ভজন

  • অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা

    বাণী

    অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা
    শ্বশুর-বাড়ির ফেরত নয়।
    দশভুজার করিস পূজা
    		ভুলরূপে সব জগতময়।।
    নয় গোরী নয় এ উমা
    মেনকা যার খেতো চুমা
    রুদ্রাণী এ, এযে ভূমা
    		এক সাথে এ ভয়-অভয়।।
    অসুর দানব করল শাসন এইরূপে মা বারে বারে,
    রাবণ-বধের বর দিল মা এইরূপে রাম-অবতারে।
    দেব-সেনানী পুত্রে লয়ে মা
    এই বেশে যান দিগ্বিজয়ে
    সেই রূপে মা’র কর্‌রে পূজা
    		ভারতে ফের আসবে জয়।।
    
  • অ্যগ্যর তুম রাধা হোতে শ্যাম

    বাণী

    অ্যগ্যর তুম রাধা হোতে শ্যাম।
    মেরি তরা বস আঠোঁ প্যহর তুম, রট্‌কে শ্যামকা নাম।।
    বন-ফুলকে মালা নিরালি বন্‌ যাতি নাগন কালি
    কৃষ্ঞ-প্রেমকী ভীক্‌ মাঙ্গনে আতে লাখ্‌ যনম্‌।
    তুম, আতে ইস্‌ বৃজধাম।।
    চুপ্‌কে চুপ্‌কে তুম্‌রে হিরদয় ম বসতা বন্‌সীওয়ালা,
    আওর, ধীরে ধীরে উস্‌কী ধূন সে ব্যঢ়তী মন্‌কি জ্বালা।
    পন-ঘটমে ন্যয়্যন বিছায়ে তুম্‌, র‍্যহতে আস্‌ ল্যগায়ে
    আওর, কালেকে সঙ্গ প্রীত ল্যগাকর্‌ হো জাতে বদনাম।।
    
  • কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা

    বাণী

    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা রাধা রাধা বল্,
    রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ বল্।।
    যোগে খোঁজেন শিব কৃষ্ণ-গোবিন্দে
    ব্রহ্মা পূজেন রাধা-চরণারবিন্দে,
    অধরা যুগল চাঁদে ধরিল প্রেমের ফাঁদে গোপ গোপীদল।।
    (মোর) শ্রীকৃষ্ণে থাকে যেন অটল মতি
    সেই মতি দেন্ মোর রাধা শ্রীমতী,
    মন-বৃন্দাবনে ফোটে কৃষ্ণ নামের ফুল —
    ঝরায়ে সে-ফুল রাই দেন সবে প্রেম-ফল।।
    রাধাকৃষ্ণ বল্ ওরে নর-নারী
    সংসার বনে তোরা যেন শুক-শারি,
    তার, পরানে নিত্য রাস-রসের উল্লাস —
    যাহার হৃদয়ে দোলে মূরতি যুগল।।
    
  • কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর

    বাণী

    		কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর, কেহ বলে তুমি জ্যোতি!
    		আমি জানি প্রভু তুমি যে আমার চির-জনমের পতি।।
    			কেহ বলে তুমি চিরদিন দূরে রহ
    			কেহ বলে, আছে অন্তরে অহরহ,
    যার		যাহা সাধ ডাকে সেই নামে (প্রভু) তোমার নাহিক ক্ষতি।।
    		অন্ধ দেখে না চন্দ্র-সূর্য তবু জানে আলো আছে,
    (আমি) 	দেখিনি, তবুও তোমার প্রকাশ সহজ-আমার কাছে
    			রূপ কি অরূপ কাহারেও নাহি দুষি,
    			নাই দেখি ফুল সুরভি পেয়েই খুশি,
    (আমি)		অঞ্জলি ভরি’ অমৃত চাই, পাত্রে নাহিক মতি।।
    
