বাণী

নাচন লাগে ঐ তরুলতায় পাতায় ফুলে।
ফুল-সৌখিন দখিন হাওয়া নাচে দু’লে দু’লে।।
নাচে অথির-মতি রঙিন-পাখা প্রজাপতি,
বন দুলায়ে মন ভুলায়ে, ঝিল্লি-নূপুর বাজায়ে
নাচে বনে নিশীথিনী এলোচুলে।।
মৃণাল-তনু কমল নাচে এলোখোঁপায় নীল জলে,
ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজে নির্ঝর পাষাণ-তলে।
বাদ্ল হাওয়ায় তাল্‌বনা ঐ বাজায় চটুল্ দাদ্‌রা তাল,
নদীর ঢেউ-এ মৃদঙ বাজে, পান্‌সি নাচে টাল্‌মাটাল্।
নেচে চেনে গ্রহতারা দিশাহারা নটরাজের নাট-দেউলে।।

বাণী

	নীপ-শাখে বাঁধো ঝুলনিয়া,
	কাজল-নয়না শ্যামলিয়া॥
	মেঘ-মৃদঙ্গ তালে শিখী নাচে ডালে-ডালে।
	মল্লার গান গাহিছে পবন পূরবিয়া॥
	কেতকী কেশরে কুন্তল করো সুরভি,
পরো	কদম মেখলা কটি-তটে রূপ-গরবী।
	নব-যৌবন জল-তরঙ্গে,
	পায়ে পাঁয়জোর বাজুক রঙ্গে
	কাজরি ছন্দে নেচে চল করতালি দিয়া॥

বাণী

নিত্য শুদ্ধ কল্যাণ রূপে আছ তুমি মোর সাথে।
সান্দ্র নিবিড় সন্ধ্যায় যেই পথ ভুলি’, ধর হাতে।।
	প্রদোষে স্বরগ-পাশে
	তোমার করুণা ভাসে,
স্নিগ্ধ শান্ত চাঁদ হ’য়ে, প্রভু, আঁধারে পথ দেখাতে।।
মান তাজিয়া যে যায় প্রভু তোমার চরণ-তলে,
পূর্ণ-রূপে নেমে আস তার হৃদয়-পদ্ম-দলে।
	অবতার হও ভুপালিতে প্রভু
	প্রেম-যমুনার পারে রহ কভু,
দগ্ধ-পরানে বিরাজ হে স্বামী, দুঃখ-জ্বালা জুড়াতে।।

বাণী

নয়নে নিদ নাহি।
নিশীথ-প্রহর জাগি, একাকিনী গান গাহি।।
কোথা তুমি কোন দূরে, ফিরিয়া কি আসিবে না,
তোমার সাজানো বনে ফুটিয়া ঝরিল হেনা —
কত মালা গাঁথি, কত আর পথ চাহি।।
কত আশা অনুরাগে হৃদয় দেউলে রেখে
পূজিনু তোমারে পাষাণ, কাঁদিলাম ডেকে ডেকে।
এস অভিনামি ফিরে, নিরাশায় এ তিমিরে
			চাঁদের তরণী বাহি’।।

বাণী

নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) আমি এনেছি রে মহামায়ায়।
				এনেছি মা মহামায়ায়।
বন্ধ যথায় বন্দী যত কংসরাজার অন্ধকারায়।।
	বন্দী জাগো! ভাঙো আগল,
	ফেল রে ছিঁড়ে পায়ের শিকল;
বুকের পাষাণ ছুঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়।।
আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম ‘নন্দালয়ে’
সেইখানে সে বংশী বাজায় আনন্দ-গোপ-দুলাল হয়ে।
	মা’র আদেশে বাজাবে সে
	অভয় শঙ্খ দেশে দেশে,
(তোরা) নারায়ণী সেনা হবি, এবার নারায়ণীর কৃপায়।।

বাণী

নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা।
দু'ধারে চরণ-পাতে ফুটায়ে ফুলের মেলা।।
তোমার ওই কেশের সুবাস ফুলবন করিছে উদাস
কুসুম ভুলিয়া মলয় ও কেশে করিছে খেলা।।
লুটায়ে পড়ে ফুল-দল পরিবে বলিয়া খোঁপায়
ওগো চলিবে বলি' বনতল ফুলেরা পরাগে রাঙায়,
ও-পায়ে আলতা হ'তে চায় রঙিন গোধূলি-বেলা।।
'চলিয়া যেয়ো না, যেয়ো না' বলি' লতারা চরণে জড়ায়,
রোধিতে কন্টক-তরু, আঁচল ছাড়িতে না চায়;
আকাশে ইশারায় ডাকে দ্বিতীয়া চাঁদের ভেলা।।