বাণী

তুমি	আমায় যবে জাগাও গুণী তোমার উদার সঙ্গীতে
মোর	হাত দু'টি হয় লীলায়িত নমস্কারের ভঙ্গিতে।।
	সিন্ধু জলের জোয়ার সম, ছন্দ নামে অঙ্গে মম
	রূপ হলো মোর নিরুপম তোমার প্রেমের সুরের অমৃতে।।
	আমার আঁখির পল্লবদল উদাস অশ্রুভারে,
	ভোরের করুণ তারা মতো কাপেঁ বারেবারে।
	আনন্দে ধীর বসুন্ধরা, হলো চপল নৃত্যপরা
	ঝরে রঙের পাগল ঝোরা তোমার চরণ রঞ্জিতে।।

বাণী

তুমি নন্দন-পথ ভোলা।।
তুমি মন্দাকিনী-ধারা উতরোলা।।
তোমার প্রাণের পরশ লেগে
কুঁড়ির বুকে মধু উঠ্‌ল জেগে,
দোলন-চাঁপায় লাগে দোলা।।
তোমারে হেরিয়া পুলকে ওঠে ডাকি’
বকুল বনের ঘুমহারা পাখি,
ধরার চাঁদ তুমি চির-উতলা।।

বাণী

তুমি সুন্দর হতে সুন্দর মম মুগ্ধ মানস-মাঝে।।
ধ্যানে, জ্ঞানে, মম হিয়ার মাঝারে তোমারি মূরতি রাজে।।
	তোমারি বিহনে হৃদয় আঁধার
	তোমারি বিরহে বহে আঁখি-ধার,
আকাশে বাতাসে নিখিল ভুবনে বেদনার বাঁশি বাজে — 
পাব কি গো দেখা বারেকের তরে আমার জীবন-সাঁঝে।।

বাণী

তোমার বুকের ফুলদানিতে ফুল হব বঁধু আমি
শুকাতে হয় শুকাইব ঐ বুকে ক্ষণেক থামি'।।
ঐ নয়নের জ্যোতি হব তিল হব ঐ কপোলের
দুলব মণির মালা হয়ে ঐ গলে দিবস-যামি।।
অঙ্গে তোমার রূপ হব গো ধূপ হব মিলন-রাতে,
গহীন ঘুমে স্বপন হব জল হব নয়ন-পাতে (আমি)।
তোমার প্রেমের সিঙহাসনে রানী হব, হে রাজা মোর।
চরণতলের ধূলি হব হে আমার জীবন-স্বামী।।

বাণী

তোমারি মহিমা গাই বিশ্বপালক করতার
করুণা কৃপার তব নাহি সীমা নাহি পার॥
রোজ-হাশরের বিচার-দিনে তুমিই মালিক এয়্ খোদা,
আরাধনা করি প্রভু, আমরা কেবলি তোমার॥
সহায় যাচি তোমারি নাথ, দেখাও মোদের সরল পথ,
সেই পথেতে চালাও খোদা বিলাও যাদের পুরস্কার।
অবিশ্বাসী ধর্মহারা যাহারা সে ভ্রান্ত-পথ,
চালায়ো না তাদের পথে, এই চাহি পরওয়ারদিগার॥

বৈতালিক

বাণী

তুমি কেন এলে পথে
ঝরা মল্লিকা ভাসাইতেছিনু
	একাকিনী নদী-স্রোতে।।
কলসি আমার অলস খেলায়
ধীর তরঙ্গে যদি ভেসে' যায়
তীরে সে কলসি তুলে' আনো তুমি
	কেন নদী' জল হ'তে।।
আমার নিরালা বনে
আমি গাঁথি হার, তুমি গান গাহি'
	ধ্যান ভাঙো অকারণে।
আমি মুখ হেরি' আরশিতে একা
তুমি সে মুকুরে কেন দাও দেখা
	বাতায়নে চাহি' তুমি কেন হাসো
	আসিয়া চাঁদের রথে।।