  • কোথায় তুই খুঁজিস ভগবান্

    বাণী

    কোথায় তুই খুঁজিস ভগবান্, সে যে রে তোরই মাঝে রয়,
    			চেয়ে দেখ সে তোরই মাঝে রয়।
    সাজিয়া যোগী ও দরবেশ খুঁজিস্ যায় পাহাড় জঙ্গলময়।।
    আঁখি খোল্ ইচ্ছা-অন্ধের দল নিজেরে দেখ্ রে আয়নাতে,
    দেখিবি তোরই এই দেহে নিরাকার তাঁহার পরিচয়।।
    ভাবিস্ তুই ক্ষুদ্র কলেবর, ইহাতেই অসীম নীলাম্বর,
    এ দেহের আধারে গোপন রহে সে বিশ্ব-চরাচর।
    প্রাণে তোর প্রাণের ঠাকুর বেহেশ্‌তে স্বর্গে কোথাও নয়।।
    এই তোর মন্দির-মসজিদ এই তোর কাশী-বৃন্দাবন,
    আপনার পানে ফিরে চল কোথা তুই তীর্থে যাবি, মন!
    এই তোর মক্কা-মদিনা, জগন্নাথ-ক্ষেত্র এই হৃদয়।।
    
  • খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল

    বাণী

    খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল।
    রাঙা চরণে মধুর সুরে বাজে নূপুর-তাল॥
    	নবীন নাটুয়া বেশে
    	নাচে কভু হেসে হেসে,
    যাশোমতীর কোলে এসে দোলে কভু গোপাল॥
    ‘ননী দে’ বলিয়া কাঁদে কভু রোহিণী-কোলে,
    জড়ায়ে ধ’রে কদম তরু তমাল-ডালে দোলে।
    	দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গ হ’য়ে
    	বাজায় মুরলী ল’য়ে,
    কভু সে চরায় ধেনু বনের রাখাল॥
    
  • গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম

    বাণী

    গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম কৃষ্ণনাম।
    মহাকাল যে নামের করে প্রাণায়াম।।
    যে নামের গুণে কংস কারার খোলে দ্বার।
    বসুদেব যে নামে যমুনা হ’ল পার।
    যে নাম মায়ায় হল তীর্থ ব্রজধাম।।
    দেবকীর বুকের পাষাণ গলে,
    যে নাম দোলে যশোদার কোলে।
    যে নাম লয়ে কাঁদে রাই রসময়ী,
    কুরুক্ষেত্রে যে নামে হল পান্ডব জয়ী।
    গোলকে নারায়ণ, ভূলোকে রাধাশ্যাম।।
    
  • গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল

    বাণী

    গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল যুগে যুগে হ’য়ো প্রিয়
    জনমে জনমে বঁধু তব প্রেমে আমারে ঝুরিতে দিও॥
    	তুমি চির চঞ্চল চির পলাতকা
    	প্রেমে বাঁধা প’ড়ে হ’য়ো মোর সখা
    মোর জাতি কুল মান তনু মন প্রাণ হে কিশোর হ’রে নিও॥
    রাধিকার সম কুব্জার সম রুক্সিণী সম মোরে
    গোকুল মথুরা দ্বারকায় নাথ রেখো তব সাথী করে।
    	গোপনে চেয়ো সব শত গোপীকায়
    	চন্দ্রাবলী ও সত্যভামায়
    তেমনি হে নাথ চাহিও আমায় লুকায়ে ভালেবাসিও॥
    
  • জগজন মোহন সঙ্কটহারী

    বাণী

    জগজন মোহন সঙ্কটহারী
    কৃষ্ণমুরারী শ্রীকৃষ্ণমুরারী।
    রাম রচাও ত শ্যামবিহারী
    পরম যোগী প্রভু ভবভয়-হারী।।
    গোপী-জন-রঞ্জন-ব্রজ-ভয়হারী,
    পুরুষোত্তম প্রভু গোলক-চারী।।
    বন্‌শী বাজাও ত বন বন-চারী
    ত্রিভুবন-পালক ভক্ত-ভিখারি,
    রাধাকান্ত হরি শিখি-পাখাধারী —
    কমলাপতি জয় গোপী-মনহারী।।
    
  • জগতের নাথ তুমি তুমি প্রভু প্রেমময়

    বাণী

    জগতের নাথ তুমি, তুমি প্রভু প্রেমময়।
    আমি জগতের বাহিরে নহি দেহ চরণে আশ্রয়।।
    যাহাদের তরে আমি খাটিনু দিবস-রাতি,
    (আমার)যাবার বেলায় কেহ তাদের হ’ল না সাথের সাথি।
    সম্পদ মোর পাঁচ ভূতে খায়, কর্ম কেবল সঙ্গে রয়।।
    ভুলিয়া সংসার মোহে লই নাই তোমারি নাম —
    তরাতে এমন পাপী পাবে না হে ঘনশ্যাম।
    শুনেছি তোমারে যদি কাঁদিয়া কেহ ডাকে —
    তুমি অমনি তারে কর ক্ষমা চরণে রাখ তাকে।
    আমি সেই আশাতে এসেছি নাথ যদি তব কৃপা হয়।।
    
  • তিমির বিদারী অলখ-বিহারী কৃষ্ণ মুরারি

    বাণী

    তিমির বিদারী অলখ-বিহারী কৃষ্ণ মুরারি আগত ঐ
    টুটিল আগল নিখিল পাগল সর্বসহা আজি সর্বজয়ী।।
    বহিছে উজান অশ্রু-যমুনায়
    হৃদি-বৃন্দাবনে আনন্দ ডাকে, (ওরে) ‌‘আয়’,
    বসুধা যশোদার স্নেহধার উথলায়
    (ওগো) কাল্‌-রাখাল নাচে থৈ-তা-থৈ।।
    বিশ্ব ভরি' ওঠে স্তব নমো নমঃ
    অরির পুরী-মাঝে এলো অরিন্দম।
    ঘিরিয়া দ্বার বৃথা জাগে প্রহরী জন
    বন্ধ কারায় এলো বন্ধ-বিমোচন,
    ধরি' অজানা পথ আসিল অনাগত
    জাগিয়া ব্যথাহত ডাকে, মাভৈঃ।।
    
  • তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা

    বাণী

    তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা
    মম গৃহ অঙ্গনে এসো সঙ্গী হয়ে আনো আনন্দ বারতা॥
    		পূজা সম্ভারে প্রসন্ন দৃষ্টি হানো
    		শুভ শঙ্খ বাজাও দশদিক জাগানো
    হে মঙ্গলময়! আসি’ অভয় দানো আনো প্রভাত আকাশ সম নির্মলতা॥
    		লহ বিহগের গীতি অভিনন্দন
    		চাঁদের থালিকা হতে গোপীচন্দন
    আনন্দ অমরার নন্দন হে প্রণত কর চরণে কহ কথা কহ কথা॥
    
  • তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর

    বাণী

    তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দুর কর নাথ ভক্তি দাও।
    যেখানে হোক তুমি আছ — এই বিশ্বাস শক্তি দাও।।
    	যে কোন জনমে আমি
    	পাইব পাব তোমায় আমি
    অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও।।
    শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শন্তি নাথ।
    কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত।।
    	হয়ত কোটি জনম পরে
    	পাব তোমায় আমার করে,
    তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও।।
    
  • নন্দলোক হতে আমি এনেছি

    বাণী

    নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) আমি এনেছি রে মহামায়ায়।
    				এনেছি মা মহামায়ায়।
    বন্ধ যথায় বন্দী যত কংসরাজার অন্ধকারায়।।
    	বন্দী জাগো! ভাঙো আগল,
    	ফেল রে ছিঁড়ে পায়ের শিকল;
    বুকের পাষাণ ছুঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়।।
    আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম ‘নন্দালয়ে’
    সেইখানে সে বংশী বাজায় আনন্দ-গোপ-দুলাল হয়ে।
    	মা’র আদেশে বাজাবে সে
    	অভয় শঙ্খ দেশে দেশে,
    (তোরা) নারায়ণী সেনা হবি, এবার নারায়ণীর কৃপায়।।
    
  • নীল যমুনা সলিল কান্তি

    বাণী

    নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম।
    তব শ্যামরূপে শ্যামল হল সংসার ব্রজধাম।।
    রৌদ্রে পুড়িয়া তপিতা অবনি
    চেয়েছিল শ্যাম-স্নিগ্ধা লাবনি,
    আসিলে অমনি নবনীত তনু
    ঢলঢল অভিরাম চিকন ঘনশ্যাম।।
    আধেক বিন্দু রূপ তব দুলে ধরায় সিন্ধুজল
    তব বেণু শুনি’, ওগো বাঁশুরিয়া,
    প্রথম গাহিল কোকিল পাপিয়া,
    হেরি কান্তার-বন-ভুবন ব্যাপিয়া
    বিজড়িত তব নাম; চিকন ঘনশ্যাম।।
    
