বাণী

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না দীপ নিভিতে দাও।
নিবু-নিবু প্রদীপ নিবুক হে পথিক ক্ষণিক থাকিয়া যাও॥
ঢুলিয়া পড়িতে দাও ঘুমে অলস আঁখি ক্লান্ত করুণ কায়,
সুদূর নহবতে বাঁশরি বাজিতে দাও উদাস যোগিয়ায়।
	হে প্রিয় প্রভাতে ও-রাঙা পায়
	বকুল ঝরিয়া মরিতে চায়,
তব হাসির আভায় তরুণ অরুণ প্রায় দিক রাঙিয়ে যাও॥

বাণী

নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা।
দু'ধারে চরণ-পাতে ফুটায়ে ফুলের মেলা।।
তোমার ওই কেশের সুবাস ফুলবন করিছে উদাস
কুসুম ভুলিয়া মলয় ও কেশে করিছে খেলা।।
লুটায়ে পড়ে ফুল-দল পরিবে বলিয়া খোঁপায়
ওগো চলিবে বলি' বনতল ফুলেরা পরাগে রাঙায়,
ও-পায়ে আলতা হ'তে চায় রঙিন গোধূলি-বেলা।।
'চলিয়া যেয়ো না, যেয়ো না' বলি' লতারা চরণে জড়ায়,
রোধিতে কন্টক-তরু, আঁচল ছাড়িতে না চায়;
আকাশে ইশারায় ডাকে দ্বিতীয়া চাঁদের ভেলা।।

বাণী

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া
বন-মৃগী সম উঠিছ চমকি' হেরিয়া আপন ছায়া।।
	প্রাতে ঊষার প্রায়
	রেঙে ওঠো লজ্জায়,
এলায়িত লতিকায় ভঙ্গুর তব কায়া।।
দৃষ্টিতে তব আরতি-দীপের দ্যুতি
তুমি নিবেদিতা সন্ধ্যা-পূজা-আরতি।
	ভূমি অবলুণ্ঠিতা
	বনলতা কুণ্ঠিতা
কোলাহল-শঙ্কিতা যেন গো তাপস-জায়া।।

বাণী

নবীন আশা জাগ্‌ল যে রে আজ!
নূতন রঙে রাঙা তোদের সাজ॥
কোন সে বাণী বাজ্‌ল প্রাণের মাঝ
বাজরে বীনা বাজ, দীপক-তানে বাজ
আপন কাজে পাস্‌ রে কেন লাজ?
এগিয়ে গিয়ে ধর্‌ রে নিজের কাজ।
শির্‌ উচিয়ে দাঁড়া জগৎ-মাঝ!
তোদের কণ্ঠে হানে যেন প্রবল বাজ॥
ফেলে দে রে যা কিছু সব জীর্ণ
রিক্ত যা, হবে তা দীর্ণ।
থাকিস্‌ নে বসে কেউ শীর্ণ
দুন্দুভি-ঢাক বাজুক না রে আজ॥

বাণী

নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে।
আকাশ-পারের বিরহীর বীণা যেন সুর ঝুরে আকুল স্বরে।।
কাহার মদির নিঃশ্বাস আসে
বকুলের বনে ঝরা ফুল বাসে
কর হানি দ্বারে যেন বারে বারে
খোল দুয়ার বলি ডাকে ঘুমঘোরে।।
ডাকে কেয়া বনে ডাহুক কেকা
বিরহের ভার বহি কত আর একা
ম্লান হয়ে এলো চোখে কাজলের লেখা অশ্রু-লোরে।।

বাণী

নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরান-পিয়া
কাঁদে ‘পিউ কাহাঁ’ পাপিয়া, পরান-পিয়া।।
	ভুলি’ বুলবুলি-সোহাগে
	কত গুল্‌বদনী জাগে
রাতি গুল্‌সনে যাপিয়া, পরান-পিয়া।।
	জেগে রয়, জাগার সাথী
	দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি
কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া।।
	গেয়ে গান চেয়ে কাহারে
	জেগে র’স কবি এপারে
দিলি দান কারে এ হিয়া, পরান-পিয়া।।