বাণী

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর।
ডাকছে পাখি, ‘বৌ গো জাগো’ আর ঘুমায়ো না, রাত্রি ভোর।।
যুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায় চুম্‌কুড়ি দেয় মৌমাছি
শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর।।
ঘোম্‌টা ঠেলি’ কয় চামেলি গোল ক’রো না গুল্‌-ডাকাত,
ঢুলছে নয়ন, দুলছে গলায় বেল-টগরের ছিন্ন ডোর।।
গুন্‌গুনিয়ে মোর আঙিনায় কোন্‌ সতীনের গাইছ গুন্‌
কার মালঞ্চে ফুল ফোটায়ে হুল ফোটালে বক্ষে মোর।।

বাণী

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো
খোঁপা খুলে কেশ হলো বাউল লো।।
পথে সে বাজালো মোহন–বাঁশি
তোর ঘরে ফিরে যেতে হলো এ ভুল লো।।
কে নিল কেড়ে তোর পৈঁচী চুড়ি
বৈঁচি মালায় ছি ছি খোয়ালি কুল লো।।
ও সে বুনা পাগল পথে বাজায় মাদল
পায়ে ঝড়ের নাচন শিরে চাঁচর চুল লো।।
দিল নাকেতে নাকছাবি বাবলা ফুলি
কুঁচের চুড়ি আর ঝুঁমকো ফুল দুল লো।।
সে নিয়ে লাজ দু’কূল দিল ঘাঘরি
সে আমার গাগরি ভাসালো জলে বাতুল লো।।

নাটকঃ মহুয়া

বাণী

পুরুষ	:	কোথায় গেলে পেঁচা-মুখি একবার এসে খ্যাচ-খ্যাচাও
স্ত্রী	:	বলি, গাই-হারা বাছুরের মতন গোয়াল থেকে কে চ্যাঁচাও॥
পুরুষ	:	(বলি ও শাকচুন্নি, আহাহাহা)
		অমন শ্যাওড়া বৃক্ষ ফেলে, আমার ঘাড়ে কেন এলে গো, ও হো হো
স্ত্রী	:	(বলি ও কালিয়া পেরেত)
		তুমি উনুন-মুখো দেবতা যে তাই
		ছাই-পাঁশের নৈবিদ্যি পাও।
পুরুষ	:	(মরি অরি অরি অরি মরি, কি যে রূপের ছিরি, আহাহাহাহা)
		চন্দ্র-বদন ন্যাপা পোছা
		কুত্‌কুতে চোখ নাকটি বোঁচা গো, ও হো হো
স্ত্রী	:	(বলি ও বেরসো কাট, বলি ও কেলো হুলো)
		তুমি কাঁদলে চোখে কালি বোরোয় কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও
		তুমি কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও।
পুরুষ	:	বলি ও জুজুবুড়ি
স্ত্রী	:	বলি ও ঝাঁকাভূঁড়ি
পুরুষ	:	ও বাবা জুজু
স্ত্রী	:	ও বাবা ঝাঁকা
পুরুষ	:	আহা, চাম্‌চিকে ওই ডানা কাটা
স্ত্রী	:	তুমি যেন পূজোর পাঁঠা
পুরুষ	:	আহা, হার মেনে যায় হাঁড়ি চাঁছা প্রিয়ে যখন খ্যাচ-খ্যাচাও।
স্ত্রী	:	(আ-মরি মরি, কি যে বচন সুধা)
		পিঁপড়ে ধরবে ও প্রাণনাথ তুমি, শিগ্‌গির মুখে ফিনাল দাও॥

বাণী

কত নিদ্রা যাও রে কন্যা		জাগো একটু খানি
যাবার বেলায় শুনিয়া যাই		তোমার মুখের বাণী।।
নিশীথিনীর ঘুম ভেঙে যায়	চন্দ্র যখন হেসে তাকায় গো
চাতাকিনী ঘুমায় কি গো		দেখলে মেঘের পানি।।
ফুলের কুঁড়ি চোখ মেলে চায়	যেই না ভ্রমর বোলে (রে কন্যা)
বসন্ত আসিলে রে কন্যা		বনের লতা দোলে (রে কন্যা)
যারা আছে প্রাণে প্রাণে		জাগে তারা ঘুম না জানে
আমি যখন রইব না গো		(তখন) জাগবে তুমি জানি।।

বাণী

কানে আজো বাজে আমার তোমার গানের রেশ
নয়নে মোর জাগে তোমার নয়নের আবেশ।।
	তোমার বাণী অনাহত
	দুলে কানে দুলের মত
ও গান যদি কুসুম হত সাজাতাম মোর কেশ।।
নদীর ধারে যেতে নারি শুনে তোমার সুর
মনে আনে তোমার গান করুণ বিধুর।
	শুনি বুনো পাখির গীতি
	জাগে তোমার গানের স্মৃতি
পরান আমার যায় যে ভেসে তোমার সুরের দেশ।।

বাণী

কারার ঐ লৌহ-কপাট
ভেঙ্গে ফেল্ কর্‌ রে লোপাট রক্ত-জমাট
শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী!
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ! ধ্বংস-নিশান
উঠুক প্রাচী-র প্রাচীর ভেদি’॥
গাজনের বাজনা বাজা!
কে মালিক? কে সে রাজা? কে দেয় সাজা
মুক্ত-স্বাধীন সত্য কে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান প’রবে ফাঁসি? সর্বনাশী —
শিখায় এ হীন্ তথ্য কে রে?
ওরে ও পাগ্‌লা ভোলা, দেরে দে প্রলয়-দোলা গারদগুলা
জোরসে ধ’রে হ্যাঁচকা টানে।
মার্‌ হাঁক হায়দরী হাঁক্ কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক ডাক ওরে ডাক
মৃত্যুকে ডাক জীবন-পানে॥
নাচে ঐ কাল-বোশেখী, কাটাবি কাল ব’সে কি?
দে রে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি’।
লাথি মার, ভাঙ্‌রে তালা! যত সব বন্দী-শালায় —
আগুন জ্বালা, আগুন জ্বালা, ফেল্ উপাড়ি॥

সিনেমাঃ ‘চট্রগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন’