বাণী

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী (হে বন-লক্ষ্মী)।
তব অপাঙ্গে হইব ভ্রুভঙ্গি।।
মোরে জ্বালায়ে জ্বালো
তব বাসরে আলো,
মোরে নূপুর করি’ বাঁধ চরণে তারি —
	নাচে তোমার সভায় যে কুরঙ্গী।।
তব রূপের দেশে
এনু বাউল বেশে,
যেন ফিরে নাহি যাই
আঁখি-প্রসাদ পাই —
	হব কেশে তব বেণীর ভুজঙ্গী।।

বাণী

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়।
আয় রে সাগর আকাশ বাতাস দেখ্‌বি যদি আয়।।
ধূলির ধরা বেহেশ্‌তে আজ, জয় করিল দিল রে লাজ।
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়।।
দেখ্‌ আমিনা মায়ের কোলে, দোলে শিশু ইসলাম দোলে।
কচি মুখে শাহাদাতের বাণী সে শোনায়।।
আজকে যত পাপী ও তাপী, সব গুনাহের পেল মাফী।
দুনিয়া হতে বে-ইনসাফী জুলুম নিল বিদায়।।
নিখিল দরুদ পড়ে লয়ে নাম, সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম।
জীন পরী ফেরেশ্‌তা সালাম জানায় নবীর পায়।।

বাণী

স্ত্রী	:	তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে
		ওগো অচেনা বিদেশি নেয়ে॥
পুরুষ	:	যেতে এই পথে তরী বেয়ে
		দেখি নদীর ধারে তোমায় বারে বারে
		সজল কাজল বরণী মেয়ে॥
স্ত্রী	:	তোমার তরণীর আসার আশায়
		বসে থাকি কূলে কলস ভেসে যায়।
পুরুষ	:	তুমি পরো যে শাড়ি ভিন গাঁয়ের নারী
		আমি নাও বেয়ে যাই তারি সারি গান গেয়ে।
স্ত্রী	:	গাগরির গলায় মালা জড়ায়ে
		দিই তোমার তরে বঁধু স্রোতে ভাসায়ে॥
পুরুষ	:	সেই মালা চাহি’, নিতি এই পথে গো
		আমি তরী বাহি।
উভয়ে	:	মোরা এক তরীতে একই নদীর স্রোতে
		যাব অকূলে ধেয়ে॥

বাণী

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।
মোরা	ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥
	বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
	তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
	এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
	তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু	তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
	আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
	ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু	আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
	তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
	তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
	মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
	সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
	বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥

বাণী

তোমার মনে ফুট্‌বে যবে প্রথম মুকুল
প্রিয় হে প্রিয় আমারে দিও সে প্রেমের ফুল।।
	দীরঘ বরষ মাস তাহারই আশে
	জাগিয়া রব তব দুয়ার পাশে
বহিবে কবে ফুল-ফোটানো দখিনা বাতাস অনুকূল।।
আর কারে দাও যদি আমার সে ধ্যানের কুসুম
ক্ষতি নাই, ওগো প্রিয়, ভাঙুক, এ অকরুণ ঘুম।
	গুঞ্জরি’ গুঞ্জরি’ ভ্রমর সম
	কাঁদিব তোমারে ঘিরি’, প্রিয়তম।
হুতাস বাতাস সম কুসুম ফুটায়ে চলে যাব দূরে বেভুল।।

বাণী

তুমি আশা পুরাও খোদা, সবাই যখন নিরাশ করে।
সবাই যখন পায়ে ঠেলে, সান্ত্বনা পাই তোমায় ধ'রে।।
দ্বারে দ্বারে হাত পাতিয়া ফিরি যখন শূন্য হাতে,
তোমার দানের শির্‌নি তখন আসে আমায় পথ দেখাতে,
দেখি হঠাৎ শূন্য তোমার দানে গেছে ভ'রে।।
খোদা, তোমায় ভরসা করি' নামি যখন কোন কাজে,
সে কাজ হাসিল হয় সহজে শত বিপদ বাধার মাঝে
(খোদা) তোমায় ছেড়ে অন্য জনে শরণ নিলে যায় সে সরে।।
মাঝ দরিয়ায় ডুবলে জাহাজ তোমায় যদি ডাকি
তোমার রহম কোলে করি তীরেতে যায় রাখি
দুখের অনল কুসুম হয়ে ফুটে ওঠে থরে থরে।।