  • পথে কি দেখলে যেতে আমার

    বাণী

    পথে কি দেখলে যেতে আমার গৌর দেবতারে।
    যা’রে কোল যায় না দেওয়া, কোল দেয় সে ডেকে তারে।।
    নবীন সন্ন্যাসী সে রূপে তার পাগল করে
    আঁখির ঝিনুকে তা’র অবিরল মুক্তা ঝরে।
    কেঁদে সে কৃষ্ণের প্রেম ভিক্ষা মাগে দ্বারে দ্বারে।।
    জগতের জগাই-মাধাই মগ্ন যারা পাপের পাঁকে
    সকলের পাপ নিয়ে সে সোনার গৌর-অঙ্গে মাখে।
    উদার বক্ষে তাহার ঠাঁই দেয় সকল জাতে
    দেখেছ প্রেমের ঠাকুর সচল জগন্নাথে?
    একবার বললে হরি যায় নিয়ে সে ভবপারে।।
    
  • বল দেখি মা নন্দরানী

    বাণী

    	বল দেখি মা নন্দরানী ওগো গোকুলবালা
    (ওমা)	কেমন করে তোদের ঘরে (মা) এলো নন্দলালা।
    	(মা তুই) কোন সাধনায় দধি মথন করে
    	তুললি ননী হৃদয় পাত্র ভরে;
    	তুই সেই নবনি দিয়ে যতন করে
    	(মা তুই) গড়লি কি এই ননীর পুতুল আঁধার চিকনকালা।।
    	অমন রসবিগ্রহ মা গড়তে পারে কে?
    	গোপঝিয়ারি গড়তে পারে কে?
    	গোকুল মেয়ে নস্ তুই মা তুই কুমারের ঝি।
    	(মাগো) তুই নস্ যোগিনী তবু স্বগুণ বলে
    	(মা তুই) শ্রীকৃষ্ণে বাঁধলি উদূখলে
    	(আমায়) সেই যোগ তুই শিখিয়ে দে মা বসেই জপমালা।।
    
  • ভুবনময়ী ভবনে এসো

    বাণী

    ভুবনময়ী ভবনে এসো সীমার মাঝে এসো অসীমা।
    ভক্ত মনের মাধুরী দিয়ে গড়িয়াছি মা তোমার প্রতিমা।।
    	চিন্ময়ী গো ধর মৃন্ময়ীরূপ
    	কত যুগ মাগো জ্বলিবে পূজাধূপ
    মানসপটে বোধন ঘটে হও চির আসীনা করুণাময়ী মা।।
    সে কোন অতীতে সুদূর ত্রেতায় এসেছিলে মা অশিব নাশিনী
    আসিলে না আর ধূলির ধরায় দিলে না মা বর অমৃত ভাষিণী।
    	কত যুগ গেল কত বরষ মাস
    	কত বিফল পূজা কত কাঁদন হুতাশ
    জাগ যোগমায়া যোগনিদ্রা ভোল পুন বিশ্বে প্রচার হোক্‌ তব মহিমা।।
    
  • ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান

    বাণী

    ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যানের দেবতা।
    পূজা লহ, অর্ঘ্য লহ ক’য়ো না ক’য়ো না কথা।।
    পাষাণ মূরতি তুমি পাষাণ হইয়া থাকো,
    মন্দির-বেদী হতে ধরার ধূলায় নেমো নাকো।
    তুমিও মাটির মানুষ বুঝায়ে দিও না ব্যথা।।
    সহিবে সকলি স্বামী হেনো হেলা ব্যথা দিও,
    সহিবে না অপমান ভালোবাসার আমার হে প্রিয়,
    থাক তুমি হিয়ার মাঝে তোমার মন্দির যথা।।
    
  • মাধব বংশীধারী বনওয়ারী

    বাণী

    মাধব বংশীধারী বনওয়ারী গোঠ-চারী গোবিন্দ কৃষ্ণ মুরারী।
    গোবিন্দ কৃষ্ণ মুরারি হে পাপ-তাপ-দুখ-হারী।।
    কালরূপ কভু দৈত্য-নিধনে, চিকন কালা কভু বিহর বনে,
    কভু বাজাও বেণু, খেল ধেনু-সনে,
    কভু বামে রাধা প্যারী, গোপ-নারী মনোহারি, নিকুঞ্জ-লীলা-বিহারী।।
    কুরুক্ষেত্র-রণে পান্ডব-মিতা, কন্ঠে অভয়বাণী ভগবদ্-গীতা,
    পূর্ণ ভগবান পরম পিতা, শঙ্খ-চক্র-গদাধারী,
    পাপ-তারী, কান্ডারি ত্রিভুবন সৃজনকারী।।