বাণী

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না দীপ নিভিতে দাও।
নিবু-নিবু প্রদীপ নিবুক হে পথিক ক্ষণিক থাকিয়া যাও॥
ঢুলিয়া পড়িতে দাও ঘুমে অলস আঁখি ক্লান্ত করুণ কায়,
সুদূর নহবতে বাঁশরি বাজিতে দাও উদাস যোগিয়ায়।
	হে প্রিয় প্রভাতে ও-রাঙা পায়
	বকুল ঝরিয়া মরিতে চায়,
তব হাসির আভায় তরুণ অরুণ প্রায় দিক রাঙিয়ে যাও॥

বাণী

		নয়ন মুদিল কুমুদিনী হায়!
		তাহার ধ্যানের চাঁদ ডুবে যায়।।
		ভরিল সরসী তা’রি আঁখি-জলে
		ঢলিয়া পড়িল পল্লব-তলে,
অকরুণ নিষাদের তীর সম অরুণ-কিরণ বেঁধে এসে গায়।।
		কপোলের শিশির অভিমানে শুকালো,
		পাপড়ির আড়ালে পরাগ লুকাল।
		সরসীর জলে পড়ে আকাশের ছায়া
		নাই সেথা তারা-দল, চাঁদের মায়া,
জলে ডুবে মেটে না প্রাণের তৃষা হৃদয়ের মধু তার হৃদয়ে শুকায়।।

বাণী

নাচো শ্যাম-নটবর কিশোর-মুরলীধর অঙ্গ মিশায়ে মম অঙ্গে।
তোমার নাচের শ্রী ফুটুক আমার এই নৃত্য-বিভঙ্গে।।
মম রক্তে বাজুক তব পায়ের নূপুর
আমার কণ্ঠে দাও বাঁশরির সুর,
	তব বাঁশরির সুর।
লীলায়িত হয়ে উঠুক এ তনু তোমার প্রেম-আনন্দ-তরঙ্গে।।
আমার মাঝে হরি, নাচো যবে তুমি আমি নাচি আপনা ভুলি’
			হরি আমি নাচি আপনা ভুলি’
শরম ভরম যায় এই দেহ যমুনায় ছন্দের হিল্লোল তুলি’।
মনে হয় আমি যেন রাসের রাধা জনম জনম আমি নাচি তব সঙ্গে।।

বাণী

	না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ
	আঁধার করিয়া ব্রজধাম, সখা হে —।
	সোনার বরনী রাই অঙ্গে মাখিয়া ছাই
	দিশা নাই কাঁদে অবিরাম, সখা হে —।।
	অবিরাম কাঁদে রাই
	তারে কাঁদায় যে তারি তরে
	অবিরাম কাঁদে সখা হে।
	এখনো মাধবী-লতা
	কহেনি কুসুম-কথা
		জড়াইয়া তরুর গলে,
	এখনো ফোটেনি ভাষা
	আধ-ফুট ভালোবাসা
		ঢাকা লাজ পল্লব-তলে।
		বলা হলো না,হলো না,
	বুকের ভাষা মুখে বলা যে হলো না।
সখা	আমরা নারী, বলতে নারি!
	দুঃখের কথা মুখে বলতে নারি
	নয়ন জলে গলতে পারি
	তবু মুখে বলতে নারি
	মরণ-কোলে ঢলতে পারি
সখা	মুখ ফুটে তবু বলতে নারি, সখা হে —
	নবীন নীরদ-বরণ শ‍্যাম জানিতাম মোরা তখনি,
ঐ	করুণ সজল কাজল মেঘে থাকে গো ভীষণ অশনি।
	তুমি আগুন জ্বালিলে,
ওহে	নিরদয়! বুকে কেন আগুন জ্বালিলে।
বুকে	আগুন জ্বালায়ে চোখে সলিল ঢালিলে।
তাহে	আগুন নেভে কি?
	চোখেরি জলে ডুবে আগুন নেভে কি
	সথা হে- আগুন নেভে কি।।

বাণী

নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল
তাতা থৈ তাতা থৈ — নাচে বৃন্দাবনে হরি ব্রজ-গোপাল।।
ছন্দ নামে, দক্ষিণে বামে,
টলে বাঁকা শিখী-পাখা।
উছল যমুনা-জলে বাজিছে তাল।
		নাচে নন্দ-দুলাল।।
বিরাট খেলে হের আজ শিশুর রূপে,
স্বর্গে কাঙাল করি’ ধরায় এলো চুপে চুপে।
এত রূপ কেমনে দেখি,
দিলে কেন দুটি আঁখি
তাহে আবার পলক পড়ে;
আজি বিশ্ব-পালক হ’ল বালক রাখাল।।

বাণী

নদীর নাম সই অঞ্জনা নাচে তীরে খঞ্জনা,
		পাখি সে নয় নাচে কালো আঁখি।
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে জল নিতে সখি লো,
		ঐ আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি॥
সেদিন তুলতে গেলাম দুপুর বেলা
কলমি শাক ঢোলা ঢোলা (সই)
হ’ল না আর সখি লো শাক তোলা,
আমার মনে পড়িল সখি, ঢল ঢল তা’র চটুল আঁখি
ব্যথায় ভ’রে উঠলো বুকের তলা।
ঘরে ফেরার পথে দেখি,
নীল শালুক সুঁদি ও কি
ফু’টে আছে ঝিলের গহীন জলে।
আমার অমনি পড়িল মনে
সেই ডাগর আঁখি লো
ঝিলের জলে চোখের জলে হ’ল মাখামাখি॥