বাণী

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর
রইবে কত আড়াল টেনে গ্রহ-তারকার।।
	তৃষিত মোর হৃদয় যাচে
	এসো আমার বুকের কাছে
যেমন দূরের চাঁদকে ডাকে ব্যাকুল পারাবার।।
হাত চাহে মোর ব'সো কাছে করবো সেবা তব,
নয়ন বলে নয়ন পাতায় রাখবো হে বল্লভ।
	হে নাথ তোমার তীর্থ পথে
	এ প্রাণ চাহে ধূলি হ'তে
ঘুচবে কবে মোদের মাঝে অসীম অন্ধকার।।

বাণী

তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও আমার বাণী।
তোমার সুরে শোনাও আমার গানের আধেকখানি।।
	শুনব শুধু তোমার কথা
	এবার আমার নীরবতা,
আমার সুরের ছবি আঁকুক তোমার পদ্মপাণি।।

বাণী

তোমার সজল চোখে লেখা মধুর গজল গান।
চেয়ে চেয়ে তাই দেখে গো আমার দু’নয়ান।।
	আমার পুঁথির আখর যত
	তোমার মালার মোতির মত,
তাই দেখি আর পাঠ ভুলে যাই, আকুল করে প্রাণ।।
যেমন	বুলবুলি আর রঙিন গোলাব
	লায়লী-মজনু দুইজনে ভাব,
ওদের প্রেমে ধূলির ধরা হল গুলিস্তান।।

নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’

বাণী

তোরা যারে এখনি হালিমার কাছে লয়ে ক্ষীর সর ননী
আমি খোয়াবে দেখেছি কাঁদিছে মা বলে আমার নয়ন-মণি॥
	মোর শিশু আহমদে যেদিন কাঁদিয়া
	হালিমার হাতে দিয়াছি সঁপিয়া
সেই দিন হ’তে কেঁদে কেঁদে মোর কাটিছে দিন রজনী॥
পিতৃহীন সে সন্তান হায় বঞ্চিত মা’র স্নেহে
তারে ফেলে দূরে কোল খালি করে (আমি) থাকিতে পারি না গেহে।
	অভাগিনী তার মা আমিনায়
	মনে করে সে কি আজো কাঁদে হায়
বলিস তাহারি আসার আশায় দিবানিশি দিন গণি॥

বাণী

তোরা বলিস্ লো সখি, মাধবে মথুরায়
কেমনে রাধার কাঁদিয়া বরষ যায়॥
খর-বৈশাখে কি দাহন থাকে বিরহিণী একা জানে
ঘৃত-চন্দন পদ্ম পাতায় দারুণ দহন-জ্বালা না জুড়ায়
‘ফটিক জলে’র সাথে আমি কাঁদি চাহিয়া গগন-পানে।
জ্বালা না জুড়ায় গো —
হরি-চন্দন বিনা ঘৃত-চন্দনে জ্বালা না জুড়ায় গো
শ্যাম-শ্রীমুখ-পদ্ম বিনা পদ্ম পাতায় জ্বালা না জুড়ায়॥
বরষায় অবিরল ঝর ঝর ঝরে জল জুড়াইল জগতের নারী
রাধার গলার মালা হইল বিজলি-জ্বালা তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি!
সখি রে, তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি।
প্রবাসে না যায় পতি সব নারী ভাগ্যবতী বন্ধু রে বাহুডোরে বাঁধে
ললাটে কাঁকন হানি’ একা রাধা অভাগিনী প্রদীপ নিভায়ে ঘরে কাঁদে।
জ্বালা তা’র জুড়ালো না জলে গো
শাওনের জলে তা’র মনের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে গো
কৃষ্ণ-মেঘ গেছে চ’লে, অকরুণ অশনি হানিয়া হিয়ায় (সখি)॥
আশ্বিনে পরবাসী প্রিয় এলো ঘরে গো মিটিল বধূর মন-সাধ (সখি রে)
রাধার চোখের জলে মলিন হইয়া যায় কোজাগরী চাঁদ (মলিন হইয়া যায় গো)।
আগুন জ্বালালে শীত যায় নাকি রাধার কি হ’ল হায়
বুক ভরা তার জ্বলিছে আগুন তবু শীত নাহি যায়।
যায় না, যায় না আগুন জ্বলে —
বুকের আগুন জলে, তবু শীত যায় না, যায় না,
শীত যদি বা যায় নিশীথ না, যায় গো
যায় না, যায় না, রাধার যে কি হ’ল হায়॥
কলিয়া কৃষ্ণ-ছূড়া, ছড়ায়ে ফাগের গুঁড়া আসিল বসন্ত
রাধা-অনুরাগে রেঙে কে ফাগ খেলিবে গো, নাই ব্রজ-কিশোর দুরন্ত।
মাধবী-কুঞ্জে কুহু কুহরিছে মুহুমুহু ফুল-দোলনায় সবে দোলে,
এ মধু মাধবী রাতে রাধার মাধব নাই
দুলিবে রাধা কার কোলে সখি রে —  রাধা দোলে কার কোলে গো
শ্যাম-বল্লভ বিনা রাধা দোলে কার কোলে গো, বল্ সখি, দোলে কার কোলে।
ফুল-দোলে দোলে সবে পিয়াল-শাখে
রাধার প্রিয়া নাই, বাহু দু’টি দিয়া বাঁধিবে কাহাকে,
ঝরা-ফুল-সাথে রাধা ধূলাতে লুটায়॥

বাণী

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।
মোরা	ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥
	বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
	তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
	এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
	তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু	তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
	আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
	ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু	আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
	তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
	তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
	মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
	সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
	বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