বাণী

		কে নিবি মালিকা এ মধু যামিনী,
		আয় লো যুবতী কুল কামিনী॥
আমার		বেল ফুলের মালা গুণ জানে গো,
		পরবাসী বঁধুকে ঘরে আনে গো।
আমার		মালার মায়ায় ভালোবাসা পায়
কেঁদে		কাটায় রাতি যে অভিমানিনী॥
আমি		রূপের দেশের মায়া পরী,
(সেই)		আমার মালার গুণে কুরূপা যে সে হয় সুন্দরী।
যে		চঞ্চলে অঞ্চলে বাঁধিতে চায়,
যার		নিঠুর বঁধু সদা পালিয়ে বেড়ায়।
আমার		মালার মোহে ঘরে রহে সে
ফোটে		মলিন মুখে হাসির সৌদামিনী॥

বাণী

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে
হেসে নদীকুলে এলো হেলে দুলে!
	নূপুর রিনিকি ঝিনি বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।
দূরে মন উদাসি বাজে বাঁশের বাঁশি,
	বকুল-শাখে পাপিয়া ডাকে —
হেরিয়া বুঝি এই বন-বালিকায়
	রঙিন সাজে রে, বাজে রে।।
	এ বুঝি নদীর কেউ
তাই অধীর হলো জলে ঢেউ।
	চন্দন-মাখা যেন চাঁদের পুতলি,
	যত চলে তত রূপ ওঠে উথলি
মেঘে লুকালো পরী লাজে রে, বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।

বাণী

কে	তোরে কি বলেছে মা ঘুরে বেড়াস কালি মেখে
ওমা	বরাভয়া ভয়ঙ্করী সাজ পেলি তুই কোথা থেকে।।
	তোর এলাকেশে প্রলয় দোলে
	আমি চিনতে নারি গৌরী বলে।
ওমা	চাঁদ লুকাল মেঘের কোলে তোর মুখে না হাসি দেখে।।
ওমা	শঙ্কর কি গঙ্গা নিয়ে,কাঁদায় তোরে দুঃখ দিয়ে
ওমা	শিবানী তোর চরণ তলে এনেছি তাই শিবকে ডেকে।।

বাণী

পুরুষ	:	কোথায় গেলে পেঁচা-মুখি একবার এসে খ্যাচ-খ্যাচাও
স্ত্রী	:	বলি, গাই-হারা বাছুরের মতন গোয়াল থেকে কে চ্যাঁচাও॥
পুরুষ	:	(বলি ও শাকচুন্নি, আহাহাহা)
		অমন শ্যাওড়া বৃক্ষ ফেলে, আমার ঘাড়ে কেন এলে গো, ও হো হো
স্ত্রী	:	(বলি ও কালিয়া পেরেত)
		তুমি উনুন-মুখো দেবতা যে তাই
		ছাই-পাঁশের নৈবিদ্যি পাও।
পুরুষ	:	(মরি অরি অরি অরি মরি, কি যে রূপের ছিরি, আহাহাহাহা)
		চন্দ্র-বদন ন্যাপা পোছা
		কুত্‌কুতে চোখ নাকটি বোঁচা গো, ও হো হো
স্ত্রী	:	(বলি ও বেরসো কাট, বলি ও কেলো হুলো)
		তুমি কাঁদলে চোখে কালি বোরোয় কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও
		তুমি কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও।
পুরুষ	:	বলি ও জুজুবুড়ি
স্ত্রী	:	বলি ও ঝাঁকাভূঁড়ি
পুরুষ	:	ও বাবা জুজু
স্ত্রী	:	ও বাবা ঝাঁকা
পুরুষ	:	আহা, চাম্‌চিকে ওই ডানা কাটা
স্ত্রী	:	তুমি যেন পূজোর পাঁঠা
পুরুষ	:	আহা, হার মেনে যায় হাঁড়ি চাঁছা প্রিয়ে যখন খ্যাচ-খ্যাচাও।
স্ত্রী	:	(আ-মরি মরি, কি যে বচন সুধা)
		পিঁপড়ে ধরবে ও প্রাণনাথ তুমি, শিগ্‌গির মুখে ফিনাল দাও॥

বাণী

	কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি
	ঝিনুকের বুকে লুকিয়ে থাকে যেমন মোতি।।
	ঐ কলমা জপে যে ঘুমের আগে
	ঐ কলমা জপিয়া যে প্রভাতে জাগে,
	দুখের সংসার যার সুখময় হয়, তা’র —
তার	মুসিবত আসে নাকো, হয় না ক্ষতি।।
	হরদম জপে মনে কলমা যে জন
	খোদায়ী তত্ত্ব তা’র রহে না গোপন
	দিলের আয়না তার হয়ে যায় পাক সাফ
	আল্লার রাহে তার রহে মতি।
সদা	আল্লার রাহে তার রহে মতি।।
	এসমে আজম হতে কদর ইহার
	পায় ঘরে ব’সে খোদা রসুলের দিদার
	তাহারি হৃদয়াকাশে সাত বেহেশত নাচে
	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।
তার	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।

বাণী

কে তুমি এলে হেলে দুলে।
প্রাণের গাঙে লহর তুলে।।
তোমার চটুল চরণ ছন্দে
মন-ময়ূর নাচে আনন্দে,
ঝরে ফুলদল বেণীর বন্ধে —
মেঘের মাধুরী এলোচুলে।।
আমার গানে আমার সুরে
প্রাণে আনে তব নূপুরে,
রূপ-তরঙ্গ খেলিছে রঙ্গে —
ব্যাকুল তনুর কূলে কূলে।।