’ড়ে হ’য়ো মোর সখা
    মোর জাতি কুল মান তনু মন প্রাণ হে কিশোর হ’রে নিও॥
    রাধিকার সম কুব্জার সম রুক্সিণী সম মোরে
    গোকুল মথুরা দ্বারকায় নাথ রেখো তব সাথী করে।
    	গোপনে চেয়ো সব শত গোপীকায়
    	চন্দ্রাবলী ও সত্যভামায়
    তেমনি হে নাথ চাহিও আমায় লুকায়ে ভালেবাসিও॥
    
  • ঘরে কে গো বলি ঘরে কে

    বাণী

    [সংলাপঃ পুরুষ: ঘরে কে গো? (দরজায় টোকার শব্দ)
    বলি ঘরে কে? (আবার টোকার শব্দ) শালাজ নাকি —
    ও হো-হো-হো-হো...]
    পুরুষ	:	ঘরে কে গো? বলি ঘরে কে, শালাজ নাকি?
    		এ যে মোর গোয়ালের গাই।
    স্ত্রী	:	ও ছোট ঠাকুর ঝি, ওলো আয় আয়,
    		দেখে যা এসেছে নন্দাই। এ যে মোর ননদের ভাই।
    পুরুষ	:	দেখ, রাত্রি জেগে গুনব কত চালের কড়ি কাঠ
    স্ত্রী	:	তাইতো, আগে হয়নি সারা আমার ঘর কন্নার পাট।
    পুরুষ	:	তোমার কাজের মাথায় মারো লাঠি
    স্ত্রী	:	আমি নিয়ে শীতল পাটি মাস-শাশুড়ির পা টিপিতে যাই।
    পুরুষ	:	ওগো শুনছো! শোনো শোনো শোনো না — সত্যি সত্যি চললে,
    		নতুনতর ঝুমকোর এক নমুনা এনেছি (আমি)।
    স্ত্রী	:	অ্যা, তাই নাকি!
    পুরুষ	:	হ্যা — গো — হ্যা।
    স্ত্রী	:	কাল চাল ডাল বাছবো, চল এই আমি আসিতেছি
    		ওগো এই আমি আসিতেছি
    পুরুষ	:	না না, ও তোমায় পা টিপিতে বলেছিলেন কি ভাবিবেন মাসি
    স্ত্রী	:	আমার গা করছে বমি বমি তাকে বলে আসি।
    পুরুষ	:	এমন শ্যাকরার মত বিন্দে দূতি কলিকালের বৃন্দাবনে নাই॥
    		বেঁচে থাক বাবা শ্যাকরার পো হুল্লোড় ঘটালে তবে ছাড়লে॥
    
  • তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত

    বাণী

    তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত।
    যত চাহি তত কাঁদি, আমার মেটে না হসরত।।
    কোথায় আরব কোথায় এ হিন্দ্
    নয়নে মোর নাই তবু নিন্দ
    প্রাণে শুধু জাগে (তোমার) মদিনার ঐ পথ।।
    কে বলে তুমি গেছ চলে হাজার বছর আগে
    আছ লুকিয়ে তুমি প্রিয়তম আমার অনুরাগে।
    মোর অন্তরের হেরা গুহায়
    আজো তোমার ডাক শোনা যায়
    জাগে আমার মনের কাবা ঘরে তোমারি সুরত —
    	হজরত তোমারি সুরত।।
    যারা দোজখ হতে ত্রাণের তরে তোমায় ভালোবাসে
    আমার এ প্রেম দেখে তারা কেউ কাঁদে কেউ হাসে।
    তুমি জান হে মোর স্বামী, শাফায়াৎ চাহি না আমি
    আমি শুধু তোমায় চাহি তোমার মুহব্বত
    	হজরত তোমার মুহব্বত।।
    
  • নাইয়া ধীরে চালাও তরণী

    বাণী

    	নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী
    	একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।।
    	হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে
    	যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে
    ঐ	ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস
    তায়	চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে
    	পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।।
    	তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্
    	একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্।
    	দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী
    	কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল ।
    	ওঠে ডিঙি পান্‌সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।
    
