ভৈরবী

  • অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা

    বাণী

    অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা
    শ্বশুর-বাড়ির ফেরত নয়।
    দশভুজার করিস পূজা
    		ভুলরূপে সব জগতময়।।
    নয় গোরী নয় এ উমা
    মেনকা যার খেতো চুমা
    রুদ্রাণী এ, এযে ভূমা
    		এক সাথে এ ভয়-অভয়।।
    অসুর দানব করল শাসন এইরূপে মা বারে বারে,
    রাবণ-বধের বর দিল মা এইরূপে রাম-অবতারে।
    দেব-সেনানী পুত্রে লয়ে মা
    এই বেশে যান দিগ্বিজয়ে
    সেই রূপে মা’র কর্‌রে পূজা
    		ভারতে ফের আসবে জয়।।
    
  • আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়

    বাণী

    আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
    অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়।।
    পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
    শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
    মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
    			বিষাদিত নিরালায়।।
    তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
    আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
    জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
    ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
    তোমার হাতে ঢালা —
    দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
    			ভুলাইয়া বেদনায়।।
    

  • আল্লাহ্ আমার প্রভু আমার নাহি

    বাণী

    আল্লাহ্ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়।
    আমার নবী মোহাম্মদ, যাঁহার তারিফ জগৎময়।।
    	আমার কিসের শঙ্কা
    	কোরআন আমার ডঙ্কা
    ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়।।
    কলেমা আমার তাবিজ, তৌহীদ্ আমার মুর্শিদ্,
    ঈমান্ আমার বর্ম, হেলাল আমার খুর্শিদ্।
    	‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি
    	আমার জেহাদ-বাণী,
    আখের মোকাম ফেরদৌস্ খোদার আরশ যথায় রয়।।
    
  • কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর

    বাণী

    		কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর, কেহ বলে তুমি জ্যোতি!
    		আমি জানি প্রভু তুমি যে আমার চির-জনমের পতি।।
    			কেহ বলে তুমি চিরদিন দূরে রহ
    			কেহ বলে, আছে অন্তরে অহরহ,
    যার		যাহা সাধ ডাকে সেই নামে (প্রভু) তোমার নাহিক ক্ষতি।।
    		অন্ধ দেখে না চন্দ্র-সূর্য তবু জানে আলো আছে,
    (আমি) 	দেখিনি, তবুও তোমার প্রকাশ সহজ-আমার কাছে
    			রূপ কি অরূপ কাহারেও নাহি দুষি,
    			নাই দেখি ফুল সুরভি পেয়েই খুশি,
    (আমি)		অঞ্জলি ভরি’ অমৃত চাই, পাত্রে নাহিক মতি।।
    
  • কোন্‌ সে-সুদূর অশোক-কাননে

    বাণী

    কোন্‌ সে-সুদূর অশোক-কাননে বন্দিনী তুমি সীতা।
    আর কতকাল জ্বলিবে আমার বুকে বিরহের চিতা।।
    			সীতা — সীতা!!
    	বিরহে তোমার অরণ্যচারী
    	কাঁদিব রঘুবীর বল্কলধারী,
    ঝরা চামেলির অশ্রু ঝরায়ে ঝুরিছে বন-দুহিতা।।
    			সীতা — সীতা!!
    তোমার আমার এই অনন্ত অসীম বিরহ নিয়া,
    কত আদি কবি কত রামায়ন রচিবে, কে জানে প্রিয়া!
    	বেদনার সুর-সাগর তীরে
    	দয়িতা আমার এসো এসো ফিরে,
    আবার আঁধার হৃদি-অযোধ্যা হইবে দীপান্বিতা।।
    			সীতা — সীতা!!
    

    নাটকঃ ‘বন্দিনী বিরহিনী সীতা’

  • গানগুলি মোর আহত পাখির সম

    বাণী

    	গানগুলি মোর আহত পাখির সম
    	লুটাইয়া পড়ে তব পায়ে প্রিয়তম।।
    		বাণ–বেঁধা মোর গানের পাখিরে
    		তু’লে নিও প্রিয় তব বুকে ধীরে,
    	লভিবে মরণ চরণে তোমার সুন্দর অনুপম।।
    তারাসুখের পাখায় উড়িতেছিল গো নভে —
    তবনয়ন–শায়কে বিঁধিলে তাহাদের কবে।
    		মৃত্যু আহত কন্ঠে তাহার
    	‌‌একি এ গানের জাগিল জোয়ার —
    	মরণ বিষাদে অমৃতের স্বাদ আনিলে নিষাদ মম।।
    
  • তিমির বিদারী অলখ-বিহারী কৃষ্ণ মুরারি

    বাণী

    তিমির বিদারী অলখ-বিহারী কৃষ্ণ মুরারি আগত ঐ
    টুটিল আগল নিখিল পাগল সর্বসহা আজি সর্বজয়ী।।
    বহিছে উজান অশ্রু-যমুনায়
    হৃদি-বৃন্দাবনে আনন্দ ডাকে, (ওরে) ‌‘আয়’,
    বসুধা যশোদার স্নেহধার উথলায়
    (ওগো) কাল্‌-রাখাল নাচে থৈ-তা-থৈ।।
    বিশ্ব ভরি' ওঠে স্তব নমো নমঃ
    অরির পুরী-মাঝে এলো অরিন্দম।
    ঘিরিয়া দ্বার বৃথা জাগে প্রহরী জন
    বন্ধ কারায় এলো বন্ধ-বিমোচন,
    ধরি' অজানা পথ আসিল অনাগত
    জাগিয়া ব্যথাহত ডাকে, মাভৈঃ।।
    
  • তুমি চ’লে যাবে দূরে লায়লী

    বাণী

    (হায়) 	তুমি চ’লে যাবে দূরে লায়লী তব মজনু কাঁদিবে একা।
    	বুঝি পাব না তোমায় জীবনে বুঝি এই নিয়তির লেখা।।
    

    নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’

  • নিশি ভোর হলো জাগিয়া পরান-পিয়া

    বাণী

    নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরান-পিয়া
    কাঁদে ‘পিউ কাহাঁ’ পাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	ভুলি’ বুলবুলি-সোহাগে
    	কত গুল্‌বদনী জাগে
    রাতি গুল্‌সনে যাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	জেগে রয়, জাগার সাথী
    	দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি
    কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া।।
    	গেয়ে গান চেয়ে কাহারে
    	জেগে র’স কবি এপারে
    দিলি দান কারে এ হিয়া, পরান-পিয়া।।
    
  • ফিরে ফিরে কেন তারই স্মৃতি

    বাণী

    ফিরে ফিরে কেন তারই স্মৃতি
    মোরে কাঁদায় নিতি যে ফিরিবে না আর।
    ফিরায়েছি যা’য় কাঁদাইয়া হায়
    সে কেন কাঁদায় মোরে বারেবার।।
    তারই দেওয়া ফুলমালা, যারে দলিয়াছি পায়
    সেই ছিন্নমালা কুড়ায়ে নিরালা আজি রাখি হিয়ায়।
    বারে বারে ডাকি প্রিয় নাম ধ’রে তা’র।।
    হানি’ অবহেলা যারে দিয়েছি বিদায়
    আজি তারি স্মৃতি, সে কোথায় সে কোথায়।
    জ্বালি’ নয়ন-প্রদীপ জাগি বাতায়নে
    নিশি ভোর হয়ে যায় বৃথা জাগরণে
    আজি স্বর্গ শূন্য মোর তারি বিহনে
    কাঁদি আকাশ বাতাস মোর করে হাহাকার।।
    

