বাণী

নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা।
নাচে দীপ্তিমতী নাচে উমা তপতী নাচে রে চির-আনন্দিতা।।
তার কিরণ-আচল দোলে ঝলমল
গিরি-পাষাণ অটল করে টলমল
গলিয়া তুষার ঝরে নির্ঝর জল
তার চরণ-ছন্দ-চকিতা।।
তার নাচের মায়ায় প্রাণ পায় জড় জীব
ভুলি’ বিরহ সতীর জাগে যোগীন্দ্র শিব,
জাগে কুসুম-কলি গাহে বিহগ-অলি,
তার রূপে ত্রিদিব হ’ল দীপন্বিতা।।

বাণী

		না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়।
		গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়।।
			আমার নয়ন ভ’রে
			এখনো শিশির ঝরে,
		এখনো বাহুর ’পরে বঁধূ ঘুমায়।।
			এখনো কবরী-মূলে
			কুসুম পড়েনি ঢুলে,
		এখনো পড়েনি খুলে’ মালা খোঁপায়।।
			নিভায়ে আমার বাতি
			পোহাল সবার রাতি,
(আমি) 	নিশি জেগে’ মালা গাঁথি, প্রাতে শুকায়।।

বাণী

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
	কূলের বাঁধন টুটে,
	যমুনা উথলি' ওঠে,
পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
	শিখী পেখম খোলে।।
ব্রজনারী কুল ভুলে'
	লুটায় সে পদমুলে
চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
	শ্রীমতি রাধারই সাথে
	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।

বাণী

নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরান-পিয়া
কাঁদে ‘পিউ কাহাঁ’ পাপিয়া, পরান-পিয়া।।
	ভুলি’ বুলবুলি-সোহাগে
	কত গুল্‌বদনী জাগে
রাতি গুল্‌সনে যাপিয়া, পরান-পিয়া।।
	জেগে রয়, জাগার সাথী
	দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি
কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া।।
	গেয়ে গান চেয়ে কাহারে
	জেগে র’স কবি এপারে
দিলি দান কারে এ হিয়া, পরান-পিয়া।।

বাণী

নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি-জল
মলিন হয়েছে ঘুমে চোখের কাজল।।
	হেরিয়া নিশি-প্রভাতে
	শিশির কমল-পাতে
ভাব বুঝি বেদনাতে ফুটেছে কমল।।
	এ শুধু শীতের মেঘে
	কপট কুয়াশা লেগে’
ছলনা উঠেছে জেগে’ এ নহে বাদল।।
	কেন কবি খালি খালি
	হ’লি রে চোখের বালি
কাঁদাতে গিয়া কাঁদালি নিজেরে কেবল।।

বাণী

নাচন লাগে ঐ তরুলতায় পাতায় ফুলে।
ফুল-সৌখিন দখিন হাওয়া নাচে দু’লে দু’লে।।
নাচে অথির-মতি রঙিন-পাখা প্রজাপতি,
বন দুলায়ে মন ভুলায়ে, ঝিল্লি-নূপুর বাজায়ে
নাচে বনে নিশীথিনী এলোচুলে।।
মৃণাল-তনু কমল নাচে এলোখোঁপায় নীল জলে,
ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজে নির্ঝর পাষাণ-তলে।
বাদ্ল হাওয়ায় তাল্‌বনা ঐ বাজায় চটুল্ দাদ্‌রা তাল,
নদীর ঢেউ-এ মৃদঙ বাজে, পান্‌সি নাচে টাল্‌মাটাল্।
নেচে চেনে গ্রহতারা দিশাহারা নটরাজের নাট-দেউলে।।