  • পথে কি দেখলে যেতে আমার

    বাণী

    পথে কি দেখলে যেতে আমার গৌর দেবতারে।
    যা’রে কোল যায় না দেওয়া, কোল দেয় সে ডেকে তারে।।
    নবীন সন্ন্যাসী সে রূপে তার পাগল করে
    আঁখির ঝিনুকে তা’র অবিরল মুক্তা ঝরে।
    কেঁদে সে কৃষ্ণের প্রেম ভিক্ষা মাগে দ্বারে দ্বারে।।
    জগতের জগাই-মাধাই মগ্ন যারা পাপের পাঁকে
    সকলের পাপ নিয়ে সে সোনার গৌর-অঙ্গে মাখে।
    উদার বক্ষে তাহার ঠাঁই দেয় সকল জাতে
    দেখেছ প্রেমের ঠাকুর সচল জগন্নাথে?
    একবার বললে হরি যায় নিয়ে সে ভবপারে।।
    
  • বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ

    বাণী

    বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ বন্ধনে কাঁদিছে শ্যাম রাই।
    মিলনের মাঝে এত বেদনা যে বাজে গো – দেখি নাই, শুনি নাই।।
    সাগরে মিশে নদী, তবু কাঁদে নিরবধি, বুঝি না কেন গো –
    বুকে যত পায়, তত তৃষ্ণা বেড়ে যায়, সাধ মেটে না যেন গো।।
    সাধ কি মেটে গো চাঁদকে হেরে চকোরিণীর সাধ কি মেটে গো –
    মেঘ দেখে চাতকিনীর সাধ কি মেটে গো।
    হের, নব নাগরি নব নাগর মাতিল প্রেম-রসে,
    নব প্রভাত-কমলে যেন বন ভ্রমর বসে।
    নব সোনার শতদলে যেন নব মেঘের ছায়া
    কনকমালা ঘিরিল যেন বন নীল গিরি কায়া।
    গিরিধারীরে ধরিল, ধিরিধিরি রাধা গিরিধারীরে ধরিল।।
    আধ অধরে ধরে নাক’ হাসি, আধ-অধরে বাঁশি,
    হেরি’ আধ অঙ্গ দাস হতে চায়, আধ অঙ্গ দাসী;
    শ্রীচরণ ঘিরিয়া মন মধুকর গাহে, চরণাম্বুজ-রজ মাধুকরী চাহে।।
    বলে, ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও –
    ওই চরণ কমল-মধু ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও,
    ঐ যুগল-রূপ রাধা-শ্যাম দেখি যেন অবিরাম (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
    আমি আনন্দ-যমুনা হয়ে, চরণ ধুয়ে যাব বয়ে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
    আমি নিত্য হৃদি-ব্রজধামে
    হেরিব মোর রাধা-শ্যামে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)।।
    

    বেতার গীতিচিত্রঃ ‌‘যুগল মিলন’

  • মাকে আদর করে কালী বলি

    বাণী

    মাকে আদর করে কালী বলি সে সত্যি কালো নয় রে।
    তার ঈষৎ হাসির এক ঝলকে জগৎ আলো হয় রে,
    			ত্রি-জগৎ আলো হয় রে।।
    (কালো নয় কালো নয়, চরণে যার মহাকাল
    পায়ের নখে চাঁদের মালা, কালো নয় কালো নয়)
    			সত্যি কালো নয় রে।।
    (আমরা) আপনভোলা পাগলী গিরিবালা
    মুন্ডামালায় মনে করে কুন্দফুলের মালা;
    (রয়) মরা-ছেলে বুকের ধ’রে শ্মশানে তন্ময় রে,
    রয় শ্মশানে তন্ময় রে।
    শ্মশানে সে থাকে ব’লে ভয়ঙ্করী নয় রে!
    (ভবের) খেলা-শেষে সকলেরে দেয় সে বরাভয় রে।।
    (সে) মারে যাকে, মালা করে তারেও পরে রয় রে!
    (সেই) তামসিকও যায়রে তরে (মাকে) তামসী যে কয় রে।।
    
