বাণী

	ও বাবা! তুর্কী-নাচন নাচিয়ে দিলে।
(ওসে)	কোন্ অভাগা অঙ্ক-লক্ষ্মী নাম দিল এই শঙ্খ-চিলে।।
		দিন রাত্তির অঙ্ক কষে
		পান্ হতে চুন কখন্ খসে,
	স্ত্রী ব’লে আন্‌নু ঘরে শাড়ি পরা কোন্ উকিলে।।
	প্রাণ-পাখি মোর খাঁচা-ছাড়া, (এই) ঝুল্‌তি বেণীর গুল্‌তি ঢিলে’
	মাতঙ্গিনী মহিষিণী গুঁতিয়ে ফাটায় পেটের পিলে।
		যেমন বাঘ দেখে ছাগ ছুটেরে ভাই
		তেমনি কাছা খুলে পালিয়ে বেড়াই
	ওগো মাগো এসে রক্ষা কর হালুম-বাঘায় ফেল্‌ল গিলে।।

বাণী

ওরে রাখাল ছেলে বল্ কি রতন পেলে
দিবি হাতের বাঁশি, তোর ঐ হাতের বাঁশি।
বাঁধা দিয়ে খাড়ু আনব ক্ষীরের নাড়ু
অম্‌নি হেলেদুলে এক্‌বার নাচ্ রে আসি॥
দেখ মাখাতে তোর গায়ে ফাগের গুড়া,
আমার আঙ্গিনাতে ঝরা কৃষ্ণচূড়া।
আমার গলার হার খুলে পরাব আয় কিশোর
		তোর পায়ে ফাঁসি॥
যেন কালিদহের জলে সাপের মানিক জ্বলে,
চোখের হাসি, তোর ঐ চোখের হাসি,
ও তুই কি চাস্ চপল মোরে বল্
আমি মরেছি যে তোরে ভালোবাসি॥
আসিস্ আমার বাড়ি রাখাল দিন ফুরালে
আমার চুড়ির তালে দুলবি কদম ডালে।
ছেড়ে গৃহ-সংসার ওর বাঁশুরিয়া,
		হব চরণ দাসী।

বাণী

ওগো মুর্শিদ পীর! বলো বলো রসুল কোথায় থাকে।
কোথায় গেলে কেমন ক’রে দেখতে পাব তাঁকে।।
	বেহেশ্‌ত — ’পারে দূর আকাশে
	তাঁহার আসন খোদার পাশে,
সে এতই প্রিয়, আপনি খোদা লুকিয়ে তারে রাখে।।
কোরান পড়ি হাদিস শুনি, সাধ মেটে না তাহে,
আতর পেয়ে মন যে আমার ফুল দেখতে চাহে।
	সবাই খুশি ঈদের চাঁদে
	আমার কেন পরান কাঁদে,
দেখ্‌ব কখন আমার ঈদের চাঁদ — মোস্তফাকে।।

বাণী

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়
রাঙা-হাসির পরাগ-ফুল আননে ঝরায়।।
তার রঙের আবেশ লাগে চাঁদের চোখে
তার লালসার রঙ জাগে রাঙা অশোকে
তার রঙিন নিশান দোলে কৃষ্ণ চূড়ায়।।
তার পুষ্প ধনু দোলে শিমূল শাখায়
তার কানা কাঁপে গো ভোমরা পাখায়,
সে খোঁপাতে বেল-ফুলের মালা জড়ায়।।
সে কুসমী শাড়ি পরায় নীল বসনায়
সে আঁধার মনে জ্বালে লাল রোশনাই
সে শুকনো বনে ফাগুন আগুন ধরায়।।

বাণী

ওমা দনুজ-দলনী মহাশক্তি নমো অনন্ত কল্যাণ-দাত্রী (নমো)।
পরমেশ্বরী মহিষ-মর্দিনী চরাচর-বিশ্ব-বিধাত্রী (নমো নমঃ)।।
		সর্বদেব-দেবী তেজোময়ী
		অশিব-অকল্যাণ-অসুর-জয়ী,
দশভুজা তুমি মা, ভীতজন-তারিণী জননী জগৎ-ধাত্রী।।
দীনতা ভীরুতা লাজ গ্লানি ঘুচাও, দলন কর মা লোভ দানবে;
রূপ দাও, জয় দাও, যশ দাও, মান দাও, দেবতা কর ভীরু মানবে।
		শক্তি বিভব দাও, দাও মা আলোক
		দুঃখ-দারিদ্র্য অপগত হোক্‌,
জীবে জীবে হিংসা, এই সংশয় (মাগো) দূর হোক পোহাক এ দুর্যোগ রাত্রি।।

বাণী

ওমা	কালী সেজে ফিরলি ঘরে, কচি ছেলের কাজল মেখে।
	একলা আমি কেঁদেছি মা সারাটি দিন ডেকে ডেকে।।
	হাত বাড়ায়ে মা তোর কোলে 
আমি	যাব না আর ‌‘মা’ ‌‘মা’ বলে,
	মা হয়ে তুই ঘুরে বেড়াস্‌ আমায় ধূলায় ফেলে রেখে।।
তোর	আর ছেলেদের অনেক আছে 
	আমার যে মা নাই গো কেহ,
	আমি শুধু তোরেই জানি, যাচি শুধু তোরই স্নেহ। 
তাই	আর কারে যেই ধরিস কোলে —
মোর	দু'চোখ ভ'রে ওঠে জলে (মাগো),
আমি	রাগে-অনুরাগে কাঁদি অভিমানে দূরে থেকে।।