  • বাগিচায় বুলবুলি তুই

    বাণী

    বাগিচায়		বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল
    আজো তার		ফুল কলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল।।
    আজো হায়		রিক্ত শাখায় উত্তরী বায় ঝুরছে নিশি-দিন
    আসেনি		দখনে হাওয়া গজল গাওয়া মোমাছি বিভোল।।
    কবে সে		ফুল কুমারী ঘোমটা চিরি', আসবে বাহিরে (রে)
    শিশিরের		স্পর্শ-সুখে ভাঙবে রে ঘুম রাঙবে রে কপোল।
    ফাগুনের		মুকুল-জাগা দু'কূল ভাঙা আসবে ফুলেল বান
    কুঁড়িদের		ওষ্ঠ পুটে লুটবে হাসি ফুটবে গালে টোল।।
    কবি তুই		গন্ধে ভুলে ' ডুবলি জলে কূল পেলিনে আর
    ফুলে তোর		বুক ভ'রেছিস আজকে জলে ভররে আঁখির কোল।।
    
  • ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা

    বাণী

    	ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা, লুকালে সহসা
    মোর	তপনের রাঙা কিরণ যেন ঘিরিল তমসা।।
    	না ফুটিতে মোর কথার কুড়িঁ
    	চপল বুলবুলি গেলে উড়ি'
    গেলে	ভাসিয়া ভোরের সুর যেন বিষাদ অলসা।।
    	জেগে দেখি হায়, ঝরা ফুলে আছে ছেয়ে তোমার পথতল,
    	ওগো অতিথি, কাদিছেঁ বনভূমি ছড়ায়ে ফুল দল!
    	মুখর আমার গানের পাখি
    	নীরব হলো হায় বারেক ডাকি'
    যেন	ফাগুনের জোছনা-বর্ষিত রাতে নামিল বরষা।।
    
  • মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে নওল কিশোর মদনমোহন

    বাণী

    মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে নওল কিশোর মদনমোহন!
    চারু ত্রিভঙ্গিম ঠাম বঙ্কিম, বন্দে পদ কোটি চন্দ্র তপন॥
    	বৃষ্টিধারা সম নব নবতম,
    	সৃষ্টি পড়ে ঝরি সে নাচে নিরূপম
    রতন মঞ্জির বাজে রমঝম, ঘোরে গ্রহতারা ঘিরি শ্রীচরণ॥
    

    চলচ্চিত্রঃ ‘ধ্রুব’

  • মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর

    বাণী

    মোর		ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমো নম, নমো নম, নমো নম।
    		শ্রাবণ-মেঘে নাচে নটবর রমঝম, রমঝম, ঝমরম
    			(ঝমঝম, রমঝম, রমঝম)।।
    শিয়রে		বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
    মোর		বিকশিল আবেশে তনু নীপ-সম, নিরুপম, মনোরম।।
    মোর		ফুলবনে ছিল যত ফুল
    			ভরি ডালি দিনু ঢালি’ দেবতা মোর
    হায়		নিলে না সে ফুল, ছি ছি বেভুল,
    			নিলে তুলি’ খোঁপা খুলি’ কুসুম-ডোর।
    স্বপনে		কী যে কয়েছি তাই গিয়াছ চলি’
    জাগিয়া	কেঁদে ডাকি দেবতায় প্রিয়তম, প্রিয়তম, প্রিয়তম।।
    
  • মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান

    বাণী

    মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।
    মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।।
    	এক সে আকাশ মায়ের কোলে
    	যেন রবি শশী দোলে,
    এক রক্ত বুকের তলে, এক সে নাড়ির টান।।
    এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল,
    এক সে মায়ের বক্ষে ফলাই একই ফুল ও ফল।
    	এক সে দেশের মাটিতে পাই
    	কেউ গোরে কেউ শ্মাশানে ঠাঁই
    এক ভাষাতে মা’কে ডাকি, এক সুরে গাই গান।। 
    

    নাটিকাঃ‘পুতুলের বিয়ে’