  • মার্‌হাবা সৈয়দে মক্কী-মদনী

    বাণী

    মার্‌হাবা সৈয়দে মক্কী-মদনী আল্-আরবি।
    বাদ্‌শারও বাদশাহ্ নবীদের রাজা নবী।।
    ছিলে মিশে আহাদে, আসিলে আহমদ হয়ে
    বাঁচাতে সৃষ্টি খোদার, এলে খোদার সনদ ল’য়ে,
    মানুষে উদ্ধারিলে মানুষের আঘাত সয়ে —
    মলিন দুনিয়ায় আনিলে তুমি যে বেহেশ্‌তী ছবি।।
    পাপের জেহাদ-রণে দাঁড়াইলে তুমি একা
    নিশান ছিল হাতে ‘লা-শরীক আল্লাহ্’ লেখা,
    গেল দুনিয়া হতে ধুয়ে মুছে পাপের রেখা —
    বহিল খুশির তুফান উদিল পুণ্যের রবি।।
    
  • রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি

    বাণী

    রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি’ —
    নাচিছে আরবি নটিনী বাঁদি।।
    বেদুঈনী সুরে বাঁশি বাজে
    রহিয়া রহিয়া তাঁবু মাঝে,
    সুদূরে সে-সুরে চাহে ঘোম্‌টা তুলিয়া শাহজাদী।।
    যৌবন-সুন্দর নোটন কবুতর নাচিছে মরু-নটী
    গাল যেন গোলাপ কেশ যেন খেজুর-কাঁদি।।
    চায় হেসে হেসে চায় মদির চাওয়ায়,
    দেহের দোলায় রং ঝ’রে যায় ঝর্‌ঝর্‌,
    ছন্দে দুলে ওঠে মরু মাঝে আঁধি।।
    
  • সখি বল কোন দেশে যাই

    বাণী

    সখি বল কোন দেশে যাই।
    সে বৃন্দা আছে সে বন আছে তবু সে বৃন্দাবন নাই —
    গোবিন্দ বিনে লো বৃন্দে (বৃন্দে গো) রাধার বৃন্দাবন হয়েছে আঁধার।
    বনে সীতার ছিল যে রাম, মোর বনে নাই ঘনশ্যাম।
    আমি কি লয়ে থাকি, কেন দেহ রাখি।
    পিঞ্জর আছে প'ড়ে, নাই শ্যাম পাখি,
    আর ময়ূর ডাকে না 'কে গো' বলিয়া।
    পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
    কৃষ্ণপ্রিয়া গো 'প্রিয়া প্রিয়া' বলে পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
    পথে পথে আর রহে না গো ব্রজগোপিনী আড়ি পাতিয়া।
    আজি রাধার সাথে সবার আড়ি,
    কৃষ্ণপ্রিয়ার কৃষ্ণ গেছে ছাড়ি'
    তাই রাধার সাথে সবার আড়ি, সখি গো —
    শুকায়ে গিয়াছে দ্বাদশ কুঞ্জ,
    পূর্ণ চাঁদেরই ব্রজে একাদশীর তিথি,
    হয়ত আবার বাজিবে বেণু তার, রবে না ব্রজে যবে রাধার স্মৃতি।।
    
  • সাবিত্রী সমান হও লহ লহ এই আশিষ

    বাণী

    সাবিত্রী সমান হও, লহ লহ এই আশিষ।
    শ্বশুর শাশুড়ির মা বাপের, কুলের তারা হয়ে হাসিস।।
    রামের মত স্বামী পাস, সতী হ’স সীতার সম
    দশরথ কৌশল্যার মত শ্বশুর শাশুড়ি অনুপম।
    লক্ষ্মণ সম দেবর পেয়ে সুখের সায়রে ভাসিস।।
    গোয়ালে গরু, মরায়ে ধান সিঁথেয় সিঁদুর, মুখে পান
    আল্‌তা পায়ে চির-এয়োতি যায় সুখে দিন এক সমান
    অন্নপূর্ণা জগৎ জীবের মা হয়ে ফিরে আসিস।।
    সভা-উজ্জ্বল জামাই পাস ভুবন-উজ্জ্বল দুঃখ পাস
    ধরার মত সহ্য পাস জন্মায়স্তে কাল কাটাস।
    পাকা চুলে পরিস্ সিঁদুর হয়ে থাকিস্ স্বামীর গো।
    বেঁচে থাকিস্ যতকাল অক্ষয় থাক তোর হাতের নো।
    পুত্র দিয়ে স্বামীর কোলে গঙ্গাজলে দেহ রাখিস।।
    

    নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

  • সুবল সখা এই দেখ্ এই পথে

    বাণী

    সুবল সখা! এই দেখ্ এই পথে তাহার, সোনার নূপুর আছে পড়ে,
    	বৃন্দাবনের বনমালী গেছে রে ইে পথ ধরে।
    	হরি চন্দন গন্ধ পথে পথে পাই
    	ঝরা ফুলে ছেয়ে আছে বনবীথি তাই।
    	ভ্রমে ভ্রমর শ্রীচরণ-চিহ্ন ঘিরে
    	রাঙ্গা কমল ভ্রমে, ভ্রমে শ্রীচরণ-চিহ্ন ঘিরে।
    	ভাসে বাঁশির বেদন তার মৃদু সমীরে।
    	তারে খুঁজবো কোথায় — সেই চোরের রাজায় খুঁজবো কোথায়?
    	তারে খুঁজলে বনে, মনে লুকায়, চোরের রাজায় খুঁজবো কোথায়?
    	সুবল রে —
    	শ্রীদাম দেখেছে তারে রাখাল দলে,
    	গোপিনীরা দেখিয়াছে যমুনা-জলে।
    	বাঁশরি দেখেছে তারে কদম শাখায়
    	কিশোরী দেখেছে তারে ময়ূর পাখায়।
    	বৃন্দা এসেছে দেখে রাজা মথুরায়,
    	যশোদানন্দ বলে কোলে সে ঘুমায়।
    	জানি না কোথায় সে দে রে দেখায়ে দে কোথা ঘনশ্যাম
    	কবে বুকে পাব তারে, মুখে জপি যাঁর নাম।।
    
  • সোনার বরণ কন্যা গো এসো আমার সোনার নায়ে

    বাণী

    পুরুষ	:	সোনার বরণ কন্যা গো, এসো আমার সোনার নায়ে
    		চল আমার বাড়ি
    স্ত্রী	:	ওরে অচিন দেশের বন্ধুরে,
    		তুমি ভিন্ গেরামের নাইয়া আমি ভিন্ গেরামের নারী।
    পুরুষ	:	গয়না দিব বৈচী খাড়ু শাড়ি ময়নামতীর।
    স্ত্রী	:	গয়না দিয়ে মন পাওয়া যায় না কুলবতীর।
    পুরুষ	:	শাপলা ফুলের মালা দেব রাঙা রেশমি চুড়ি।
    স্ত্রী	:	ঐ মন-ভুলানো জিনিস নিয়ে (বন্ধু) মন কি দিতে পারি?
    পুরুষ	:	(তুমি) কোন্-সে রতন চাও রে কন্যা, আমি কি তা জানি?
    স্ত্রী	:	তোমার মনের রাজ্যে আমি হ’তে চাই রাজরানী।
    দ্বৈত	:	হইও সাক্ষী তরুলতা পদ্মা নদীর পানি (আরে ও)
    		(আজি) কূল ছাড়িয়া দু’টি প্রাণী অকূলে দিল পাড়ি॥
    
  • হৃদি-পদ্মে চরণ রাখো বাঁকা ঘনশ্যাম

    বাণী

    নারদ	:	হৃদি-পদ্মে চরণ রাখো বাঁকা ঘনশ্যাম।
    ধ্রুব	:	বাঁকা শিখী-পাখা নয়ন বাঁকা বঙ্কিম ঠাম॥
    নারদ	:	তুমি দাঁড়ায়ো ত্রিভঙ্গে!
    ধ্রুব	:	অধরে মুরলী ধরি দাঁড়ায়ো ত্রিভঙ্গে॥
    নারদ	:	সোনার গোধূলি যেন নিবিড় সুনীল নভে
    		পীতধড়া প’রো কালো অঙ্গে (হরি হে)
    ধ্রুব	:	নীল কপোত সম চরণ দুটি
    		নেচে যাক অপরূপ ভঙ্গে (হরি হে)
    উভয়	:	যেন নূপুর বাজে
    		হরি সেই পায়ে যেন নূপুর বাজে।
    		বনে নয় শ্যাম মনোমাঝে যেন নূপুর বাজে।
    		ঐ চরণে জড়ায়ে পরান আমার
    		(যেন) মঞ্জির হয়ে বাজে॥
    

    চলচ্চিত্রঃ ‘ধ্রুব’ (ধ্রুব ও নারদের গান)